• রবিবার, ১৩ জুন ২০২১, ০৫:১১ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
যখন আমি প্রকৃতির নিয়মে বুড়িয়ে যাবো সবই তাঁর দান, সুমহান! জানেন, পুত্র সন্তান জন্মালেই কেন পিতার হাতে খুন হতে হয় নির্মমভাবে! উখিয়ায় রাজাপালং ইউনিয়ন ছাত্রলীগের উদ্যোগে ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস পালিত মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জোয়ান কতৃক, ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ রোহিংগা নাগরিক ধৃত উখিয়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু বক্কর ছিদ্দিককে হাজার মানুষের ভালবাসা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন উখিয়ায় পাহাড়ধ্বস প্রবণ এলাকায় ইউএনও’র সতর্কতা, জরুরী প্রয়োজনে 01882160082 পানি নিষ্কাশনের একমাত্র ড্রেনেজটি বন্ধ করে দেওয়ায়, উখিয়ার মালভিটা পাড়ার শত শত ঘর বাড়ি কোমর পানিতে সয়লাব ” ১১নং মঘাদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শাহীনুল কাদের চৌধুরী। বাংলাদেশে সংক্রমণের ৮০ শতাংশই ভারতীয় ধরন

কিছু ঘটনা ও বাস্তবতাঃ পরিবার ও পারিবারিক শিক্ষাই জাতি বিনির্মাণের সূতিকাগার!

admin / ১৭ মিনিট
আপডেট শুক্রবার, ১৪ মে, ২০২১

 

এম আর আয়াজ রবি।
বর্তমান সমাজ ব্যবস্থার নির্মম ফসল নিম্নে উল্লেখিত সাম্প্রতিক কিছু মর্মস্পর্ষী ও হ্রদয়বিদারক ঘটনাবলী। রাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রাচীন ও প্রথম স্তর হচ্ছে পরিবার, যাকে মানুষ ও জাতি নির্মানের আদি পাঠশালা বলা হয়। মানব শিশু ভূমিষ্ট হবার পর থেকে প্রাতিষ্টানিক পাঠশালায় যাবার পুর্ব পর্যন্ত যা কিছু হ্রদয়ংগম করে সেটুকুই পরবর্তীতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্টান বা পাঠশালায় মুল বুনিয়াদকে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে শক্ত করে মাত্র! কিন্তু সত্যিকারের পাঠশালা ভুমিষ্ট হওয়া থেকে চার পাঁচ বছর, যেটুকু সময় মানব শিশু পরিবার ও পারিপার্শ্বিকতা থেকে হ্রদয়ংগম করে থাকে। মনস্তাত্বিকবিদরা গবেষনা করে নির্যাস পেয়েছেন, মানব শিশু জন্ম থেকে ছয় সাত বছর বয়স পর্যন্ত তাদের আইকিউ লেভেল খুব উচু থাকে। ঐ সময়ের মধ্যেই একটি মানব শিশুর আগামীর স্বপ্ন গ্রথিত হবার কথাও তারা বলার চেষ্টা করেছেন। অনেকেই বলে থাকেন ঐ সময়টাই কাঁদা মাটির মত নরম থাকে। তাদেরকে যেকোন দিকে হেলে, দুলে, বাঁকিয়ে যেকোন স্ট্রাকচার দেওয়া যায়। এ প্রসংগে মাওলানা ডঃ লুৎফর রহমান বলেন, সকাল বেলা নাস্তার টেবিলে প্রথমে যদি ছুরি মাছের ভর্তা খাবার পরে অন্যান্য হাজার বিরানী, সহ নাস্তা খেলেও সারা দিনে ঢেকুর উঠবে সেই ছুরি ভর্তার! কারণ পেটে প্রথমে যেটা তৃপ্তি পেয়ে ডাইজেশন করে, পরে সেটাই ঢেকুর তুলতে এগিয়ে আসে! ঠিক তেমনিভাবে মানবশিশু ভুমিষ্ট হবার সাথে সাথে ইসলামীক জ্ঞান প্রবেশ করিয়ে দিতে পারলে সারা জীবন যেখানে, যে পরিবেশেই বড় হোক না কেন, সে শিশুর ইসলামের প্রতি, মানব শিশু গঠনের সময় যে সবক শিখেছিল তার কিছু না কিছু রেশ থেকে যেতে বাধ্য! তাই সে শিশু/মানুষটি ইসলামের সুমহান ছায়াতল থেকে এক্বেরে দূরে চলে যেতে পারেনা। শিশু/মানুষ্টার মধ্যে সত্যিকারের মানবতাবোধ জাগ্রত থাকবেই! তারা বৃদ্ধ বয়সে মা-বাবাকে এটলিষ্ট বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দেয় না অথবা বড়কে শ্রদ্ধাবোধ ও ছোটদের স্নেহ করতে জানেন। পারিবারিক বন্ধনই হচ্ছে আসল মানবিক বন্ধন, যেটা পারিবারিকভাবে মানুষ মা-বাবা, পরিবার, পরিবেশ থেকে আত্মস্থ করেন। তা না হলে, অন্তত প্রফেসর তারেক রেহমানসহ নিম্নে বর্ণিত অন্যান্য ঘটনাগুলো আমাদের চোখে আংগুল দিয়ে নির্মমতার পরিহাস দেখিয়ে দিত না!!

আসল কথা হচ্ছে আমরা, ব্যক্তি ও পরিবারকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে না পারার বিরুপ প্রভাব হচ্ছে উল্লেখিত ঘটনাগুলোর জন্ম। তা ছাড়াও পর্দার অন্তরালের হাজার ঘটনা, দূর্ঘটনা লোকচক্ষুর অন্তরালেই ঘটে চলছে যা কোন ইলেক্ট্রিক মিডিয়া, প্রিন্ট মিডিয়া বা ফেসবুক মিডিয়া সহ সামাজিক মাধ্যম গুলোতে খবরের শিরোনাম হচ্ছে না। আমরা যতই সভ্য ও সুশীল বলে পরিচিত হই না কেন ব্যক্তি ও পারিবারিক বন্ধন ঠিক না রেখে তথাকথিত সভ্য ও উন্নত সমাজ ও রাষ্ট্র বিনির্মাণের কথা চিন্তা করা বাতুলতা ছাড়া আর কিছু নয়। কারণ পরিবারই হচ্ছে রাষ্ট্রের একমাত্র মৌলিক একক ও ভিত্তি, যেখান থেকে সমাজ, মহল্লা, গ্রাম, থানা/উপজেলা, জেলা, বিভাগ হয়ে পুরো রাষ্ট্র আলোকিত হয়। তাই আমরা প্রথমে আমাদের পারিবারিক কাঠামো ঠিক করি, পরিবার থেকে রাষ্ট্র আপনা আপনি নির্মাণ হতে বাধ্য। তাই সম্প্রতি সংঘটিত নিম্নোক্ত তিনটি ঘটনা সবার হৃদয়কে দারুন ভাবে নাড়া দিয়ে গেল!

১. পঞ্চাশোর্ধ্ব এক করোনা রোগী সুইসাইড নোট লিখে মুগদা হাসপাতাল থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছেন। লিখে গেছেন, নিজের একাকীত্বের কথা। টাকা ছিল, পয়সা ছিল। কিন্তু আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু ছিল না কাছে। পরিবার ও আত্মীয়দের সবাই ছিল যুক্তরাষ্ট্রসহ “উন্নত” দেশে! একাকীত্ব সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন বলে লিখে গেছেন!

২. চলচ্চিত্রের এক নায়িকা, সাবেক সাংসদ কবরী করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। মারা যাওয়ার পর তার একটি সাক্ষাৎকারের কিছু অংশ ভাইরাল হয়েছে। তা হলো, জীবনে ভালো একজন বন্ধু পেলাম না, ভালো একজন স্বামী পেলাম না, সন্তানরাও যে যার মতো! কারো সাথে বসে এক কাপ চা খাবো, মনের কথা খুলে বলব- তা পেলাম না!

৩. “বিশ্ব রাজনীতির ১০০ বছর” লেখক, খ্যাতনামা কলামিস্ট, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রফেসর তারেক শামসুর রাহমানের লাশ নিজের বাসা থেকে দরজা, তালা ভেঙে উদ্ধার করা হয়েছে! বাসায় তিনি ছিলেন একা। স্ত্রী ও কন্যা আছেন যথারীতি “স্বপ্নের দেশ” যুক্তরাষ্ট্রে! অসুস্থ ও মৃত্যুর সময় কেউ ছিল না পাশে, কেউ জানেনি কিছু!
টাকা, পয়সা, যশ, খ্যাতি, পরিচিতি সবই ছিল। কিন্তু কারো পাশে ছিল না স্ত্রী, স্বামী বা পুত্র-কন্যা!
ছিল একাকীত্ব! অখণ্ড একাকীত্ব!
প্রত্যেকের মৃত্যুতে খুব কষ্ট লেগেছে।

কিন্তু “উন্নত” মহলে আমাদের সমাজ ও পরিবার ব্যবস্থা কোনদিকে যাচ্ছে তা ভাবতে গিয়ে আবারও শিউরে উঠেছি!
হায় রে ক্যারিয়ার, হায় রে উন্নয়ন, হায় রে উন্নত বিশ্বের স্বপ্ন! হায় রে, পরিবার ও সমাজ ব্যবস্থা!
একটু চিন্তা করতে পারেন, একটু ভাবতে পারেন।
আহা রে জীবন!! মহান আল্লাহ তায়ালা সবাইকে হেদায়েত দান করুন, আমিন।

লেখকঃ প্রেসিডেন্ট-বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ( বিএমএসএফ), উখিয়া উপজেলা শাখা ও ভাইস প্রেসিডেন্ট-উপজেলা প্রেস ক্লাব উখিয়া


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর....