• রবিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২২, ০৯:৩৫ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
নারী চিকিৎসককে গলা কেটে হত্যা, কথিত প্রেমিক কক্সবাজারের রেজা চট্টগ্রামে আটক ভোটার প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গা অধ্যুষিত সীমান্ত এলাকার জন্য ইসি সচিবালয় কর্তৃক ঘোষিত নির্দেশিকা। কক্সবাজার জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইন চার্জ মনোনীত হয়েছেন’ উখিয়া থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী নাদিম আবাসিক হোটেলে মিলল এক নারী চিকিৎসকের গলাকাটা লাশ, কথিত স্বামী পলাতক। বনের জন্য কক্সবাজার হবে মডেল জেলা-প্রধান বনসংরক্ষক কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলিতে হেড মাঝিসহ ০২জন নিহত। আর্থিক খাতে লুটপাটের দায় জনগণ শোধ করবে কেন? মাদক ও ইয়াবার বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত রেখে তরুণ সমাজকে রক্ষা করুণ । কক্সবাজার জেলা বিএমএসএফ এর জরুরী সভা অনুষ্ঠিত উখিয়া স্পেশালাইজড হসপিটাল এ জনপদের চাহিদা, আশা-আকাঙ্ক্ষা পুরণে সক্ষম? নাকি শুধুই গতানুগতিক!

গ্রামে গঞ্জে বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কিভাবে কাঁদে-কিঞ্চিত অভিজ্ঞতার প্রকাশ

AnonymousFox_bwo / ৩২৯ মিনিট
আপডেট শুক্রবার, ২ জুলাই, ২০২১

এম আর আয়াজ রবি।

বাংলাদেশের গ্রামে গঞ্জে রাজনীতির নামে এতদিন যা চলে আসছে, আমি বলব গনতন্ত্রের ছদ্মাবারনে ব্যক্তি বিশেষের একক ও স্বৈরতান্ত্রিক জিম্মী দশা, ব্যক্তি ও গোষ্টী শাসন ব্যবস্থা,ফফর দালালী, নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও গোষ্টি কেন্দ্রিক শাসন, শাসনের আবর্তে শোষন, নিপীড়ন, নির্যাতন, লুটপাট ও স্বেচ্ছাচারিতা! এখানে খুব সুক্ষভাবে ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে দ্বব্ধ, অবিশ্বাস, কলহ সৃষ্টি করে ব্যক্তি ও পারিবারিক কলহ জনম জনম জিইয়ে রেখে স্বার্থান্বেষী নেতা জনপ্রতিনিধিদের চলে বিচারের নামে নিজের আমিত্ব ধরে রাখা ও বজার রাখার যাবতীয় আয়োজন, নাটক ও প্রহসন! বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কেঁদে ফিরে বারে বার! কিন্তু নেতাদের কর্ণকৌঠরে সেই বাণী ঠিকভাবে পৌঁছেনা! ঠিক যেন ‘কত রবি জ্বলেরে, কে বা আঁখি মেলে রে’ টাইপের উদাসীনতা!

যে বিষয়টি/ব্যাপারটি পাঁচ মিনিটে বিবাদমান পক্ষগুলোকে বুঝিয়ে সুন্দর সমাধান করে দেওয়া যায় ও সম্ভব, তা নেতারা অযথা দীর্ঘায়িত করেন, কালক্ষেপন করেন কোন এক অশুভ উদ্দেশ্যে ! কারন বার বার একই বিষয় নিয়ে নেতার কাছে না গেলে নেতাজীকে ঠিক নেতার মত কি লাগে! তাই নেতাজী ইচ্ছে করে, ভাইয়ে ভাই, ভাইয়ে বোনে, সন্তান সন্তুতিতে, মা-বাবা, চাচা-চাচী, মামা-মামী ও পাড়া প্রতিবেশির সাথে বিভিন্ন বনি বনা বিষয়ে, জায়গা জমি, সম্পত্তি (বিশেষ করে এজমালী সম্পত্তি) ও বিভিন্ন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট পারিবারিক বিভিন্ন ইস্যুর খুনসুটি গুলোকে পুঁজি করে গ্রাম্য নেতাদের অন্য পরিবারে নাক গলানো/ কর্তৃত্বের সুচনা হয় সবে মাত্র। এ সূচনাতেই গ্রথীত হয়ে যায় বিবাদমান পক্ষগুলোর ভাগ্যে ‘শনির দশা’ এবং ভর করে বসে অদৃশ্য ভূতের আছড়। তারা কুল কিনারা পান না কেন ও কোন অজ্ঞাত পাপ পংকীলতার প্রায়শ্চিত্ত ঘুচানোর উপলক্ষ হয়ে গেল তাদের নিজেদেরই অজান্তে! এটা এমন একটা জটিল চক্র, যে চক্রের শুরু আছে স্বাভাবিক পন্থায়, কিন্তু শেষ হয় অত্যন্ত কদর্যভাবে, ঠিক যেন লেজে গোঁবরে অবস্থায়!!

নেতার সাথে নেতাদের বিভিন্ন ক্যাটাগরীর চামচা / ধামা ধরা ব্যক্তিরাই তো আছেনই! স্তরভেদে চামচাগুলো কিন্তু নেতাদের চেয়ে বেশি শক্তিশালী হয়ে থাকে! যেমনি আগুনের চেয়ে হান্ডির উত্তাপ বেশি টাইফের! নেতাদের কাছে কলহে আবদ্ধ পরিবারগুলো আষ্টে পীষ্টে বন্ধী অন্যদিকে চামচাগুলোর কাছে গ্রামের কথিত নেতারা জিম্মী! আবার তার কারনও বহুবিধ!

অপ্রিয় হলেও সত্য যে, অনেক নেতা চামচা/ফফর দালালদের কাজে লাগিয়ে বিবাদমান পরিবারকগুলোকে বিভিন্ন ভাবে ফাঁদে আবদ্ধ করে এবং কৌশলে জিম্মীদশায় ফেলে দু’পয়সা হাতিয়ে নেবারও সুযোগ হাত ছাড়া করেনা। আবার অনেকে অন্য কোন ব্যাপারে কারো প্রতি নাখোশ থাকলে যেমন কোন ব্যাপারে নেত/ চামচাদের কোন কথা/ কাজের প্রত্যক্ষ বা প্ররোক্ষভাবে নেতিবাচক কোন ভাব কোন সময়ে দেখিয়ে থাকলে তিনি যদি বিবদমান কোন পক্ষের মধ্যে পড়ে থাকেন, তাহলে তার কপালে দূর্গতির শেষ থাকল না আর! এ-ই এপিসোডে ঐ ব্যক্তির ভোগান্তির যেন আর শেষ হল না, তিনি হয়ে গেলেন রীতিমত ভিলেন যদিও বা তার কোন দোষ ত্রুটি তেমন নাও থাকে! তিনি পড়ে গেলেন মাইনকার চিপায়!

এখানে একটি কথা না বললেই নয়! গ্রাম্য পরিবারগুলোর মানুষের মন মানসিকতা এতই কলুষিত, নোংরা হয়ে থাকে যে, পাঁচ হাজার টাকার জিনিস/সম্পদ তার নিকট আত্মীয় স্বজনকে, তার আপন জনকে ছাড় দিতে রাজী হননা! মাগর মামলা মোকদ্দমা করে তার দশগুন তথা পঞ্চাশ হাজার টাকা থানা, পুলিশ, উকিল-মোক্তারকে পথে পথে বিলিয়ে দিতে কুন্ঠা বোধ করেননা। তাদের মধ্যে ইগুইজম এত প্রখট যে বিন্দু পরিমান ছাড় কেহ কাউকে দিতে নারাজ! ঠিক ‘কেহ কারে নাহি ছাড়ে সমান সমান’ কথাটির মতো! অথচ সবাই একে অপরের খুব কাছের আত্মীয়-স্বজন, পরিবার-পরিজন, প্রতিবেশি !

অনেক ক্ষেত্রে উভয় পক্ষ যে জিনিস বা জায়গা/সম্পত্তির জন্য এত বিরোধ, মামলা মোকদ্দমা করে কাহিল হলেন, উক্ত মামলা মোকদ্দমার খরচ বহন করার জন্য তার অন্যান্য অবশিষ্ট জায়গা, জমি, ভিটা বাড়িসহ বিক্রী করে দিয়েও নিজকে আর রক্ষা করতে সক্ষম হন না। এ-ই মরণ ফাঁদে মান- সম্মান, ইজ্জত- আব্রু, সামাজিক অবস্থান তো গেল, পরে তাদের জীবন রক্ষা করাও কঠিন হয়ে পড়ে!! এটা তো নেতা চামচা/ফফর দালাদের চক্রাকার আবর্তের শেষ এপিসোড বা অন্তিম ফলাফল!

উপরোক্ত ঘটনা সংগঠিত হবার পূর্বের এপিসোড গুলো ঠিক এরকম!

সেই কথিত নেতা ও চামচাদের/ফফর দালালদের আসল খেলা শুরু হয় এ এপিসোডে এসে! বিবাদমান পরিবারগুলোর পক্ষে বিপক্ষে সতর্ক দৃষ্টি, মতিগতি, অবস্থা সুক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষনে রাখার দায়িত্ব বর্তায় সেই কথিত চামচাদের উপর। মাঝে মধ্যে চামচাগুলো নেতাকে বিভিন্নভাবে নয় ছয় বুঝিয়ে প্রভাবিত করে তাদের স্বার্থ (বিবদমান পক্ষকে জিম্মী করে) কোন দিক থেকে অর্জিত হবার সুযোগ রয়েছে তা নিয়ে সুযোগ সন্ধানী খেলা পাতিয়ে রাখেন অতি যত্নে- কুট-কৌশলে!। অনেক ক্ষেত্রে নেতা যা বলেন নি বা করতে বলেন নি তা সেই কথিত চামচা নিজের ইচ্ছেমত বলে / করে পরিস্থিতিকে ঘোলাটে করে মাছ শিকারের রাস্তা প্রশস্ত করেন এভাবে গ্রামীন জনপদের বিচারিক ও শাসন ব্যবস্থা চলে আসছে আবহমান কাল থেকে!

অবশ্য এখানে একটা কথা দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে বলতে চাই, আবহ মান কাল থেকে অনেক ভাল জনপ্রতিনিধি, প্রশাসক, চেয়ারম্যান, মেম্বার, নেতা, নেতৃত্ব, ন্যায় বিচারক, সু-শাসক গ্রামে-গঞ্জে ছিলেন, আছেন ও নিশ্চয়ই ভবিষ্যতেও থাকবেন। উপরোক্ত কথামালার বিপরীতে আমি এমন কিছু জন প্রতিনিধিকে জানি, যারা বিচার করে দেবার বিনিময়ে বিবাদমান পক্ষ থেকে এককাপ চা শুধু নয়, এক গ্লাস পানি পর্যন্ত গ্রহন করেন না! এগুলো হচ্ছে একান্ত ব্যতিক্রম। ব্যতিক্রম তো ব্যতিক্রমই, তা স্বভাব সিদ্ধ উদাহরন হতে পারে না।

উপরোক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলতে পারি যে, পারিবারিক কলহ, জায়গা সম্পত্তি, প্রতিবেশিদের মধ্যে যে বিবাদ সৃষ্টি হয় সেগুলোকে এমনভাবে তথাকথিত নেতা নেতৃরা রুপ প্রদান করেন, যার চক্রাকার আবর্তে নিষ্পেষিত হয়ে যায়, গ্রাম বাংলার এক একটি পরিবার, একেকটি সমাজ সেসব তথাকথিত স্বার্থানেষী জন প্রতিনিধি, নেতা, নেতৃর গ্যাঁড়াকলে পতিত হয়ে। গ্রামের সহজ, সরল-গোঁড়া, নিরক্ষর,অশিক্ষিত, অর্ধ শ্বিক্ষিত গ্রামবাসীকে নিঃস্ব করে দেয় এরুপ এক একটি ঘটনা- দূর্ঘটনা এবং তামা তামা বানিয়ে ফেলেছে আমাদের প্রিয় সুজলা, সুফলা, শস্য-শ্যামলা, শ্বান্তির নীড় গ্রাম্য জীবনটাকে ! এভাবে গ্রামের সাধারন মানুষের মান-অভিমান, জীবন চরিত গল্প, দুঃখ কষ্ট গাঁথা করুণ কিন্তু বাস্তব ইতিহাস জীবন কাঁথায় লিপিবদ্ধ থাকে ঠিক যেন কবি জসিম উদ্দিনের ‘নকশী কাঁথার’ মতো!! ধন্যবাদ সবাইকে।
লেখকঃ প্রেসিডেন্ট বিএমএসএফ উখিয়া উপজেলা ও ভাইস-প্রেসিডেন্ট উপজেলা প্রেস ক্লাব উখিয়া


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর....