• বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ০৩:০৯ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
ইউপি নির্বাচন এবং সমাজে তথাকথিত ইয়াবা সংশ্লিষ্ট কোটিপতি তকমাদারীর সামাজিক অবস্থান ! ঘুংধুম আজুখাইয়ায় বাল্য বিয়ের বলী হলেন হুমায়রা নামক এক গৃহবধু উখিয়ায় ষোড়শীর বিষপান, স্ত্রীকে হাসপাতালে রেখে স্বামীর পলায়ন উখিয়ায় মুহিবুল্লাহ হত্যাকান্ড || সন্দেহজনক এক আরসা নেতা নাইক্ষ্যংছড়িতে গ্রেফতার ইউপি নির্বাচনের প্রার্থিতা নিয়ে সংঘর্ষ, নিহত ৪ অপহরণের ৪ দিন পর রোহিঙ্গা যুবক উদ্ধার উখিয়ায় মর্মান্তিক ট্রাক দুর্ঘটনায় হেল্পার নিহত, ড্রাইভার আহত মরিচ্যা চেকপোস্টে সাড়ে ৮২ হাজার ইয়াবাসহ আটক ৬ উখিয়া উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক ঘোষিত ষ্টেশন ও বাজার সম্বলিত সড়ক, মহাসড়কে সৃষ্ট যানজট নিরসনে দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি নেই । আজকের দিনে সাংবাদিক হওয়া কঠিন, বিপজ্জনক: মারিয়া রেসা

কন্যা সন্তান দিবস ও বাস্তব চিন্তার সাত কাহন

admin / ৪৯ মিনিট
আপডেট সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১

এম আর আয়াজ রবি।

পৃথিবীতে মানুষ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এসে একটি নির্দিষ্ট জীবনকাল অতিক্রম করে আবার তাকে ফিরে যেতে হয় সেই অনাদি, অনন্ত ও পুরনো ঠিকানায়। এই পার্থিব জীবন কালকে হিসেব করলে, পরজন্মের অনাদি কালের তুলনায় ‘খুব সকালে দূর্বাঘাসে শিশির বিন্দুর অদৃশ্য হবার সময়ের চেয়ে আরও ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র সময় মনে হবে’। কারন সুর্যমামা উদিত হবার সাথে সাথে দূর্বাঘাসে সঞ্চিত শিশির বিন্দু উবে গিয়ে মিলিয়ে যায় কালের অতল গহবরে বা স্রোতে। তেমনি আমাদের প্রতিটি ক্ষণ, সেকেন্ড, মিনিট, ঘন্টা, দিন, সপ্তাহ, পক্ষ, মাস, বছর ও যুগ এর ব্যাপ্তি ঘটছে একটি নির্দিষ্ট সময়ের আবর্তে, যা অতি সহজেই ম্রীয়মান হয়ে যায় এক মহান সত্ত্বার অদৃশ্য ইশারায়!

স্মৃতির ভ্রমে অনেক কিছু অর্থাৎ কারো জন্ম দিবস, বিবাহ বার্ষিকী, বিশেষ দিবস এমনকি নিজের, জীবন সাথীর বা সন্তান-সন্তানাদি, মা-বাবা, বন্ধু বান্ধবের বিশেষ দিনের কথা মনে না থাকলেও বা অনবগত বা বিস্মৃত থাকলেও গুগল, ফেসবুক ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে বা বদান্যতায় চোখের সামনে অনেক কিছু চলে আসে। ঠিক তেমনিভাবে, চোখের সামনে দীপ্যমান হল ‘ কন্যা সন্তান দিবস’। কিন্তু বাস্তবিক পক্ষে আমার কোন কন্যা সন্তান নেই, একটা সন্তান আছে। আমি বরাবরই সন্তানকে সন্তান হিসেবেই Treat করতে পছন্দ করি। আমার সেই সন্তান কে আমি শুধুই সন্তান মনে করি, ছেলে মেয়ে বলে কোনপ্রকার ভেদ রেখা বা differences টানতে আপততঃ রাজি নই। একটি নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত সে শুধু সন্তান হিসেবে বড় হবে, কোন ছেলে শিশু বা মেয়ে শিশু বলে পরিচিত হবে না। সময়ের বিবর্তনে, বয়সের ব্যবধানে প্রাকৃতিকভাবে সে diffrent বৈশিষ্ট্যগুলো বৈশিষ্ট্যমন্ডিত হবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

বলছিলাম কি, সেদিন পুরনো এলবাম ও ডায়েরি ঘাটতে গিয়ে, আমার বৌ পৃথিবীর সর্বকালের সেরা সুন্দরী ‘ক্লিওপেট্রা’কে দেখে বলে উঠে ‘এই রকম একটা মেয়ে আমার থাকলে হয়ত খুব ভালো হতো, সবাই আমাকে বিশ্ব সুন্দরীর মা বলে ডাকতো!!’ তখন পরক্ষণে আমি ক্লিওপেট্রার জন্মদাতা ভেবে পুলকিত যেমন হই, আবার দুঃচিন্তায় চোখ ছানাবড়া হয়ে আবার আড়স্থ হয়ে উঠে! কেননা, গ্রামের একটা প্রবাদ ” অতি কাইম্যার (যে বেশি কাজ করে) ভাত নেই, অতি সুন্দরীর নেক (বিয়ে হয়না) নেই”! আমাদের দেশের সামান্য ‘পরিমনি’ সুন্দরীর অবস্থা দেখে আর সেই স্বপ্নের সন্তান ‘ক্লিওপেট্রা’ ভাবার কোন ফুরসত পাই না আর! আবার অনেক বেরসিক মনে করেন, মহান আল্লাহ বেহেস্তের ‘হুরপরি’ এই মর্ত্যের পৃথিবীতে না পাঠানোর একমাত্র কারন হচ্ছে মানুষ সুন্দরী দেখে মাত্রাতিরিক্ত বেসামাল হয়ে উঠার কাহিনী! সামান্য ‘পরিমনি’ কান্ডে বাংলাদেশ আজ কত বেসামাল, সেখানে বেহেস্তের হুরপরি পাঠালে কি কান্ড হতো তা আর বলার অপেক্ষাই রাখে না!!

যাই হোক। নিজের কন্যাসন্তান থাকলে কি করতাম হয়ত এ মুহুর্তে জানা নেই, তবে আমার শ্বশুরের কন্যাকে আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করছি, আমার সমমর্যাদায় রাখতে, যথাসাধ্য সম্মান দিয়ে রাখতে। First generation working lady’s spouse হিসাবে, স্ত্রীর কাজ আর আমার কাজের মধ্যে সমন্বয় করতে যেয়ে আমার নিজের মধ্যেও অনেক limitations আবিস্কার করি। চেষ্টা করি এইসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে, চেষ্টা করি আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম যাতে এইসব সীমাবদ্ধতা মুক্ত হতে পারে, উন্মুক্ত বাতাসে নিশ্বাস নিতে পারে। তাই গত সপ্তাহে যখন আমার একমাত্র ছেলে বললো,” Pappa, you are not a independent or perfect person, because you don’t know how to cook, all the time you are dependent on mother or grandmother! তখন আমি মনে মনে একটু nervous feel করলাম ! সত্যিই তো, আমি ইচ্ছে করলে cooking শিখে নিতে পারতাম! কারন, সেই ব্যাচেলর জীবনের কথা! নব্বই দশকের শুরুতে চট্টগ্রাম কলেজে ভর্তি হবার পর থেকে শুরু ব্যাচেলর জীবন। এর পরে ভার্সিটি লাইফ। চাকুরী জীবনসহ বিয়ের পুর্ব পর্যন্ত ব্যাচেলর জীবনে ছিলাম কিন্তু চেষ্টা করলে এতদিনে পাকা cook হতে পারতাম কিন্তু কখনো রান্নাবান্না ছেলেদের কাজ মনে করিনি বিধায় হয়ত শেখা হয়নি!!

মনে মনে চিন্তা করতে লাগলাম, আমার কন্যা সন্তান থাকলে আমি কি তাকে আমার ছেলে সন্তানের চেয়ে আলাদা ভাবে দেখতাম, নাকি বেশি ভালবাসতাম, নাকি সুখ দুঃখ বেশি share করতাম! নাকি সম্পত্তি ভাগের মতো তাকে কি অর্ধেক ভালোবাসতাম ?! এসব এলোমেলো ভাবনা সব কিছু আমাকে তটস্থ করছে!

চিন্তা করছি, আমরা যে‌ সময়ে তাদের এই বিশ্ব ব্রম্মান্ডে রেখে যাবো সেই সময়ে সন্তান ধারনের মতো অত্যন্ত Biological কিছু ব্যাপার ছাড়া gender role বলে হয়ত কিছু থাকবে না। তাই পুত্র-কন্যাকে আলাদা ভাবার কোনো যৌক্তিক কারন দেখি না ! সন্তানকে সন্তান হিসেবে দেখে, কোনপ্রকার ভেদাভেদ চিন্তা করার কোন হেতু নেই। নিজের কন্যা সন্তান নেই তো কি হয়েছে! আমার পুত্রসন্তান যেন অন্যের কন্যাসন্তানকে যথাযথ মুল্যায়ন করতে জানে বা পারে সেটা আত্মস্থ করতে পারাটাই আমার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে! সন্তানকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে, self relient করে গড়ে তোলে, একজন Humanitarian হিসেবে গড়ে তোলার মাঝেই সন্তান জন্মদানের স্বার্থকতা, Gender discrimination এর মাধ্যমে নহে। ধন্যবাদ সবাইকে।

লেখকঃ কলামিষ্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট উপজেলা প্রেস ক্লাব, উখিয়া।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর....