• বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০৬:২৭ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
কক্সবাজার বিমানবন্দরে গরুর সাথে বিমানের সংঘর্ষ, ২ গরু নিহত উখিয়ার হলদিয়ায় ইমরুল কায়েস চৌধুরী বিপুল ভোটের ব্যবধানে চেয়ারম্যান নির্বাচিত নাইক্ষ্যংছড়ি হাজী এম এ কালাম সরকারি পরীক্ষার্থী দের বিদায় ও দোয়া অনুষ্ঠান সম্পন্ন। নেত্রকোণায় ইউপি’তে পরাজয়ের একদিন পরই চেয়ারম্যান প্রার্থীর মৃত্যু উখিয়ার মুবিন স্থানীয় পত্রিকা থেকে পেলেন পদন্নোতি এবং বেস্ট কো- অপারেশন সম্মাননা টেকনাফে র‍্যাবের সাথে চোরাকারবারির ‘বন্দুক যুদ্ধে’ নিহত ০২ : একটি সড়ক দূর্ঘটনা,যেন (একটি পরিবারের) সারা জীবনের কান্না ! হতাশ হবেন না, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথেই আছেন যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে এখন শীর্ষ ধনী চীন!

ইউপি নির্বাচন এবং সমাজে তথাকথিত ইয়াবা সংশ্লিষ্ট কোটিপতি তকমাদারীর সামাজিক অবস্থান !

admin / ১১৪ মিনিট
আপডেট মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২১

এম আর আয়াজ রবি।

বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে মায়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায়, উখিয়া- টেকনাফ বর্তমানে ইয়াবা কারবারীর নিরাপদ জোন ও ট্রান্সজিট পয়েন্ট এবং রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে দেশে ও সারাবিশ্বে বহুল আলোচিত ও সমালোচিত! ইয়াবা ছোট একটি ট্যাবলেটের নাম। ইয়াবার মূল শব্দ থাই থেকে উৎপত্তি। সংক্ষিপ্ত অর্থ পাগলা ঔষধ। ইয়াবা সেবন একটি মারাত্মক নেশা ! এটি একটি আবদ্ধ চক্রও বটে ! এটির এত ভয়ানক ক্ষমতা-যে কোন মানুষ, পরিবার, সমাজ, দেশ এবং জাতি ধ্বংস করে দিতে পারে নিমিষেই। এটম বোমার চেয়েও বেশী শক্তিশালী এই মরণ নেশা ইয়াবার আগ্রাসন !

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ক্লান্তি দূর করতে ও ঘুম থেকে সজাগ থাকতে সেনাদের মধ্যে জনপ্রিয় ছিল মেথঅ্যামফিটামিন । সেনারা তা সেবন করে হিংশ্র আগ্রাসি ক্লান্তিহীনও হতো। একসময় হেরোইন ড্রাগ ব্যবসার ক্ষেত্রে ‘গোল্ডেন ট্রাই এঙ্গেল’ নামে যে তিনটি দেশের নাম পরিচিত ছিল তা হচ্ছে মিয়ানমার, থাইল্যান্ড ও লাওস, এখনও সেই দেশগুলোর চোরাচালানে খুবই পরিচিতি রয়েছে। ইয়াবার ক্ষেত্রেও তথৈবচ।

ইয়াবা সবচেয়ে বেশী উৎপন্ন হয় মিয়ানমারে। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় নাফ নদীর কাছে ৩৭টি ইয়াবার কারখানা তৈরী করেছে মিয়ানমার। উদ্দেশ্য পরিস্কার। নিশ্চয়ই তারা বুঝতে পেরেছে, ইয়াবার নিরাপদ রোড হিসেবে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট। দীর্ঘ সময় সামরিক জান্তা ক্ষমতায় থাকার কারণে মায়ানমারে ইয়াবার ব্যবসা খুবই জমজমাট। আর সীমান্তবর্তী হওয়াতে এই ইয়াবা খুব সহজে চলে আসে বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডে। তবে থাইল্যান্ডের কিছু অঞ্চলে ইয়াবা উৎপন্ন হয়। কিন্তু বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয় এখন! বাংলাদেশেও বিভিন্ন সময়ে ইয়াবা কারখানার সন্ধান পাওয়ার খবর পাওয়া যায়।
আমাদের দেশে ইয়াবার একটা চড়া বাজার থাকায়, ইয়াবা পাচারের বিভিন্ন রোড ম্যাপ এবং ট্রান্সজেকশন পয়েন্টও পাওয়া যায়। সারা দেশে বিভিন্ন সময়ে প্রশাসন ও বিভিন্ন আইন শৃংখলা বাহিনী ইয়াবার চালান আটক করার খবরাখবর পাওয়া যায়। কালে ভদ্রে ইয়াবা চোরাকারবারের সাথে আইন শৃংখলা বাহিনীর হাতে যা ধরা পড়ছে তা নিতান্ত স্বল্প এবং যারা ধরা পড়ছেন তারাও নিতান্ত নস্যি, চুনি পুটি মাত্র ! রাজনৈতিক পরিচয়ে ও বিভিন্ন কুটকৌশলের ছদ্মাবরনে ইয়াবার মুল কুশীলব বা গড ফাদাররা থাকেন ধরা ছোঁয়ার একবারে বাইরে! পরিসংখ্যানে প্রকাশ, প্রশাসনের নির্লিপ্ততা ও প্রশাসনের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা জড়িত থাকার কারণে দেশে চোরাচালানে আসা মাদক দ্রব্যের ১০ শতাংশ মাত্র উদ্ধার করা হয়। ৯০ শতাংশ ইয়াবা থেকে যায় ধরাছোয়ার বাইর, প্রশাসনের অগোচরে !

বিদ্যমান সমাজ ব্যবস্থায় বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকা উখিয়া টেকনাফের অনেক বড় বড় নেতা, রথি-মহারথি, জনপ্রতিনিধি, জনসেবক, সমাজ সেবক, ব্যবসায়ী, কন্ট্রাকটরসহ সমাজের তথাকথিত মুখোশ পরা ভদ্র লোক, যাদের বৈধ, অবৈধ কাঁচা পয়সার গরমে আমজনতা মারাত্মক নাজেহাল অবস্থায়, কষ্টে ও অস্বস্তিতে থাকেন। এই মুখোশ পরা ভদ্রলোকগুলো কর্তৃক সন্ত্রাসী, চাদাবাজি, অপহরণ, হত্যা, গুম,খুন, রাহাজানি, অবৈধ জমি দখল,ধর্ষণ, লুটতরাজসহ হেন অপরাধ নেই সমাজে তারা করেনা বা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তারা জড়িত থাকেনা।

দেশব্যাপী দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচন চলছে। গত মাসে টেকনাফের চারটি ইউনিয়নে নির্বাচন হলেও, উখিয়া উপজেলায় ইউপি নির্বাচন আগামী ১১-নভেম্বর-২০২১ তারিখে অনুষ্টিত হতে যাচ্ছে। উখিয়ার ৫ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রায় ৩৬জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। সংরক্ষিত মহিলা আসনে ৫৭জন এবং সাধারন মেম্বার পদে ২৯৯জন মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। ক্ষমতাসীন দলের প্রতীক নৌকার মনোনয়ন ইতিমধ্যে ঘোষনা করা হয়েছে। দেশের অন্যতম বৃহৎ বিরোধীদল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নির্বাচন বর্জন ঘোষনার পরিপ্রেক্ষিতে ধানের শীষ প্রতীকে কেহ নির্বাচন না করার সুবাধে অনেকেই স্বতন্ত্র প্রতীকে নির্বাচন করছেন। প্রার্থীদের মধ্যে অনেকেই বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত। অনেকেই ইয়াবার সাথে সরাসরি জড়িত-গড ফাদার, পৃষ্টপোষক, বিনিয়োগকারী, সরবরাহকারী, ইয়াবার আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীতা ঘোষণা করেছে। প্রশাসনসহ বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরদারী বা কালো তালিকাভুক্ত থাকার পরেও অনেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করছে যা খুবই অপমানজনক ও দুঃখজনকও বটে। রাষ্ট্রীয় আইনে ইয়াবা কারবারী, পৃষ্টপোষক বা ইয়াবা বা মাদক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রার্থী হতে অযোগ্যতা প্রকাশ করলে আজকে ইউপি নির্বাচনে এত সংখ্যক কারবারী প্রার্থী হতে সক্ষম হতেন না।

সমাজে এমন কিছু মানুষ আছে যারা রাতারাতি আংগুল ফুলে কলাগাছ নয় বড় সড় বটগাছে পরিনত হয়ে গেছে! তারা এই অল্প কিছু দিন আগেও দিনে এনে দিনে খেতে পারতনা! এমন অনেক তথাকথিত কোটিপতি চোখে পড়ে, যারা রিক্সা চালাত, বিভিন্ন বাড়িতে রাখাল বা দিনমজুরের কাজ করত ! পড়ালেখার বালাই নেই, অনেকে মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল-কলেজের ধারে কাছে যাবার ও সুযোগ হয়নি! আবার অনেকেই আছে প্রাইমারী স্কুলের গন্ডি পার হতে পারেনি! আর কিছু আছে আন্ডার মেট্রিক! একসময় তারা খুব কষ্ট করে কালাতিপাত করতে সাধারন মানুষের চোখের দেখা। আজ তারা কিভাবে, এত অল্প সময়ে, কোন আলাউদ্দিনের চেরাগের হদিস পেয়েছে যে, রাতারাতি কোটিপতি হয়ে গেল?সমাজ সচেতন প্রত্যেকি জানেন সেই চেরাগ বা সোনার চামচ আসলেই কি যার বদৌলতে রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন!

‘র‍্যাশনাল পিপলস’ এর মনে প্রশ্ন জাগে, সরকারী যথাযথ কোন কর্তৃপক্ষ কোন দিন সেসব অবৈধ কারবারের সাথে যারা জড়িত আছেন, তাদের জিজ্ঞেস করেছেন-আসলেই তারা কি করেন? কি তাদের ব্যবসা? কি তাদের টাকার বানানোর আয়ের উৎস বা কিবা তাদের সোর্স অব ইনকাম? তারা সরকারকে কত টাকা আইকর, ট্যাক্স বা ভ্যাট প্রদান করেন ? কি অবস্থা তাদের ব্যক্তি রিটার্ণ দাখিলার ? কি তাদের ব্যক্তি প্রোফাইল ও আইডেন্টিটি? কিভাবে তারা রাতারাতি এত টাকার মালিক হল? কারা তাদের গড ফাদার? কাদের হাত ধরে তারা এত এত অপরাধ করে যাচ্ছে? কারা তাদেরকে শেল্টার দিচ্ছে? কারা তাদেরকে পৃষ্টপোষকতা দিচ্ছে? কারা কারা সেই বিভিন্ন অবৈধ কাজের বেনিফিসিয়ারী? এসব প্রশ্নের ‘লা জবাব’ অবস্থা আমাদের আইন শৃংখলা বাহিনী ও অন্যান্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে।
যতদিন দেশের মানুষ সচেতন হবেন না, সেসব অবৈধ হারাম আয়ের উৎস বন্ধ করবেন না, আইন শৃংখলা ও সরকারের অন্যান্য বাহিনী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবেন না-এই মরণ নেশা ইয়াবার ব্যবসা বন্ধ হবেনা। বিভিন্ন সময়ে অনুষ্টিত মাদকবিরোধী অভিযানে কোনো ইয়াবা গডফাদার বা মূল ব্যবসায়ীদের কেউ গ্রেপ্তার হয়না ৷ আর যারা বিভিন্ন সময়ে আত্মসমর্পণ করেছেন তাদের মধ্যে আসল কুশিলব বা গডফাদাররা নেই বা থাকেন না ৷ যারা বিভিন্ন সময়ে ধরা পড়ে, তারা মূলত ক্যারিয়ার বা বাহক ৷ ফলে ইয়াবার মূল ব্যবসায়ীরা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে গেছে দিনের পর দিন ৷ তারা রাজনৈতিক বা অন্য কোনো পরিচয়ে বলতে গেলে প্রকাশ্যেই থাকে ৷ ফলে, পরে ক্যারিয়ার বা বাহক হিসেবে নতুন নতুন লোক নিযুক্ত করে অবাধে এই অবৈধ কারবার চালিয়ে যতে কোন বেগ পেতে হয়না ৷ বিভিন্ন সময় কৌশলে পরিবর্তন হয়েছে, রুট বদলেছে কিন্তু ইয়াবা ব্যবসার কোন কমতি ঘটেনা বা পরিবর্তন চোখে পড়েনা ৷ মরণ নেশা ইয়াবা কারবারের কোন হ্রাস ঘটেনি বরং দিন দিন ইয়াবা পাচারের মাধ্যম, রোড, ট্রানজিট পয়েন্টের পরিবর্তন ঘটেছে।

মাঝেমধ্যে কিছু কিছু ইয়াবা কারবারী ধরা পড়লেও আসল কুশিলবরা সব সময় থাকে নিরাপদ দুরত্বে ও ধরা ছোঁয়ার বাইরে! এসব ইয়াবা গড ফাদারদের হাত এত বেশি চওড়া,এত বেশি প্রভাবশালী নিজেদের মনে করে, শত ঝড় ঝঞ্জাটেও তারা বিভিন্ন খোলস বদল করে ঠিকই সুরক্ষিত থাকে প্রশাসনের নাকের ডগায়!

প্রশাসনকে তারা ম্যানেজ করে চলে বলে ধরাকে সরা জ্ঞান করে গোপন নেটওয়ার্কে আপন গতিতে ব্যবসা চালিয়ে যেতে কোনপ্রকার বাঁধার সম্মুখীন হচ্ছেনা। প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে ওরা ম্যানেজ করে চলে বলে অনেকেই প্রকাশ করেছেন। প্রশাসনের অনেক কর্মচারী,কর্মকর্তা চোরাকারবারীদের সাথে আঁতাত করে উভয় পক্ষ ব্যবসা চালিয়ে কাড়ি কাড়ি পয়সা অবৈধভাবে অর্জন করার সুযোগ লুপে নেয় পক্ষান্তরে দেশের বারটা বাজিয়ে ছাড়ে! বাংলাদেশ সরকারের পুলিশ প্রশাসন, বিভিন্ন ইন্টিলিজেন্স টিম বা ইন্সটিটিউট এসব গড ফাদার কারা, কি তাদের পরিচিতি, তাদের আস্তানা বা ঢেরা কোথায়, কোন কোন সোর্সে তাদের কার্যাবলী সম্পন্ন করা হচ্ছে, তাদের অবৈধ কারবার কিভাবে, কোন পথে, কোথায় গিয়ে ট্রানজেকশন করছে, কারা কারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত- সব কিছু তাদের নক দর্পণে জানা আছে ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দফতরে অনেক কুশিলবের নামের তালিকাও সংরক্ষিত আছে। কিন্তু মাদকের বিরুদ্ধে কম্বিং অভিযান চালিয়ে এসব চোরাকারবারীদের নেটওয়ার্ক ও বিষদাঁত চিরতরে ভেংগে না দিতে পারলে আমরা যতই বলিনা জাত গেল জাত গেল, কিন্তু সফলতার মুখ দেখবে না এ জাতি।

ইতিমধ্যে টেকনাফে অনেক চোরাকারবারী ও গড ফাদার আত্মসমর্পণ করেছে এবং অনেকেই কথিত বন্দুক যুদ্ধে মারাও পড়েছে। কিন্তু বিধিবাম! উখিয়ার চিহ্নিত চোরাকারবারীরা রয়ে গেছে বহাল তবিয়তে। সাথে নিরাপত্তা বেষ্টনীতে থেকে যাচ্ছে উখিয়ার ইয়াবা কারবারীদের কুশিলব এবং গড ফাদাররা !

বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন ও বিক্ষিপ্ত ভাবে উখিয়া টেকনাফের চোরাকারবারীরা বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ইয়াবা চালান নিয়ে ধরা পড়ার খবরাখবর পত্র পত্রিকায় চোখে পড়ে। এই যেমন আজ ১৪-জুলাই-২০২০ তারিখ বালুখালী গ্রামের নুরুল আবসার নামক একজন পটিয়া থানায় প্রায় ৪ হাজার ইয়াবা নিয়ে আইন শৃংখলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়েছে। আবার উখিয়ার বালুখালী থেকে পালংখালী ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের মেম্বার ও প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুল আবছার চৌধুরী ও নুরুল আলম চৌধুরী নামক দু’ব্যক্তিকে র‍্যাব কর্তৃক প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার ইয়াবার চালান, আরও কিছু চেক, কাগজ পত্র, ডীড পেপারসহ হাতে নাতে ধরার খবর বিভিন্ন পত্রপ্ত্রিকায় পাওয়া যায়। অবশ্য কিছু পত্রিকায় বিরোধী পক্ষের ষড়যন্ত্রের শিকার বলেও প্রকাশিত হয়। মাঝেমধ্যে এরুপ কিছু কিছু চুনাপুটি আইন শৃংখলা বাহিনীর জালে ধরাশায়ী হলেও পালের গোদারা থাকেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে, লোক চক্ষুর অন্তরালে!
মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রগুলোর জরিপে উঠে এসেছে বিভিন্ন পরিসংখ্যান। তারা বলেছেন,’ মরণ নেশা ইয়াবায় সয়লাব সারা দেশ। দেশে গত পাঁচ বছরে মাদকদ্রব্য ইয়াবা পাচার ও ব্যবহার বেড়েছে ৮১ গুণ। একই সময়ে দেশে ইয়াবা আটকের পরিমাণ বেড়েছে ৫০ গুণ। মাদক সেবনকারী তরুণদের একটি বড় অংশের কাছে এখন সবচেয়ে বেশি চাহিদা ইয়াবার। আসক্তির দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে হেরোইন। তবে প্রথম স্থানে অবস্থানকারী মরণ নেশা ইয়াবার সাথে তার যোজন ব্যবধান। মাদকাসক্তদের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ইয়াবায় আসক্ত। তৃতীয় স্থানে আছে গাঁজা, চতুর্থ স্থানে ফেনসিডিল’।
বছর কয়েক ধরে ইয়াবা যেভাবে মহামারী রূপ নিয়েছে তাতে বিশেষজ্ঞদের মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশী অভিযানের পাশাপাশি ইয়াবার কুফল সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে। এটা প্রতিরোধ করা না গেলে তরুণ প্রজন্ম শেষ হয়ে যাবে। আজ যারা ইয়াবাসেবী, তাদের একটি নির্দিষ্ট অংশকে ইয়াবা সেবনের টোপ দিয়ে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে এ মরণঘাতী নেশা। তারাই পরবর্তীতে বিক্রেতা হিসেবে কাজ করছে সিন্ডিকেটের হয়ে।

সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারন জনগন মারাত্মক হীনমন্যতায় দিনাতিপাত করছেন। কারন,বিভিন্ন অবৈধ উপায়ে উপার্জনকারীদের টাকার গরমে যারা সৎ পথে, বৈধ উপায়ে, কষ্ট করে উপার্জন করছে তাদেরকে মানুষ নয় একটা ক্ষুদ্র পিঁপড়া হিসেবেও গন্য করছেন না! সমাজে তথাকথিত ইয়াবা ব্যবসায়ীসহ এসব অপাংত্তেয় লোকদের ক্ষমতার এতই দাপট সবখানে তিলকে তাল করে- টাকা ও ক্ষমতার গরম দেখায়! কথায় কথায় বিভিন্ন বিষয়ে হুমকি,ধামকি, থানা পুলিশের ভয় দেখায়!সাধারন জনগনের মনে প্রশ্ন জাগে- এসব উচ্ছ্রিষ্ট নর্দমার কীটরা সমাজে এত স্পর্ধা দেখাবার সাহস কেমনে পায়? কি তাদের আত্ম পরিচয়?

কিছু জনপ্রতিনিধি নামধারী সমাজ সেবার নামে সমাজ শোষক তাদেরকে পর্দার অন্তরালে কলকাঠি নেড়ে যাচ্ছে বলে ভূক্তভোগীদের অভিযোগ রয়েছে! তারা সব সময় ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকেন। আমরা চাইব এসব চুনিপুঁটির সাথে যেসব রুই, কাতলা ও রাঘব বোয়ালরা বিভিন্নভাবে জড়িত, তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে এসে কঠোরতম শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। নচেৎ কিছু কিছু লোক অবৈধভাবে উপার্জিত টাকা পয়সার গরম, আত্মগৌরব ও বিভিন্ন বিষয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপের কারনে সমাজ ব্যবস্থার উপর শ্রেণি বৈষম্য ও আয় বৈষম্য সৃষ্টি হয়ে অন্যায়কারীরা, সংখ্যাগরিষ্ট সাধারন মানুষের উপর জগদ্দল পাথর হয়ে চেপে বসবে।
প্রশাসন ও সরকারী বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতি উদাত্ত আহবান থাকবে, দয়াকরে এসব ইয়াবাব্যবসায়ী, অবৈধভাবে উপার্জনকারী, হারাম খোর, দেশদ্রোহী ও মানবতাবাদী অপরাধী চক্রকে অতিসত্তর এরেস্ট করে আইনের আওতায় নিয়ে এসে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করুন। নচেৎ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত মাদক ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ অংকুরে বিনষ্ট হতে বাধ্য।

লেখকঃ স্টাফ রিপোর্টার দৈনিক গণজাগরণ এবং ভাইস-প্রেসিডেন্ট- উপজেলা প্রেস ক্লাব উখিয়া ও সাবেক প্রেসিডেন্ট- বিএমএসএফ উখিয়া উপজেলা শাখা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর....

: