• সোমবার, ২৬ জুলাই ২০২১, ০১:০৬ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
বহুরূপী (এক আত্মপ্রত্যয়ীর ডায়রী থেকে সংগৃহীত) প্রসংগঃ মিষ্টি আম আম্রপালির নামকরণ প্রসংগঃ সাংবাদিক, সাংবাদিকতা, অপসাংবাদিকতা বা হলুদে সাংবাদিকতা রোহিঙ্গা শিবির ভিত্তিক শীর্ষ ইয়াবা কারবারিরা অধরা! রোহিঙ্গা শিবির ভিত্তিক শীর্ষ ইয়াবা কারবারিরা অধরা! প্রফেসর তারেক শামসুর রহমানের করুণ মৃত্যু থেকে মুসলিম জাতির শিক্ষা কি??? মারা গেলেন বাবরী মসজিদে প্রথম আঘাতকারীদের একজন থেকে দ্বীন প্রচারক হয়ে উঠা বলবীর সিং (মুহাম্মদ আমির)! রান্না করা কুরবানির গোশতের টুকরোতে মহান আল্লাহতায়ালার সিফাতমূলক আরবী নাম ‘আল্লাহ’র প্রকাশ! কুরবানির পশুর গোশত কত ভাগ করতে হবে ঈদুল আযহার নামাজের নিয়ম,ঈদের দিনের সুন্নাহ ও কোরবান পরবর্তী পরিচ্ছন্নতাঃ

ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভ, পবিত্র হজ্জ্ব পালনের স্মৃতি

admin / ৩৮ মিনিট
আপডেট রবিবার, ১৮ জুলাই, ২০২১

( ১ম পর্ব)

মাহবুবা সুলতানা সুমিঃ

জিলহজ্জ্ব মাসের এই সময়টা আসলেই মনটা বড়ই আনচান করে উঠে, পবিত্র মক্কা মদীনায় যাওয়ার জন্য।মধ্য বয়সে এসে প্রায় প্রত্যেক মুসলিমেরই জীবনে স্বপ্ন হয়ে যায় একবার হলেও সে যেন মক্কা মুকাররমা ও মদীনা মানোয়ারাতে যেতে পারে! আমাদেরও তেমন স্বপ্ন ছিলো !

আলহামদুলিল্লাহ্ একদিন মাহান আল্লাহ পাক অনেক দয়াকরে আমাদের সেই স্বপ্ন সার্থক করলেন! একদম হঠাৎ করেই আমরা হজ্বে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিলাম! ২০১৯ এ ১২ই আগষ্ট ছিলো আমাদের হজ্বের দিন! আমরা রওনা দিলাম ১৯শে জুলাই । যোহরের নামাজ শেষে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে বিসমিল্লাহ্ বলে বাসা থেকে আমরা ২জন ঢাকা এয়ার পোর্টের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম হাতে শুধু ডমেষ্টিক ফ্লাইটের টিকেট আর স্বাস্থ্য পরীক্ষার রির্পোট। বান্ধবী শিরিনের কাছে সব বুঝায়ে দিয়ে গেলাম যদি আর ফিরে না আসি তাহলে আম্মু আর বাচ্চাদের সব খেয়াল যেন রাখে । হজ্জ্বের কাফেলা ছিল চট্টগ্রামের তাই পার্সপোট ভিসা টিকেট সব কাফেলার হাতে আর সব হাজীই চট্টগ্রামের বলে ওখান থেকেই ফ্লাইট । পার্সপোট টিকেট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত সে এক কঠিন টেনশন ।ঢাকা এয়ারপোর্টে আমাদেরকে বিদায় দেয়ার জন্য নিম্মি চাচী ফাইজান , রিদোয়ান অপেক্ষা করছিল। ঢাকা এয়ার পোর্টে আসরের নামাজ পড়ে প্লেনে উঠলাম। চট্টগ্রাম পৌঁছেই ডমেষ্টিক লাউন্জ থেকে লাগেজগুলো নিয়ে আবার আন্তর্জাতিক লাউন্জের দিকে ছুটলাম।কাফেলার সাথে দেখা হল হাতে পার্সপোট টিকেট পাওয়ার পর মনে স্বস্তি পেলাম। মাগরিব এশার দুটোই পড়লাম চট্টগ্রাম এয়ারপোর্টে। ইমিগ্রেশনের জন্য লাইনে দাঁডানো হঠাৎ দেখলাম আমাদের পাশের লাইন থেকে কয়েকজন বয়স্ক ব্যক্তি কান্না করতে করতে বের হয়ে যাচ্ছেন কারন কাফেলা লোক তাদের কাছ থেকে সব টাকা নিয়েছে কিন্তু হজ্জ্বের ভিসা টিকেট কিছুই দেয় নাই। তখনই নিজের হাতে থাকা পার্সপোট ,ভিসা , টিকেট আবার চেক করে দেখলাম সব কিছু ঠিকঠাক আছে কিনা ! যদিও আমাদের কাফেলা সাথেই ছিলেন । অসুস্থ মা আর ২ বাচ্চা ছেড়ে যাচ্ছি ৪৫ দিনের জন্য! মনটা একটু খারাপ হচ্ছিলো কিন্তু এতদিনের স্বপ্ন আল্লাহপাকের মেহেরবানীতে সম্পন্ন হতে যাচ্ছে সেটা ভাবলে আবার মনটা কেমন অন্যরকম ভালোও হয়ে যাচ্ছিলো! তখন কেন জানি না বাচ্চাদের জন্য আর কোন টেনশন হচ্ছিল না । মনে হচ্ছিল আল্লাহ্পাক হেফাজত করবেন।
যাহোক আমরা সবাই মন স্থির করে দোয়া-দরূদ আর তালবিয়া (“লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক,লাব্বাইকা লা-শারীকা -লাকা লাব্বাইক,ইন্নাল হামদা,ওয়ান্নি ‘মাতা লাকা ওয়াল মূলক! লা-শারীকা লাক !অর্থাৎ- আমি হাজির হয়েছি হে আল্লাহ ,তোমার ডাকে সাড়া দিয়ে আমি হাজির হয়েছি ! আমি হাজির হয়ে সাক্ষ্য দিচ্ছি ,তোমার কোন শরীক নেই , আমি হাজির! নিশ্চয় সমস্ত প্রশংসা ও নেয়ামত তোমারই এবং রাজত্ব ও সারভৌমত্বও তোমার! তোমার কোন শরীক নেই )পড়তে থাকলাম! আলহামদুলিল্লাহ সময় মতোই প্লেনে উঠলাম! এবার মনটা অস্থির হতে থাকলো কখন গিয়ে পৌঁছাবো আমাদের প্রতীক্ষিত সেই পবিত্র ভূমিতে! এই দীর্ঘ সাত ঘন্টা ভ্রমণ শেষে যথা সময়ে আমরা মদীনা বিমান বন্দরে পৌঁছুলাম ! বাইরে তখনও বেশ অন্ধকার ছিলো ! ফর্মালিটিজ শেষ করে পাসপোর্ট হাতে পেতে আমাদের অনেক সময় লাগলো! ফজরের নামাজ এয়ারপোর্টে পডলাম । লাউন্জে বসে অপেক্ষা করছি নির্ধারিত বাসের জন্য । এর মাঝে Mobily কোম্পানী সবাইকে ফ্রীতে সীমকার্ড দিয়ে গেল আর সেটা একটিভ করে ধরাটা খাইলাম । যদিও ঐ মুহুর্তে বাসায় ফোন করে পৌঁছানোর খবর জানাতে পেরেছিলাম । বেশ কিছুটা সময় অপেক্ষার পর আমরা একটা বড় বাসে করে হোটেলের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম! মাঝে একবার চেকিং হলো আর একবার আল্লাহর মেহমান হিসাবে আমাদের আতিথেয়তা করার জন্য এক জায়গায় একবার গাড়ি থামালো এবং আমাদের একটি প্যাকেটে চিকেন-রইস, কোল্ড-ড্রিঙ্কস সরবরাহ করলো! এগুলি হাতে পেয়ে খুব ভালো লাগলো! আর ক্ষুধাও পেয়েছিলো খুব! আমরা বাসে বসেই প্যাকেটের খাবার গুলি খেয়ে ফেললাম! কোল্ড ড্রিঙ্কস পিপাসা কিছুটা নিবৃত্ত করলো মা শা -আল্লাহ! আমরা এগিয়ে চলেছি! মনে মনে দোয়া দরূদ, প্রার্থনা আর তালবিয়া পড়ে চলেছি! লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা -শারীকা -লাকা লাব্বাইক! আমি হাজির হয়েছি আল্লাহ ! আমি হাজির হয়েছি! তোমার কোন শরীক নেই , আমি হাজির” চারিদিকে ধূ ধু মরুভূমি আর কালো কালো পাথরের পাহাড় ,মাঝে মাঝে অনেক গ্যাপ দিয়ে কাটা গাছের মতো কিছু ছোট ছোট সবুজ ঝোপ দেখা যায়! আমার মন কেমন উদাস হয়ে গেলো এই ভেবে যে ,এই খা খা মরুভুমি আর এই কঠিন পাথরের পাহাড় ,এরকম একটা শুষ্ক মরুভূমিতে আমাদের নবীর মতন এমন কোমল হৃদয়ের নিখিলের নবী কে আল্লাহ-পাক কেন পাঠালেন,সে অসীম রহস্য একমাত্র তিঁনি ছাড়া আর কেউ জানেনা! খুব অস্থির লাগতে লাগলো জোহরের নামাজের আগে আগে পৌঁছাব কিনা ।২০১৮ সালে ওমরা তে আসার কারনে রাস্তাঘাট মোটামুটি পরিচিতই মনে হচ্ছিল। বেলা ১১টার আমরা হোটেলে এসে পৌঁছালাম। বাস থেকে নেমে লাগেজ ব্যাগ নিয়ে মোয়াল্লেমের কাছ থেকে রুমের চাবি নিয়ে লিফটে করে নির্দিষ্ট রুমে পৌঁছে খুবই মর্মাহত হয়েছিলাম কমন বাথরুম ব্যবহার করতে হবে দেখে । যেটা করতে গেলে অনেক সময় নষ্ট হবে । আমরা ২ জন ১ রুমে থাকব বলে মোয়াল্লেম ১ লক্ষ টাকা অতিরিক্ত নিয়েছিল। রুম পরিবর্তন করার অনুরোধ করে আপাতত লাগেজ রেখে ওজু করে চলে গেলাম মসজিদে নবাবীতে । ৫ মিনিটের হাঁটা দুরত্বে ২১ নং গেইট দিয়ে মসজিদে নবাবীতে গিয়ে জোহরের নামাজ পড়ে হোটেলে ফিরে দেখলাম রুম পরিবর্তন করে দিয়েছে তবে সেটাও তেমন সুবিধাজনক না। টপ ফ্লোরে পছন্ড গরমে মদীনায় ৮ দিন ভালো মত ঘুমাতে পারি নাই। শরীরের কিছুকিছু জায়গায় রীতিমত ফোসকা হয়ে গিয়েছিল যেখানে আমি ঠান্ডা টকদই আর বরফ লাগাতাম ঝালাপোড়া কমানোর জন্য। এসির মধ্যেও ঘরটি ভালো ঠান্ডা হত না । 😢😢! হজ্জ্বে যাওয়ার আগে হজ্জ্বের ট্রেনিং এ বারবার স্মরণ করে দেয়া হত ধৈর্য ধৈর্য ধৈর্য । তাই এমন রুমে থাকাটা ভাগ্যের পরিহাস আর ধৈর্যের পরীক্ষা হিসাবে মেনে নিলাম। দুপুরের খাওয়া দাওয়া করে একটু বিশ্রাম নিয়ে আসরের নামাজের জন্য আবার চলে গেলাম মসজিদে নবাবীতে । নামাজ শেষে হোটেলে ফিরে চা বিস্কিট খেয়ে একটু বিশ্রাম করে মাগরিবের নামাজ পডতে গিয়ে একবারে এশার নামাজ পড়ে ফিরলাম । রাতে খাবার শেষে তাডাতাড়ি ঘুমায়ে গেলাম ভ্রমন জনিত ক্লান্তি তে। আবার রাত ২টায় উঠে ওজু করে চলে গেলাম তাহাজ্জুদ আর ফজর শেষ করে হোটেলে ফিরে মোয়ালেম্মর সরবরাহিত নাস্তা করে কিছুক্ষণ ঘুমালাম । তারপর গোসল করে আবার ১২ টার আগে মসজীদে জোহরের জামাতের আগে পৌঁছে গেলাম। নামাজ শেষে দুপুরের খাবারের জন্য হোটেলে ফেরা আর কিছুক্ষণ বিশ্রামে পর চলে যেতাম আর আসর , মাগরিব, এশার পর একবারেই হোটেলে ফিরতাম । আসরের পর ২১ নং গেইট সংলগ্ন তৈয়বা মার্কেটে সন্ধ্যায় হালকা চা নাস্তা খেতাম ঘোরাঘুরি আর টুকটাক কেনাকাটা করতাম।

মদিনা মানোয়ারায় অবস্থানের দ্বিতীয় দিনে মনে মনে ভাবলাম, যেভাবেই পারি আজ ইন শা-আল্লাহ নবীজির রওজা মোবারক যিয়ারত করবার আপ্রাণ চেষ্টা করবো! কারণ,এই যিয়ারত এর জন্যই মদিনা সফর মানুষের জীবনে এক বিস্ময়কর সুযোগ এনে দেয় ! শুধুমাত্র সে এখানেই সরাসরি রাসূলুল্লাহ(সাঃ )কে সালাম দেবার সৌভাগ্য লাভ করে! সে প্রত্যক্ষভাবে বলতে পারে ” আসসালামু আলাইকুম ইয়া রাসূলুল্লাহ !” সেজন্য এই দুর্লভ মুহূর্তটি পাওয়ার আকুলতা আমাদের যে হবে,এতে আশ্চর্য হবার আসলে কোনোই কারণ নেই!
কিন্তু কয়েকটা নির্দিষ্ট সময় মেয়েদের জন্য বেঁধে দেয়া হয়েছে ,এ সময় ছাড়া ওখানে যাবার আর কোন সুযোগ নেই !
এশার নামাজের পর বাংলাদেশীদের জন্য নির্ধারিত জায়গায় অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর মহান আল্লাহ্ পাকের অশেষ রহমতে অবশেষে নবীজীর রওজা জেয়ারতের জন্য মহিলাদের জন্য নির্ধারিত জায়গায় যাওয়ার সুযোগ পেলাম! দৌঁড়ে গিয়ে প্রথমেই আমি প্রিয় রাসূলুল্লাহ(সাঃ ) কে সালাম জানালাম! সবার পক্ষ থেকে সালাম পৌঁছায়ে দিলাম। অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে যেন সালামের পবিত্র প্রতিউত্তর শুনতে পেলাম! জানি এটা আমার মনের একটা কল্পনা! তবু আমার সেটাকেই সত্যি বলে মনে হলো!
এরপর মনোযোগ দিয়ে যিয়ারত করলাম, নফল নামায পড়লাম, অনেক দোয়া দরূদ ও ইস্তেগফার করলাম ! মনটা ততক্ষনে অনেকটা শান্ত হয়ে গিয়েছে!
এরপর আবার সালাম জানিয়ে রিয়াজুল জান্নাতের দিকে এগিয়ে গেলাম!
মনে একটা ইচ্ছা নিয়ে গেলাম যেন ফেরার আগে আরেকবার আসতে পারি! রিয়াজুল জান্নাতে অসম্ভব ভিড়! সোজা হয়ে দাঁড়ানো যাচ্ছেনা! এবার মানুষের এই পাগলামো দেখে একটু বিরক্ত বোধ করলাম ! যতো ভিড়ই থাক ,একটু সুশৃঙ্খল হলে সুন্দর মতন নফল নামায আদায় করে সবাই চলে যেতে পারতো! কিন্তু কার আগে কে যাবে! ঠেলা-ঠেলি ! ভয়াবহ দৃশ্য! মনে মনে হাসি পেয়ে গেলো হঠাৎ! আচ্ছা বেহেশত পাবার জন্য যখন এতো ঠেলাঠেলির প্রতিযোগিতা ! তাহলে একটু ভালো কাজ করলে যেখানে বেহেশত পাওয়া যায় তাহলে সে কাজটা কেন করেনা মানুষ! শুধু অন্যকে ডিঙিয়ে নিজে যেতে হবে অথবা অন্য কাউকে সুযোগ না দিয়ে নিজেই অনেক রাকাত নামায পড়ে ফেলতে হবে! এই যে অন্যের হক নষ্ট করা , সেটাতে কি আল্লাহ সন্তস্ট হন নাকি বেহেশত অর্জন হয় ? আমি প্রচন্ড ভিড়কে এমনিতেই ভয় পাই, তারপর আবার এরকম ঠেলাঠেলি, মারা-মারি! আরো ২ বার জেয়ারত করার সুযোগ হয়েছিল । প্রতিবারই ২ রাকাত নফল নামাজ শেষে জেয়ারত করে শুকরিয়া আদায় করেছি। বাংলাদেশী ১ জন সিকিউরিটি মেয়ে খুব যত্ন করে সাত মিম্বারের মধ্যে নামাজ আদায় করে দোয়া করার সুযোগ করে দিয়েছিল । ধাক্কাধাক্কিতে যাতে ইবাদতে ব্যাঘাত না হয় সেই জন্য মেয়েটা পিছনে দাঁড়ায়ে ছিল তার ২ হাত আগলায়ে । এত সুন্দর ভাবে ইবাদত করার সুযোগ করে দেয়ার জন্য মেয়েটার জন্যও দোয়া করেছিলাম। তাকে ধন্যবাদ দিয়ে বিদায় নিলাম।
মদিনায় মসজিদে নববীর পূর্ব পাশে বাকী কবরস্থান বা জান্নাতুল বাকী অবস্থিত! এখানে নবীজির প্রায় সকল প্রিয় মানুষ ঘুমিয়ে রয়েছেন! আমরা দূর থেকে ওনাদের জন্য দোয়া করলাম!
বাবে জিব্রাঈল (আঃ), মসজিদে নববীর একটি অন্যতম আকর্ষণ! এই জায়গা দিয়েই জিব্রাঈল(আঃ), রাসূলুল্লাহ(সাঃ )এর কাছে আসা-যাওয়া করতেন!
মোয়াল্লেম আমাদেরকে সোনার মদিনার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য স্থান ঘুরিয়ে দেখালেন!
মদিনায় ইসলামের প্রথম মসজিদ কুবা! পবিত্র কোরআনে আল্লাহ সুবহানুতায়ালা এই মসজিদের কথা উল্লেখ করেছেন! নবীজি প্রতি শনিবার বাদ আছর/ফজর মসজিদে কুবাতে আসতেন এবং দুই রাকাত নফল নামায পড়তেন! সেজন্য হাজীরাও এখানে এসে দুই রাকাত নফল নামায পড়েন ,যার গুরুত্ব অপরিসীম! আমরাও আলহামদুলিল্লাহ সেখানে ১ দিন নফল নামায আদায় করলাম সৌভাগ্য ক্রমে সেদিনটি শনিবার ছিল। কথিত আছে মসজীদে কুবাতে ২ রাকাত নফল নামাজ পডলে ১ টা ওমরা করার সমান সওয়াব পাওয়া যায়।

যে মসজিদে নামায পড়ার সময়ে নামাযের মধ্যেই বায়তুল আকসার কিবলা পরিবর্তন করে বায়তুল্লাহকে কিবলা করার নির্দেশ দেয়া হয়! আল্লাহ-পাক তাঁর প্রিয় নবীর মনের একান্ত ইচ্ছা সেদিন নামাযের মধ্যেই বাস্তবায়ন করেন! আমরা সেই ‘মসজিদে কিবলাতাইনে ‘দুই রাকাত নফল নামায আদায় করলাম!
আমরা ঐতিহাসিক উহুদ পাহাড় পরিদর্শনে গেলাম! এখানে রাসূলুল্লাহ(সাঃ )এর দন্ত মুবারক শহীদ হয়েছিলো ! এখানে হামযা(রাঃ) সহ অনেক সাহাবী শহীদ হয়েছিলেন! আমরা তাঁদের জন্য দোয়া করলাম! ফেরার পথে ১টা খেজুর বাগান দেখতে গেলাম , সেখান থেকে কিছু খেজুরও কিনেছিলাম । এর ১ দিন ফজরের নামাজ শেষে ব্যক্তিগত খরচে ৩ টা মাইক্রো ভাড়া করে কাফেলার কয়েকজন মিলে জ্বীনের পাহাড়, বদরের যুদ্ধের ময়দান আর শেফা কুপ পরিদর্শন করে করে জোহরের ঠিক আগমুহুর্তে ফিরে কোন রকমে দৌড়ে গিয়ে জামাতে জোহরের নামাজ আদায় করেছিলাম।

জীনের পাহাড় বলে পরিচিত পাহাড়ে ঘেরা ওই পথে একটা নির্দিষ্ট জায়গা রয়েছে, যেখানে গাড়ি অটোমেটিক চলে, ঢালু থেকে উঁচুর দিকে যায়। মসজিদে নবাবী দিক থেকে গাড়ি যখন ওই স্থান দিয়ে গমন করে, তখন (ঢালু পথে) গাড়ি ভারি হয়ে যায়, আপনা থেকেই গতিবেগ কমে যায় এবং সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার বেগে গাড়ি যেতে পারে, তা–ও প্রথম গিয়ারের মতো আওয়াজ হয়। ঠিক উল্টোভাবে ফিরে আসতে চাইলে গাড়ি আপনা থেকেই উঁচুর দিকে দ্রুতগতিতে ছুটে চলে৷ শুধু গিয়ার নিউট্রাল রেখে স্টিয়ারিং ধরে বসে থাকলেই চলে৷ গাড়ি ছুটে যায় ১৪০ গতিতে (হয়তো তার চেয়েও বেশি, কিন্তু আমরা পরীক্ষা করে দেখেছি ১৪০ পর্যন্ত), কার্যত ব্রেক কষে জরুরি ইন্ডিকেটর লাগিয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। জায়গায় না গেলে বিশ্বাসই করা যায় না যে, এমন অদ্ভুত ও একমাত্র জায়গা পৃথিবীর বুকে রয়েছে, তা–ও মদিনায় (ইউটিউবে অনেক ভিডিও রয়েছে)

রাসুল (সা.) সাহাবীদেরকে নিয়ে যুদ্ধ থেকে ফেরার পথে এই কুপের কাছে এসে বিশ্রাম করেছিলেন । পিপাসার্ত সাহাবীগন পানি পান করার জন্য কূপের কাছে গিয়ে দেখলেন কূপ শুকিয়ে আছে কোন পানি নেই । রাসুল (স:) আল্লাহর কাছে দোয়া করলে এই কূপ পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে যায় যা এখনও পর্যন্ত অব্যাহত আছে । পরবর্তীতে সেই কূপের পানি পান করে অনেক রোগ থেকে সুস্থ হয়েছেন বলে এটাকে শেফা কূপ বলা হয়। অনেকেই এই কূপের পানিতে গোসল করতে ও দেখেছিলাাম। আমরাও পানি পান করে ওজু করেছিলাম।

এর মধ্যে ভার্সিটির বন্ধু মুক্তা , ইউসুফ , মুক্তার বর সোহেল ভাই সহ ২ জনের পরিবারের অনেকের সাথে দেখা হল । মদীনা থেকে ফেরার আগের রাতে দেশে আনার জন্য খেজুর কিনে আমাদের হোটেলের রিসিপসনে রেখে ওদের হোটেল গিয়ে ছিলাম দেখা করতে আর সেখানেই ওদের জোরাজুরিতে রাতের খাবার খেয়ে তারপর রাত ১ টায় হোটেলে ফিরেছিলাম।

আমাদের মক্কা ফেরার দিন ঘনিয়ে আসলো! কখন যে আটদিন কেটে গেলো বুঝতেই পারিনি! মসজিদে নববী থেকে নামাজের আহ্বান জানিয়ে সুমধুর আযান শোনা যাচ্ছে যা আমাকে চকিতে হযরত বেলাল (রাঃ) এর কথা মনে করিয়ে দিলো! কি মধুর ছিল তাঁর কণ্ঠ ! মানুষ সে সুমধুর আওয়াজ শুনে দলে দলে নামায পড়তে ছুটে আসতো ! রাসূলুল্লাহ (সাঃ)কে তিনি বড় ভালোবাসতেন আর রাসূলুল্লাহ (সাঃ )ও বেলাল(রাঃ )কে অনেক ভালোবাসতেন! সেজন্য নবীজি নাই, এই শূন্যতা কিছুতেই সহ্য করতে পারেন নি! তিনিও কিছুদিনের মধ্যেই মদিনা বাসীদের কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন! নবীজির প্রতি তাঁদের যে অকৃত্রিম,অপরিসীম ভালোবাসা ছিলো আমাদের মধ্যে হয়তো তার সামান্যতমও নেই ! তারপরও আমার চোখ ভিজে উঠলো !
আমরা মসজিদে নববী তে ফজরের নামায আদায় করলাম! জানিনা কবে আবার আসতে পারবো অথবা কোনদিন আর আসতে পারবোই কিনা ! নবীজির সোনার মদীনা ছেড়ে চলে যাচ্ছি! চোখ ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে যেন অতি আপনজনকে ছেডে যাচ্ছি । বাস চলতে শুরু করলো! প্রিয়জন ছেড়ে যাওয়ার মত এক বুক কষ্ট নিয়ে আমরা মক্কার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করলাম। পথে ১টা মসজীদে মিকাত অতিক্রম করার আগে ২ রাকাত নফল নামাজ আদায় করে ওমরার নিয়ত করে এহরাম সম্পন্ন করলাম । সেদিন ছিল শুক্রবার কিন্তু জামাতে জুমা আদায় করতে পারলাম না। পথে যাত্রাবিরতীতে ১ টা জায়গায় কোন রকমে জোহরের নামাজ কছর আদায় করলাম। মোয়াল্লেমের উপর মেজাজ খুব খারাপ হয়েছিল মসজীদে নবাবীতে জুমার নামাজের পর বাসের সময় ঠিক করে নাই বলে।

মহান আল্লাহ্ পাকের অশেষ মেহেরবানীতে আমাদের পবিত্র হজ্ব অনুষ্ঠানের ১ টা ধাপ সুসম্পন্ন হলো !

লেখিকাঃ প্রাক্তন শিক্ষার্থী, ৪র্থ ব্যাচ, মার্কেটিং-চবি


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর....