• শুক্রবার, ১২ অগাস্ট ২০২২, ০৮:০৯ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
ভোটার প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গা অধ্যুষিত সীমান্ত এলাকার জন্য ইসি সচিবালয় কর্তৃক ঘোষিত নির্দেশিকা। কক্সবাজার জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইন চার্জ মনোনীত হয়েছেন’ উখিয়া থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী নাদিম আবাসিক হোটেলে মিলল এক নারী চিকিৎসকের গলাকাটা লাশ, কথিত স্বামী পলাতক। বনের জন্য কক্সবাজার হবে মডেল জেলা-প্রধান বনসংরক্ষক কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলিতে হেড মাঝিসহ ০২জন নিহত। আর্থিক খাতে লুটপাটের দায় জনগণ শোধ করবে কেন? মাদক ও ইয়াবার বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত রেখে তরুণ সমাজকে রক্ষা করুণ । কক্সবাজার জেলা বিএমএসএফ এর জরুরী সভা অনুষ্ঠিত উখিয়া স্পেশালাইজড হসপিটাল এ জনপদের চাহিদা, আশা-আকাঙ্ক্ষা পুরণে সক্ষম? নাকি শুধুই গতানুগতিক! ফেসবুকে পরিচয় ও প্রেম-অতপরঃ এক কলেজ শিক্ষিকাকে কলেজ ছাত্রের বিয়ে!

প্রসংগঃ সাংবাদিক আবদুল হাকিমের উপর নির্যাতন ও গনমাধ্যমের স্বাধীনতা।

AnonymousFox_bwo / ৩৭৮ মিনিট
আপডেট সোমবার, ২৫ জানুয়ারী, ২০২১

এম আর আয়াজ রবি।
পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও হয়রানির ঘটনা ক্রমাগত বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে সাংবাদিক নির্যাতনের এসব ঘটনা ঘটছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাকের ডগায়। সাংবাদিকরা যে শুধু সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ঘটনাস্থলে প্রকাশ্যে এমন হামলার শিকার হচ্ছেন তা নয়; দেশের বিভিন্ন স্থানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সাংবাদিকদের ওপর চোরাগোপ্তা হামলা চালানোর বহু ঘটনা ঘটেছে। ঢাকাসহ সারা দেশে বিগত বছরগুলোতে এ ধরনের নানা হামলায় বহু সাংবাদিক নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক। আরও উদ্বেগজনক হলো সাংবাদিকদের ওপর হামলা-নির্যাতনের বেশিরভাগ ঘটনারই সুষ্ঠু বিচার হচ্ছে না। সাংবাদিক নির্যাতন ও সাংবাদিক হত্যার যথাযথ বিচার না হওয়া স্পষ্টতই অপরাধীদের দায়মুক্তি দেবার নামান্তর। একে সাংবাদিকদের ওপর হয়রানি, নির্যাতন ও হামলার ঘটনা বাড়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও সাংবাদিক নেতারা।


সাংবাদিকদের ওপর যে কতটা বেপরোয়া ও বর্বর হামলা চালানো হচ্ছে তার সর্বশেষ বড় দৃষ্টান্ত গত শুক্রবার, ২২-শে জানুয়ারী-২০২১ তারিখে, উখিয়া হলদিয়া পালং এর পাতাবাড়িতে তরুন সাংবাদিক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবদুল হাকিমের উপর বর্বর হামলা। স্থানীয় ইয়াবা কারবারীদের বিরুদ্ধে কলম শাণিত করার কারণে ইয়াবা সিন্ডিকেট চক্র কর্তৃক অপহরণপূর্বক অমানবিক নির্যাতন করে মুমূর্ষু অবস্থায় ফেলে চলে যায়। বর্তমানে সে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করছে। সাংবাদিক আবদুল হাকিমের ধারাবাহিক লেখার কারনে ইয়াবা সিন্ডিকেটের একজন ইয়াবাসহ আটক হবার পর থেকে সেই সিন্ডিকেটের অনেকেই প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে তার উপর উক্ত হামলা পরিচালিত করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।


মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, সংবাদমাধ্যমসহ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে সাম্প্রতিক ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’। একদিকে, এমন আইন ও নানারকম ভয়ভীতি-হুমকির কারণে সাংবাদিকতার পরিসর সংকুচিত হয়ে উঠছে; আরেকদিকে, শারীরিকভাবে হামলা ও হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে সাংবাদিকদের। এসব হামলা-নির্যাতন সাংবাদিকতা পেশাকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে এবং তথ্যপ্রকাশে বাধা দেওয়ার মধ্য দিয়ে তা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাকেও খর্ব করছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। সাংবাদিক নেতারা অভিযোগ করে আসছেন যে, সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনায় সরকারের ভূমিকা অনেকটাই নীরব। কিন্তু গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হলে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন জরুরি। এ অবস্থায় অবিলম্বে সাংবাদিকদের ওপর সংঘটিত সব হামলা-নির্যাতনের যথাযথ বিচার নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে সরকারকে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসকের) পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত বছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত এই ছয় মাসে ১৫৬ জন সাংবাদিক বিভিন্নভাবে নির্যাতন, হয়রানি, হুমকি ও পেশাগত কাজ করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের গত বছরের ছয় মাসের মানবাধিকার লঙ্ঘনের সংখ্যাগত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের ওই পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বছরের প্রথম তিনমাসে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা তুলনামূলক কম থাকলেও পরবর্তী তিনমাসের করোনাকালীন সময়ে সাংবদিক নির্যাতন দ্বিগুণ মাত্রায় বেড়েছে।
আসকের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে যথাক্রমে ১৭, ১৮ ও ১৫ (মোট ৫০) জন সাংবাদিক নির্যাতন, হয়রানির শিকার হয়েছেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিন মাসে সেই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ মাত্রায় বেড়েছে। চলতি বছরের এপ্রিল, মে ও জুন মাসে যথাক্রমে ৩৬, ৪০ ও ৩০ (মোট ১০৬) জনে সাংবাদিক নির্যাতন, হয়রানি, হুমকি ও পেশাগত কাজ করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন।
এ ছাড়া সময়ের আলোচিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় গত বছরের জানুয়ারী থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে কমপক্ষে ৬২টি মামলা হয়েছে বলে আসকের ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এই মামলাগুলোতে প্রায় ১৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে গণমাধ্যম তথ্যপ্রকাশ এবং নাগরিকরা ভিন্নমত প্রকাশ কিংবা সরকারের সমালোচনা করার ক্ষেত্রে সেল্ফ-সেন্সরশিপ করতে বাধ্য হচ্ছে বলে আসকের ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পক্ষ থেকে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, যেকোনো দুর্যোগে জনগণের নিকট সঠিক তথ্য থাকাটা অত্যন্ত জরুরি। আর জনগণের তথ্য পাওয়ার অধিকার রক্ষায় করোনার এ সংকটকালীন সময়ে সাংবাদিকরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে যেভাবে বাধা দেয়া হচ্ছে এবং তাদের যেভাবে হয়রানি ও শারীরিকভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে তা অত্যন্ত অগ্রহণযোগ্য এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য অশনিসংকেত।

লেখকঃ সভাপতি, বাংলাদেশ মফাস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) উখিয়া উপজেলা শাখা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর....