• শুক্রবার, ১২ অগাস্ট ২০২২, ০৮:৩২ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
ভোটার প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গা অধ্যুষিত সীমান্ত এলাকার জন্য ইসি সচিবালয় কর্তৃক ঘোষিত নির্দেশিকা। কক্সবাজার জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইন চার্জ মনোনীত হয়েছেন’ উখিয়া থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী নাদিম আবাসিক হোটেলে মিলল এক নারী চিকিৎসকের গলাকাটা লাশ, কথিত স্বামী পলাতক। বনের জন্য কক্সবাজার হবে মডেল জেলা-প্রধান বনসংরক্ষক কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলিতে হেড মাঝিসহ ০২জন নিহত। আর্থিক খাতে লুটপাটের দায় জনগণ শোধ করবে কেন? মাদক ও ইয়াবার বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত রেখে তরুণ সমাজকে রক্ষা করুণ । কক্সবাজার জেলা বিএমএসএফ এর জরুরী সভা অনুষ্ঠিত উখিয়া স্পেশালাইজড হসপিটাল এ জনপদের চাহিদা, আশা-আকাঙ্ক্ষা পুরণে সক্ষম? নাকি শুধুই গতানুগতিক! ফেসবুকে পরিচয় ও প্রেম-অতপরঃ এক কলেজ শিক্ষিকাকে কলেজ ছাত্রের বিয়ে!

মাননীয় নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়, উখিয়া উপজেলা সমীপেঃ

AnonymousFox_bwo / ৩৫৫ মিনিট
আপডেট শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী, ২০২১

সম্পাদকীয়ঃ


প্রথমেই আমার সশ্রদ্ধ সালাম-আসসালামুয়ালাইকুম ওয়ারাহমতুল্লাহ গ্রহণ করুণ।
উখিয়া উপজেলা বাংলাদেশের দক্ষিনের সীমান্তবর্তী একটি জনসংখ্যা অধ্যুষিত উপজেলা। এ উপজেলা জনসংখ্যার ভারে একপ্রকার ন্যুব্জ হয়ে পড়েছে। প্রায় তিনলক্ষ স্থানীয় অধিবাসীদের সাথে ‘মরার উপর খাড়ার ঘা’ হিসেবে যুক্ত হয়েছে মায়ানমার উদ্বাস্ত রোহিংগা জনগোষ্টি। ২০১৭ সালের ২৫-শে আগষ্ট পার্শবর্তী মায়ানমার থেকে জোরপূর্বক নিপীড়িত হয়ে প্রায় ১৪ লক্ষ রোহিংগা জনগোষ্টির প্রায় দু’তৃতীয়াংশের বসবাস কিন্তু উখিয়া উপজেলার পালংখালী, বালুখালী, কুতুপালং, মধুরছড়াসহ অত্র উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হওয়ায় অত্যধিক জনসংখ্যার মৌলিক চাহিদা পূরণের নিমিত্তে চাহিদা ও যোগানের পারস্পরিক সম্পর্ক বজায় রাখতে গিয়ে অত্র এলাকায় কর্মরত এনজিও, আইএনজিও ও অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী সংঠনের পাশাপাশি বাংলাদেশ রাষ্ট্রযন্ত্র জনসংখ্যার এ অত্যধিক চাপ সামাল দিতে রীতিমত হিমশিম হয়ে পড়ছে। এখানকার জীবন যাত্রার মান অত্যধিক বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশের রাজধানী শহর ঢাকার চেয়েও অনেকক্ষেত্রে জীবনযাত্রার মান অনেক অনেক গুন বেশি এতদঞ্চলে।সারাদেশ নয়, সারা বিশ্বের ফোকাস পয়েন্ট হিসেবে উখিয়া টেকনাফ এক আলোচিত নাম নয় শুধু একটি আলোচিত এপিসোড!

অনেকদিন যাবৎ বিভিন্ন বিষয়ে অত্র জনপদ অনেকক্ষেত্রে reckless বা লাগামহীন/ নিয়ন্ত্রনহীন হয়ে পড়েছে। কিছু কিছু খাত/ক্ষেত্রে এমন নৈরাজ্যকর পরিস্হিতির সৃষ্টি হয়েছে, যা নিয়ন্ত্রন করা, লাগাম টেনে ধরা ও নিয়মে নিয়ে আসা রীতিমত অত্যাবশ্যক হয়ে পড়েছে। যেহেতু, আপনি অত্র উপজেলার প্রশাসনিক সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ। তাই আমরা সাধারণ আমজনতা মনে করি, আপনার বলিষ্ট হাতে সেসকল লাগামহীন নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ বা লাগাম টেনে ধরার নিমিত্তে আপনার বলিষ্ট প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ একান্তভাবে অনস্বীকার্য হয়ে পড়েছে। যেসব খাত বা বিষয়াদির ক্ষেত্রে আপনার প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ জরুরী হয়ে পড়েছে তার চৌম্বক অংশ নিম্নে উপস্থাপন করা হলঃ
০১। ইয়াবা বানিজ্য প্রতিরোধে আপনাকে শক্ত হাতে এগিয়ে আসতে হবে। উখিয়া উপজেলা, মায়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত হওয়ায়, অধিকন্তু মায়ানমার সরকার জেনে, বুঝে তাদের যাবতীয় ইয়াবা কারখানা আমাদের সীমান্তবর্তী এলাকায় স্থাপন করে, আমাদের উন্মুক্ত ও অরক্ষিত সীমান্তকে বিবেচনায় রেখে, ইয়াবা চোরাচালানের আন্তর্জাতিক রোডম্যাপ হিসেবে এতদঞ্চলকে সু কৌশলে ব্যবহার করতে গিয়ে, দেশীয় কিছু দেশদ্রোহী, স্বার্থান্বেষী দালাল চক্র উক্ত ইয়াবা ব্যবসাকে জিইয়ে রেখেছে। বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত মাদক ও দূর্নীতির বিরোদ্ধে ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আপনাকে অকুতোভয় সৈনিক হিসেবে ইয়াবার শিকড় সমুলে উৎপাটনে আন্তরিকতার সাথে এগিয়ে আসতে হবে। অন্যতায় আমাদের তরুণ সমাজ, যুবসমাজ ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে উপনীত হতে আর ঢের দেরি নেই।
০২। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর অগ্নিমূল্য প্রতিরোধকল্পে আপনাকে শক্ত হাতে বাজার মনিটরিং এ-র দায়িত্ব নিতে হবে। সুষ্ট বাজার মনিটরিং এ-র অভাবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে নিমিষেই কোটি কোটি টাকা সাধারণ মানুষের পকেট থেকে অবৈধভাবে কেটে কোটিপতি বনে যাবার ঢেকুর তোলে, ধরাকে সরা জ্ঞান করে সবকিছুতে নের্তৃত্বের আসনে চড়ে বসার খায়েস অনুভব করছে।সেসব সিন্ডিকেট চক্র সুচারুরুপে সুসম্পন্ন করতে প্রভাবশালী নেতা, নের্তৃ, বিভিন্ন পেশাজীবিকে ম্যানেজ/ হাতে রেখে সংগোপনে বৈধ/অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। আবার অনেকেই অবৈধ টাকার উৎসকে বৈধতা দেবার জন্য বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বিভিন্ন ধরনের লোন গ্রহণ করে ব্যবসা প্রতিষ্টান, দালানে সাইন বোর্ড তুলে দিয়ে নিজকে খুবই চালাক ও বুদ্ধিমান সেজে ভিতরে ভিতরে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে দেদারসে! সেদিকে একটু সতর্ক দৃষ্টি নিক্ষেপ করার আহবান ও অনুরোধ থাকবে।
০৩। পাহাড় কাটা রোধ, অবৈধ বালি উত্তোলন রোধ, বনভুমি ধ্বংস রোধকল্পে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে অচিরেই।
০৪। পরিবহন খাতের লাগামহীন নৈরাজ্য, অনিয়ম, দূর্নীতি, অদক্ষ, অপরিনত, প্রশিক্ষনহীন, লাইসেন্সবিহীন চালক বা ড্রাইভার, রোডপারমিট ছাড়া গাড়ি চালানো রোধ, টোকেন বাণিজ্য করে অবৈধভাবে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে আঁতাত রোধ।
০৫। পরিবেশ বিপর্যয় রোধকল্পে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ খুবই জরুরী। রোহিংগা অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায়, এমনিতে পরিবেশ, প্রতিবেশের উপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব তো আছেই, তদুপরি পাহাড় কাটা, বনভুমি উজাড় করে ইকোসিস্টেমের উপর মারাত্মক প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। সমুদ্র পৃষ্টের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে, আগামী কয়েক দশকে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলসহ এক তৃতীয়াংশ সমুদ্র গর্ভে বিলীন হবার হুসিয়ারী তো আছেই। তাই এ ব্যাপারে ত্বড়িৎ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
০৬। থানা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দফতর, কার্যালয় দূর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, অবৈধ স্বার্থান্বেষী মহল, দালাল চক্র কর্তৃক অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধকরণ ও রোধ কল্পে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাকরণ এবং আইনের যথাযথ নিয়ম প্রতিপালনকরণ।
০৭। বিভিন্ন স্থানে উন্নয়নমূলক কার্যাবলীর সুষ্ট ও যথাযথ মনিটরিংকরণ, বিভিন্ন অনিয়ম, দূর্নীতির ব্যাপারে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করে অনিয়ম, দূর্নীতির বিরুদ্ধে যতাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উক্ত উন্নয়ন্মুলক কার্যাবলী সঠিকভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিতকরণ।
০৮। দেশি বিদেশি অনুদানের হোস্ট কমিউনিটির জন্য বরাদ্দকৃত ৩০% যথাযথ বুঝে নিয়ে তা হোস্ট কমিউনিটির জন্য সুষ্ট ও সঠিকভাবে বরাদ্দকরন ও প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় সেসকল অনুদান সঠিকভাবে পৌঁছে দেবার ব্যবস্থাকরণ।
০৯। স্থানীয় শিক্ষিত বেকারদের যোগ্যতানুযায়ী বিভিন্ন এনজিও, আইএনজিওগুলোতে ৭০% কৌটার সঠিক বাস্তবায়ন করণ এবং স্থানীয়দের সঠিকভাবে ট্রেনিং এ-র ব্যবস্থা করে, চাকুরী প্রাপ্তীর ক্ষেত্রে ভুমিকা রাখার ব্যবস্থা করা।
১০। স্থানীয়দের যেকোন ছুতোয় চাকুরী থেকে অব্যাহতি প্রদানের মনমানসিকতার পরিবর্তন আনতে বাধ্য করণ, স্থানীয়দের চাকুরীর স্থায়ীত্ব নিশ্চিত করণ।
১১।হোস্ট কমিউনিটি হিসেবে শুধুমাত্র উখিয়া টেকনাফ বা রোহিংগা আসার কারনে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাকে আমলে নেওয়া। হোস্ট হিসেবে বৃহত্তর চট্টগ্রাম বিভাগকে নিয়ে এসে সত্যিকারের হোস্ট এ-র প্রতি অবিচার বা জুলুম অবস্থা থেকে পরিত্রানের ব্যবস্থাকরণ।
১২। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা বিভিন্ন বরাদ্দগুলো সঠিকভাবে ডিসট্রিবিউশন হচ্ছে কিনা মনিটরিং করা। সরকারি ও বেসরকারীভাবে বিভিন্ন বরাদ্দগুলোর যথাযথ তদারকি করা একান্ত্তআবে অপরিহার্য হয়ে পড়ে।
১৩। কিছু মানুষ দিনে দিনে আংগুল ফুলে কলাগাছ বনে যাবার পেছনে কোন ‘আলাউদ্দীনের চেরাগ’ কাজ করেছে তা যাছাই বাছাই করে জনসম্মুখে প্রকাশ করা।
১৪। বিশ্ব অতিমারী করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ধাপ মোকাবেলা করার জন্য প্রত্যককে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যবস্থা করণ।

১৫। রোহিংগা অধ্যুষিত এলাকা তথা ক্যাম্পে রোহিংগা জনগোষ্টিকে যথাযথ নিয়ন্ত্রনের ব্যবস্থা গ্রহন করা। নচেৎ, রোহিংগারা দেশদ্রোহী কর্মকান্ডে জড়িত হয়ে হোস্ট কমিউনিটির উপর “গোঁদের উপর বিষ ফোঁড়া ” হয়ে আমাদের স্বাধীনতা বিপন্ন করার সংগ্রামে লিপ্ত হয়ে আমাদের জীবন বিপন্ন করে তুলবে। তাই সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি লোকাল প্রশাসনের তদারকি বাড়ানো অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

উপরোক্ত দাবিগুলো ও বিষয়াদি বিবেচনা করতঃ পাইলট প্রকল্প হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কিছু পয়েন্টকে গুরুত্ব দিয়ে যত তাড়াতাড়ি পদক্ষেপ গ্রহন করতে পারবেন, তত দ্রুত ও ইতিবাচকভাবে বর্তমানে উখিয়া উপজেলায় বিদ্যমান নৈরাজ্যকর, অস্বস্তিকর, লাগামহীন ও অসহনীয় পরিবেশ পরিস্থিতি সামাল দেবার ব্যাপারে আপনি স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারবেন। তাই উপরোক্ত বিষায়াদি বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন করতে, মাননীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয় আপনার সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।পরিশেষে আপনার উত্তরোত্তর উন্নতি, সম্বৃদ্ধি, সফলতা, সুস্থতা, নিরাপত্তা ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি। ধন্যবাদ আপনাকে।

লেখকঃ সভাপতি- বিএমএসএফ (বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম), উখিয়া উপজেলা শাখা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর....