• বুধবার, ১৭ অগাস্ট ২০২২, ০৮:০৫ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
বিএমএসএফ কক্সবাজার জেলা শাখার উদ্দ্যোগে ১৫-ই আগষ্ট উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল সম্পন্ন। নারী চিকিৎসককে গলা কেটে হত্যা, কথিত প্রেমিক কক্সবাজারের রেজা চট্টগ্রামে আটক ভোটার প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গা অধ্যুষিত সীমান্ত এলাকার জন্য ইসি সচিবালয় কর্তৃক ঘোষিত নির্দেশিকা। কক্সবাজার জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইন চার্জ মনোনীত হয়েছেন’ উখিয়া থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী নাদিম আবাসিক হোটেলে মিলল এক নারী চিকিৎসকের গলাকাটা লাশ, কথিত স্বামী পলাতক। বনের জন্য কক্সবাজার হবে মডেল জেলা-প্রধান বনসংরক্ষক কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলিতে হেড মাঝিসহ ০২জন নিহত। আর্থিক খাতে লুটপাটের দায় জনগণ শোধ করবে কেন? মাদক ও ইয়াবার বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত রেখে তরুণ সমাজকে রক্ষা করুণ । কক্সবাজার জেলা বিএমএসএফ এর জরুরী সভা অনুষ্ঠিত

উখিয়ার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ও একান্ত ভাবনাঃ

AnonymousFox_bwo / ২৯৫ মিনিট
আপডেট সোমবার, ৪ অক্টোবর, ২০২১

এম আর আয়াজ রবি।

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন, তৃনমূলের খুবই শক্তিশালী ও গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। সারাদেশে কয়েক ধাপে চলছে এই ইউপি নির্বাচন। আগামী ১১ নভেম্বর ২য় ধাপের নির্বাচনে কক্সবাজার উখিয়া উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের নির্বাচনও হতে চলছে। ইতিমধ্যে প্রতিটি ইউনিয়নে নির্বাচনের আমেজ, উদ্দীপনা, চায়ের কাপের ঝড়, পাড়া, প্রতিবেশি, আত্মীয় স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, শুভাকাঙ্ক্ষী, শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে চলছে আলোচনা বা সমালোচনা, নানা সমীকরণ ও চুলচেরা বিশ্লেষণ।

সাধারণ ভোটাররাও মাতিয়ে তুলেছেন বিভিন্ন পক্ষ, বিপক্ষ, সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে মূল্যায়ন, চুলচেরা বিশ্লেষণ। আরও চলছে, কোন ইউনিয়নে কে কে চেয়ারম্যান প্রার্থী হচ্ছেন, কে বা কারা বিভিন্ন দলের নমিনেশন পাচ্ছেন, বিশেষ করে ৫ ইউনিয়নের বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের নৌকার টিকেট কে বা কারা পাচ্ছেন, সম্ভাব্য নৌকা প্রতীক প্রাপ্তীর দৌড়ে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে কে বা কারা এগিয়ে। যেহেতু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেনা, তথাপি, বিএনপি তাদের ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন না করলেও, তাদের দলের হাইকমান্ড বা প্রতিটি উপজেলা, জেলার কর্তাব্যক্তিদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ, ঈশারা, মদদ বা ইন্ধনে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে প্রভাবিত করার খেলা কিন্তু রয়েই যাবে। কারন, বিএনপি নের্তৃত্ব নিশ্চয়ই জানেন, তৃনমূলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী রাজনৈতিক মাঠ হচ্ছে এই ইউনিয়ন পরিষদ এবং প্রতিটি ইউনিয়নে, এলাকায় রয়েছে বিএনপির একটি নির্দিষ্ট ভোট ব্যাংক।তাই তারা কোনভাবেই প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিক মাঠে ফাঁকা গোল দেবার সুযোগ হয়ত দেবে না। তারাও বিভিন্ন মোড়কে বর্তমান ক্ষমাতাসীন দলের সাথে প্রতিযোগিতায় শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যাবেন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

সদর রাজাপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ ৯টি ওয়ার্ডের সম্ভাব্য প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করে দিয়েছে। কেউ কেউ পারিবারিক বৈঠক, সামাজিক বৈঠক, সামাজিক বিভিন্ন মাধ্যমে স্বক্রীয় থেকে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করতে দেখা যাচ্ছে, আবার অনেকেই সমাজের বা নিজ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে কৌশল বিনিময় করে চলছেন, প্রার্থী হওয়া বা না হওয়া নিয়ে চুল চেরা বিশ্লেষণে বসছেন। আরও চিন্তা করছেন অত্র ওয়ার্ড বা ইউনিয়নে তার সাথে অন্য প্রতিদ্বন্দ্বী কে বা কারা হতে চলছেন, তাদের শক্তি, সামর্থ্য, জনসমর্থন, গ্রহনযোগ্যতা, ব্যক্তি ইমেজ, সামাজিক অবস্থান, অর্থনৈতিক শক্তি, শক্তির উৎস, নির্বাচনকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা, কালো টাকা, গতবার নির্বাচিত প্রতিনিধির গেল ৫ বছরের কাজের মুল্যায়ন, সাধারণ ভোটারের স্বতঃস্ফূর্ত গ্রহনযোগ্যতা, রাষ্ট্রীয় বা বিভিন্ন এনজিও, আইএনজিও বা অন্যান্য উৎস বা খাত থেকে আসা বরাদ্দ বা সেবাসমুহ যথাযথ বিলি বন্টন করেছেন কিনা, সাধারণ জনগন তাদের কাছ থেকে কতটুকু সেবা পেয়েছেন, সাধারণ ভোটার তাদের উপর আস্থাভাজন আছেন কিনা, পুরো ৫ বছর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা সাধারণ মানুষের পাশে থাকা, বিপদ আপদে কাছে পাওয়া না পাওয়া, বর্তমান প্রতিনিধির সাথে সম্ভাব্য অন্যান্য প্রতিনিধির তুলনামূলক বিশ্লেষন প্রভৃতি নিয়ে বিচার বিশ্লেষণ শুরুহয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যে।

স্বভাবতই উখিয়া উপজেলার ৫ টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪ নং রাজা পালং (উখিয়া সদর) ইউনিয়ন একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নে রয়েছেন বাঘা বাঘা নেতা, নেতৃত্ব। এই ইউনিয়ন থেকেই জাতীয় নির্বাচনে উখিয়া টেকনাফকে বারবার নেতৃত্ব প্রদান করেছেন। এই ইউনিয়ন থেকেই উখিয়া উপজেলাকে বারবার নেতৃত্ব দিয়ে এসেছেন। অত্র ইউনিয়নে দুই চৌধুরী পরিবারের অবস্থান, প্রতিটি নির্বাচনে বাড়তি আমেজ, উদ্দীপনা ও নানা বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত কতে তুলে । যুগ যুগ ধরে এই দুই পরিবার উখিয়া তথা উখিয়া টেকনাফকে নের্তৃত্ব দিয়ে আসছেন।বিশেষত দুই চৌধুরী পরিবার থেকেই স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়ে থাকে। এখানে দু’পরিবার ‘কেহ কারে নাহি ছাড়ে সমান সমান’ গতিতে এগিয়ে যায় প্রতিটি নির্বাচনী অগ্রযাত্রায়। এবারও দুই পরিবারের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। যদিওবা, অত্র ইউনিয়নের বর্তমান বহুল জনপ্রিয় চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরীর গ্রহনযোগ্যতা, ব্যক্তি ইমেজ, দুরদর্শিতা, বিগত দশ বছরের একটানা নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে ও ক্ষমতাসীন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা নেতা হিসেবে প্রভাব, প্রতিপত্তি উনাকে এগিয়ে রাখবে একধাপ। তাছাড়া এলাকার উন্নয়ন, ক্লীন ইমেজ, পারিবারিক অবস্থান, দলীয় অবস্থান সর্বোপরি গণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে এগিয়ে থাকবেন, তথাপি, সুষ্ট গ্রহনযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে সেয়ানে সেয়ানে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

তাই ৪ নং রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের দিকেই অনেকটা তাকিয়ে থাকেন উখিয়ার আপামর জনসাধারণ । তাছাড়া জালিয়া পালং ইউনিয়ন, হলদিয়া পালং ইউনিয়ন, রত্নাপালং ইউনিয়ন ও পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদেও তুমুল প্রতিযোগিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিটি ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যানের সাথে কিছু তারুণ্যনির্ভর সত্যিকারের তৃণমূলকে প্রভাবিত করতে পারা ব্যক্তিত্ব প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা নির্বাচনী আমেজকে আরও বেশি গ্রহণযোগ্য ও আগ্রহী করে তুলেছে নিঃসন্দেহে। সাধারণ জনগন তাদের মুল্যবান ভোটাধিকার প্রয়োগ করার জন্য মুখিয়ে আছেন। তারা চায় সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ গ্রহনযোগ্য একটি নির্বাচন। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে যে বা যারাই জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে আসবেন তাদেরকেই তারা সাধুবাদ জানাবেন, সাদরে গ্রহন করবেন।

সাধারন ভোটাররা রাজনীতির শত মারপ্যাচ বুঝেন না। তারা চায় উন্নয়ন, অগ্রগতি, তারা চায় দু’বেলা খেয়ে পরে পরিবার পরিজন নিয়ে সুখে কালাতিপাত করতে। তারা চায় তাদের প্রয়োজনে সাধারন জনপ্রতিনিদের কাছে পেতে, তাদের সুন্দর ব্যবহার, আচরণ ও মহানুভবতা দিয়ে তাদের প্রয়োজনে পাশে থেকে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করতে। ধন্যবাদ সবাইকে।

চলবে…


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর....