• শুক্রবার, ১২ অগাস্ট ২০২২, ০৮:১৪ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
ভোটার প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গা অধ্যুষিত সীমান্ত এলাকার জন্য ইসি সচিবালয় কর্তৃক ঘোষিত নির্দেশিকা। কক্সবাজার জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইন চার্জ মনোনীত হয়েছেন’ উখিয়া থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী নাদিম আবাসিক হোটেলে মিলল এক নারী চিকিৎসকের গলাকাটা লাশ, কথিত স্বামী পলাতক। বনের জন্য কক্সবাজার হবে মডেল জেলা-প্রধান বনসংরক্ষক কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলিতে হেড মাঝিসহ ০২জন নিহত। আর্থিক খাতে লুটপাটের দায় জনগণ শোধ করবে কেন? মাদক ও ইয়াবার বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত রেখে তরুণ সমাজকে রক্ষা করুণ । কক্সবাজার জেলা বিএমএসএফ এর জরুরী সভা অনুষ্ঠিত উখিয়া স্পেশালাইজড হসপিটাল এ জনপদের চাহিদা, আশা-আকাঙ্ক্ষা পুরণে সক্ষম? নাকি শুধুই গতানুগতিক! ফেসবুকে পরিচয় ও প্রেম-অতপরঃ এক কলেজ শিক্ষিকাকে কলেজ ছাত্রের বিয়ে!

লক ডাউন গুলো ঠিক যেন পুরুষের লুংগী পড়ার মতো, উপরের অংশ শক্ত করে গিট্টা দেওয়া কিন্তু নিম্নের অংশ পুরোটাই খোলা

AnonymousFox_bwo / ২৬৯ মিনিট
আপডেট বৃহস্পতিবার, ৩ জুন, ২০২১

এম আর আয়াজ রবি।

আচ্ছা বলুন তো, রাষ্ট্রঘোষিত লক ডাউন ও বিশেষ অঞ্চলে প্রশাসন ঘোষিত রেডজোন লক ডাউন এর মধ্যে পার্থক্য কি? আমি তো উভয় লক ডাউন দেখলাম কিন্তু আমার চোখে তেমন পার্থক্য চোখে পড়ল না! আমার মনে হল ‘যে লাউ, সেই কদু’! আপনাদের চোখে পড়ল কিনা?

ঈদ পুর্ববর্তী উখিয়া টেকনাফে চাকুরীরত এনজিও কর্মীদের এলাকা ত্যাগ ঠেকানো গিয়েছিল? প্রশাসন ও এনজিও কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পেরেছিল? অথচ আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বারবার ঘোষনা করেছিলেন এবারে সবাই যেন নিজ নিজ কর্মস্থলে ঈদ পালন করেন। কিন্তু কে শুনে কার কথা! হুর হুর করে প্রায় সব এনজিও কর্মী এলাকা ত্যাগ করেছেন ঈদের অব্যবহিত পুর্বে এবং ঈদ পরবর্তীতে আবার কর্মস্থলে যোগদানের জন্য সবাই চলে আসার মধ্যেই নিহিত রয়েছে আজকের ‘রেডজোন লক ডাউন’ এর বাস্তবতা। কিন্তু কে অনুভূব করবে ইতি্হাসের চরম সত্য কথাগুলো। সেদিন প্রায় প্রত্যেক গনমাধ্যম, গনমাধ্যমকর্মীরা এনজিও বহরকে সামাল দেবার ব্যাপারে প্রশাসন ও যথাযথ কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেবার ব্যাপারে বিশেষভাবে সুপারিশ করে আসছিল। কিন্তু এনজিও কর্মীদের যাত্রা থামাতে যথাযথ কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হয়, যা আজকে উখিয়া টেকনাফের হোস্ট কমিউনিটির সদস্যদের চরমভাবে মুল্য দিতে হচ্ছে।

এখন তথাকথিত রেডজোন লকডাউন এ সেই এন জিও কর্মীদের খুব সকাল সকাল গাড়ির বহর ক্যাম্প অভিমুখে চলমান দেখে মনে প্রশ্ন জাগে রাষ্ট্রীয় লক ডাউন ও বিশেষ অঞ্চলের প্রশাসন কর্তৃক ঘোষিত লক ডাউনের মধ্যে বিশেষত পার্থক্য কি?

এনজিও অফিস খোলা রয়েছে, রেডজোন থেকে বাহির হয়ে বা রেডজোনে’র মাথার উপর দিয়ে হাজার-হাজার এনজিওকর্মী ঠিকই তাদের কর্মস্থলে যাচ্ছেন, স্থানীয়রাও অফিস আদালত ও বাজারে যাচ্ছেন, সবধরনের গাড়ি চলাচল করছে। ভাই এই কেমন লকডাউন! আসলে লকডাউন মানে কি আমরা বুঝি না!

আজকে রেডজোন এলাকার লক ডাউনের দ্বিতীয় দিন। উখিয়া দক্ষিন ষ্টেশনে সকাল সাড়ে আট টা থেকে নয়টা পর্যন্ত ক্যাম্প অভিমুখী গাড়ির সারি দেখছিলাম ও চিন্তা করছিলাম এমন রেডজোন লক ডাউন দিয়ে এত স্পর্শকাতর করোনা অতিমারীর জীবাণুর মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমন রোধ করা যাবে? সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে চলাচলরত কর্মী ও অন্যান্যদের মধ্যে নুন্যতম স্বাস্থ্য বিধি নিয়ে কোন সচেতনতা তো দেখলাম না, তথাপি অনেকেই রেডজোন লক ডাউনকে তেমন পাত্তাই দিচ্ছে বলে মনে হল না। গতবছরের লক ডাউনে ভাইরালকৃত একটি লেখা ছিল ঠিক এমনই ” বাংলাদশে বিদ্যমান লক ডাউন গুলো পুরুষের লুংগী পড়ার মতো, উপরের অংশ শক্ত করে গিট্টা দেওয়া কিন্তু নিম্নের অংশ পুরোটাই খোলা”!

লকডাউনের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, উখিয়া তে (কোভিট-১৯) সংক্রমণ মারাত্বক ভাবে বৃদ্ধির পাওয়ায় উখিয়া রাজাপালং ইউনিয়নর ২, ৫, ৬, ও ৯নং ওয়ার্ড কে রেডজোন ঘোষণা করে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। লকডাউন চলাকালে সকল ধরনের গণজমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সকলে অবশ্যই নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করবেন। কোন অবস্থাতেই ঘরের বাহিরে যাওয়া যাবে না। সকল প্রকার যানবাহন টমটম, সিএনজি, রিক্সা, সীলাইন/ কক্সলাইন সকল ধরনের ব্যক্তিগত যানবাহন ও গণপরিবহন বন্ধ থাকবে।

সকল ধরনের বেসরকারি অফিস ও এনজিও সংস্থার অফিস আগামী ৬ জুন ২০২১ খ্রিষ্টাব্দ তারিখ রাত ১২ টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। সকল প্রকার হোটেল, রেস্তোরাঁ, চায়ের দোকান, কুলিং কর্ণার, পানের দোকান, শপিং মল, বেকারী, কাপড়ের দোকান, মার্কেটসহ সকল ধরনের দোকান-পাট বন্ধ থাকবে। কাঁচাবাজার ও মুদি দোকান স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকার সকাল ৬ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। বিলেক ৪ টা থেকে ঔষধের দোকান ব্যতীত সকল প্রকার দোকান-পাট আবশ্যিক ভাবে বন্ধ থাকবে। কিন্তু বাস্তবে আমরা এর কোন বাস্তব প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছি না।

এখানে উল্লেখ্য যে, গত ৩১ মে পর্যন্ত উখিয়া উপজেলায় কক্সবাজার জেলার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দুই হাজার ২৬৪ জন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। তারমধ্যে স্থানীয় বাসিন্দা এক হাজার ২৫০ জন এবং রোহিঙ্গা এক হাজার ১৪ জন। গতকাল মঙ্গলবারও ৩৬ জন রোহিঙ্গার নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়।

উখিয়া উপজেলায় এ পর্যন্ত ৩২ জন করোনা আক্রান্ত রোগী মারা গেছেন। তারমধ্যে ১৭ জন রোহিঙ্গা ও ১৫ জন স্থানীয় বাসিন্দা। হোস্ট কমিউনিটির সদস্য হিসেবে আমরা খুব বেশি শংকিত, আতংকিত। ইতিমধ্যে আমাদের পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রে করোনা অতিমারীর কি ভয়াবহ অবস্থা আমরা প্রত্যক্ষ করলাম। যদি যে কোনভাবে ভারতীয় করোনা ভ্যরিয়েন্ট আমাদের দেশে, বিশেষত রোহিংগা ক্যাম্পে সংক্রমিত হয় ( আল্লাহ না করুণ), তাহলে আমাদের অবস্থা খুবই শোচনীয় হবে। রোহিংগা ক্যাম্প ও হোস্ট কমিউনিটি মৃত্যুপরীতে পরিনত হবে।
লেখকঃ প্রেসিডেন্ট-বিএমএসএফ (বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম), উখিয়া উপজেলা ও ভাইস প্রেসিডেন্ট উপজেলা প্রেসক্লাব উখিয়া


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর....