• শুক্রবার, ১২ অগাস্ট ২০২২, ০৯:২০ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
নারী চিকিৎসককে গলা কেটে হত্যা, কথিত প্রেমিক কক্সবাজারের রেজা চট্টগ্রামে আটক ভোটার প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গা অধ্যুষিত সীমান্ত এলাকার জন্য ইসি সচিবালয় কর্তৃক ঘোষিত নির্দেশিকা। কক্সবাজার জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইন চার্জ মনোনীত হয়েছেন’ উখিয়া থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী নাদিম আবাসিক হোটেলে মিলল এক নারী চিকিৎসকের গলাকাটা লাশ, কথিত স্বামী পলাতক। বনের জন্য কক্সবাজার হবে মডেল জেলা-প্রধান বনসংরক্ষক কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলিতে হেড মাঝিসহ ০২জন নিহত। আর্থিক খাতে লুটপাটের দায় জনগণ শোধ করবে কেন? মাদক ও ইয়াবার বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত রেখে তরুণ সমাজকে রক্ষা করুণ । কক্সবাজার জেলা বিএমএসএফ এর জরুরী সভা অনুষ্ঠিত উখিয়া স্পেশালাইজড হসপিটাল এ জনপদের চাহিদা, আশা-আকাঙ্ক্ষা পুরণে সক্ষম? নাকি শুধুই গতানুগতিক!

জীবনযাত্রার বেড়েছে ব্যয়, হ্রাস পেয়েছে আয়

AnonymousFox_bwo / ২২৩ মিনিট
আপডেট বুধবার, ১৬ জুন, ২০২১

 

দেশে করোনা মহামারির প্রভাবে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের আয় ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। এতে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত ভোক্তাদের জীবনমান বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত তিন বছরের মধ্যে ২০২০ সালে রাজধানীতে জীবনযাত্রার ব্যয় সবচেয়ে বেশি বেড়েছে।
বুধবার (১৬ জুন) কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশনঅব বাংলাদেশ (ক্যাব) আয়োজিত ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে দেশের এ চিত্র তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ক্যাব জানায়, রাজধানীর ১৫টি খুচরা বাজার ও বিভিন্ন সেবা-সার্ভিসের মধ্যে থেকে ১১৪টি খাদ্যপণ্য, ২২টি নিত্যব্যবহার্য সামগ্রী এবং ১৪টি সেবা-সার্ভিসের সংগৃহীত মূল্য থেকে এ প্রতিবেদন করা হয়েছে।
ক্যাবের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোক্তার কাছে যেসব পণ্য ও সেবা রয়েছে, সেসব পণ্য বা সেবা পরিবারের মোট ব্যয়ের সঙ্গে তুলনা করে পণ্য বা সেবার মানের ভিত্তিতে জীবনযাত্রা ব্যয়ের এ হিসাব করা হয়। এ হিসাবে শিক্ষা, চিকিৎসা ও প্রকৃত যাতায়াত ব্যয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
ক্যাবের প্রতিবেদন:
গত ২০২০ সালে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে ৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ ও পণ্য ও সেবা-সার্ভিসের মূল্য বেড়েছে ৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। পূর্ববর্তী ২০১৯ সালে এ বৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং ৬ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। ২০১৮ সালে জীবনযাত্রার ব্যয় এবং মূল্যবৃদ্ধির পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৬ শতাংশ এবং ৫ দশমিক ১৯ শতাংশ।
২০২০ সালে চালের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। বছরের শেষে আমন ধানের ভরা মৌসুমে চালের দামের ঊর্ধ্বগতি দেখো গেছে। ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে চালের গড় মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ২০ শতাংশ। এরমধ্যে মোটা চালের দাম বেড়েছে (পারিজা ও স্বর্ণা) ২৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ, পাইজাম চালে ২৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ, বিআর৮ ও বিআর১১ চালে ২০ দশমিক ৬৮ শতাংশ, মিনিকেট চালে ১৪ দশমিক ৯৪ শতাংশ, নাজিরশাইল চালে ১৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ এবং সুগন্ধি চালের গড় দাম বেড়েছে ৮ দশমিক ২০ শতাংশ।
আটার মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে কেজিপ্রতি ৫ দশমিক ২৮ শতাংশ। দেশি ও আমদানি করা ডালের দাম গড়ে বৃদ্ধি পেয়েছে ১৪ দশমিক ১৮ শতাংশ। দেশি মসুর ডালে ২৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ, আমদানি করা মসুর ডালে ৪৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং খেসারির ডালে দাম বেড়েছে ২৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ।
ভোজ্যতেলের দাম গড়ে বেড়েছে ৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ। এর মধ্যে খোলা পাম অয়েলে ১৭ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং খোলা সয়াবিনের দাম বেড়েছে ১৪ দশমিক ২৫ শতাংশ। চিনি ও গুড়ের দাম প্রতিকেজিতে বেড়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ।
মসলার দাম গড়ে বেড়েছে ২৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এরমধ্যে এলাচে বেড়েছে ১০৪ দশমিক ১৮ শতাংশ, দেশি শুকনা মরিচে ৪০ দশমিক ৬৬ শতাংশ, কাঁচামরিচে ৩১ দশমিক ৯৬ শতাংশ, আমদানি করা আদার দাম বেড়েছে ৩১ দশমিক ০৪ শতাংশ, দেশি পেঁয়াজে ১৮ দশমিক ২৭ শতাংশ, আমদানি করা পেঁয়াজে ১৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ এবং আমদানি করা শুকনামরিচে দাম বেড়েছে ৩০ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
শাক-সজির মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে গড়ে ৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে করলার ৩৪ দশমিক ৩০ শতাংশ, কাঁচা পেঁপে ৩১ দশমিক ১৬ শতাংশ, দেশি আলুতে ২৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ এবং আলুতে (হল্যান্ড) বেড়েছে ২৪ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
২০২০ সালে ২০১৯-এর তুলনায় গরু ও খাসির মাংসের দাম বেড়েছে গড়ে ১০ দশমিক ৪৯ শতাংশ, মুরগির দাম ১০ দশমিক ৮৩ শতাংশ আর ডিমের দাম গড়ে বেড়েছে ৫ দশমিক ৩২ শতাংশ। মাছের মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে গড়ে ৭ দশমিক ১৩ শতাংশ। গড়ে গুঁড়া দুধের দাম বেড়েছে ৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ।
নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্তের গড় বাড়িভাড়া বেড়েছে গড়ে ৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ, এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ফ্ল্যাট বাসায় ৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ, বস্তিতে ঘরভাড়া বেড়েছে ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং মেসের ৮ সিট বিশিষ্ট রুমের ভাড়া বেড়েছে ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ। অন্যদিকে সাধারণ শাড়ি-কাপড়ের দাম বেড়েছে গড়ে ৯ শতাংশেরও বেশি।
ওয়াসার পানি প্রতি হাজার লিটারে দাম বেড়েছে ২৫ শতাংশ। আবাসিকে বিদ্যুতের গড়মূল্য বেড়েছে ৬ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ এবং বাণিজ্যিক বিদ্যুতে মূল্য বেড়েছে গড়ে ৪ দশমিক ৮১ শতাংশ।
যেসব পণ্যের দাম কমল:
সরিষার তেলের দাম প্রতি কেজিতে ৪ দশমিক ৬০ শতাংশ, ডালডাতে ৩ দশমিক ১৮ শতাংশ এবং খোলা আটার দাম কমেছে ২ দশমিক ২৩ শতাংশ। আমদানি করা মটরডালের মূল্য কমেছে কেজি প্রতি ১৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ আর দেশি মটরডালে ৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ।
শাক-সবজির মধ্যে পটলের দাম প্রতি কেজিতে ১৩ দশমিক ৯৮ শতাংশ, শশা বা খিরার মূল্য কমেছে ১১ দশমিক ৯২ শতাংশ, বেগুনে ৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ, মুখিকচুতে ৩ দশমিক ২৬ শতাংশ। মসলার মধ্যে গোলমরিচের দাম কমেছে ৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
গরুর তরল দুধের দাম কমেছে ৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ। ছোট ইলিশ মাছের মূল্য কমেছে গড়ে ৫ দশমিক ১০ শতাংশ, ছোট চিংড়ির দাম ১ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং পাঙাশ মাছের দাম ৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ কমেছে।
যেসব পণ্য ও সেবার মূল্য স্থিতিশীল
সদ্য সমাপ্ত ২০২০ সালে লবণ, চা-পাতা, দেশি-বিদেশি কাপড়, গেটি স্থিতীশীল ছিল। অন্যদিকে সব ধরনের জ্বালানি তেল এবং চুলার গ্যাসের মূল্য অপরিবর্তিত ছিল। সড়ক, নৌ-পথ ও রেলের নির্ধারিত ভাড়ারও পরিবর্তন করা হয়নি।
তবে ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বাস মালিকদের চাপে অর্থেক আসন খালি রাখা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রী পরিবহনের শর্তে ৬০ শতাংশ অধিক হারে ভাড়া আদায়ের অনুমতি দেয়া হয়। অভিযোগ ছিল যাত্রীদের নিকট থেকে আরও অধিক হারে ভাড়া আদায় করা হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই স্বাস্থবিধি মানা হয়নি।
ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে যুক্ত ছিলেন ক্যাবের সভাপতি গোলাম রহমান, সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া, ক্যাবের ভোক্তা অভিযোগ নিষ্পত্তি জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন ও ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর....