• বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারী ২০২২, ০১:২৪ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ

উখিয়ার হলদিয়ায় ইমরুল কায়েস চৌধুরী বিপুল ভোটের ব্যবধানে চেয়ারম্যান নির্বাচিত

AnonymousFox_bwo / ৮৭ মিনিট
আপডেট মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২১

 

আইকন নিউজ ডেস্কঃ 

উখিয়ার বহুল আলোচিত হলদিয়া পালং ৫ নং ওয়ার্ড নলবনিয়া কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সকাল আটটায় ভোট শুরু হওয়ার পর থেকে ভোট গ্রহন শেষ হওয়া পযর্ন্ত কোন প্রকার সংঘর্ষ, হামলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। অত্র ওয়ার্ডের সাধারণ ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরে উৎসবের আমেজে মেতেছে।

তবে ভোট গণনা করে ফলাফল ঘোষনায় বিলম্বিত হতে দেখে এবং বশেষ প্রতীকের ফলাফল পাল্টে যাওয়ার আশঙ্কায় সাধারণ ভোটাররা বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি করে, ফলাফল ঘোষণাত দাবিতে রাস্তায় শুয়ে পড়েন। এতে সাময়িকভাবে নৌকা ও ঘোড়ার সমর্থকদের মাঝে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এক পক্ষ ঘোড়া অন্য পক্ষ নৌকা বিজয়ের শ্লোগান দিতে থাকে এবং মুখোমুখি সংঘর্ষের সম্ভাবনা তৈরি হয়।

এ সময় নৌকার সমর্থক রাস্তায় গাছ ফেলে ব্যারিকেট সৃষ্টির চেষ্টা করে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিতে চাইলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী একজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। তখনো ভোট গণনা শেষ হয়নি। অবশেষে ফলাফল ঘোষণা হলে জনগণ শান্ত হয়।

ঘোড়া প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী সাংবাদিক ইমরুল কায়েস সর্বমোট ১,২২৯ ভোটের ব্যবধানে নৌকা প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহ আলমকে হারিয়ে বিজয় লাভ করেন। ৫ নং ওয়ার্ডের নলবনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের পুননির্বাচনে ঘোড়া পেয়েছেন ১৬৯০ ভোট আর নৌকা পেয়েছেন ৯৩১ ভোট। মোট ভোটারের উপস্থিতির হার ছিল ৮০.০৬%। উক্ত কেন্দ্রে মোট ৩৩০৫ ভোটের বিপরীতে ২৬৪৬ ভোট কাস্টিং হয়।এর আগে ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ঘোড়া এগিয়ে ছিলেন ৪৭০ ভোটে। ফলে মোট ১২২৯ ভোটের ব্যবধানে ঘোড়া প্রতীকের সাংবাদিক ইমরুল কায়েস চৌধুরী বেসরকারিভাবে জয় লাভ করেন।

আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ এবং ফলাফল ঘোষনার কাজ সম্পন্ন করেছেন।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিজাম উদ্দিন আহমদ বলেন, ভোট কেন্দ্র এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাবসহ আনসার মোতায়েন করা হয়েছে। সাংবাদিকসহ সকলের সহযোগীতায় একটি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে।

নৌকা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহ আলম বলেন, ফলাফল যাই হোক মেনে নেব।

বিজয়ী প্রার্থী ইমরুল কায়েস বলেন, গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে। কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বহুল আলোচিত হলদিয়া পালং ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের পুননির্বাচনে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহ আলম ও ঘোড়া প্রতীকের ইমরুল কায়েস এর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে।

১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৫ নং ওয়ার্ডে ব্যালট বক্স ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ফলে নির্বাচন স্থগিত হয়। ৩০ নভেম্বর স্থগিত কেন্দ্রে পুননির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। উভয় চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় এক পক্ষ অন্য পক্ষকে বাধা ও হুমকি দেয়ার ফলে এ নির্বাচনকে ঘিরে এলাকায় চরম উত্তেজনা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছিল।

সাধারণ ভোটাররা বলছেন, গতবার ভোট ডাকাতির সময় আমরা প্রতিরোধ গড়ে তোলেছি। পুনরায় ভোট ডাকাতির ঘটনা ঘটলে প্রাণ নিয়ে ঘরে ফিরতে পারবে না কেউ। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর পাশাপাশি কঠোর অবস্থানে রয়েছেন সাধারণ সচেতন ভোটাররা।

হলদিয়া পালং এলাকার ভোটার জসিম উদ্দিন বলেন, নৌকা প্রতিকের প্রার্থী শাহ আলম ৫ বছর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি জংণের প্রফ্যক্ষ  ভোটে নির্বাচিত হননি। মন্ত্রী পরিষদের সাবেক সচিব শফিউল আলমের ছোট ভাই হিসেবে তিনি প্রভাব বিস্তার ও ক্ষমতার দাপটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার তিনি ভোটে নির্বাচিত হবার সম্ভসবনা সৃষ্টি হয়েছিল। গত ১১- নভেম্বরের নির্বাচনে ব্যালট বক্স ছিনতাই করে ভোট ডাজাতির ঘটনা ও মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত হেনে, বিতর্কিত কথা বলে এবং তার স্ত্রীর প্রচারণার সময়ে ভোটারদের সাথে অশোভন আচরণের ফলে তিনি এখন চ্যালেঞ্জিং অবস্থায় পড়েছেন এবং পরাজিত হয়েছেন।

অপর ভোটার জনৈক গুরা মিয়া বলেন, ২০১৬ সালে শাহ আলম আমাদের ভোটাধিকার হরণ করেছিলেন। তারা বিকাশে ভোট নিতে গিয়ে জনগনের প্রতি বিন্দু পরিমান আস্থা ও বিশ্বাস রাখেন নি।তাই  সাধারন ভোটারবৃন্দ এবার আর সেই সুযোগ প্রদান করেন নি। গতবার যেনতেনভাবে তিনি তার ফলাফল হাতিয়ে নিতে সক্ষম হলেও এবার পরিস্থিতি ভিন্ন, তার প্রমান ইতিমধ্যে পেয়েছেন।

এবার স্থানীয় ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশ গ্রহন ও উপজেলা প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকার কারণে দুর্বৃত্তরা ভোট ডাকাতি করতে ব্যর্থ হয়।
৩০ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য স্থগিত হওয়া কেন্দ্রের নির্বাচনে আবারো বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ফলাফল পাল্টে দেয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা থাকায় ভোটার ও এলাকাবাসী ফলাফল দিতে বিলম্ব দেখে উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনকে হিমশিম খেতে হয়। চৌকস অফিসারদের তাৎক্ষনিক ঘটনা নিয়ন্ত্রনে নিতে বেগ পেতে হয়। আম জনতার চাওয়া অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে প্রশাসন নিরপেক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। এ জন্যে প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস বেড়েছে। প্রশাসনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সুন্দর একটি নির্বাচন উপহার দেবার জন্য।

ভোটার শামসুল আলম বলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী শাহ আলমের স্ত্রীসহ মহিলা টিম ৫ নং কেন্দ্র এলাকায় ভোটের প্রচারণা করতে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যান। এত অনাখাংকিত ঘটনা ঘটে। ভোটারদের গায়ের ওপর হাত তোলেন স্বয়ং চেয়ারম্যানের স্ত্রী। মুহুর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় এ ঘটনা। তাই সাধারণ ভোটাররা ভোটের মাধ্যমে তার জবাব দিয়েছেন।

এ ঘটনায় চেয়ারম্যানের ভোট কমেছে বলে জানালেন নাম সুল আলমসহ অধিকাংশ ভোটারবৃন্দ।

স্থানীয় গিয়াদ উদ্দিন বলেন, গত আমলে চেয়ারম্যান শাহ আলম অত্যন্ত নিষ্টার সাথে তার দায়িত্ব প্সলন করাতে জনগনের কাছাকাছি আসার কারনে এত ভীট উনার পক্ষে গেছে। ১২-তারিখে ব্যালট বক্স ছিনতাইয়ের ঘটন্স ন্স ঘিটলে আজকে শাহ আলম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতেন। কারন তখন এই কেন্দ্রে তিনি প্রায় ১ হাজস্র ভোট পেতেন। চশমা প্রতীকের গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী প্রায় ১২ শ ভোট প্রতেন কারন এই কেন্দ্র উনার পারবারিক কেন্দ্র। ঘোড়া প্রতীক হয়ত শ দেড়েক ভোট পেতেন। কিন্তু বিধিবাম, আজকে তাকে নির্মম পরাজয়ের শিকার হতে হলো।

জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারির ফলে জনগণের একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের প্রত্যাশায় পূরণ হয়েছে।

হলদিয়া পাতাবাড়ির ভোটার জসিম, আমির ও নুরুল আলম বলেন, হলদিয়া ৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ঘাটি। এখানে নৌকার ভোটার বেশি। বর্তমান চেয়ারম্যান শাহ আলম এলাকায় যথেষ্ট উন্নয়নও করেছেন। এরপরও স্থানীয় তৃণমূলের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তার নানাবিধ কর্মকান্ডে কারণে বিরোধিতা করেছেন। ফলে ফলাফল যা হবার হয়েছে।

বহুল আলোচিত নলবনিয়া কেন্দ্রে ভোটাররা সুষ্ঠুভাবে ভোট প্রদান করতে পেরেছেন। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনের সার্বিক সুদৃষ্টি থাকায় এলাকাবাসী তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন। নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু ভোট হওয়ায় ইমরুল কায়েস (ঘোড়া প্রতীক) বিপুল ভোটে বিজয়ী।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর....