• বুধবার, ১৭ অগাস্ট ২০২২, ০৭:১৩ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
বিএমএসএফ কক্সবাজার জেলা শাখার উদ্দ্যোগে ১৫-ই আগষ্ট উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল সম্পন্ন। নারী চিকিৎসককে গলা কেটে হত্যা, কথিত প্রেমিক কক্সবাজারের রেজা চট্টগ্রামে আটক ভোটার প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গা অধ্যুষিত সীমান্ত এলাকার জন্য ইসি সচিবালয় কর্তৃক ঘোষিত নির্দেশিকা। কক্সবাজার জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইন চার্জ মনোনীত হয়েছেন’ উখিয়া থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী নাদিম আবাসিক হোটেলে মিলল এক নারী চিকিৎসকের গলাকাটা লাশ, কথিত স্বামী পলাতক। বনের জন্য কক্সবাজার হবে মডেল জেলা-প্রধান বনসংরক্ষক কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলিতে হেড মাঝিসহ ০২জন নিহত। আর্থিক খাতে লুটপাটের দায় জনগণ শোধ করবে কেন? মাদক ও ইয়াবার বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত রেখে তরুণ সমাজকে রক্ষা করুণ । কক্সবাজার জেলা বিএমএসএফ এর জরুরী সভা অনুষ্ঠিত

ব্যাংক কর্মকর্তার বিচক্ষণতায় রক্ষা রাষ্ট্রের ১০ কোটি টাকা

AnonymousFox_bwo / ২৩৬ মিনিট
আপডেট মঙ্গলবার, ৯ নভেম্বর, ২০২১

প্রায় ১০ কোটি টাকার জমি অধিগ্রহণের টাকা আত্মসাতের জন্য জোহরা নামের এক নারীর নামে তৈরি করা হয় রেজিস্টার্ড পাওয়ার অব এটর্নি। তারপর টাকার জন্য আবেদন থেকে সব প্রক্রিয়া শেষে ভূমি অধিগ্রহণ শাখা থেকে প্রথম চেকে দেওয়া হয় ২ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। কিন্তু ব্যাংক কর্মকর্তা জোহরার পরিচয় নিয়ে সন্দেহ থেকে চেকটি জমা করেননি। দীর্ঘ ২৩ দিনেও চেকটি জমা না নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা থেকে ওই চেক জমা না নিতে লিখিতভাবে অনুরোধ করা হয়। আর ব্যাংক কর্মকর্তার এই বিচক্ষণতার কারণে সরকারের পুরো টাকা রক্ষা পেল। এই ঘটনায় ভূমি অধিগ্রহণ শাখার অফিস সহকারী আনোয়ার হোসাইন বাদী হয়ে গত রবিবার রাতে কোতোয়ালী থানায় জোহরাকে একমাত্র আসামি করে মামলা করেন। পুলিশ গতকাল কক্সবাজার জেলার উখিয়া থেকে মামলার মূল আসামি জোহরাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। অন্য দুইজন হলেন জোহরার বাবা ওসমান গণি ও বাঁশখালী সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের চেইনম্যান নিজামুল করিম। কোতোয়ালী থানার এসআই মোমিনুল হাসান অভিযানের নেতৃত্ব দেন।

কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন আমাদের সময়কে বলেন, গ্রেপ্তার জোহরা রোহিঙ্গা নারী কিনা সেটাও মাথায় রেখে আমরা সবকিছু তদন্ত করছি।

কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন আমাদের সময়কে বলেন, গ্রেপ্তার জোহরা রোহিঙ্গা নারী কিনা সেটাও মাথায় রেখে আমরা সবকিছু তদন্ত করছি।

advertisement

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. মোমিনুর রহান আমাদের সময়কে বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত পুরো প্রক্রিয়াকে শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত করতে আমরা চেষ্টা করছি। অপরাধীদের ধরতে মামলা করেছি। ইতোপূর্বেও আমরা এই ধরনের জালিয়াত চক্রের চারজনকে গ্রেপ্তার করেছি।

ঘটনার শুরু যেখানে : গত ৯ জুন জোহরা নামের এক মহিলা যমুনা ব্যাংকের জুবলী রোড কার্যালয়ে এক হাজার টাকায় একটি হিসাব খুলেন। তিনি স্থায়ী ঠিকানা দেন উখিয়া হলদিয়া পালং এবং অস্থায়ী ঠিকানা দেন নগরীর মোটলটুলি। ব্যাংক ব্যবস্থাপক মো. ইউসুফ আমাদের সময়কে বলেন, মোটলটুলি থেকে কাছের আগ্রাবাদ এলাকায় না গিয়ে এতদূরে এসে হিসাব খোলাতে আমাদের সন্দেহ হয়। আমরা তার ঠিকানা যাচাই করে দেখি, বর্ণিত ঠিকানায় জোহরা নামের কেউ নেই। জোহরাকে বিষয়টি জানাই এবং ঠিকানার বিষয়টি স্পষ্ট করতে বলি। কিন্তু তিনি আর ব্যাংকে আসেননি। এরমধ্যে গত ১৪ অক্টোবর ওই হিসাবের বিপরীতে ২ কোটি ৮৬ লাখ ৯৫ হাজার ৩০৮ টাকার একটি চেক আসে জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা থেকে। চেকটি জমা নেওয়ার জন্য প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ফোন দিয়ে চাপ দিতে থাকলে আমাদের সন্দেহ হয়। শেষ পর্যন্ত গত রবিবার ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা আশরাফুল হাসান চিঠি দিয়ে চেকটি ব্যাংক হিসেবে জমা না করার জন্য অনুরোধ জানান।

এদিকে চেকটি জমা দেওয়ার জন্য প্রভাবশালী মহল ও গণমাধ্যমের পরিচয় দিয়ে একাধিক ব্যক্তি হুমকি দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংক ব্যবস্থাপক মো. ইউসুফ গত রবিবার কোতোয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ওই জিডির সূত্র ধরে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের তদন্ত শুরু হয়। তখন ভূমি অধিগ্রহণ কার্যালয়কে ঘিরে সক্রিয় জালিয়াত চক্রের খবর জেনে যান জেলা প্রশাসক। তবে ক্ষতিগ্রস্তরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, জোহরার মতো লোকজন গ্রেপ্তার হলেও ভূমি অফিসে কর্মরত মূল হোতারা এবারও আড়ালেই থেকে যাচ্ছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভূমি অধিগ্রহণ কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, চেকটি দীর্ঘ ২৩ দিনেও ব্যাংকে জমা না হওয়ায় খোদ এই কার্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারাই অস্বস্তিতে পড়ে যান। ব্যাংক ব্যবস্থাপক চেকটি জমা নেবেন না তা নিশ্চিত হয়েই ভূমি অধিগ্রহণ শাখা থেকে চিঠি গেছে। ফলে পুরো কৃতিত্ব আসলে ব্যাংক ব্যবস্থাপকেরই।

সুত্রঃ আমাদের সময়।

জেলা ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা আশরাফুল হাসান আমাদের সময়কে বলেন, মহেশখালী থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত জ্বালাতি তেলের পাইপলাইন স্থাপনের জন্য যে জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে, সেই প্রকল্পের জমির জন্যই ২ কোটি ৮৬ লাখ টাকার চেকটি দেওয়া হয়।

ভূমি অফিস সূত্র জানায়, পুরো প্রকল্পটিতে জোহরার জন্য যে জমি দেখানো হয়েছে, তার অধিগ্রহণ মূল্য ১০ কোটি টাকার বেশি। প্রথম চেক আটকে যাওয়ায় ভূমি অধিগ্রহণ শাখার জালিয়াত চক্রের পুরো পরিকল্পনাই ভেস্তে যায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর....