• বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
ইউপি নির্বাচন এবং সমাজে তথাকথিত ইয়াবা সংশ্লিষ্ট কোটিপতি তকমাদারীর সামাজিক অবস্থান ! ঘুংধুম আজুখাইয়ায় বাল্য বিয়ের বলী হলেন হুমায়রা নামক এক গৃহবধু উখিয়ায় ষোড়শীর বিষপান, স্ত্রীকে হাসপাতালে রেখে স্বামীর পলায়ন উখিয়ায় মুহিবুল্লাহ হত্যাকান্ড || সন্দেহজনক এক আরসা নেতা নাইক্ষ্যংছড়িতে গ্রেফতার ইউপি নির্বাচনের প্রার্থিতা নিয়ে সংঘর্ষ, নিহত ৪ অপহরণের ৪ দিন পর রোহিঙ্গা যুবক উদ্ধার উখিয়ায় মর্মান্তিক ট্রাক দুর্ঘটনায় হেল্পার নিহত, ড্রাইভার আহত মরিচ্যা চেকপোস্টে সাড়ে ৮২ হাজার ইয়াবাসহ আটক ৬ উখিয়া উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক ঘোষিত ষ্টেশন ও বাজার সম্বলিত সড়ক, মহাসড়কে সৃষ্ট যানজট নিরসনে দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি নেই । আজকের দিনে সাংবাদিক হওয়া কঠিন, বিপজ্জনক: মারিয়া রেসা

উখিয়া উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক ঘোষিত ষ্টেশন ও বাজার সম্বলিত সড়ক, মহাসড়কে সৃষ্ট যানজট নিরসনে দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি নেই ।

admin / ৪৬ মিনিট
আপডেট রবিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২১

উখিয়া উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক ঘোষিত ষ্টেশন ও বাজার সম্বলিত সড়ক, মহাসড়কে সৃষ্ট যানজট নিরসনে দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি নেই
আইকন নিউজ ডেস্কঃ 
বর্তমান বিশ্ব গতিময়, যান্ত্রিক এবং প্রগতিশীল। এই গতিময় বিশ্বের প্রতিটি দেশের উন্নতি অনেকাংশে নির্ভর করছে তার সুষ্টু যানবাহন ব্যবস্থার ওপর। সুষ্টু যানবাহন ব্যবস্থা যাতায়াত ও মালামাল আনা নেয়ার সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে। কিন্তু বাংলাদেশে বিভিন্ন কারনে যানজট সৃষ্টি হয়ে সুষ্টু যোগাযোগ ব্যবস্থা তথা সামগ্রিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায়, উখিয়া টেকনাফের সড়ক পথের কিছুটা উন্নতি সাধিত হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতূল। তাছাড়া, অত্র এলাকার জনসাধারণ কোন ব্যাপারে তেমন সচেতন নয়। অধিকন্তু আমজনতার সচেতনতার অভাবের কারনে যানজট সমাস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করে।
গত ২৩-শে সেপ্টেম্বর-২০২১ ইংরেজি তারিখে, উখিয়া উপজেলার মান্যবর নির্বাহী অফিসার, জনাব নিজাম উদ্দিন আহমেদ, উখিয়া উপজেলায় বিভিন্ন ষ্টেশন, বাজার ও মহাসড়কে সৃষ্ট যানজট নিরসনকল্পে সাংবাদিক, পেশাজীবি, বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি, সচেতন নাগরিক সমাজ, রিক্সা, টমটম, সিএনজি মালিক সমিতির প্রতিনিধি, বাজার ইজারাগ্রহীতা ও সচেতন নাগরিক সমাজকে সাথে নিয়ে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছিলেন । সবার সম্মীলিত প্রয়াসে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সড়ক, মহাসড়ক, ষ্টেশন ও বাজার যানজট মুক্ত করে সুন্দর উখিয়া বিনির্মাণ করার ঘোষনা ছিল। এখানে প্রসংগত উল্লেখযোগ্য যে, ২০১৭ সালের ২৫ শে আগষ্ট, পার্শ্ববর্তী দেশ মায়ানমার থেকে জোরপূর্বক চলে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্টীর আবাসস্থল উখিয়া টেকনাফের ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অবস্থান, যেখানে প্রায় ১৪ লক্ষ রোহিঙ্গাসহ স্থানীয় উখিয়া টেকনাফের প্রায় ৭ লক্ষ জনসংখ্যার চাপে উক্ত সড়ক, মহাসড়ক, বাজার, ষ্টেশন প্রায় পর্যুদস্থ ।রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তাদের সেবায় নিয়োজিত অসংখ্য বিভিন্ন শ্রেণির গাড়ি, খাদ্য, অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য আসা যাওয়ায় প্রায়সময় ন্যস্ত থাকে অসংখ্য ট্রান্সফোর্ট। উখিয়া ইউএনও সাহেব নোটিশ করে যানজট নিরসনকল্পে সকল সচেতন নাগরিকের মতামত আহবান করেছিলেন। অনেকেই তাদের মুল্যবান মতামত বা সুপারিশ তুলে ধরেছিলেন । আমিও নিম্নলিখিত সুপারিশ উপস্থাপন করে যানজট মুক্ত উখিয়া দেখতে চেয়েছিলাম। যেমনঃ
০১। অবৈধ, অনিবন্ধিত গাড়ি নিবন্ধনের আওতায় এনে গাড়ি ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা করা।
০২। স্ট্যান্ডের ব্যবস্থা করা । বিশেষ করে, টমটম, ব্যাটারি চালিত রিক্সা ও অটো রিক্সার জন্য আলাদা স্ট্যান্ডের ব্যবস্থা করা।
০৩। যত্রতত্র বিক্ষিপ্তভাবে গাড়ি রাখার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করা ।
০৪। উখিয়া ষ্টেশনের উভয় পাশে অবৈধভাবে গড়ে উঠা বাজার, তরিতরকারি, ফলমুল ও অন্যান্য হকার টাইপের দোকানগুলো বন্ধ করা।
০৫। রাস্তায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক ট্রাফিক পুলিশের ডেপ্লয়মেন্ট করা।
০৬। লাইসেন্স ও ট্রেইনিংবিহীন , অপ্রাপ্ত বয়স্ক, শিশু দ্বারা যে কোন প্রকার গাড়ি চালানো বন্ধ করা।
০৭। টমটম, ব্যাটারিচালিত রিক্সা, অটোরিক্সা থেকে অবৈধভাবে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা তোলা বা চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্রদক্ষেপ গ্রহন করা।
০৮। বিশেষ বাহিনীকে মাসিক মাসোহারা প্রদান বন্ধ করা। সরকার দলীয় বা বিভিন্ন দলীয় মোড়কে যানবাহন থেকে চাঁদাবাজি বন্ধ করা।
০৯। উখিয়া ষ্টেশনের মধ্যখানে ডিভাইডার দিয়ে ওয়ান ওয়ে রাস্তা করা। প্রয়োজনে দুরপাল্লার গাড়ি ও লোকাল গাড়ির লাইন আলাদা করা।
১০। সর্বোপরি হাইওয়ে পুলিশের তদারকি বৃদ্ধি করে, দেশে প্রচলিত আইনের প্রয়োগ করা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও হাইওয়ে পুলিশকে যথাযথ জবাবদিহীতার আওতায় আনা। জনসাধারনকে দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি দায়িত্ব, কর্তব্য ও আইন মানা, অনুসরন করার ব্যাপারে পথ সভা, সমাবেশ, লিফলেট, পোস্টার, মাইকিং, শোভাযাত্রাসহ বিভিন্ন প্রচার প্রচারনা বৃদ্ধি করা। সাথে আইন অমান্যকারীদের যথাযথ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করাসহ উপজেলা ও থানা প্রশাসনকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হবে।
কিন্তু বিধিবাম, উক্ত যানজট নিরসনকল্পে নিয়োজিত কোন পক্ষই তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি। ‘যে লাউ সেই কদু’ হিসেবে যানজট লেগেই আছে। দু’একদিন উখিয়া থানার ওসি সাহেব ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাহেব চেষ্টা করেছিলেন বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ণ পয়েন্টে বিশেষ করে, উখিয়া সদর, কোর্ট বাজার, মরিচ্যা ও কুতুপালং বাজারের হাইওয়ে তে অবৈধভাবে বসানো বাজার, হকারকে তুলে দিয়ে, অটোরিক্সা, টমটম, সিএনজি ও অন্যান্য গাড়িকে সুবিন্যস্তভাবে সাজিয়ে রেখে মুল সড়কে যানচলাচলে গতি ফিরিয়ে আনতে। কিন্তু সপ্তাহ যেতে না যেতেই সেই পুরনো চিত্র ফুটে উঠেছে। আমরা জানি, উপজেলা ও থানা প্রশাসনের চেষ্টা ও কর্তব্যের বিন্দু পরিমান কমতি নেই। কিন্তু আমজনতা যতদিন সচেতন হবেন না, যানজট নিরসনে এগিয়ে আসবেন না, কোনদিনই প্রশাসন একার পক্ষে উক্ত জটিল কর্মযজ্ঞ সম্পাদন করা কোনভাবেই সম্ভবপর নয়। অধিকন্তু উল্লেখিত জনগুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টসমূহে কোনপ্রকার স্ট্যান্ড নেই, নেই গাড়ি রাখার কোন প্রকার ব্যবস্থা। সড়কগুলো অবৈধ হকার ও বিভিন্ন আউটলেটের দখলে। যারা বাজার ইজারা নিয়েছেন, তারা সরকারি দলের মদদে নিযুক্ত সিন্ডিকেট হওয়াতে অনেকটা শক্তিশালী। তারা সবসময় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে অভ্যস্ত নয়। তাছাড়া অনেকের মতে, প্রশাসনও বিভিন্ন কারনে গা সহা হয়ে যায়! তাই শত উদ্দ্যোগ নিয়েও কার্যকর কোন ফলভোগ করতে পারছেন না।
গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে দুপুর আবার বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত উখিয়া সদর, কোটবাজার, মরিচ্যা, কুতুপালং সহ বড় সড়ক ও বড় বাজার এলাকায় যানজট লেগেই থাকে। মাঝে মধ্যে উখিয়া সদরের উপজেলা গেট থেকে নিউ ফরেস্ট অফিস পর্যন্ত প্রায় দেড় কিঃমিটার পথ যানজটে নাকাল। আবার কোট বাজারের পুর্বের ঝাঊতলা থেকে, পশ্চিমের ব্রীজ পর্যন্ত দুই কিঃমিটার পথা যানজটে আবদ্ধা থাকে। ঐদিকে কুতুপালং এর কচুবনিয়া রাস্তার মাথা থেকে জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরীর পেট্রোল পাম্প পর্যন্ত প্রায় এক কিঃমিটার পথ যানজটে আবদ্ধ দেখা গেছে। উখিয়া ও কোট বাজার এলাকায় যানজটের কবলে পড়লে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয় সাধারণ মানুষকে । এতে করে যেমন কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, ঠিক তেমনি ব্যাঘাত ঘটছে মানুষের নিত্য নৈমত্তিক কর্মকান্ডে। তাছাড়া কোন জরুরী প্রয়োজনে অসুস্থ রোগী, ডেলিভারী কেইস জাতীয় গুরুত্বপুর্ণ মুহুর্তে মানুষকে চরম বেকায়দায় পড়তে হয়। উখিয়ার সত্তোরোর্ধ হাজি আবদুর রহমান বলেন, ছোট্ট এই উখিয়া সদরে রাস্তার তুলনায় অতিরিক্ত টমটম আর রিকশা সংখ্যা বেড়ে গেছে। তার সাথে যোগ হয়েছে সিএনজি, মাইক্রো, সী-লাইনসহ বিভিন্ন প্রকার যানবাহনের চলাচলের সংখ্যা। ফলে যানজটের মাত্রা তীব্র আকার ধারণ করেছে। যানজটের মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে-লাইসেন্স বিহীন রিকশা ও টমটমের ছড়াছড়ি।
উখিয়া সদর, কোর্টবাজার, মরিচ্যা ও কুতুপালং ষ্টেশন যানজট মুক্ত করার ঘোষনা ছিল। গত কাল বৃহস্পতিবার। বিকেল তিনটা থেকে প্রায় সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত উখিয়া উত্তর ষ্টেশন অর্থাৎ উখিয়া মডেল প্রাইমারী স্কুল উত্তর থেকে দক্ষিন থেকে প্রায় নিউ ফরেস্ট রোড হয়ে ফুডিস পর্যন্ত প্রায় দু’ কিলিমিটার দীর্ঘ সাড়ে তিন ঘন্টা যানজটে ছিল। এ সময়ে কোন ট্রাফিক পুলিশ তো চোখে পড়েনি, অধিকন্তু হাইওয়েসহ অন্য কোন পুলিশও’ তেমন দেখা যায়নি। রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ফিরছে শত শত এনজিও, আইএনজিও ও অন্যান্য সেবা সংস্থার কর্মীরা। রাস্তার উভয় লেনেই যানজটে নাকাল হয়ে গাড়ি আটকা পড়েছে দীর্ঘ কিউ-তে। ষ্টেশনের উভয় পাশ প্রায় ৬০ ফিট একুয়ারে নিয়ে আসার পরেও সিএনজি, টমটম, ব্যাটারীচালিত রিক্সা, কায়িক শ্রমে চালিত রিকসাসহ রাস্তার উভয় পাশে ভ্রাম্যমান হকার, ফলবিক্রেতা, সবজি বিক্রেতা, মাছ বিক্রেতা, মৌসুমী ফল বিক্রেতা, কাষ্টমারসমেত শত শত মানুষ কেনা কাটায় ব্যস্ত।

রোড যে ঘন্টার পর ঘন্টা যানজটে নাকাল সেদিকে তাদের কারও ভ্রুক্ষেপ নেই অধিকন্তু যানজট নিরসনে নিয়োজিত কোন পুলিশের অস্তিত্ব চোখে পড়েনি। তাই বহুমুখী যানবাহনে উখিয়া সদর ষ্টেশনসহ অন্যান্য ষ্টেশন ও বাজার সমুহ যেন ‘ডালে,-চালে খিসুড়ি’ অবস্থা।
এ যানজটের মুল কারণ হচ্ছে অবৈধ সিএনজি, টমটম, ব্যাটারিচালিত রিক্সা ও লাইসেন্স বিহীন, প্রশিক্ষনবিহীন, প্রায় অর্ধেক অপ্রাপ্ত ড্রাইভারের দৌরাত্ম। ঐসব আনাড়ি চালকরা যেখানে সেখানে, যেন তেনভাবে গাড়ি রাখা, চলাফেরার কারনে বহুমুখী জ্যামের সৃষ্টি হয়। থানা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও যথাযথ কর্তৃপক্ষ খিসুড়ি সমেত যানবাহনের নিয়ন্ত্রন করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। প্রশাসন ও যথাযথ কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে প্রতিদিন উখিয়ার সাধারন মানুষ যানজটের গ্যাঁড়াকলে পতিত হতে বাধ্য হবে।তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ত্বড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহনের আহবান জানাচ্ছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর....