• রবিবার, ১৩ জুন ২০২১, ০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
যখন আমি প্রকৃতির নিয়মে বুড়িয়ে যাবো সবই তাঁর দান, সুমহান! জানেন, পুত্র সন্তান জন্মালেই কেন পিতার হাতে খুন হতে হয় নির্মমভাবে! উখিয়ায় রাজাপালং ইউনিয়ন ছাত্রলীগের উদ্যোগে ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস পালিত মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জোয়ান কতৃক, ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ রোহিংগা নাগরিক ধৃত উখিয়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু বক্কর ছিদ্দিককে হাজার মানুষের ভালবাসা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন উখিয়ায় পাহাড়ধ্বস প্রবণ এলাকায় ইউএনও’র সতর্কতা, জরুরী প্রয়োজনে 01882160082 পানি নিষ্কাশনের একমাত্র ড্রেনেজটি বন্ধ করে দেওয়ায়, উখিয়ার মালভিটা পাড়ার শত শত ঘর বাড়ি কোমর পানিতে সয়লাব ” ১১নং মঘাদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শাহীনুল কাদের চৌধুরী। বাংলাদেশে সংক্রমণের ৮০ শতাংশই ভারতীয় ধরন

প্রসংগঃ বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস ও গণমাধ্যম যখন লাঠিয়াল বাহিনী

admin / ৬৮ মিনিট
আপডেট বুধবার, ৫ মে, ২০২১

 

এম আর আয়াজ রবি।
গত ৩ মে, সারা বিশ্বব্যাপী পালিত হল ‘ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ডে’ বা ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস’। বিশ্ব মুক্ত গনমাধ্যম সূচকে বাংলাদেশ প্রতিবছর পেছনের দিকে ধাবমান হচ্ছে। এটা কেন হচ্ছে আমরা কি কেউ একটু বিবেচনায় আনছি? আসলেই কি আমরা শত খবরের ভিতরে এ-ই একটি খবরই খুব বেশি বেখবর! যখন আমরা জাতি সংঘের আটটি সংঘটনকে বলতে শুনি, বাংলাদেশের সাংবাদিকদের পাশে গিয়ে দাঁড়ান, তখনই বুঝা যায় বাংলাদেশের সাংবাদিকদের মুক্তভাবে লেখার স্বাধীনতার অসহায়ত্ব ও কতভাবে নিয়ন্ত্রিত!সাংবাদিকরা নিজেরাই নিজেদের সুযোগ সুবিধার কলেবর বৃদ্ধির জন্য বা স্বাধীনতাকে চর্চা না করতে করতে এক ধরনের নিয়ন্ত্রনের আওতায় অবস্থান করতে ভালবাসেন। তারা নিজেরাই নিজেদের চৌহদ্দির বাইরে যেতে লজ্জা পাচ্ছে।

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে বাংলাদেশ গত বছরের তুলনায় এবছর আরও এক ধাপ পিছিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় প্রত্যকে দেশ আমাদের চেয়ে সূচকে এগিয়ে এমনকি, যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্থান, পাকিস্তানও আমাদের থেকে সূচকে এগিয়ে! গত ২০ এপ্রিল রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ) ২০২১ সালের এই সূচক প্রকাশ করে। ২০১৯ সাল থেকে প্রতিবছর সেই সূচকে এক ধাপ করে পেছাচ্ছে বাংলাদেশ। সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫২তম।

কেন আমরা পিছিয়েছি? সহজ উত্তর বোধহয় লাঠিয়াল সাংবাদিকতার কারণে।
‘আগে মানুষ টাকা হলে লাঠিয়াল ভাড়া করত, এখন করছে সাংবাদিক ভাড়া’। কথাটি সত্যিই লজ্জাকর! সেসব নিয়ন্ত্রিত সাংবাদিকদের দিয়ে কর্তাব্যক্তিরা, যেমন খুশী তেমন রিপোর্ট করাচ্ছে মালিকদের খেয়াল খুশি মত। প্রতিটা ভূমি দস্যুর আর কিছু থাকুক বা নাই থাকুক একটি সংবাদ মাধ্যম তো আছেই! সেই সংবাদ মাধ্যমকে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লাঠিয়াল হিসেবে ব্যবহার করে যাচ্ছে দিনের পর দিন।
এ ধারনার সবচেয়ে উজ্জ্বল উদাহরণ দেখেছি অতি সম্প্রতি বাংলাদেশের মিডিয়াগুলোতে। ভিকটিমের নাম, ছবি, পরিচয় সবই প্রকাশ করেছে মাগর আসামীর ছবি তো নেই-ই বরং, অপরাধীর নামটি পর্যন্ত উল্লেখ না করে লিখেছে একটি বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলে! কেননা, ভাসুরের নাম মুখে আনা পাপ! আসলেই তাই!

গনমাধ্যমকে কতভাবেই নিয়ন্ত্রন করা হচ্ছে সেটা বলাই বাহুল্য! সাংবাদিকতাকে যে, যেদিক থেকে পারে নিয়ন্ত্রিত করছে, প্রভাবিত করছে, শৃংখলিত করছে। এ-র কারন অনুসন্ধান করলে অনেক কারনের একটি বড় কারন হচ্ছে আমাদের দেশের সাংবাদিকরা সাংবাদিকতার ইথিক্স যেমন বুঝেন না, ঠিক তেমনি অনেকেই আছেন পড়া নেই, চর্চা নেই অধিকন্তু সাংবাদিকতার উপর তেমন কোন ট্রেইনিং বা ওয়ার্কশপ না করে সাংবাদিকতার মত মহৎ পেশায় নিজকে আত্মনিয়োগ করেন। বেশিরভাগ যথাযথ প্রশিক্ষন না নিয়ে, যথাযথ ডিগ্রী না নিয়ে সাংবাদিকতা করে। তারা দেখে শিখে, চর্চা করে, সাংবাদিকতাকে হ্রদয়ংগম করে সাংবাদিকতার মত স্বাধীন পেশাতে নিজকে আত্মনিয়োগ করেন না।

এদেশে সাংবাদিকদের জন্য তেমন উল্লেখযোগ্য প্রশিক্ষন প্রতিষ্টান যেমন নেই, তেমনি সাংবাদিক সৃষ্টির কোনপ্রকার মানদন্ডও নেই। যে কেহ ইচ্ছা করলে বৈধ বা অবৈধভাবে যেকোন গণমাধ্যম বা সংবাদ মাধ্যম থেকে টাকা বা অনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কার্ড একটা সংগ্রহ করে গলায় ঝুলিয়ে নিজকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে, সাংবাদিকদের চৌদ্দ গোষ্টি উদ্ধার করে চলছে তার কোন ইয়াত্তা নেই!
আবার অনেকেই হয়ত বলার চেষ্টা করবেন, ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনসহ বিভিন্ন কারণে মুক্ত সংবাদিকতা সম্ভব হচ্ছেনা। তা কিছুটা সত্য। আমাদের দেশে বিভিন্ন কালা কানুন ও স্বাধীন সাংবাদিকতা বিকাশের প্রতিকুলে। কিন্তু, লাঠিয়াল সাংবাদিকতা বা পক্ষপাতদুষ্ট সাংবাদিকতা না থাকলে, ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের চেয়ে বড় আইন করেও সাংবাদিকদের কন্ঠ রোধ করা সম্ভব হবে না, সেটা হলফ করে বলা যায়। কেননা, মালিক পক্ষ থেকে যখন বলা হয়, অমুকের বিরুদ্ধে নিউজ করা যাবে না, তাদেরকে দিয়ে আমাদের অনেক স্বার্থসিদ্ধি করতে হবে, তখন সেই প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিকরা রুটি,রুজির ভয়ে, নিজের নিশ্চিত নিরাপত্তা বুহ্যকে জলাঞ্জলি দিতে স্বভাবতঃই রাজি হয় না। তারা লিখা বন্ধ করে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের ভয়ে নয়, নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য, মালিকের হুকুমে।

অতি সাম্প্রতিককালে আমরা দেখতে পেয়েছি বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন সব গুলো সংবাদ মাধ্যমের সাংবাদিকরা একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত একটি নির্দিষ্ট ইস্যু নিয়ে লেখা বন্ধ করে রেখেছিল, অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়েছে, তাদেরকে বোম্বিং করলেও তাদের কলম থেকে কোন লেখা বের হবে না বা হচ্ছিলনা! পরে দেখা গেল সবাই লেখা শুরু করছে! লিখছে, তারা তাদের সংবাদ মাধ্যমে কাজ করে গর্ভবোধ করছে। কিন্তু, হঠাৎ করে বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন সকল সংবাদ মাধ্যমের সবাই একসাথে একটা নির্দিষ্ট ইস্যু নিয়ে লিখতে গর্ভ অনুভব করার মধ্যেও একটা অন্তঃনিহিত তাৎপর্য লুক্ক্বায়িত আছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না! একজন সাংবাদিক বা দেশের যে কোন নাগরিক স্বভাবতঃই চায়না যেন তেন ( নৈতিক হলেও, পেটে যখন আঘাত আসে তিখন নীতি নৈতিকতার কোন বালাই থাকে না) কর্মকান্ডের কারনে তার আয়, রুজির উপর কোনপ্রকার চপেটাঘাত আসুক। তাই নিজের আয়, রুজির একমাত্র স্বার্থের জন্য অনেক কিছু হজম করেন। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বিশেষ গন্ডির বাইরে গিয়ে নিজকে প্রমান করতে পারেন না ( ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে) আসলেই, এই দেশে একজন সাংবাদিকের চাকরীটা যে কতটা জরুরী তা প্রতিটা সংবাদ কর্মী জানেন, বুঝেন ও উপলব্ধি করেন। তারা বসুন্ধরা গ্রুপের নির্দেশ পালনে তাই বাধ্য। অনেকেই বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন সংবাদ মাধ্যমে যারা চাকরী করেন, তাদের সমালোচনা করছেন। কিন্তু, তাদের সীমাবদ্ধতা, অসহায়ত্বটুকু দেখছেন না, অনেকেই।

এক মুনিয়া বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমের অসহায়ত্বকে সবার কাছে প্রকাশ করে দিয়ে গেল। সেই সাথে এই দেশে স্যোশাল মিডিয়ার শক্তিমত্বা আবারও জাতির সামনে প্রকাশ্যে নিয়ে এলো। যদিও স্যোশাল মিডিয়ার বিরুদ্ধে গুজব সংবাদ ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। সেই কারণে স্যোশাল মিডিয়ার গ্রহণযোগ্যতা বরাবরই প্রশ্নবিদ্ধ। তবুও মুনিয়ার ঘটনা স্যোশাল মিডিয়া বিপ্লবের অনন্য নজীর স্থাপন করল। স্যোশল মিডিয়া বিপ্লবের সবচেয়ে ভাল দিকটি হলো, লাঠিয়াল ভাড়া করেও শিল্পগোষ্টি গুলো নিজেদের রক্ষা করতে পারছে না।
স্বভাবতই প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক, বসুন্ধরা গ্রুপের মিডিয়ার বাইরেও তো দেশে অনেক সংবাদ মাধ্যম ছিল তাহলে অন্যরা কেন এগিয়ে আসেন নি! উত্তর সোজা সেই, লাঠিয়াল সাংবাদিকতা। বেশীরভাগ সংবাদ মাধ্যমের মালিকের মধ্যে নানাবিধ দূর্বলতা কাজ করে, যা বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করলে সেই দূর্বলতা, বসুন্ধরার গণ মাধ্যমগুলো প্রকাশ করে দিলে বা কোনপ্রকার অপ্রস্তুত অবস্থার সৃষ্টি করলে! এছাড়াও, আরেকটি কারণ হতে পারে বিজ্ঞাপন। এই দেশের ছোট বিজ্ঞাপন বাজারে বসুন্ধরা গ্রুপের একটি বড় প্রভাব রয়েছে। বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করলে যদি, সেই বিজ্ঞাপন হারাতে হয়! যেহেতু বিজ্ঞাপনই যেকোন প্রিন্ট, ইলেক্ট্রিক মিডিয়ার প্রান ভোঁমরা।
এ সব লাঠিয়াল বাহিনী থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজতে গিয়ে দেখা গেছে তা থেকে উত্তরনের সার্বজনীন কোন সমাধান হয়তো নেই, তবে সহজভাবে বললে বলতে হয়, মালিকপক্ষের সাংবাদিকদের স্বাধীন সাংবাদিকতার উপর চরম কর্তৃত্ব লোপ করতে হবে। এক্ষেত্রে সাংবাদিকের চাকরী হারানোর ক্ষেত্রে মালিকপক্ষের ভূমিকা বন্ধ করতে হবে। যদিও তা বেশ কঠিন ও দূর্বেধ্য ব্যাপার! এটি শুধুমাত্র সরকারের সদিচ্ছা, আন্তরিকতা, কঠোর নিয়ন্ত্রন, সাংবাদিক বান্ধব সীদ্ধান্ত গ্রহনের নাধ্যমেই এটি সম্ভব। ধন্যবাদ সবাইকে।
লেখকঃ প্রেসিডেন্ট-বিএমএসএফ ( বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম), উখিয়া উপজেলা ও ভাইস-প্রেসিডেন্ট, উপজেলা প্রেস ক্লাব উখিয়া।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর....