• শুক্রবার, ১২ অগাস্ট ২০২২, ০৯:১৭ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
ভোটার প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গা অধ্যুষিত সীমান্ত এলাকার জন্য ইসি সচিবালয় কর্তৃক ঘোষিত নির্দেশিকা। কক্সবাজার জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইন চার্জ মনোনীত হয়েছেন’ উখিয়া থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী নাদিম আবাসিক হোটেলে মিলল এক নারী চিকিৎসকের গলাকাটা লাশ, কথিত স্বামী পলাতক। বনের জন্য কক্সবাজার হবে মডেল জেলা-প্রধান বনসংরক্ষক কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলিতে হেড মাঝিসহ ০২জন নিহত। আর্থিক খাতে লুটপাটের দায় জনগণ শোধ করবে কেন? মাদক ও ইয়াবার বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত রেখে তরুণ সমাজকে রক্ষা করুণ । কক্সবাজার জেলা বিএমএসএফ এর জরুরী সভা অনুষ্ঠিত উখিয়া স্পেশালাইজড হসপিটাল এ জনপদের চাহিদা, আশা-আকাঙ্ক্ষা পুরণে সক্ষম? নাকি শুধুই গতানুগতিক! ফেসবুকে পরিচয় ও প্রেম-অতপরঃ এক কলেজ শিক্ষিকাকে কলেজ ছাত্রের বিয়ে!

উখিয়া টেকনাফের ‘স্থানীয়দের স্বার্থ সংরক্ষন’ এ জনপ্রতিনিধি, নেতা, নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের ভুমিকা কি? এনজিও/আই এনজিওদের দৌরাত্ম থামাবে কে?

AnonymousFox_bwo / ২৯০ মিনিট
আপডেট বুধবার, ২১ এপ্রিল, ২০২১

 

এম আর আয়াজ রবি
উখিয়া-টেকনাফের প্রায় ১৮ লক্ষ মানুষের বসবাস। এ ব্যাপারে  সংবাদ মাধ্যম, সোস্যাল মিডিয়া ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় লিখা-লিখি, স্বাক্ষাতকার প্রদান অথবা বিবৃতি প্রদানের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষনের চেষ্টা অনেকেই করেছেন বা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ পর্যন্ত অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে লেখালেখি বা বিবৃতি প্রদানে আর তেমন কাজ হবেনা! এসব যথাযথ কর্তৃপক্ষের কর্ণকোঠরে যাচ্ছেনা বা কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনে অপারগ বা উদাসীন!

NGO বা INGO সংস্থাগুলো স্থানীয় অধিবাসীদের স্বার্থ বা সুযোগ সুবিধার কথা তোড়াই কেয়ার করছে যথারীতি প্রতি পদে পদে । তারা সব সময় স্থানীয় অধিবাসীদের স্বার্থকে ক্ষুদ্র স্বার্থ মনে করেছেন। কোন সময় তারা এ জনপদের পরিবেশ, প্রতিবেশ, আইন শৃংখলা, জনগনের জীবন মান উন্নয়ন, বাসস্থান,চিকিতসা, শিক্ষাসহ মৌলিক ও মানবিক অধিকারের কথা কোনদিন গুরুত্বের সাথে যেমনি চিন্তাও করেন নি, তেমনি স্থানীয়দের দাবি দাওয়ার ব্যাপারগুলোকে আমলে নেননি। স্থানীয়রা সব সময় বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। এনজিও সংস্থায় লোকবল নিয়োগের ৮০% হোস্ট কমিউনিটি থেকে রুক্রুট করার কথা থাকলেও, স্থানীয় শিক্ষিত সিমাজ আজ সবচেয়ে বেশি অবহেলার সৃষ্টি হচ্ছে। শিক্ষিত বেকারদের ব্যাপারে কোন জনপ্রতিনিধি, কোন সংস্থা, কোন সুশীল সমাজ সামনে এসে ত্রান কর্তা হিসেবে এগিয়ে আসেনি। জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের আখের গোছানোর কাজে সদা সর্বদা ব্যস্ত থাকেন। একশেণির দালাল চক্রের হাতে জিম্মী হয়ে গেছে রোহিংগা ক্যাম্পে চাকুরীর বাজার। সরকারের কিছু উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা, কর্মচারী, এনজিও সংস্থার স্বার্থান্বেষী বড় কর্তারা একচেটিয়া চাকুরীর বাজার নিয়ন্ত্রন করছে। চাকুরী পাবার ক্ষেত্রে, কত ধরনের আত্মীয় করণ, স্বজনপ্রীতি, নীতি, নৈতিকতার বালাই, কত সুন্দরী ভার্জিনের জীবন যৌবন উপলক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে তা বলাই বাহুল্য! এ সবের খবরাখবর নিশ্চয়ই রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাসমুহের কাছে পর্বতসমান নথি রয়েছে কিন্তু কোনটাই জনসম্মুখে প্রকাশ হচ্ছে না।হবার সম্ভাবনাও ক্ষীণ। কিছু সাংবাদিক স্বপ্রনোদিত হয়ে, এক আধটু লেখালেখি করলেও এসবের হালে পানি পায়না!

NGO নিয়ে আমার ভার্সিটির বন্ধু গবেষক ও পসামুদ্রিক বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর সাহেবের একটি ক্ষেদোক্তি ছিল গত বছরে যা এখানে উল্লেখ করার লোভ সামলাতে পারলাম না! তিনি লিখেছেন- ” জনসেবার নামে নিজেদের সেবার, আয় রোজগারের কিংবা ডোনার সংস্থার পুঁজিকে খাটিয়ে উন্নয়ন প্রজেক্টের অন্তরালে ব্যবসার নাম বেশীর ভাগ এনজিও। রোহিঙ্গা সংকটের আর্থিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক দুঃসহ বোঝা বহন করছে পুরো দেশ আর পেট ফুলে ফেঁপে বড় হয়েছে অনেক পুরাতন ও নতুন গজে উঠা সেবা সংস্থার নামে এনজিও। এবার শুরু হলো করোনা সংকট মোকাবেলায় (!) বড় ফড় প্রজেক্টের গর্ভপাতের সময়। গত এক দেড় মাসে রাতে রাতে প্রজেক্ট বানাতে ওস্তাদদের কদর বেড়েছে। এরি মধ্যে তাদের অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তান জন্ম দানের হিরিক পড়া ও শুরু হয়েছে। মানবাধিকার, স্বাস্থ, পরিবেশ ও মাৎস্য ইত্যাদি নিয়ে কাজ করা এনজিওতে কর্মরত রথিমহারথিদের অট্টহাসি দেখছি, মেসেজ পাচ্ছি। কেউ বলছে স্যার আমরা বড় একটা ডোনেশন পেয়েছি বস্তিতে হাত ধুয়ে দেব, কেউ বলছে গ্রীন সিগনাল পেয়েছি অমুক দপ্তর থেকে আর পরিবেশের আকাল থাকবেনা, সবকিছু মকালের দশায় নিয়ে যাব ইত্যাদি ইত্যাদি। তবে রাতে রাতে প্রজেক্ট বানাতে ওস্তাদরা আবার ডুয়েল কোয়ালিটি সম্পন্ন। উনারা অনেকে ই এরিমধ্যে আবার কাজের মুল্যায়ন রিপোর্ট ও সাথে সাথে উন্নয়ন গ্রাফসহ রিপোর্ট রেডি রে রাখেন। যখন চাহিব তখনি জমাদানে সামর্থবান এসব এক্সপার্টে ভরা এনজিগুলোর এখন রমরমা অবস্থা। একে ই বলে ‘কারো পৌষ মাস কারো সর্বনাশ ‘”

উপরোক্ত ক্ষেদোক্তি থেকে বুঝা যায়, এখনই সময় এসেছে স্থানীয়দের অধিকার ও হির্সাগুলো যথাযথভাবে আদায় করে বুঝে নেবার। তাই উখিয়া-টেকনাফের সকল নেতা-নেতৃবৃন্দের প্রতি বিনীত আরজ থাকবে-এখন এই করোনাকালীন দুর্যোগ মুহুর্তে রাজনীতি করার সময় নয়।এখন বেঁচে থাকার কঠিনতম লড়ায়ের সময়। আগে আপনি বাঁচেন, হয়ত পরে অনেক সময় পাবেন রাজনীতি করার। যদি এ যাত্রায় আলহামদুলিল্লাহ আপনারা বেঁচে যান, রাজনীতি আপনারাই করবেন, এতে কোন সন্দেহ নেই!প্লীজ,আপনারা রাজনীতির পরিচয়ের উর্ধেব উঠে জনপদের মানুষগুলোকে বাঁচান। সুন্দর পৃথিবীতে প্রত্যেকেই নিজেদের পরিচয় নিয়ে বাঁচতে চায়। প্রয়োজনে স্থানীয়দের সু সংগটিত করুন। স্থানীয়রা আপনাদের ডাকের জন্য অপেক্ষা করছেন। উখিয়া -টেকনাফের মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকারের জন্য কোন দিন দ্বিধান্বিত, কুন্ঠিত ও পীছপা হননি। তাদের অধিকার আদায় ও আত্বমর্যাদা সংরক্ষনের ব্যাপারে সদা সর্বদা অগ্রগামী ভুমিকা পালন করে চলেছেন। এখন সময় এসেছে রাজনীতির পরিচয়ের ব্রাকেটে বন্দী না হয়ে দল- মত, ধর্ম- বর্ণ নির্বিশেষে এ-ই জনপদের প্রায় আটার লক্ষ মানুষকে বাঁচাবার।

বাংলাদেশের তথা আন্তর্জাতিকভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থান হচ্ছে উখিয়া- টেকনাফ এ দুটি জনপদ। এটি যেন একটা ভিসুভিয়াস সুপ্ত আগ্নেয়গিরি! এমনিতে রোহিংগা অধ্যুসিত জনপদ যেখানে আগে থেকেই সুপ্ত আগ্নেয়গিরির লাভা সঞ্চিত তার উপরে করোনা মহামারী! এটি যেন মড়ার উপর খাড়ার ঘা! অত্র এলাকায় রোহিংগা ক্যাম্প গুলোতে হাজার হাজার বিদেশী ও কক্সবাজারের বাইরের মানুষ চাকুরী করেন। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা করোনা সংক্রামক জোনে পরিনত হয়েছে।দেশের বাইরের অনেকে আছেন যেখানে করোনা মহামারী হিসেবে সামাল দিতে হিম সিম খেয়ে যাচ্ছেন। ঐসব দেশ বা এলাকার চাকুরীজীবি কেহ যদি আক্রান্ত হয়ে রোহিংগা ক্যাম্প ও স্থানীয়দেরকে কমিউন্যিটি ট্রান্সমিশন ঘটায়, পুরো এলাকা যেকোন মূহুর্তে বিস্ফোরিত হয়ে পড়লে সামাল দেওয়া এক্কেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়বে। তাই যতদিন স্থানীয় মানুষকে সংঘটিত করে, অধিকার আদায়ের সংগ্রামে দল, মত, ধর্ম,বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষকে একই ছাতায় এনে অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সামিল করতে পারবেন না ততদিন আমরা বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে তিমীরে থাকব।

আমার উদাত্ব আহবান থাকবে, এলাকার সবাইকে রাষ্ট্রীয় নিয়ম নীতি যথাযথভাবে পালন করার জন্য উদ্ভুদ্ধ করতে হবে। মনে রাখতে হবে এ-ই মহামারী করোনা ভাইরাসকে হাল্কাভাবে দেখার কোন কারন নেই এবং সুযোগও নেই। আমাদের চোখের সামনে কত বড় বড় শক্তিধর পরাশক্তি এ অদৃশ্য জীবের কাছে মাথানত করেছে তা বলাই বাহুল্য! আমরা গরীব দেশের গরীব মানুষ। আল্লাহ না করুন, এই উখিয়া টেকনাফের এলাকায় যদি কোনভাবে করোনা সংক্রমিত হয়,তাহলে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সেবার বর্তমান এ অবস্থায় রোহিংগা এলাকা ও স্থানীয়দের মাঝে মহামারী প্রতিরোধ করা কস্মিন কালেও সম্ভবপর হবেনা। আর অন্যান্য দেশের মত আমাদের সংক্রমের হার বেশি হলে চিকিতসা ও স্বাস্থ্য সেবার অভাবে কত মানুষ পথে ঘাটে পড়ে থাকবে বা মারা পড়বে তা চিন্তা করলে শরীর হিম হয়ে উঠে!

আল্লাহ সবাইকে সুস্থ, সুন্দর, নিরাপদ রাখুন এবং এ প্রানঘাতি করোনা মহামারী থেকে সবাই রক্ষা পাক এ-ই প্রার্থনা থাকবে মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে।
প্লীজ, প্লীজ আপনারা ঘরে থাকুন, সামাজিক দুরত্ব মেনে চলুন, হোম কোয়ারেন্টাইন মেবে চলুন, লক ডাউন মেনে চলুন এবং সংক্রমিত অঞ্চলের কেহ যেন অত্র অঞ্চলে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে প্রশাসনের সাথে সাথে স্থানীয়দেরকেও যথাযথ ভুমিকা পালন করতে হবে। মনে রাখতে হবে, এ প্রানঘাতি করোনা উচু-নিচ, জাত-পাত, ধনী- দরিদ্র, সত-অসত, রাজা-ফকির, উজির-নাজির, ট্রাম-ট্রাডো, চীন, আমেরিকা, ইটালী,স্পেন, ইরান, সৌদি আরব, ভারত, পাকিস্তান বা বাংলাদেশ কিছুই চিনেনা,বুঝেনা ও মানেনা!! এ ভাইরাসের কোন ভৌগোলিক সীমারেখা নেই! এ-র মরন ছোবল থেকে ২১০টি দেশ এ পর্যন্ত রক্ষা পায়নি!! সুতরাং সচেতনতা, সতর্কতা, রাষ্ট্রীয় নিয়ম-কানুন মেনে চলার সাথে সাথে ইস্তাগফার করা, আল্লাহর কাছে বেশি বেশি ক্ষমা চাওয়া, ফানাহ চাওয়া এবং অন্যান্য ধর্মাবম্বীরা প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা ছাড়া ভ্যাক্সিন আবিস্কারের পূর্ব পর্যন্ত অন্য কোন গত্যন্তর নেই!! সবাই সুস্থ থাকুন, নিরাপদে থাকুন-দেশ ও দশকে সুস্থ রাখুন ও নিরাপদ রাখুন এবং উখিয়া-টেকনাফের স্বার্থ ও অধিকার আদায়ে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে চলুন।আল্লাহ সবার মংগল করুন, আমিন।
লেখকঃ সভাপতি, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ( বিএমএসএফ), উখিয়া উপজেলা শাখা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর....