• রবিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২২, ১০:৩৫ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
নারী চিকিৎসককে গলা কেটে হত্যা, কথিত প্রেমিক কক্সবাজারের রেজা চট্টগ্রামে আটক ভোটার প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গা অধ্যুষিত সীমান্ত এলাকার জন্য ইসি সচিবালয় কর্তৃক ঘোষিত নির্দেশিকা। কক্সবাজার জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইন চার্জ মনোনীত হয়েছেন’ উখিয়া থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী নাদিম আবাসিক হোটেলে মিলল এক নারী চিকিৎসকের গলাকাটা লাশ, কথিত স্বামী পলাতক। বনের জন্য কক্সবাজার হবে মডেল জেলা-প্রধান বনসংরক্ষক কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলিতে হেড মাঝিসহ ০২জন নিহত। আর্থিক খাতে লুটপাটের দায় জনগণ শোধ করবে কেন? মাদক ও ইয়াবার বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত রেখে তরুণ সমাজকে রক্ষা করুণ । কক্সবাজার জেলা বিএমএসএফ এর জরুরী সভা অনুষ্ঠিত উখিয়া স্পেশালাইজড হসপিটাল এ জনপদের চাহিদা, আশা-আকাঙ্ক্ষা পুরণে সক্ষম? নাকি শুধুই গতানুগতিক!

উখিয়ায় ষোড়শীর বিষপান, স্ত্রীকে হাসপাতালে রেখে স্বামীর পলায়ন

AnonymousFox_bwo / ৩০৩ মিনিট
আপডেট রবিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২১

আইকন নিউজ ডেস্কঃ 

কক্সবাজারের উখিয়ায় শ্বশুর বাড়িরমানুষের নির্যাতনে অতীষ্ট হয়ে বিষপান করা স্ত্রীর লাশ হাসপাতালে রেখে পালিয়ে গেছে স্বামী। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার জন্ম উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের তেলখোলা এলাকায়। গত ১৬ অক্টোবর(শনিবার) বিকাল ৪টা নাগাদ উক্ত আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে বলে জানা গেছে।

নিহতের পৈত্রিক পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়,বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের উত্তর ঘুমধুম আজুখাইয়া গ্রামের মোঃ আলী মাহাদুর ষোড়শী কন্যা হুমায়রা বেগম (১৬) সাথে, উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের তেলখোলা গ্রামের সোলতান আহমদের ছেলে মো.আবদুল্লাহ’র(২২) এর ইসলামী শরীয়াহ মতে সামাজিক ও পারিবারিক ভাবে গত সাড়ে ৩ মাস পূর্বে আনুষ্ঠানিক বিয়ে সম্পন্ন হয়।

বিয়ের কয়েকদিন পর স্বামী আবদুল্লাহ ও তার পরিবারের লোকজন যৌতুক দাবী সহ নানা বিষয়ে শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন করা শুরু করে দেয় এবং কথায়-কথায় নানাভআবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত হুমায়রা বেগম কে।  এতদিন ভবিষ্যৎ সুখের আশায়, হুমায়রা স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজনের নির্যাতন নিরবে সহ্য করে আসছিল। স্বামীর পরিবারের নির্যাতনের কথা হুমায়রা তার মাতাকে শেয়ার করতো, কিন্তু বাবা কে না বলার জন্য বারণ করতো।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২/৩ দিন পূর্বেও স্বামী আবদুল্লাহ হুমায়রা কে দফায়-দফায় দুই-তিন বার মারধর করে বলে সে তার মাতাকে জানিয়েছিল।স্বামী আবদুল্লাহর ও শ্বশুর বাড়ির লোকজনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন থেকে পরিত্রাণ পেতে গত ১৬ অক্টোবর (শনিবার) বিকেলে বিষপান করলে তাৎক্ষনিক তাকে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতাল,পরে উখিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।অবস্থা বেগতিক দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক হুমায়রাকে চিকিৎসা দিলেও সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। স্ত্রী হুমায়রা বেগম মারা গেছে, জানতে পেরে মুহুর্তেই হাসপাতালে স্ত্রীর লাশ রেখে স্বামী আবদুল্লাহ পালিয়ে যায়।

এরপর লাশের ময়নাতদন্ত শেষে হুমায়রার মৃতদেহ পৈত্রিক বাড়ি ঘুমধুমের আজুখাইয়া গ্রামে নিয়ে আসে।
সন্ধ্যায় তার দাফন কার্য সম্পন্ন হয়।হুমায়রার এমন মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেনা।বাবা-মা,ভাই-বোন আত্নীয়স্বজন ও পড়শীদের ক্রন্দনে আজুখাইয়া এলাকার আকাশ বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।

নিহত হুমায়রা বেগমের পিতা মো. আলী মাহাদু জানান,আমার মেয়ে হুমায়রা শ্বশুর বাড়িতে নির্যাতনের শিকার, তাকে মেরে বিষপান করিয়েছে কিনা সন্দেহ রয়েছে অথবা আমার মেয়ে হুমায়রা স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির  নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বিষপান করতে পারে এমন ধারণাও তিনি করেন। মাহাদু আরও জানান,চিকিৎসা কালীন সময়ে হুমায়রা বেগমের স্বামী পাশে থাকলেও মারা যাবার পরপরই আবদুল্লাহ পালিয়ে যায়।এ ঘটনায় মামলা দায়ের করবেন বলেও তিনি জানান।
ঘুমধুম ইউপি’র আজুখাইয়া গ্রামের স্থানীয় মেম্বার আবুল কালাম জানান,হুমায়রা বেগম শান্ত স্বভাবের ভাল মেয়ে ছিল,তাকে স্বামী নির্যাতন করাই অপমানে- ক্ষিপ্ত হয়ে বিষপাব করেছে,তার শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও শুনেছি।

উখিয়া থানার ওসি তদন্ত গাজী সালাহ উদ্দিনের নিকট এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে,তিনি বলেন,আমার জানা নেই, আপনার থেকে শুনলাম। কোন অভিযোগও আসেনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর....