• রবিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২২, ১০:১২ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
নারী চিকিৎসককে গলা কেটে হত্যা, কথিত প্রেমিক কক্সবাজারের রেজা চট্টগ্রামে আটক ভোটার প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গা অধ্যুষিত সীমান্ত এলাকার জন্য ইসি সচিবালয় কর্তৃক ঘোষিত নির্দেশিকা। কক্সবাজার জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইন চার্জ মনোনীত হয়েছেন’ উখিয়া থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী নাদিম আবাসিক হোটেলে মিলল এক নারী চিকিৎসকের গলাকাটা লাশ, কথিত স্বামী পলাতক। বনের জন্য কক্সবাজার হবে মডেল জেলা-প্রধান বনসংরক্ষক কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলিতে হেড মাঝিসহ ০২জন নিহত। আর্থিক খাতে লুটপাটের দায় জনগণ শোধ করবে কেন? মাদক ও ইয়াবার বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত রেখে তরুণ সমাজকে রক্ষা করুণ । কক্সবাজার জেলা বিএমএসএফ এর জরুরী সভা অনুষ্ঠিত উখিয়া স্পেশালাইজড হসপিটাল এ জনপদের চাহিদা, আশা-আকাঙ্ক্ষা পুরণে সক্ষম? নাকি শুধুই গতানুগতিক!

বহুরূপী (এক আত্মপ্রত্যয়ীর ডায়রী থেকে সংগৃহীত)

AnonymousFox_bwo / ২৭৮ মিনিট
আপডেট রবিবার, ২৫ জুলাই, ২০২১

আইকন নিউজ ডেস্কঃ 

আমার স্বামী ফয়সাল মারা যাওয়ার ঠিক সতেরদিনের মাথাতেই আমার প্রথম কুপ্রস্তাব পাওয়া। অত‍্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত‍্য, ফয়সালের ঘনিষ্ঠ এক বন্ধুই প্রথম সেই দূর্জন। অথচ পারিবারিক ভাবেও আমাদের সাথে উনার অনেক ভালো একটা সম্পর্ক ছিল।

লোকটার নাম সাদ। ফয়সালের ভার্সিটির রুমমেট ও অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু। অনেকটা মানিকজোড় টাইপের আর কি। সেই বিবাহিত ও দু সন্তানের জনক সাদ ভাই কিন্তু কোন রাখ ঢাক ছাড়াই আমাকে ঘনিষ্ঠভাবে কাছে পাওয়ার আকাংখাটা জানিয়ে দিলেন। কাপুরুষদের হাতিয়ার অনলাইনের মাধ‍্যমে, ম‍্যাসেঞ্জারে।

সাদ ভাই অবশ‍্য তার গোপন ইচ্ছাটার কথা কিন্তু হুট করেই বলেনি, একটু ডিপ্লোমেসি ছিল। প্রথম কথা বলার শুরু, সদ‍্য স্বামী হারা এই আমাকে স্বান্তনা দেওয়ার ছলে অনেক ভালো ভালো কথা। তারপরই ইংগিতে দেওয়া উনার ঐ নোংরা বার্তাটায় আমি ভীষণ কষ্ট পেয়েছিলাম। ঘটনার আকস্মিকতায় হতভম্ব এই আমি কথাটাকে আর বাড়াইনি। তবে মেসেজগুলোর একটা স্ক্রিন শট রেখে দিলাম। নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবেই।

প্রচন্ড অপমানিত এই আমি সেদিন সারারাত এক ফোঁটাও ঘুমাতে পারিনি। রাতভর ঘুমিয়ে থাকা আমার তিন বছরের মেয়ে নোরার মুখের দিকে চেয়ে রইলাম। আর সদ‍্য প্রয়াত স্বামীর ভাবনায় মনটা আরো বিষন্ন হয়ে উঠলো। সামনে সম্ভাব‍্য দূর্বিষহ একটা জীবন পারি দিতে হবে, এটা ভাবতেই শিউরে উঠলাম। বাংলাদেশে আমরা মেয়েরা যে পুরুষ অভিভাবক ছাড়া সত‍্যিই ভীষণ অসহায়।

আমার মেয়ে নোরার কথা চিন্তা করেই সেদিন বারবার আতকে উঠছিলাম। এর পর থেকে সাদ ভাইকে আমি পারতপক্ষে এড়িয়েই চলি, আমার রেড বুকে উঠা প্রথম সেই ব‍্যক্তি। তবে সময়ের সাথে আমার রেড বুকের লিস্টটা কিন্তু লম্বা হতেই লাগলো। তবে সে সব কাহিনী বলার আগে আমার নিজের সম্পর্কে আপনাদের জানিয়ে রাখি।

আমি শায়লা রহমান। গেল মে মাসের আট তারিখ আমার একত্রিশ বছর পূর্ণ হল। অল্প কিছুদিন আগে আমার স্বামী ফয়সাল হঠাৎ করেই রোড এক্সিডেন্টে মারা যায়। ব‍্যবসার কাজ শেষে সেদিন চিটাগাং থেকে নিজে ড্রাইভ করে ঢাকায় ফিরছিল। দাউদকান্দি ব্রীজ পার হতেই গজারিয়া নামক এক জায়গায় ট্রাকের সাথে ওর প্রাইভেট কারটার মুখোমুখি সংঘর্ষে স্পট ডেথ। হঠাৎ করেই আমাদের সবাইকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে।

প‍্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রি আর শেয়ার মার্কেট, দুটোই ওর জন‍্য সৌভাগ্যের হয়ে এল। ফয়সাল অল্পদিনেই অনেক টাকার মালিক। আমাদের মহাখালি ডিএইচএসের বর্তমান ফ্ল‍্যাটটা কিন্তু ওর বিয়ের পরপরই কেনা। আমাকে উপহার দিয়েছে। এরপর আমার আর ফয়সালের যত্ন করে সাজানো এই ফ্ল‍্যাটটা। এমনকি দুজনে ব‍্যাংককও গিয়েছি বাসার শোপিস আর ইলেকট্রনিকসের সামগ্রী আনতে। তাইতো আমাদের এই বাসার পরতে পরতে সবসময়ই ফয়সালের ছোঁয়া।

ফয়সালের সাথে আমার বিয়েটা অ‍্যারেন্জড ম‍্যারেজ হলেও অল্প সময়েই আমাদের মধ‍্যে বেশ ভালো একটা আন্ডারস্ট‍্যান্ডিং গড়ে উঠে। আমার চাইতে বছর দশকের বড় ফয়সাল কিন্তু বয়সের ব‍্যবধানটা আমাকে কখনোই বুঝতে দেয়নি। তাইতো সব মিলিয়ে বিয়ের পর পর আমাদের প্রেম প্রেম খেলাটাও বেশ ভালো জমে উঠে। এমনকি বিয়ের তিন বছরের মাথায় আমাদের একমাত্র মেয়ে নোরার জন্মের পরও সেই প্রেমে কখনোই ভাটা আসেনি।

বন্ধু বৎসল ফয়সাল ছুটিতে বন্ধু বান্ধব আর পরিবার নিয়েই মেতে থাকতো। আমি যতোটা ঘরকুনো বা অসামাজিক, ফয়সাল তার ঠিক বিপরীত। তাইতো সামাজিক অনুষ্ঠানে উপস্হিতির মাধ্যমেই ওর বিশাল বন্ধু মহলের সাথে আমার পরিচিত হওয়ার সুযোগ হয়। ফয়সালের মৃত্যুর পর এদের প্রায় সবাই আমাকে স্বান্তনা বা সহযোগিতার হাত বাড়ালেও, কারো কারো কামুক চরিত্রটাকে আবিষ্কার করেছিলাম অনেক অবাক হয়ে।

এই লোকগুলো বহুরূপী! ফয়সাল জীবিত অবস্থায় এরা কখনো আমাকে অশ্রদ্ধার দৃষ্টি দেয়নি। কিন্তু আমার দুঃসময়ে ভালো মানুষের মুখোশধারি এই লোকগুলোর কুৎসিত রূপ দেখে আমি হতবাক আর রীতিমতো আতংকিত হয়ে উঠলাম।

ফয়সালের মৃত্যুর পরপরই মাগুরা থেকে আমি আমার মা বাবাকে ডিএইচওএসের এইবাসায় নিয়ে এলাম। সত‍্যি বলতে কি একা থাকার মতো মানসিক অবস্হা তখন একেবারেই নেই। আমি একটা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্হায় জব করি। আমার বাবা মায়ের একটিভ সাপোর্টেই জবটা শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যেতে পারলাম।

আমার মেয়ে নোরাকে বলতে গেলে আমার মা ই দেখছেন। ফয়সালের মৃত্যুর পর ওর ব‍্যবসাগুলো আমার পক্ষে দেখা সম্ভব ছিল না। তাইতো ফয়সালের ভাইবোনদের সহায়তায় দ্রুতই ওগুলো বিক্রি করে দিলাম। আমি অবশ্য বরাবরই আমার শশুর বাড়ির লোকদের প্রশংসা করি। ওরা আগাগোড়াই আমাকে সাহায্য করে গেছে। এমনকি আমার শশুর শাশুড়ি কখনোই ফয়সালের ব‍্যাংকে রেখে যাওয়া টাকা কিংবা আমাদের ফ্ল‍্যাটের অংশিদ্বারিত্বের দাবি নিয়ে আসেনি।

তবে ফয়সালের মৃত্যুর পরপর চোখের সামনেই কিছু মানুষদের শকুন হয়ে যেতে দেখলাম। আমি দেখতে আকর্ষণীয়া এটার চাইতেও আমার অসহায় অবস্হাটাই যেন ওদেরকে অনেক সাহসী করে তুললো।

ফয়সালের আরেক বন্ধু তারেক ভাই। যার অনেক বিপদে ফয়সাল অনেক সাহায্য করেছিল। সেই তারেক ভাই আমার সাথে গোপন সম্পর্ক রাখতে চায়। একটা সময় পর কারণে অকারণে পাঠানো ফোন আর ম‍্যাসেজ বিরক্তির শেষ সীমা অতিক্রম করলো। তাইতো একদিন রাত তিনটায় পাঠানো উনার ম‍্যাসেজ “তোমাকে খুব মিস করছি সোনা।” পাওয়ার পর নাম্বারটা ব্লক করতে বাধ‍্য হলাম।

আর ফয়সালের আরেক ব‍্যবসায়িক বন্ধু হারিস সাহেবতো আরেক কাঠি সরেস। পঞ্চাশোর্ধ হারিস ভাই আমেরিকা থেকে আনা অনেক গিফট নিয়ে আমার ফ্ল‍্যাটে হাজির। আমি সরলমনে ওগুলো গ্রহণ করার পর থেকেই হারিস সাহেবের সত‍্যিকারের রূপ উন্মোচিত হল। সেই একই পুরুষ আবদার একই আকাংখা, ভিন্নরূপে! প্রচন্ড ক্ষোভ নিয়ে লোকটার দেওয়া দামী গিফট গুলো তুলে রাখলাম। সুযোগ পেলে ফেরত দিব বলেই।

পরিচিত বন্ধু মহল ছাড়াও আরো অনেকেরই বাড়তি আগ্রহে প্রচন্ড অস্বস্তি বোধ করতে লাগলাম। এই ধরুন আমার অফিসের কথা, অফিস বস আকমল সাহেব এখন অনেক সাহসী। কারণে অকারণে আমাকে অফিস রুমে ডেকে পাঠায়। আর একদিনতো একা পেয়ে আমার হাতে হাতও রেখে দিলেন। অপ্রস্তুত এই আমি দ্রুত হাত সরিয়ে নিয়ে, রুম থেকে বেরিয়ে গেলাম। চাকুরীটা আমার খুব দরকার বলেই পরদিন অফিসে আসলাম। প্রচন্ড অপমানিত এই আমি আকমল সাহেবের করা অন‍্যায় আচরণের প্রতিবাদটাও করতে পারলাম না।

পুরুষতান্ত্রিক এই সমাজ ব‍্যবস্হায় আকমল সাহেবরা শিকার ধরতে অভ‍্যস্ত। আমাকে সুযোগ পেলেই যৌন হয়রানির চেষ্টায়, বিভিন্ন অজুহাতে অফিস আওয়ার শেষেও আমাকে ব‍্যস্ত রাখে। উদ্দেশ্য একটু নির্জনতা খোঁজা। খারাপ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার অভিপ্রায়ে। আমি অবশ‍্য অফিসে কখনোই শেষ ব‍্যক্তি হতাম না, বাচ্চার অজুহাতে বের হয়ে যেতাম। এই আকমল সাহেবও অন‍্য পুরুষদের মতো আমাকে অনলাইনে ম‍্যাসেজ পাঠায়। নানা রকম ঐসব ম‍্যাসেজে আমার প্রতি উথলে পড়া ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।

এরকম আরো কিছু নির্লজ্জ বেহায়া ভদ্রলোক লেবাসধারীদের অত‍্যাচারে যখন আমি রীতিমতো অত‍্যাচারিত ঠিক তখনই কামাল আমার পাশে এসে দাড়ালো অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে। মাগুরার ছেলে কামাল আমার স্কুল সহপাঠী এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও আমাদের একসাথে পড়া। কামাল মার্কেটিংয়ে আর আমি সোশলজিতে পড়েছি। ছাত্রজীবনে আমার প্রতি থাকা কামালের দূর্বলতা আমার বেশ ভালো করেই জানা ছিল। তবে সেটাকে আমার প্রতি থাকা আরো অনেক ছেলের ভালোলাগার মতোই ধরে নিয়েছি। কখনোই প্রশ্রয় দেয়নি।

আমার বিয়ে হয়ে যাওয়ার পরও কামাল আমার সম্পর্কে খোঁজ রাখতো। আমার স্বামী মারা গেছে, নাবালিকা কন‍্যা সন্তান নিয়ে বিপদে আছি, বিষয়টি কামালকে নাড়া দেয়। মাগুরার ছেলে বলে আমার আব্বা আম্মার সাথে সহজেই মিশে যায়। আমার বাসায় ওর নিয়মিত আসা যাওয়া। আর সবচাইতে বড় কথা আমার মেয়ে নোরার সাথে খুব দ্রুতই একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরী করে ফেললো। একটা সময় পর শুক্রবার আসলেই নোরা কামালের আসার অপেক্ষায়।

কামাল প্রফেশনে বেশ ভালো করছে, একটা মাল্টিন‍্যাশনাল কোম্পানিতে মার্কেটিংয়ের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ। তখনো বিয়ে করেনি বা বিয়ে করার সময় পায়নি। আমি অবশ‍্য প্রথম দিকে আমার বাসায় কামালের আসা যাওয়াটাকে প্রথমদিকে প্রশ্রয় দিতে না চাইলেও আব্বা আম্মার কারণেই বাধা দিলাম না। আর পরবর্তীতে নোরার আগ্রহটায় আমাকে বাধ‍্য হয়েই ওকে ফোনে আসতে বলতে হত। তবে চার পাঁচ মাস পর আমি নিজেও কেন জানি কামালের আগমনের প্রত‍্যাশায় থাকতাম।

ফয়সাল মারা যাওয়ার এক বছর তিন মাস পর কামাল আমার আব্বা আম্মার কাছে আমাকে বিয়ে করার প্রস্তাবটা জানায়। আমার কানে কথাটা আসতেই আমি কামালকে আমার বাসায় আর কখনোই না আসতে বারণ করে দেই। আব্বা আম্মাকেও বকাঝকা করি কামালকে প্রশ্রয় দেওয়ার অপরাধে। তবে আমার অবুঝ মেয়ে নোরা ততোদিনে কামাল সঙ্গে অভ‍্যস্ত। কামাল এই বাসায় আর আসবে না এ কথাটা সে কিছুতেই মানতে নারাজ।

কামাল বাধ‍্য হয়েই একদিন আমার অফিসে আসলো। অফিস শেষে আমার সাথে একটা রেস্টুরেন্টে নিরিবিলি কথাও বললো। ছেলেটার অঝোর কান্না আর নিষ্পাপ চাহনী আমাকে সিক্ত করলো। সে রাতেই প্রথমবারের মতো পুনঃবিবাহের চিন্তাটা মাথায় আসলো। সারারাত মৃত ফয়সালের কথা চিন্তা করলাম। ফয়সালের দেওয়া ভালোবাসা বুকে নিয়ে, মেয়ে নোরাকে নিয়ে সারাজীবন বেচেঁ থাকার ইচ্ছেটাকে কেন জানি বাস্তব সম্পন্ন মনে হল না।

বারবার শকুনদের চেহারগুলো ভেসে উঠলো, এরা ক্রমাগত থাবা দিয়েই যাচ্ছে। সপ্তাহ দুয়েক আগে অফিস বস আকমলের নির্জনে হঠাৎ করেই জড়িয়ে ধরার চেষ্টাটাও চোখে ভেসে উঠলো। যে কোন সময় এসব শকুনগুলো সুযোগ পেলেই মাংস খুলে নেবে, এটাও আমি বেশ ভালো বুঝি। আর সবচাইতে বেশি চিন্তিত আমার আর ফয়সালের ভালোবাসার ফসল নোরার ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে। নিষ্ঠুর এই সমাজ ব‍্যবস্হায় নোরার বেড়ে উঠার জন‍্য একজন পুরুষ অভিভাবকের যে বিশেষ প্রয়োজন।

ফয়সাল স্বপ্নে আমার কাছে এসেছিল, আমাকে পুনরায় সংসার শুরু করার সাহস দিয়ে যায়। আমি ঘুম ভেঙ্গে আঁতকে উঠি। আমার পাশে ঘুমানো অবুঝ মেয়েটার নিষ্পাপ মুখের দিকে চেয়ে থাকি। আমার চোখ দিয়ে অঝোরে পানি ঝরে। ভাবি, আমার জীবনটাতো এমন হওয়ার কথা ছিল না। নিজের সাথে পাক্কা একমাস বোঝাপোড়া করেই চুড়ান্ত সিদ্ধান্তটা নিলাম।

কামালের সাথে অনাড়ম্বর ভাবেই আমার বিয়েটা হল। আমার জীবনের প্রতিটা ইভেন্টেই কামাল আমাকে দ্বর্থ‍্যহীনভাবে সাপোর্ট দিয়ে যাবে এই আশ্বাসটা পাওয়ার পরপরই আমার অনেকদিনের পুঞ্জিভূত ক্ষোভগুলো ফুঁসে উঠলো। স্বামীহীন অসহায় এক নারীকে করা যাওয়া অন‍্যায়গুলোর কৈফিয়ত চাইলাম। কামালের মতো সামাজিক অবস্হাপন্ন একজন ব‍্যক্তি এখন আমার স্বামী, এই ভাবনাতেই কাপুরুষগুলো এখন ভীত। কেউই সদুত্তর দিতে পারেনি, এড়িয়ে যেতে চাইলো। আর একটা সময় পর অস্বীকারও করলো।

এরপরই আমার ধৈর্যের বাধ ভাঙ্গে। কামালকে সাথে নিয়ে আকমল ভাইয়ের উত্তরার বাসায় হাজির হলাম। আকমল ভাইয়ের স্ত্রীর কাছে আমাকে খারাপ উদ্দেশ‍্য নিয়ে দেওয়া দামী গিফটগুলো ফেরত দিলাম। স্বামীর লাম্পট‍্যে ভদ্রমহিলার অবাক হওয়া মুখটা দেখে আমি নিজেও অবাক। হায়রে পুরুষ, ঘরের স্ত্রীদের কিভাবে অন্ধকারে রাখতে পার?

ফয়সালের বন্ধু সাদ, তারেক কিংবা হারেস সাহেবারা এখন বিবাহিতা মেয়ের সাথে কথা বলতে নারাজ। তারেকতো অবলীলায় আমার নিজের চরিত্রই হনন করতে চাইলাম। এরপরই কামালের সাথে ডিসকাস করে সিদ্ধান্ত নিলাম, প্রমাণ সহ এসব তথাকথিত ভদ্রলোকদের মুখোশ সবার সামনে উন্মোচন করবো। অন্ততপক্ষে এরা যাতে ভবিষ্যতে অন‍্য কোন অসহায় মেয়েকে শিকার না বানাতে পারে।

আমার যত্ন করে রেখে দেওয়া শকুনদের পাঠানো কুরুচিপূর্ণ মেসেজ আর ছবিগুলো অনেকদিন পর কাজে দিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ‍্যমে এগুলো প্রকাশ করতেই চারিদিকে হৈচৈ পড়ে গেল। অনেকদিন পর আমার বুকের মধ‍্যে জমে থাকা তীব্র কষ্ট থেকে মুক্তি পেলাম। বহুরূপী মানুষগুলোর সত‍্যিকারের চরিত্র প্রকাশিত হতে আজ অনেকেই আতঙ্কিত। আর অজস্র ভিকটিমদের মুখে আজ প্রতিবাদ করার প্রত‍্যয়ী এক বিজয়ী হাসি।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর....