• রবিবার, ১৩ জুন ২০২১, ০৫:৩০ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
যখন আমি প্রকৃতির নিয়মে বুড়িয়ে যাবো সবই তাঁর দান, সুমহান! জানেন, পুত্র সন্তান জন্মালেই কেন পিতার হাতে খুন হতে হয় নির্মমভাবে! উখিয়ায় রাজাপালং ইউনিয়ন ছাত্রলীগের উদ্যোগে ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস পালিত মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জোয়ান কতৃক, ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ রোহিংগা নাগরিক ধৃত উখিয়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু বক্কর ছিদ্দিককে হাজার মানুষের ভালবাসা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন উখিয়ায় পাহাড়ধ্বস প্রবণ এলাকায় ইউএনও’র সতর্কতা, জরুরী প্রয়োজনে 01882160082 পানি নিষ্কাশনের একমাত্র ড্রেনেজটি বন্ধ করে দেওয়ায়, উখিয়ার মালভিটা পাড়ার শত শত ঘর বাড়ি কোমর পানিতে সয়লাব ” ১১নং মঘাদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শাহীনুল কাদের চৌধুরী। বাংলাদেশে সংক্রমণের ৮০ শতাংশই ভারতীয় ধরন

বাবুলের পরকীয়ার জেরে ভাড়াটে খুনী দ্বারা হত্যা করা হয় মিতুকে

admin / ৬০ মিনিট
আপডেট বৃহস্পতিবার, ১৩ মে, ২০২১

 

এম আর আয়াজ রবি

চট্রগ্রামের বহুল আলোচিত মিতু হত্যাকান্ডে সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আকতারকে তার স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার ( ১২ মে ২০২১) দুপুর ২ টা ৩০ মিনিটের দিকে তাকে আদালতে এনে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। পরে চট্রগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার জাহানের আদালত আসামীকে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে পাঁচলাইশ থানায় মিতুর বাবা সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন বাদী হয়ে বাবুল আকতারকে প্রধান আসামী করে আরো ৭ জনের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার পর মোশারফ হোসেন বলেন, মামলায় বাবুল আক্তারসহ ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- কামরুল ইসলাম মুছা, কালু, ওয়াসিম, শাহজাহান, আনোয়ার, এহতেসামুল হক ভোলা ও সাকি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, এক এনজিওকর্মীর সঙ্গে পরকীয় সম্পর্ক ছিল বাবুলের। বিষয়টি জেনে গিয়েছিলেন মিতু। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। এরই জেরে মিতুকে খুন করা হয়।

এদিকে, মিতু হত্যার ঘটনায় বাবুল আকতারের দায়ের করা মামলার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেছে চট্টগ্রাম পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পি বি আই) টিম।

২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রাম নগরীর নিজাম রোডে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তদের গুলি ও ছুরিকাঘাতে খুন হন মাহমুদা খানম মিতু। ওই সময় এ ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচিত হয়। ঘটনার সময় মিতুর স্বামী পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। ঘটনার পর চট্টগ্রামে ফিরে তৎকালীন পুলিশ সুপার ও মিতুর স্বামী বাবুল আক্তার পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনার পর বাবুল আকতারকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

স্ত্রীকে খুন করাতে তিন লাখ টাকার চুক্তি করেন এসপি বাবুল আকতার

স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে খুন করাতে আসামিদেরকে তিন লাখ টাকা দিয়েছিলেন সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আকতার। আদালতে দেওয়া দুই সাক্ষীর জবানবন্দি ও পিবিআইয়ের তদন্তে এই তথ্য উঠে এসেছে। এছাড়া পিবিআইয়ের দেওয়া প্রথম মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন ও নতুন করা মামলায় লেনদেনের কথা উল্লেখ আছে।

এ বিষয়ে বাবুল আকতারের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, স্ত্রী হত্যার তিন দিন পর বাবুল আক্তার তার ব্যবসায়িক অংশীদার সাইফুল হককে বলেন তার লাভের অংশ থেকে তাকে যেন টাকা তিন লাখ টাকা দেওয়া হয়। সাইফুল বিকাশের মাধ্যমে ওই টাকা গাজী আল মামুনকে পাঠান। গাজী আল মামুন ওই টাকা মুসা, ওয়াসিমসহ আসামিদের ভাগ করে দেন। তবে কাকে কত টাকা দেওয়া হয়েছে সে সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু জানা যায়নি।

পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, মিতু হত্যা মামলার ভিডিও ফুটেজে বাবুল আক্তারের সোর্স এহতেশামুল হক ভোলা, কামরুল শিকদার ওরফে মূসা ছিলেন। কিন্তু ঘটনার পরপর তিনি দাবি করেছিলেন, হত্যাকাণ্ডে জঙ্গিরা জড়িত। তার সোর্সকে তিনি চিনলেও বিষয়টি এড়িয়ে যান বাবুল আকতার। ভুলেও তিনি সাইফুল হকের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া মুসা ও ওয়াসিমসহ আসামিদের তিন লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলেননি।

এ দিকে গত মঙ্গলবার বাবুলের ব্যবসায়িক অংশীদার সাইফুল ও মামুন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শফিউদ্দীনের আদালতে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। সেখানে দুজনই বাবুলের নির্দেশে স্ত্রী হত্যায় জড়িতদের টাকা দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন।

পাঁচ বছর আগে চট্টগ্রামে স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যায় বাদী ছিলেন স্বামী সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তার। পাঁচ বছর পর বাদীই হলেন হত্যার মূল আসামি।

তদন্তে তার বিরুদ্ধেই হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মঙ্গলবার ডেকে তাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। আজ বুধবার ( ১২ মে ২০২১)তার বিরুদ্ধে মামলা করলেন মিতুর বাবা।

পাঁচ বছর আগের এই হত্যাকাণ্ডে তার স্বামী সাবেক এসপি বাবুল আক্তারের ‘সম্পৃক্ততার প্রমাণ’ পাওয়ার কথা বুধবার জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই।

এ তদন্ত সংস্থার প্রধান পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক বনজ কুমার মজুমদার বুধবার ঢাকার ধানমন্ডিতে পিবিআই সদরদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মিত্যু হত্যার সঙ্গে স্বামী বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে। এ জন্য তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

আইকন নিউজটুডে/আর/১৩০৫২০২১


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর....