• বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ০৪:১০ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
ইউপি নির্বাচন এবং সমাজে তথাকথিত ইয়াবা সংশ্লিষ্ট কোটিপতি তকমাদারীর সামাজিক অবস্থান ! ঘুংধুম আজুখাইয়ায় বাল্য বিয়ের বলী হলেন হুমায়রা নামক এক গৃহবধু উখিয়ায় ষোড়শীর বিষপান, স্ত্রীকে হাসপাতালে রেখে স্বামীর পলায়ন উখিয়ায় মুহিবুল্লাহ হত্যাকান্ড || সন্দেহজনক এক আরসা নেতা নাইক্ষ্যংছড়িতে গ্রেফতার ইউপি নির্বাচনের প্রার্থিতা নিয়ে সংঘর্ষ, নিহত ৪ অপহরণের ৪ দিন পর রোহিঙ্গা যুবক উদ্ধার উখিয়ায় মর্মান্তিক ট্রাক দুর্ঘটনায় হেল্পার নিহত, ড্রাইভার আহত মরিচ্যা চেকপোস্টে সাড়ে ৮২ হাজার ইয়াবাসহ আটক ৬ উখিয়া উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক ঘোষিত ষ্টেশন ও বাজার সম্বলিত সড়ক, মহাসড়কে সৃষ্ট যানজট নিরসনে দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি নেই । আজকের দিনে সাংবাদিক হওয়া কঠিন, বিপজ্জনক: মারিয়া রেসা

প্রসংগঃ সীমান্ত এলাকায় জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম এবং স্থানীয়দের অসহ্য যন্ত্রনা ও বিড়ম্বনা

admin / ৮৪ মিনিট
আপডেট শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১

এম আর আয়াজ রবি।

জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রম নিঃসন্দেহে সরকারের দেশ পরিচালনার পরিকল্পিত অগ্রযাত্রার এক সুদুরপ্রসারি প্রশংশনীয় উদ্দ্যোগের একটি। জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম সরকারের দূরদর্শী চিন্তাভাবনার এক যুগান্তকারী নির্যাস বলেও অভিহিত করা যায়। জন্মনিবন্ধনের মাধ্যমে প্রতিটি শিশুর জন্য এক একটি প্রোফাইল তৈরি হবে, সরকার কর্তৃক ভবিষ্যতে প্রতিটি শিশু, ছাত্র বা নাগরিকের ইউনিক আইডি করার যে উদ্দ্যোগের কথা শুনা যাচ্ছে, এই জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম উক্ত ইউনিক আইডি’ র ফাউন্ডেশন বা ভিত্তি প্রস্তর তৈরির মুল কাজ করে যাবে নিঃসন্দেহে।

অনেক দিন পরে, সীমান্তবর্তী এলাকায় ইতিমধ্যে জন্ম নিবন্ধন সার্ভার খুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু জন্ম নিবন্ধন করতে গিয়ে স্থানীয়দের কত ধরনের অব্যবস্থাপনা, হয়রানী ও নাকানী-চুবানী খেতে হচ্ছে, ভোক্তভোগী মাত্রই ওয়াকেফহাল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, জন্মনিবন্ধন করতে গিয়ে সাধারন জনগন যে পরিমান ভোগান্তির শিকার হয়েছে, সাধারণ জনগণ (ভোক্তভোগীরা) দ্বিতীয় বার চিন্তা করবেন, নতুন ইস্যু (সন্তান) গ্রহণ করবেন কিনা অর্থাৎ জন্ম নিবন্ধন করতে যে পরিমান হয়রানী ও ভোগান্তির শিকার হয়েছেন, উক্ত সন্তানের সম্মানীত মা-বাবা দ্বিতীয়বার সন্তান নিবেন কিনা সেই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে অনেকবার চিন্তা করবেন বলে অত্র প্রতিবেদকে জানায়!
উখিয়ার সচেতন নাগরিক জনাব একে এম নুরুল হুদা ভূঁইয়া তার দু’সন্তানের জন্ম নিবন্ধন করতে গিয়ে নানাবিধ ভোগান্তির কথা অত্র প্রতিবেদককে জানান। তিনি বলেন, ” আমার দু’ছেলে মেয়ের জন্ম নিবন্ধন করতে গিয়ে আমার মত মানুষের যে কত কষ্ট ও যন্ত্রনা ভোগ করতে হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। সরকার ঘোষিত বিভিন্ন শর্তাবলী পূরণ করা কঠিন করে তুলেছে তারাই, যাদেরকে বিভিন্ন স্থানে শনাক্ত করার জন্য সিগ্নিটরীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমি বলব তারা কোনভাবেই আন্তরিক নয়। আবার ইউনিয়ন সচিব, রাইটার, সনাক্তকারী চৌকিদার, ওয়ার্ড প্রতিনিধিসহ যারাই উক্ত প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত তারাই মানুষকে বিভিন্ন অজুহাতে ঘোরাচ্ছে, তারা সঠিক গাইড লাইন প্রদান করে না, ইচ্ছাকরে সঠিক তথ্য প্রদান করে না বা কৌশলে সাধারণ মানুষকে ঘায়েল করার চেষ্টা চালায়। চিন্তা করছি আমার মত মানুষকে এত নাকানী চোবানী খেতে হল, সাধারন মানুষের কি অবস্থা বলাই বাহুল্য”।

উপজেলা প্রেসক্লাব উখিয়ার সম্মানিত সাধারণ সম্পাদক মাষ্টার আবুল কালাম আজাদ সাহেব বলেন, ” জন্মনিবন্ধন বিষয়ে স্থানীয় জনসাধারনের কষ্ট, ভোগান্তি ও বিড়ম্বনার শেষ নেই। সাধারণ মানুষ রীতিমত অতিষ্ট। জন্মনিবন্ধন প্রক্রিয়ার মধ্যেও গলদ রয়েছে বলে সাধারণ মানুষ মনে করে। স্থানীয়রা বিভিন্ন শর্তের বেড়াজালে আটকে গেলেও, যাদের অন্তর্ভুক্তির ব্যাপারে এত কড়াকড়ি ঠিকই তারা ছলে, বলে ও কৌশলে দেশের বিভিন্ন স্থানে জন্ম নিবন্ধন করে যাচ্ছে”।

এ ব্যাপারে ৪ নং রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের সম্মানিত চেয়ারম্যান জনাব জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরীর মুঠোফোনে একাধিক বার ফোন করেও পাওয়া যায়নি বিধায় মতামত জানা যায়নি।

এখানে প্রসংগত উল্লেখ্য যে, পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে যারা উখিয়া টেকনাফের বিভিন্ন অঞ্চলে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা হিসেবে বিভিন্ন ক্যাম্পে অবস্থান করছেন, যে কোনভাবে উক্ত জন্ম নিবন্ধনে তাদের অন্তর্ভূক্তির পথ বন্ধ করার জন্য যত ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে, তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সব নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে স্থানীয় সাধারন জনগনের উপর। এই ক’দিনে স্থানীয় জনগন জন্ম নিবন্ধন করতে গিয়ে অনেক রকমের হয়রানীর শিকার হয়েছেন।এখানে যত ধরনের চেক এন্ড ব্যালেঞ্চ করা হয়েছে, তারমধ্যে স্থানীয় চৌকিদার/গ্রাম পুলিশ থেকে শুরু করে, জন প্রতিনিধিদের আইডেন্টিফিকেশন সাইন প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু যারাই আইডেন্টিফিকেশন করবেন তাদেরকে কোনভাবেই একই স্থানে বা বারবার তাগাদা দেবার পরেও পাওয়া যায়না, পাওয়া গেলেও বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানী করার কথাও ভোক্তভোগীরা অতীব দুঃখের সাথে জানান।

অনেকেই অভিযোগ করেছেন, যারা আইডেন্টিফিকেশন করবেন, তারা তাদের গুরুত্ব সর্ব সাধারনে তুলে ধরার জন্য বা ‘দু’পইস’ উৎকোচ আদায় করার জন্য, ইচ্ছে করেই প্রয়োজনীয় মুহুর্তে তাদেরকে বাসা-বাড়ি, আশে পাশে কোথাও পাওয়া যায়না। আর নানা রকমের লেনদেনের কথা যেমন শুনা যাচ্ছে তেমনি অনৈতিক সুবিধা পাবার আশাও অনেকে জিইয়ে রাখার খবর পাওয়া গেছে।
কিন্তু অতীব দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে, যাদের অন্তর্ভূক্তির কথা চিন্তা করে এত সতর্কতা, এত কড়াকড়ি, এত এত শর্ত আরোপ করা হয়েছে, সেই রোহিংগারা ঠিকই অনেক চ্যানেল মেইন্টেইন করে তাদের সন্তান সন্তুতিদের জন্ম নিবন্ধন করে রীতিমত দেশের নাগরিক হবার সোপান একধাপ এগিয়ে নেবার সুযোগ প্রাপ্ত হয়ে যাচ্ছে। অবশ্য এ কাজে দেশীয় স্বার্থান্বেয়াষী মহল, অনেক জনপ্রতিনিধি অনেক বড় বড় সিন্ডিকেট, অনেক টাকার বাজেট হাতিয়ে নিয়ে এসব কাজে লিপ্ত হবার খবর ও পাওয়া যাচ্ছে।

বাংলাদেশের নাগরিকের সন্তান-সন্তুতি বা শিশুদের জন্ম নিবন্ধন পাওয়া আপনার শিশুর মৌলিক অধিকার। ন্যায়সঙ্গতভাবে আপনি জন্মনিবন্ধনের আবেদন করবেন এবং তা প্রদান করতেও সরকার বাধ্য।
জন্ম নিবন্ধনের জন্য সরলীকৃত জটিল কাজ গুলো নিম্নরুপঃ
প্রস্তুতি পর্বঃ
১. শিশুর টিকার কার্ড এন্ড সত্যায়িত ফটোকপি
২. শিশুর বাবা-মা’র জাতীয় পরিচয়পত্র এন্ড সত্যায়িত ফটোকপি
এরপরঃ
জন্মনিবন্ধন ফরমের প্রথম পৃষ্টায় তথ্যগুলো দিতে হয় এবং দ্বিতীয় পৃষ্টায় ৬ নাম্বার পয়েন্টে টিকাদাতা (স্বাস্থ্য সহকারি) এন্ড গ্রাম পুলিশের সীলসহ সাক্ষর নিতে হয়।
অতঃপর
৭ নাম্বার পয়েন্টের প্রথম দুটো ঘরে সহকারি স্বাস্থ্য পরিদর্শক এবং ইউপি সদস্যের সীলসহ সাক্ষর নিতে হয়।
এরপর ফরমটি ইউপি কার্যালয়ে জমা দিতে হয়। ৫ বছরের কম বয়সী যেসকল শিশুর টিকার কার্ড আছে, তাদেরকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের জন্যে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য সহকারি/টিকাদানকর্মী এন্ড সহকারি স্বাস্থ্য পরিদর্শক সাহেবকে নির্দেশনা দেয়া আছে, কিন্তু প্রয়োজনে কাছে পাওয়া যায়না।
ফুটনোটঃ
১. আপনার শিশুর বয়স ৫ বছর অতিক্রান্ত হলে ত। দেখে “সত্যায়ন” করতে পারেন।
৩. জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম খুব দ্রুত বন্ধ হয়ে যাবে এমন গুজবে কান দিবেন না। জন্মনিবন্ধন সংক্রান্ত কিছু বিষয়ে অস্পষ্ঠতা দুর করতে উপজেলা পরিষদ কাজ করে যাচ্ছে। দ্রুত কয়েকটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।

উপরোক্ত শর্তাবলী ও নিয়ামাবলী ছাড়াও আরও অনেক অপূরনীয় শর্ত রয়েছে- বারবার কষ্ট পেয়েও জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রম প্রক্রিয়া এগিয়ে নেবার শত চেষ্টা করেও অনেকেই জটিল শর্তগুলো পুরণ করতে না পেরে ফিরে যাবার খবরও পাওয়া গেছে। অধিকন্তু, ফিংগার প্রিন্টের মাধ্যমে মা-বাবা, প্রয়োজনে চাচা, ফুফু প্রভৃতি রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়দেরও আইডেন্টিটি নিয়ে, জটিল শর্তগুলো শীতিল করে জন্ম নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে আরো সহজ, ইউজার ফ্রেন্ডলী করে করতে পারলে সাধারন মানুষের কষ্ট ও ভোগান্তি কিছুটা লাঘব হতো বৈকি। ধন্যবাদ সবাইকে।

আইকননিউজটুডে/আর/২৫/০৯/২০২১


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর....