• বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ০৪:০৮ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
ইউপি নির্বাচন এবং সমাজে তথাকথিত ইয়াবা সংশ্লিষ্ট কোটিপতি তকমাদারীর সামাজিক অবস্থান ! ঘুংধুম আজুখাইয়ায় বাল্য বিয়ের বলী হলেন হুমায়রা নামক এক গৃহবধু উখিয়ায় ষোড়শীর বিষপান, স্ত্রীকে হাসপাতালে রেখে স্বামীর পলায়ন উখিয়ায় মুহিবুল্লাহ হত্যাকান্ড || সন্দেহজনক এক আরসা নেতা নাইক্ষ্যংছড়িতে গ্রেফতার ইউপি নির্বাচনের প্রার্থিতা নিয়ে সংঘর্ষ, নিহত ৪ অপহরণের ৪ দিন পর রোহিঙ্গা যুবক উদ্ধার উখিয়ায় মর্মান্তিক ট্রাক দুর্ঘটনায় হেল্পার নিহত, ড্রাইভার আহত মরিচ্যা চেকপোস্টে সাড়ে ৮২ হাজার ইয়াবাসহ আটক ৬ উখিয়া উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক ঘোষিত ষ্টেশন ও বাজার সম্বলিত সড়ক, মহাসড়কে সৃষ্ট যানজট নিরসনে দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি নেই । আজকের দিনে সাংবাদিক হওয়া কঠিন, বিপজ্জনক: মারিয়া রেসা

প্রসংগঃ উখিয়া প্রেসক্লাবের সাম্প্রতিক অবস্থা ও কিছু কথা

admin / ১১৯ মিনিট
আপডেট মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১

এম আর আয়াজ রবি।

কোন এলাকা বা অঞ্চলের সকল সাংবাদিকের মিলন স্থল বা সম্মীলন হচ্ছে ঐ এলাকায় প্রতিষ্টিত প্রেস ক্লাব। বর্তমানে উখিয়া্য প্রেসক্লাব তিনটা। উখিয়া প্রেসক্লাব, উপজেলা প্রেসক্লাব ও অনলাইন প্রেসক্লাব। কিন্তু নিঃসন্দেহে, উখিয়া প্রেসক্লাব সৃষ্টি ও ঐতিহ্যে অপরাপর প্রেসক্লাবের অগ্রবর্তী। নানা মত, পথ, চিন্তা, দৃষ্টিভঙ্গি, বহুদলীয় গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি চর্চার কেন্দ্রস্থল হিসেবে প্রায় তিনদশক পুর্বে প্রতিষ্ঠিত হয় উখিয়া প্রেস ক্লাব। এ প্রেস ক্লাব শুধু সাংবাদিক সমাজেরই নয়, অত্র এলাকার তথা গোটা অঞ্চলের অহঙ্কার, গৌরব, আশা-আকাংখার স্থা্নও বটে। অত্র প্রেস ক্লাব সাংবাদিকদের মধ্যে সম্পর্কের সেতু বন্ধন হিসেবে কাজ করে, সাংবাদিকদের ঐক্য, সংহতি ও মিলনের মহান কেন্দ্রবিন্দু হিসেবেও প্রতিষ্টা পায়।

কিন্তু ইদানিংকালে কতিপয় আত্মকেন্দ্রীক দূর্নীতিবাজ, লুটেরাজ, স্বার্থান্বেষীমহল উখিয়া প্রেস ক্লাবের সুনাম নষ্ট করে, এক কলঙ্কিত অধ্যায় রচনা করে চলেছে। অনেকেই নিজেদের স্বার্থে উখিয়া প্রেস ক্লাবকে বাপ-দাদার পৈত্তিক সম্পত্তি হিসেবে ব্যবহার করছে এবং অত্র ক্লাবকে প্রতিষ্ঠিত করছে বিভিন্ন অপকর্ম, দূর্নীতি, স্বেচ্ছাচারীতার আখড়া হিসেবে। এর ফলে এ মহান প্রতিষ্ঠানটি আজ বহু প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় হয়েছে। এই প্রেস ক্লাবই একদিন ছিল বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, স্বাধিকারের চেতনা, রাষ্ট্রের অন্তিম মুহুর্তে জীয়ন কাঠি হিসেবে, যা অত্র এলাকার উন্নতি, অগ্রগতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা পালন যেমন করছে ঠিক তেমনি, মাদক,ইয়াবা, চোরাচালান, সন্ত্রাস, চাদাবাজি, গুম, খুন, অপহরণ প্রভৃতি দমনে এই প্রেস ক্লাব অগ্রণী ভুমিকা পালন করছে। এ প্রেসক্লাবের বদৌলতে, মানুষে মানুষে গড়ে উঠেছে শিসাঢালা ঐক্য, সম্প্রীতি, উন্নয়ন ও সম্ভাবনার সুতিকাগার। তাছাড়া, ২০১৭ সালের ২৫শে আগষ্ট পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র মায়ানমার থেকে যে ১৪ লক্ষ রোহিঙ্গা এদেশে চলে এসেছে তার চারণভুমি হিসেবে উখিয়া টেকনাফের বিভিন্ন এলাকা রোহিঙ্গাদের জন্য প্রায় ৩৪টি ক্যাম্প স্থাপন করেছে, আইন শৃংখলা বাহিনী, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাসহ রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বাহিনীর সাথে প্রেস ক্লাবসমুহ রাষ্ট্রের হয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা পালন করে চলছে।

বর্তমানে উখিয়া প্রেসক্লাবের সদস্য সংখ্যা প্রায় ৩১।বর্তমানে ইলেকট্রনিক মিডিয়া, অনলাইন মিডিয়া ও প্রিন্টিং মিডিয়া হিসেবে কাজ করা উখিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকের সংখ্যা দু’শ এর কম হবেনা। উখিয়া প্রেসক্লাবের নিজস্ব গঠনতন্ত্র আছে, যা অনুসরন করে উক্ত প্রেসক্লাব পরিচালিত হবার কথা। গত প্রেসক্লাবের কার্যকরী পরিষদ নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়ম, দূর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, টাকা দিয়ে ভোট কেনা বেচার খবর বেশ চাওর হয়েছিল। একপক্ষ অন্য পক্ষকে বিভিন্ন অনিয়ম, দূর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও গঠনতন্ত্র লংঘনের অভিযোগ পালটা অভিযোগ দিয়ে মাঠ কাঁপিয়ে দিয়েছিল। তাছাড়া সদস্যপদ প্রদানে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছে বলে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে সাংবাদিক সমাজ।

বিভিন্ন সময় উখিয়া প্রেস ক্লাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন রফিকুল ইসলাম বাবুল, আবদুর রহিম, রফিকুল ইসলাম, সরওয়ার আলম শাহীন, এসএম আনোয়ার, কমরুদ্দিন মুকুল, হুমায়ুন কবির জিসান, গফুর মিয়া চৌধুরী, সোলতান মাহমুদ চৌধুরী, কাজী হুমায়ুন কবির বাচ্চু, নুর মোহাম্মদ সিকদার প্রমুখ।

উখিয়া প্রেস ক্লাব উখিয়ার সাংবাদিকদের একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশব্যাপী বেশ পরিচিতি লাভ করেছে। উখিয়া প্রেস ক্লাবের আজ যে গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা তা উখিয়া তথা কক্সবাজারের কর্মরত সাংবাদিকদের সুনাম এবং পেশাদারিত্বের ওপর প্রতিষ্টা লাভ করেছে। এমনকি প্রেস ক্লাব যে কর্মকান্ড পরিচালনা করে তা সাংবাদিকদের নাম ব্যবহার করেই করে থাকে। অথচ এ প্রেস ক্লাবে এখন সাধারণ এবং পেশাদার সাংবাদিকদের কোন অধিকার নেই।স্বার্থান্বেষী মহলের করাল থাবা উখিয়া প্রেসক্লাবকে পেয়ে বসেছে, প্রায় গ্রাস করেছে। উখিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের তিন চতুর্থাংশ এর সদস্য হতে পারেনি। উখিয়ার বাইরে কর্মরত সাংবাদিকদের কথা বলাই বাহুল্য। অনেকেই প্রেসক্লবকে তাদের পৈতৃক সম্পত্তি মনে করে সব কিছু নিজের বুকে আগলে রাখতে চান। নতুন সদস্য সংগ্রহের ব্যাপারে তেমন কোন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, কথায় কথায় বিভিন্ন অজুহাতে পেশাদার সাংবাদিককে বহিস্কার করেছে। অনেকেই অভিযোগ দিয়েছেন, কোন প্রকার আত্মপক্ষ স্বীকারোক্তি বা কারন দর্শাও নোটিশ ব্যতিরেখে কথায় কথায় নিজদের দাপট, প্রতিপত্তি, সবলতা, পেশিশক্তির জোরে সাধারণ সদস্যদেরকে বহিস্কার করেছে, বিশেষ পক্ষের সুবিধা সম্বলিত বা আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অযোগ্যদেরকে সদস্য পদ প্রদান করা হয়েছে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে উচ্চারিত। প্রেস ক্লাবকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে অনেকেই কাড়ি কাড়ি টাকা পয়সার মালিক হয়েছেন, অনেকেই সীমান্ত জনপদ হিসেবে ইয়াবা ও চোরাচালানে জড়িতদের সাথে সখ্যতা গ্রহণ করে কমিশন বাণিজ্য করে চলেছে। অনেকেই মাসিক চাদা ও কমিশনে নিজ ও পরিবারের ভরণপোষনের ব্যবস্থাও সেই তথাকথিত ইয়াবা কারবারীদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে জানা গেছে। এক পক্ষ অন্যপক্ষের বিরুদ্ধে বহিস্কার আদেশ পাল্টা বহিস্কারাদেশে রীতিমত সরগরম হয়ে উঠেছে উখিয়া প্রেসক্লাব। যখন কোন প্রতিষ্টান তার নিজস্ব গঠনতন্ত্র ও সংবিধান মেনে না চলে, স্বেচ্ছাচারিতা, জবরদখল, অনিয়ম, দূর্নীতি, স্বজনপ্রীতি যখন একটি প্রতিষ্টানে জগদ্দল পাথর হিসেবে ভর করে, তখন সেই প্রতিষ্টানে আর শান্তির লেশমাত্র অবশিষ্ট থাকেনা। তখন সবাই রাজা বনে যায়। চেইন অব কমান্ড বলতে আর কিছু অবশিষ্ট্য থাকেনা। তেমন আলামত উখিয়া প্রেসক্লাবকে ঘিরে পরিলক্ষিত হচ্ছে, যার ব্যাপ্তি সুদুর প্রসারী বলে অনুমেয়।

আমরা জানি, একটি রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভ, যথাঃ আইন বিভাগ, বিচার বিভাগ ও শাসন বিভাগ, এর বাইরে আরেকটি বিভাগ যোগ করে সাংবাদিকতাকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলে স্বীকৃতি প্রদান করেছে। তাছাড়া সাংবাদিকদের সমাজের তৃতীয় চক্ষু হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তাই অনেকের মতের অমিল হলেও, প্রত্যেকের স্বার্থে, সাংবাদিকতা পেশা ও আত্মমর্যাদার স্বার্থে সকল ধরনের ভুল বুঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে প্রত্যেকে নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থ ও গন্ডি থেকে বের হয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের বৃহত্তম কল্যাণের দিক চিন্তা করে গঠনতন্ত্রকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রেসক্লাবটাকে এগিয়ে নিয়ে গেলে সবার মঙ্গল নিহিত হবে বলে সচেতন সমাজ মনে করেন। কারন প্রেস ক্লাবের মত একটি সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সম্পদকে সামান্য ভুলবুঝাবুঝির কারনে নষ্ট করে দেওয়া কারো সমীচিন হবে বলে মনে করি না। এ ব্যাপারে উখিয়া প্রেসক্লাবের মাননীয় প্রধান পৃষ্টপোষক ও উপদেষ্টা, মাননীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয়ের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

যেহেতু, সংবাদপত্রকে বলা হয় রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ, সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত সংবাদকর্মীরা সেই স্তম্ভেরই অংশ বটে। অনেক অধিকার, অধিকারহীনতা, পাওয়া, না-পাওয়ার বঞ্চনা, অনেক আশা-নিরাশার পাকেচক্রে বাঁধা এক জীবন। সব দুঃখ-বেদনা পেরিয়ে এসেও শেষ পর্যন্ত এ পেশাটি এক ধরনের অহংকারই বটে-টিকে থাকার। অস্তিত্ব রক্ষার। এ পেশায় সবচেয়ে বড় অহংকার শেষ পর্যন্ত মানুষ এবং মানুষের জন্য কাজ করার তৃপ্তি। এ পেশার ব্যক্তিকে শেষ পর্যন্ত এসে মিলতে হয় সমষ্টির মোহনায়। তবে তা কিন্তু মোটেই গতানুগতিকতার গড্ডলিকা প্রবাহে নয়। সমষ্টিকে পরিচর্যা এবং তার সৃজনশীল-বিকাশের কাজের মধ্য দিয়ে দিতে হয় পথের দিশা- সঠিক পথে থাকার, সঠিক পথে চলার। যারা এ কাজে নিয়োজিত তাদের একটুখানি অবসরের দম ফেলার প্রাঙ্গণ এই উখিয়া প্রেস ক্লাব। রাষ্ট্রের রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতির সুলুকসন্ধানে যারা নিরন্তর ব্যাপৃত, তারা এ প্রাঙ্গণে আলাপে-আড্ডায় তত্ত্ব-তথ্যের সাগর সেচে মুক্তোর সন্ধান করেন। তাই, সকল ষড়যন্ত্র, প্রহসন, স্বেচ্ছাচারিতা, অগনতান্ত্রিক ধারা ঊপেক্ষা করে উখিয়া প্রেসক্লাব হয়ে উঠুক দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন নীতিতে। ধন্যবাদ সবাইকে।
লেখকঃ সাংবাদিক ও কলামিষ্ট।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর....