• সোমবার, ২৬ জুলাই ২০২১, ০১:৩৩ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
বহুরূপী (এক আত্মপ্রত্যয়ীর ডায়রী থেকে সংগৃহীত) প্রসংগঃ মিষ্টি আম আম্রপালির নামকরণ প্রসংগঃ সাংবাদিক, সাংবাদিকতা, অপসাংবাদিকতা বা হলুদে সাংবাদিকতা রোহিঙ্গা শিবির ভিত্তিক শীর্ষ ইয়াবা কারবারিরা অধরা! রোহিঙ্গা শিবির ভিত্তিক শীর্ষ ইয়াবা কারবারিরা অধরা! প্রফেসর তারেক শামসুর রহমানের করুণ মৃত্যু থেকে মুসলিম জাতির শিক্ষা কি??? মারা গেলেন বাবরী মসজিদে প্রথম আঘাতকারীদের একজন থেকে দ্বীন প্রচারক হয়ে উঠা বলবীর সিং (মুহাম্মদ আমির)! রান্না করা কুরবানির গোশতের টুকরোতে মহান আল্লাহতায়ালার সিফাতমূলক আরবী নাম ‘আল্লাহ’র প্রকাশ! কুরবানির পশুর গোশত কত ভাগ করতে হবে ঈদুল আযহার নামাজের নিয়ম,ঈদের দিনের সুন্নাহ ও কোরবান পরবর্তী পরিচ্ছন্নতাঃ

প্রেক্ষিতঃ চলমান বিশেষ কঠোর লকডাউন ও প্রাসংগিক ভাবনা

admin / ৬১ মিনিট
আপডেট বুধবার, ৭ জুলাই, ২০২১

 

এম আর আয়াজ রবি
ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ ঠেকাতে ‘করোনা বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি’(এনটিএসি) সরকারকে দেশব্যাপী ১৪ দিনের জন্য ‘সম্পূর্ণ শাটডাউন’ করার পরামর্শ প্রদান করেছিল, সারাদেশে শাট ডাউন/লকডাউনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে ‘এনটিএসি’ সেসময় বলেছিল, ৫০টির বেশি জেলায় অতি উচ্চ সংক্রমণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। খণ্ড খণ্ডভাবে নেওয়া কর্মসূচির উপযোগিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের উদাহরণ টেনে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সম্পূর্ণ শাটডাউন দেওয়ার সুপারিশ করে ‘এনটিএসি’।

কিন্তু সরকার গত ০১-জুলাই-২০২১, বৃহস্পতিবার থেকে ০৭-ই জুলাই-২০২১ পর্যন্ত প্রথম দফা লক ডাউন ঘোষনা করার পরে দ্বিতীয় দফায় সেই লক ডাউন লাগাতার ১৪-ই জুলাই-২০২১ পর্যন্ত তা বর্ধিত করা হয়েছে । গতকাল.৭-জুলাই প্রথম দফার লক ডাউন শেষ হয়ে আজকে থেকে দ্বিতীয় দফার লক ডাউন চলমান। ১০-জুলাই এর পরে আমরা হয়ত জানতে পারব চলমান লক ডাউন কতদুর যাবে নাকি ১৪-জুলাই পর্যন্ত থাকবে । গত বছরের মার্চ মাসে করোনা আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হবার পর আমাদের বিভিন্ন পর্যায়ের লক ডাউন দেখার অভিজ্ঞতা হয়েছে । কিন্তু এবারের কঠোর লক ডাউনের একটি বিশেষ বিশেষত্ব রয়েছে । কারন, বাংলাদেশে এই লকডাউন বাস্তবায়নে প্রথমবারের মতো আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দণ্ডবিধির ২৬৯ ধারা প্রয়োগ করবে বলে ঘোষনা করা হয়েছে ৷ এই ধারায় বলা হয়েছে, “মারাত্মক রোগের সংক্রমণ ছড়াতে পারে এমন অবহেলামূলক কাজ” করলে সর্বোচ্চ শাস্তি ৬ মাসের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড৷

গত ৩০-জুন-২০২১ তারিখ বুধবার, মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ থেকে কঠোর লকডাউনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে৷ সেখানে বলা হয়েছে, করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ১ জুলাই (বৃহস্পতিবার) সকাল ছয়টা থেকে ৭ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত সারা দেশে এই বিধিনিষেধ বলবৎ থাকবে৷ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে ৷ সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র‌্যাবও রাজপথে থাকবে৷
কীভাবে লকডাউন বাস্তবায়ন হবে জানতে চাইলে ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “কারা বের হতে পারবেন আর কারা বের হতে পারবেন না, সেটা প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে৷” তিনি দণ্ডবিধির ২৬৯ ধারা প্রয়োগ প্রসংগে আরো বলেন, “এই ধারা দণ্ডবিধিতেই আছে ৷ এতদিন আমরা প্রয়োগ করিনি ৷ এবার প্রয়োগ করা হবে ৷ আমরা বলছি, আপনি ঘরে থাকুন, আমরা রাস্তায় আছি ৷ অযথা বাইরে বের হয়ে পরিবার, ছেলে-মেয়েকে বিপদে ফেলবেন না ৷ যারা সরকারি সিদ্ধান্ত মানবে না তাদের ক্ষেত্রে আইনটি প্রয়োগ করা হবে ৷ আমরা চাই না অযথা কাউকে গ্রেপ্তার করে সংখ্যা বাড়াতে ৷”

লকডাউন বাস্তবায়নের বিষয়ে ৩০-জুন-২০২১ তারিখ বুধবার সকালে সাংবাদিক সম্মেলন করেন পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম ৷ সেখানে তিনি বলেছেন, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ রাস্তায় বের হলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে, আনা হবে আইনের আওতায় ৷ যন্ত্রচালিত কোনো যানবাহন চলতে দেওয়া হবে না ৷ জরুরি সেবায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানের গাড়ি চলবে ৷ তিনি আরও বলেন, পুলিশের পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতেও সাজা দেওয়া হবে ৷ এবার পুলিশ শক্ত অবস্থানে থাকবে ৷ পুলিশ শক্ত অবস্থানে থাকবে বলেই আপনারা নিরাপদে থাকবেন ৷
পুলিশ কমিশনার আরও যুক্ত করে বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ‘হার্ডলাইনে’ থাকবে ৷ এমনও হতে পারে, প্রথম দিনেই গ্রেপ্তার পাঁচ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে ৷ সর্বাত্মক লকডাউনে ডিএমপি বিভিন্ন ইউনিটের উপ-কমিশনাররা বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবেন ৷ গণমাধ্যমকর্মীরা পরিচয়পত্র দেখানো সাপেক্ষে যন্ত্রচালিত যানবাহনে চলাচল করতে পারবেন ৷ এ ক্ষেত্রে মাস্ক পরে বের হতে হবে ৷
ইউজিসি অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, “সবকিছু ঠিক আছে ৷ কঠোরতাও দরকার ৷কিন্তু মনে রাখতে হবে, দরিদ্র মানুষের ঘরে খাবার পৌঁছে দিতে না পারলে তাদের কিন্তু ঘরে বন্দি করে রাখা যাবে না ৷ পাশাপাশি যারা করোনা পরীক্ষা করতে চায় সে ব্যবস্থাটাও সহজ করতে হবে ৷ যতই আপনি কঠোরতা দেখান না কেন, খাবারের ব্যবস্থা না থাকলে ওই লোকটি বের হবেই ৷ এখন সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটা তো নিতেই হবে ৷ আবার এটাও বুঝতে হবে, লকডাউন কিন্তু স্থায়ী সমাধান না ৷ কতদিন আপনি লকডাউন দিয়ে রাখবেন? ফলে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে জোর দিতে হবে৷ সবাই যদি স্বাস্থ্যবিধি মেনে সতর্কভাবে চলাফেরা করেন তাহলে কিন্তু এটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব৷”
তবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছেন, “এবার আগে থেকেই খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ দরিদ্র মানুষের মধ্যে যে চাল, ডাল বিতরণ করা হবে সেটা আগেই আমরা দেশের সব জায়গায় পাঠিয়ে দিয়েছি৷ অর্থও পাঠানো হয়েছে৷ এবার ১৪ দিনের হিসাব করে প্রত্যেক পরিবারকে ২০ কেজি চালসহ আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র দেওয়া হবে৷ সঙ্গে কিছু নগদ টাকাও৷ ফলে খাবারের অভাবে কাউকে রাস্তায় বের হতে হবে না৷ সেটা আমরা নিশ্চিত করবো ৷”

আমরা গত একসপ্তাহ কঠোর লগ ডাউন বাস্তবায়নে পুলিশ বাহিনীর সাথে র‍্যাব, বিজিবি, সেনাবাহিনীর টহল দেখেছি। আরও দেখেছি উক্ত বাহিনীর কঠোর মুভমেন্ট। অনেক পথচারী যারা ইতস্ততঃ ঘোরাঘুরি করেছে তাদের মধ্যে অনেককে এরেস্ট করতে। অনেককে বিভিন্ন মেয়াদের শাস্তির আওতায় আনার খবরা খবর ও পাওয়া গেছে। এত কঠোর লক ডাউন প্রতিপালন করেও আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার কমাতে পারেনি। বরঞ্চ আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার অতীতের সকল রেকর্ড ব্রেক করেছে। গত কয়েক দিন প্রতিদিন মৃত্যুর হার দেড়শ এর উপরে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য ঘটনা হচ্ছে গত কাল ৭-জুলাই-২০২১ মৃত্যুর হারে রেকর্ড করেছে বাংলাদেশ। ঐদিন মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ২০১ জন। রাষ্ট্রীয় কঠিন লক ডাউন পরিচালিত করেও আক্রান্ত ও মৃত্যুর মিছিল কমাতে পারছেনা সরকার। ভারতীয় সীমান্তবর্তী জেলা ও উপজেলা শহরগুলোতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার অধিক পরিলক্ষিত হচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় কঠোর লক ডাউন প্রতিপালনে মানুষ ঘর বন্ধী জীবন যাপন করলেও রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা তেমন পরিলক্ষিত হয়নি। মানুষ মারাত্মক অর্থনৈতিক দৈন্যদশায় কালাতিপাত করছেন। কর্মজীবি, দিনে এনে দিনে খাওয়া সাধারন মানুষগুলোর কষ্টের শেষ নেই। গ্রামে নীরব দূর্ভিক্ষের হাতছানি। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের কষ্টের পরিমান আরও দীর্ঘ। তাদের সঞ্চয় ভেংগে খেতে গিয়ে তাদের অবস্থা তলানীতে গিয়ে ঠেকছে। এখন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের মধ্যে তেমন পার্থক্য নেই। এখন সবাই অভাবের তাড়নায় হিমশিম খাচ্ছে। দেশে দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাসকারী জনসংখ্যার পরিমান গানিতিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। রপ্তানী আয় টার্গেটের চেয়ে অনেক অনেক নিচে অবস্থান করছে। কলকারখানায় আগের সেই গতিপ্রবাহ নেই। অনেক গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অনেকেই আবার ব্যাংক্রাপ্ট হয়ে পড়ছে। অর্থনৈতিক প্রতিষ্টানগুলোর দৈনন্দিন ট্রানজেকশন কমছে। মানুষের আয়, রোজগারের পথ বন্ধ হচ্ছে, সংসারের ব্যয় নির্বাহের পথ রুদ্ধ হচ্ছে। মানুষ অনিশ্চিত ভবিষ্যতের পথে, অন্ধকার চোরাবালিতে আবদ্ধ হতে যাচ্ছে। মানুষ এই কঠিন স্থবির অবস্থা থেকে পরিত্রানের উপায় খুঁজছে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে মানুষের পক্ষে এই রাষ্ট্রীয় লক ডাউন মেনে চলা শুধু কঠিন নয় রীতিমত অসাধ্য হবে। অনেকেই না খেয়ে তিলে তিলে মৃত্যুমুখে পতিত হবার চেয়ে করোনায় মৃত্যুকে প্রেপার করবে। তখন রাষ্টীয় আইন-কানুন, রীতিনীতি মুখ থোবড়ে পড়বে। মানুষ জীবন রক্ষার্থে যেকোন ঝুঁকি মাথাপেতে নিতে বাধ্য হবে। আইন শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি হবার শংকা বিরাজমান। মানুষের অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিলে, বুভুক্ষু মানুষকে আইনের কঠোর নিয়ম, নীতি, নৈতিকতার শৃংখলে আবদ্ধ করা খুবই কঠিন হয়ে পড়বে, করোনা দূর্যোগ মোকাবেলা করার জন্য স্পেশাল বরাদ্দ ও প্রয়োজনীয় ঔষধ সামগ্রী, অক্সিজেন, ভেন্টিলেশন, টীকা, করোনা নিবিড় পরিচর্যার হাসপাতালসহ করোনা ও দূর্যোগ মোকাবেলার প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, খাদ্য সামগ্রী ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর যোগান নিশ্চিত করতে হবে।
লেখকঃ প্রেসিডেন্ট-বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ), উখিয়া উপজেলা ও ভাইস-প্রেসিডেন্ট-উপজেলা প্রেসক্লাব উখিয়া।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর....