• বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০৬:৫৯ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
কক্সবাজার বিমানবন্দরে গরুর সাথে বিমানের সংঘর্ষ, ২ গরু নিহত উখিয়ার হলদিয়ায় ইমরুল কায়েস চৌধুরী বিপুল ভোটের ব্যবধানে চেয়ারম্যান নির্বাচিত নাইক্ষ্যংছড়ি হাজী এম এ কালাম সরকারি পরীক্ষার্থী দের বিদায় ও দোয়া অনুষ্ঠান সম্পন্ন। নেত্রকোণায় ইউপি’তে পরাজয়ের একদিন পরই চেয়ারম্যান প্রার্থীর মৃত্যু উখিয়ার মুবিন স্থানীয় পত্রিকা থেকে পেলেন পদন্নোতি এবং বেস্ট কো- অপারেশন সম্মাননা টেকনাফে র‍্যাবের সাথে চোরাকারবারির ‘বন্দুক যুদ্ধে’ নিহত ০২ : একটি সড়ক দূর্ঘটনা,যেন (একটি পরিবারের) সারা জীবনের কান্না ! হতাশ হবেন না, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথেই আছেন যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে এখন শীর্ষ ধনী চীন!

একটি ব্রিফকেস ও বউয়ের জন্য বাজার থেকে কেরোসিন আনার রহস্য

admin / ৫৯ মিনিট
আপডেট বৃহস্পতিবার, ৪ নভেম্বর, ২০২১

আইকন নিউজ ডেস্কঃ 

আমি আমার বউকে ভয় পাই কিনা জানি না, কিন্তু বড্ড কেয়ার করি। আসলে একে ঠিক ভয় বলা যায় না! বলতে পারেন সমীহ করে চলা। অনেকটা ওই কৌতুকের মতো, একবার রাজা রাজ্যের সব পুরুষদের ডেকে বলছেন, আমার রাজ্যের সবাই বীরপুরুষ অথচ সবাই বউকে ভয় পাও! আচ্ছা দেখিতো যারা বউকে ভয় পাও সবাই বাম দিকে আর যারা ভয় পাও না ডান দিকে দাঁড়াও। একটুপর দেখা গেলো একজন একজন করে সবাই বাম দিকে গিয়ে দাঁড়ালো শুধু একজন পুরুষ ডান দিকে দাঁড়িয়ে। রাজা যারপরনাই খুশী হয়ে ভাবলেন, যাক একজন অন্তত পাওয়া গেছে যে, বউকে ভয় পায় না। তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, বাপু বলতো তোমার সাহসের রহস্যটা কি? ওই লোক কাচুমাচু করে বললো, হুজুর হয়েছে কি! আসার সময় বউ বলে দিয়েছে যেদিকে ভিড় বেশী সেদিকে ভুলেও যাবে না!!!

আমি আবার ভাত তরকারি রাঁধতে পারি না। কয়দিন আর চিড়ে মুড়ি খেয়ে থাকা যাবে বলেন? তাই একটু সমঝে চলি এর বেশী কিছু না।

আমার সবেধন নিল মনি একটা মাত্র বউ। তাকে ক্ষেপিয়ে খুব একটা লাভবান হতে পারিনি কখনো, বরং দিনশেষে লোকসানের সম্মুখীন হতে হয়েছে। এই পর্যন্ত সাতটা মুঠোফোন ভেঙেছে। রাগের মাথায় দিগবিদিক হারিয়ে ছুড়ে মারে! মুঠোফোন বুলেট গতিতে কখনো মেঝে কিংবা কখনো দেয়ালে গিয়ে চুম্বন আঁকে এবং যথারীতি ভালোবাসার আতিশয্যে নিজেকে ভেঙেচুরে কমপক্ষে দশ পনেরো টুকরা হয়ে যায়। এক দুবার কুড়িয়ে পাওয়া শরীরের অংশবিশেষ নিয়ে সার্ভিস সেন্টারে গিয়েছিলাম। প্যাকেট থেকে ক্ষতবিক্ষত মুঠোফোন বের করে দেয়ার পর তাদের সুস্পষ্ট পরামর্শ ছিলো ভাই, কষ্ট করে আপনি পঙ্গু হাসপাতালে যান।অর্থোপেডিক্স সার্জনরা যদি এর কোন বিহিত করতে পারে! আমাদের পক্ষে কিছু করা সমীচীন হবে না।

বাসায় ওয়ানটাইম গ্লাসে পানি পান করি। প্রথম দিকে কাঁচের গ্লাস কিনেছিলাম। কিন্তু ক্যালেন্ডারে দাগিয়েও হিসেব মিলাতে পারতাম না। এখন বলেছি বিজ্ঞানীরা বলেছেন ওয়ানটাইম গ্লাসে পানি পান করা স্বাস্থ্যের জন্য সর্বোত্তম। আমার বউ কিন্তু আবার মানুষ ভালো। সহজেই ভুংভাং দিয়ে অনেক কিছু বুঝায় ফেলি। রহস্য খোলাসা করছি না, এতটা বোকা আমি নই। পরে তাকে জানিয়ে দেবেন আর আমার চিড়ে মুড়ি খেয়ে থাকা লাগে!

বউ যখন ক্ষেপে উঠে আমি ভেজা বেড়ালের মতো ঘাপটি মেরে যাই। হাজার হোক আগুনে আগ বাড়িয়ে হাতে ছ্যাকা খাবার কি দরকারটা পরেছে বলেন? মাঝে মাঝে বউ বুঝে ফেলে আমি যে না বোঝার ভান ধরেছি! ইদানিং সে বেশ বুদ্ধির খেলা শিখেছে। এই তো সেদিন আমি তার রাগ দেখে চুপ মেরে ছিলাম আর সে আরো রাগছিলো। উত্তর না পেলে একা একা কত আর ঝগড়া করা যায়? কোন ভাবেই আমার সাথে ঝগড়া করতে না পেরে লাল বর্ন ধারণ করেছিলো। আমি মুখ নামিয়ে বই পরছিলাম, আসলে কিসের পড়া! মুখ লুকিয়ে ছিলাম।
কতক্ষন পর এসে আমায় বলছে এই বারান্দা দিয়ে গ্যাদার খেলনা নিচে পরে গেছে। একটু নিয়ে আসো নয়তো কেউ নিয়ে গেলে! অগ্যতা কি আর করা নিচে গেলাম খেলনা খুঁজেপেতে সিড়ি বেয়ে নিয়ে এলাম। ওহ বলা হয়নি আমি থাকি ছয়তলার উপরে দুরুমের চিলেকোঠার ফ্ল্যাটে। বাড়িওয়ালা স্বাস্থ্য সচেতন, বাড়িতে লিফট লাগান নি৷ আমাকে অন্তত দুবার করে প্রতিদিন সাত তলায় উঠা নামা করতে হয়।

মাঝে মাঝেই রেগে যাবার কিছু সময় পরে এসেই বলবে, লবন নাই। এক কেজি লবন নিয়ে আসো। আমি কিন্তু অংকে কাঁচা নই। গত এক মাসে আট কেজি লবন এনেছি। আপনারাই বলেন আড়াইজন (আমি, ও আর আমাদের হাফ ব্যাটারি) মানুষের সংসারে মাসে আট কেজি লবন কি লাগতে পারে?? আল্লাহই জানেন এত লবন দিয়ে কি করে?

আরেকটা অদ্ভুত বিষয় সারাদিন মুখে খই ফুটে কিন্তু ভীষন রেগে গেলে কথা আটকে যায় তোতলানো শুরু হয়। তখন ওর উচ্চারিত শব্দের ভগ্নাংশের সাথে নিজে বাকী অংশ ভেবে নেই আর আমি তখনই করি সবচেয়ে বড় ভুল গুলো। সেদিন মাথা গরম! আমাকে বলছে কাথা বের করতে আর আমি ওঘর থেকে নিয়ে এসেছিলাম খাতা! আর যাই কই? আমার উপরে ছুড়েই শান্তি পেলো। আরেকদিন তো আমায় পাঠিয়েছে খেসারীর ডাল আনতে আর আমি দশ মিনিট খুঁজে হন্যে হয়ে একটা মশারী কিনে এনে ওর সামনে রাখলাম। পরেরটুকুন ইতিহাস।

সেদিন অফিস থেকে ঘরে ঢুকেই দেখি, আকাশে মেঘের ঘনঘটা, যেকোন সময় বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। মনে মনে নিজেকে দশ নাম্বার মহা বিপদ সংকেত দেখিয়ে রাখলাম। ফ্রেশ হয়ে টিভির সামনে মাত্র বসেছি এর মধ্যেই শুরু হলো বজ্রপাত। তোমার সংসারে এসে আমার জীবনটাই নষ্ট হবার যোগাড়। আমি আজ এর হ্যাস্তন্যাস্ত করেই ছাড়বো! এই বানী শুনে ভয় না পেয়ে কি পারা যায়!

বউ এসে একটা বোতল ধরায় দিয়ে বললো, যাও ভাল দেখে এক কেজি কেরোসিন নিয়ে আসো। কেরোসিনের আবার ভালো খারাপ কি জিজ্ঞেস করতে গিয়ে খেলাম ধমক। জানো না এখন কেরোসিনেও ভেজাল মেশায়! কেরোসিনে অকটেন মিশায়।
আমি আর বলার সাহসই করলাম না, পঞ্চাশ টাকার কেরোসিনে নব্বই টাকার অকটেন কোন পাগলে মিশাবে আর কেজি মাপে কেরোসিন কোথা থেকে আনবো জানার প্রয়োজনই বোধ করলাম না। ভয়ে ভয়ে অবশ্য এটা জানতে চেয়েছিলাম, বাসায়তো কেরোসিনের চুলো নেই তাহলে কেরোসিন দিয়ে কি করবে? যা জবাব পেয়েছিলাম!
“কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেবো” আমি প্রায় জ্ঞান হারাচ্ছিলাম। পরে দয়াপরবশত হয়ে নিজেই খোলাসা করলো, পৃথিবীটা আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দেবো। আর ভালো লাগে না।
আমি কেন ভালো লাগে না জিজ্ঞেস না করেই বোতল হাতে চললাম বাজার পানে। ভাবছিলাম এক কেজি থুক্কু লিটার কেরোসিন দিয়ে সারা পৃথিবী জ্বালাবে কিভাবে?

একবার ভেবেছিলাম বাসায় গেলে কেরোসিন দিয়ে না জানি কোন ঘটনা, দুর্ঘটনা ঘটায় তারচেয়ে কেরোসিনে পানি মিশিয়ে নিয়ে যাই অন্তত জ্বলন পোড়ন হবার সম্ভাবনা কমবে! সেই দুর্বল চিত্তের মানুষ হবার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া স্বরূপ কেরোসিনে পানি মেশানো আর হলো না। তবে একটা বুদ্ধিমানের কাজ করেছি। ফায়ারসার্ভিসের ফোন নাম্বার কালেক্ট করে সেভ করে রেখেছি। তাদের ফোন দিয়ে বলেও রেখেছি ঠিকানা দিয়ে। এখানে একটা দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমি মিসকল দিলেই যাতে তারা প্যা পু করতে করতে ছুটে আসে। একটা এম্বুল্যান্সকেও বলে রেখে এসেছি।
আল্লাহর নাম নিতে নিতে সিড়ি বেয়ে উঠে এলাম বাসায়।

বউ এর হাতে কেরোসিনের বোতলটা ধরিয়ে দিতেই তার চোখটা কেমন জ্বলজ্বল করে উঠলো আর আমার ভিতরটা খচখচিয়ে। ফোন হাতে নিয়ে ফায়ারসার্ভিস এর নাম্বার ডায়াল লিস্টে রেখে বসে রইলাম কল দেবার প্রত্যাশায়। কি সব ব্যবস্থা নাকি আগেই করা! তাই তেলের বোতল দেয়া মাত্র বউ চিলেকোঠার পাশে ছাদে রওনা দিলো। আমি ভয়ে শিউরে একেবারে প্রায় কাপড় ভিজিয়ে মানইজ্জত হারাবার দশায়। কাকে আগুন দিবে? আমাকে?

বউ আমাকে ডেকে নিয়ে ছাদে যাচ্ছে। বউ সামনে কেরোসিনের বোতল ঝোলাতে ঝোলাতে আর আমি পেছনে হার্ট এর বিট বাড়াতে বাড়াতে ওকে ফলো করছি। ওর অন্য হাতে ম্যাচ ও দেখলাম। ছাদে গিয়ে এক কোনায় স্তুপ করে রাখা কাগজ আর হাবিজাবি দেখে থতমত খেলাম। এসব কি? জানতে চাওয়ায় উত্তর পেলাম!

সিলানের ঝি সিলান, কোন মেয়ের সাথে প্রেম করেছ এটাসি ভরে হাজার হাজার প্রেমপত্র, মুল্যবান কিছু সামগ্রী সেগুলো কিনা আমার সাবেক জিএফ ৫ বছরের গভীর প্রেমের অনুসঙ্গ হিসেবে দিয়েছিল এবং সাথে ছিল আমার দেওয়া প্রেমপত্রগুলো, (যেগুলো উভয়ের সম্মতিতে ব্রেকাপের সময় ফেরৎ দিয়েছিল) জাদুঘরে রাখার জন্য খুব যত্ন করে রেখেছিলাম সাত সমুদ্র তের নদীর পরে- যেখানে পিপড়া যাবার কোন ফুরসত  ছিলনা! বিধিবাম, বিয়ের দশ মাসের মাথায় আমার অতিপ্রিয় জিনিসগুলো বউ এর জিম্মায় চলে যায়!! আমার ডায়েরীতে প্রতিদিনের এক্টিভিটিস গুলো আমি ইংরেজীতে লিখতাম। মাঝে মধ্যে কিছু ঘটনা ও ইভেন্ট সিম্বলিক শব্দ ব্যবহার করতাম যাতে কোন দিন  উক্ত ডায়েরী কারও হস্তগত হলেও, আসল রহস্য উন্মোচন করতে না পারে! বউ কোন এক সময় ঘর গোছানোর সময় সেই ঐতিহাসিক ব্রিফকেস থেকে আমার অতি মুল্যবান প্রেমপত্র, ডকুমেন্ট, ডায়রী, বিভিন্ন উপহার সামগ্রী সংরক্ষিত ছিল, সেগুলো বউ এর ছোট বোনকে খবর দিয়ে দু’জনে বসে পড়ে বউ অতিমাত্রায় রাগান্বিত হলেও আমাকে প্রথমে বুঝতে দিত না, মাঝে মধ্যে খুব গম্ভীর হয়ে থাকতো। দু’বোনে মাঝে মধ্যে আমার লেখা প্রেম পত্রে কিছু কবিতার কলি, কিছু চরণ আমাকে মাঝে মধ্যে আওড়াতে থাকে। মাঝে মধ্যে দু’বোনে হাসে আবার গম্ভীর হয়ে যায়। আমি গভীর চিন্তায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়লাম। ঘটনা কি আমার শ্যালিকা আমাকে দেখে কিছু কবিতার চরণ বলে আর হাসে।পরে সাত সমুদ্র তের নদী পার হয়ে সেই ব্রিফকেস খুজতে গিয়ে ঠিক জায়গায় পেলাম না।আর বুঝতে বাকি রইল না নিশ্চয়ই শত্রুর হাতে মুল্যবান ব্রিফকেস তালুবন্দী! এতক্ষনে বুঝতে পারলাম কেরোসিন আনতে বলার আসল রহস্য! কিন্তু আমার মধ্যে আমি ছিলাম না। বিয়ের পরে বউকে বলেছিলাম একটা মেয়ের সাথে আমার এপ্যায়ার ছিল, তাও অনার্স শেষ করার পরে।কিছুদিনমানে আট মাস মত ছিল, মেয়ের অন্য দিকে বিয়ে হয়ে যায়, প্রেম কি জিনিস বুঝার আগেই! কিন্তু আমার পাঁচ বছরের ডায়েরী, প্রেমপত্র ও অন্যান্য জিনিসপত্র কি প্রমান করল? আমার পৃথিবীতে আমি ছিলাম না! সংসার ভাঙ্গার উপক্রম হল।আমি অনেকভাবে বুঝিয়ে, শপথ বাক্য আওড়িয়ে, জীবনে ওর দিকে কোনদিন ফিরে না তাকানোর গ্যারান্টি দিয়ে সেই যাত্রায় বেঁচে ছিলাম।

আমি রীতিমত টাস্কিত! গায়ে প্রায় ১০৭ ডিগ্রী জরের মধ্যেও আমি সাহস করে বউওকে বলেছিলাম, তুমি কষ্ট করনা প্লীজ, আমি নিজের হাতে উক্ত ব্রিফকেসে আগুন লাগাই, একটু শান্তি পাবার জন্য!!!

( ঈষৎ পরিবর্তিত, বন্ধুর ওয়াল থেকে)

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর....

: