• রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:২৫ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
প্রসংগঃ সীমান্ত এলাকায় জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম এবং স্থানীয়দের অসহ্য যন্ত্রনা ও বিড়ম্বনা ব্রেইন টিউমার আক্রান্ত তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী টুম্পাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন! প্রেক্ষিতঃ সীমান্তবর্তী এলাকার বিদ্যমান সমাস্যা ও জন্ম নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় স্থানীয়দের অসহ্য বিড়ম্বনা ইউপি নির্বাচনের হাওয়া…. পালংখালী চেয়ারম্যান প্রার্থী ইন্জিনিয়ার রবিউল হোসেনের ১০ ইশতেহার ঘোষণা উখিয়া প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব অর্পণ শীর্ষক সংবাদের প্রতিবাদ ও আমার বক্তব্য উখিয়ার সিকদার বিলের তারেক ইয়াবাসহ লোহাগাড়ায় গ্রেফতার তাবৎ জীবনে জীবনসঙ্গীর প্রতি ভালবাসা অফুরান কালের বিবর্তনে বিলাসিতার রকম ফের এনজিও থেকে স্থানীয়দের ছাঁটাইয়ের হিড়িক, কিন্তু ভ্যানগার্ড কেউ নেই উখিয়া প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব অর্পণ শীর্ষক সংবাদের প্রতিবাদ ও আমার বক্তব্য

একদিকে রাষ্ট্রীয় লকডাউন, অন্যদিকে আকস্মিক বন্যা, যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা

admin / ৬৭ মিনিট
আপডেট বুধবার, ২৮ জুলাই, ২০২১

আইকন নিউজ ডেস্কঃ
গত কয়েকদিনের অতিবর্ষন, পাহাড়ী ঢল ও ভরা কটালের প্রভাব প্রভৃতি কারণে সমুদ্রের জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে নদী, নালা, খাল বিল পানিতে থৈ থৈ হয়ে রাস্তা ঘাট, ঘরবাড়ি, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে জনজীবন নাকাল হয়ে পড়েছে উখিয়ার প্রায় প্রতিটি গ্রাম। অকস্মাৎ বন্যা পরিস্থিতির কারনে চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছে হাজার হাজার গৃহবন্ধী মানুষ। একদিকে রাষ্ট্র ঘোষিত লক ডাউনে জনজীবন প্রায় অচল, অন্যদিকে হঠাৎ প্রাকৃতিক বন্যা, ভূমিধ্বস, যেন মরার উপর খাড়ার ঘা!

উখিয়া উপজেলায় লোক সংখ্যা প্রায় ৪ লক্ষ। সাথে বাস্তুচ্যুত প্রায় ৮ লক্ষ রোহিংগা জনসংখ্যাসহ উখিয়ার জনসংখ্যা প্রায় ১২ লক্ষ। এই অল্প আয়তনে অধিক জনসংখ্যার ভারে ন্যুব্জ উখিয়া উপজেলা। রোহিংগা অধ্যুষিত এলাকায় একদিকে পাহাড় ধ্বস, অন্যদিকে পাহাড়ের নিচে অবস্থানরত শেডগুলোতে প্রায় গলা অবধি পানি। অন্যদিকে হোস্ট কমিউনিটির প্রতিটি গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত। অধিকাংশ মানুষ গৃহবন্ধী। অনেকেই ঘরে আগুন জ্বালাতে পারেনি। বিশুদ্ধ পানির অভাব, শুকনো খাবারের অপ্রতুলতা। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ মারাত্মক দুঃখ, কষ্টে কালাতিপাত করছে।

উপজেলা প্রশাসন, থানা প্রশাসন সাধ্যমত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন সাধারন মানুষের পাশে দাঁড়াতে। মাননীয় নির্বাহী অফিসার, উখিয়া ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, উনাদের সীমিত লোকবল, সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, মেম্বার, অন্যান্য জনপ্রতিনিসহ স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষকে সেবার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাদের সীমাবদ্ধতার কারনে সবার নাগালে খাদ্য ও অন্যান্য সহায়তা পৌঁছানো রীতিমতো দুঃসাধ্য। তারপরেও তাঁদের চেষ্টার অন্ত নেই। তারা সাধ্যমত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই প্রাকৃতিক দূর্যোগে সমাজের অবস্থাপন্ন মানুষগুলো এগিয়ে না আসলে সরকার, প্রশাসন এত বড় জনগোষ্ঠীকে আপদকালীন সহায়তা দিয়ে পরিতৃপ্তি করা খুবই কঠিন ও অসাধ্য কাজ।

অতি বর্ষণে পাহাড় ধ্বসে উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, অনেকেই আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। পুরো উপজেলার অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে অর্ধলক্ষ মানুষ। অতি বর্ষণে, পাহাড়ি ঢল, চতুর্পাশের পানি স্বাভাবিক নিয়মে বিল খাল হয়ে সমুদ্রে পতিত হতে না পেরে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক হিজলীয়া খালের পাশ্বদেশে কিছু সময়ের জন্য গাড়ি চলাচলের রাস্তা বন্ধ থাকার খবর পাওয়া গেছে। অধিকাংশ গ্রামের রাস্তাঘাট প্লাবিত হয়ে উখিয়া সদর বা উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন এলাকার সব্জিবাগান, মৎস্য ঘের,পানের বরজ, বীজতলা, ক্ষেত-খামারসহ গবাদিপশু পাখির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অধিকাংশ কাঁচা, অর্ধপাকা ঘর বাড়িতে বন্যার পানি আসবাবপ্ত্র, মুল্যবান দলিল দস্তাবেজ, প্রয়োজনীয় উপকরণ সামগ্রীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করেছে। আকস্মিক বন্যায় উখিয়া উপজেলার সাধারন মানুষের আর্থিক ক্ষতি নিরুপন এ পর্যন্ত করা হয়নি। তথাপি ক্ষতির পরিমান শত কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবার সম্ভাবনার কথা অনেকে বলার চেষ্টা করেছেন।

জানা গেছে, গত কয়েকদিন থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হলেও গত সোমবার বিকাল থেকে উখিয়ায় বিরামহীন একনাগাড়ে ভারী বৃষ্টি হতে থাকে। এতে পুরো উপজেলার বানের পানিতে ব্যাপকভাবে প্লাবিত হয় ধ্বসে পড়েছে এলাকার কাঁচা ও মাটির ঘরবাড়ি।
পানিবন্ধী হয়ে পড়েছে রাজা পালং ইউনিয়নের মাছকারীয়া, মধুরছড়া, হাজীর পাড়া, মৌলভীপাড়া, মালভিটা, ঘিলাতলী, হরিণ মারা, হারাশিয়া, হিজলিয়া, তুতুরবিল, মধ্যম রাজাপালং, ডিগলিয়া, বড়ুয়া পাড়া, পাতাবাড়ি, হিন্দুপাড়া, হরিনমারা, দুছড়ি, খায়রাতি, উত্তর পুকুরিয়া, সিকদারবিল, পালংখালী ইউনিয়নের রহমতের বিল, থাইংখালী, তাজনিমার খোলা, ঘোনার পাড়া, গৌজুঘোনা, পন্ডিত পাড়া ও হাকিম পাড়া।রতনাপালং ইউনিয়নের পশ্চিম রতনা, সাদৃকাটা, খোন্দকার পাড়া, ভালুকিয়াপালং, গয়ালমারা, চাকবৈঠা, রাজাপালং ইউনিয়নের হলদিয়া পালং ইউনিয়েন চৌধুরী পাড়া, রুমখাপালং, বড়বিল, পাগলির বিল, জালিয়াপালং ইউনিয়নের লম্বরী পাড়া, পাইন্যাশিয়া, সোনাইছড়ি সহ বেশ কয়েকটি গ্রাম সহ প্রায় ৪৫টিরও অধিক গ্রামের মানুষ এখনও পানিবন্ধী অবস্থায় রয়েছে।

তাছাড়া উপজেলার উখিয়া সদর দারোগাবাজারসহ বিভিন্ন বাজারের শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ সহশ্রাধিক বাড়িঘর, স্কুল-মাদ্রাসা ও অফিস-আদালত ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এখন কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের যান চলা চল মোটামুটি স্বাভাবিক হলেও গ্রামীণ সড়ক গুলোর অবস্থা ভয়াবহ আকার ধারন করেছে। কাদা মাটির কারনে যানচলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভারী বর্ষণ অব্যহত থাকায় পাহাড় ধ্বসের আশঙ্কায় সতর্ককতা জারী করেছে উপজেলা প্রশাসন। পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসারের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়েছে।

উপজেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিঃ নিজাম উদ্দিন আহমদের সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে তিনি বলেন, ” গত বেশ কদিনের অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল, গ্রাম আকস্মিক প্লাবিত হয়ে বন্যার আকার ধারণ করেছে। পানি বন্ধী হয়ে অনেক মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন সাধ্যমত পানিবন্ধী মানুষের সাহায্য সহযোগিতা করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। গতকাল, উপজেলা প্রশাসনের উদ্দ্যোগে, উখিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রায় ১১০০ পরিবারকে রান্নাকরা খাবার সরবরাহ করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণ, মেম্বারদের মারফতে শুকনো খাবার, খাবার স্যালাইন ও অন্যান্য আপদকালীন উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও বন্যা কবলিত সকল মানুষের নাগালে রাষ্ট্রীয় সাহায্য সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হয়েছে। রাষ্ট্র একার পক্ষে এত মানুষের চাহিদা পূরণ করা খুবই কঠিন। তাই সমাজের বিত্তবানরা যদি এই দূর্যোগে বন্যা কবলিত ও গৃহবন্ধী মানুষের সাহায্য ও সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেন, সাধারণ মানুষ আরও বেশি উপকৃত হতো। আশা করি সামর্থ্যবানরা এই দূর্যোগে এগিয়ে আসবেন। স্থানীয় চেয়ারম্যান মেম্বারদের ও সিপিপি সদস্য দ্বারা মাইকিং করে, জনসচেতনতা সৃষ্টি করে বা বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার জনগনকে নিরাপদে সরিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে নিয়ে যাবার চেষ্টা করছি। সাইক্লোন সেন্টার ও স্কুল গুলোতে বন্যার ক্ষতিগ্রস্তদের সরিয়ে নেওয়াসহ প্রতিটি এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আমরা সজাগ দৃষ্টি রাখছি এবং এলাকার জনগনের জান-মাল রক্ষার ক্ষেত্রে যা যা করনীয় সবকিছু করা হচ্ছে, ইনশা আল্লাহ”।

রাজাপালং ইউনিয়ন, পালংখালী ইউনিয়নের মান্যবর চেয়ারম্যানগণের মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও তাদের ব্যস্ততার জন্য হয়ত ফোন পিক করতে পারেননি, তাই তাদের মতামত তুলে ধরা সম্ভব হয়নি।

বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা জানান, ব্যবসা প্রতিষ্টানে হাটু পরিমান পানি প্রবেশ করায়, অসংখ্য দোকানের মালামাল নষ্ট হয়ে খাবার ও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এদিকে, এখনও পর্যন্ত সরকারী ভাবে ত্রাণ সামগ্রী আমাদের কাছে না পৌঁছালেও ব্যক্তিপর্যায়ে অনেকে বন্যার্তাদের সাহার্য্যে হাত বাড়িয়েছে, বলে তারা জানান।

২০১৭ সালের ২৫ শে আগষ্ট পার্শ্ববর্তী দেশের বাস্ত্চ্যুত রোহিংগা জনগোষ্ঠী সীমান্তবর্তী উখিয়া টেকনাফে অবস্থান করায়, দিনে দিনে অসংখ্য স্থাপনা গড়ে উঠে। এসব স্থাপনা নির্মানে বিল্ডিং কোড, পয়ঃ নিষ্কাশন ব্যবস্থা যেমন মানা হয়নি, তথাপি খাল-বিল, নদী-নালা, নর্দমা যে যেদিকে পাইছে ভরাট করে স্থাপনা তৈরি করে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাঁধা সৃষ্টি করেছে। তারই ফসল আজকের অকস্মাৎ বন্যা পরিস্থিতি। আশি বছরের বয়োবৃদ্ধ জনাব হাজী আবদুর রহমান, অত্র প্রতিবেদককে জানান, ” আমার এই আশি বছরের জীবনে, এত অল্প বৃষ্টিতে উখিয়ার প্রায় প্রতিটি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হবার ঘটনা নজীরবিহীন। আমার জীবদ্দশায় এ রকম অল্প বৃষ্টিতে চতুর্দিক থৈ থৈ পানি ও বন্যা আমার চোখে পড়েনি। এটি নিশ্চয়ই শেষ জামানার কেয়ামতের আলামত। কারন এখন অ পথ পথ হয়েছে, অঘাট ঘাট হয়েছে, চারিপাশে শুধু উঁচু উঁচু দালান। যারা আমাদের ঘরে দিন মজুর, রাখালের কাজ করত তারা আজ বড় বড় বিল্ডিং এর মালিক। রোহিংগা আসায় বৈধ অবৈধ ব্যবসার আড়ালে তারা আজ আংগুল ফুলে কলাগাছ নয়, বটগাছে পরিনত হয়েছে।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর....