• বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারী ২০২২, ০২:০৭ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তাদের নিজস্ব মুদ্রা, হ্রদয়ে দারুণ দ্রোহ

AnonymousFox_bwo / ৬২ মিনিট
আপডেট শুক্রবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২১

এম আর আয়াজ রবি।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে, রোহিঙ্গাদের নিজস্ব মুদ্রার প্রচলন কোন মতলবে? তা কিসের ঈঙ্গিতবহ? বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অখন্ডতা বিদ্যমান আছে তো? নাকি ঘরের ইঁদুর ও বৈশ্বিক ইঁদুরে বেড়া কেটে সাবাড় করছে? আজকে তা জানতে বড্ড ইচ্ছে করছে। বাংলাদেশ রাষ্ট্র, রাষ্ট্রযন্ত্র কি উন্নয়নের ঢেকুর তুলে ঘুমে অচেতন, নাকি দিবাস্বপ্নে বিভোর?

রোহিঙ্গাদের তাদের ক্যাম্পে নিজস্ব মুদ্রার প্রচলন যদি সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে দেশের ভিতরে প্রচ্ছন্ন বা নির্দিষ্ট অন্য দেশের অস্তিত্ব কি দৃশ্যমান? স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে তা রক্ষা করা কঠিন- তাহলে কি আমরা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন? মাথায় সেসব ঘোরপাক খাচ্ছে সবসময়! আমাদের চৌদ্দ জেনারেশনের ভিটে মাটি, অস্থাবর-স্থাবর সম্পদ, সম্পত্তিগুলো কি লুটেরাদের দখলে যাচ্ছে অতি সহজে? ইস্রাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আদ্যপান্ত মানসপটে জ্বাজল্যমান হচ্ছে চোখের পলকে! সেই ১৯৪৮ ও ১৯৬০সালে খালি পায়ে জীর্ণশীর্ণ পোশাকে জার্মান রাষ্ট্র থেকে ফিলিস্তিনে শরনার্থী হয়ে আসার দৃশ্যপট চোখের সামনে ভাসছে!

কিন্তু পরক্ষণেই চিন্তা করি, দেশে এসব বাস্তবতা নিয়ে চিন্তা করার মানুষের কি অভাব আছে? আমরা বা আমাকে কেন চিন্তা করতে হবে? কিন্তু যতই নিজকে আশ্বস্ত করি না কেন, দেশ মার্তৃকার প্রতি প্রচন্ড চেতনা, ভালবাসা ও ষষ্ট ইন্দ্রিয়ের আগ্রহ, উদ্দীপনা থেকে এসব নিয়ে চিন্তায় ঘোরপাক খাচ্ছে দিবা-নিশি প্রতিক্ষণ! জানি না সেটি কিসের আলামত? আমরা মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি, মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাঁথা ইতিহাস, ঐতিহ্যকে বুকে ধারণ ও লালন করছি। সৃষ্টি হচ্ছে হ্রদয়ে প্রচন্ড দ্রোহ! ইচ্ছে করছে সেই সোনালী দিনে ফিরে গিয়ে অস্ত্র হাতে দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ি!

“রোহিঙ্গারা আমাদের গোঁদের উপর বিষফোঁড়া হিসেবে আবির্ভূত”- সেটা সেই প্রথম থেকে বিভিন্ন লেখনীতে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছিলাম। স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্য এই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী কি পরিমান হুমকি তা বলে শেষ করা যাবে না। তারা যেভাবে আষ্টেপৃষ্টে আমাদের উখিয়া টেকনাফকে চেপে ধরেছে অদুর ভবিষ্যতে অক্টোপাসের মত গিলে খেলে আমাদের কিচ্ছুই করার থাকবেনা।

বিভিন্ন আইএনজিও/এনজিও, বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থাসমুহের প্রত্যক্ষ ইন্ধনে এবং আমাদের রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দাসংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্লিপ্ততা তাদেরকে এহেন রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকান্ডে সাহস যোগাচ্ছে। ক্যাম্পের ভিতরে বাইরে তারা যেভাবে বিভিন্ন ব্যবসার প্রসারতা ঘটিয়েছে, তাদের নিজস্ব আধিপত্য বিস্তার করেছে, সাথে ইয়াবা, স্বর্ণচালান, গুম, খুন, সন্ত্রাসী কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে মনে হয় একটি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে অন্য রাষ্ট্রের অস্তিত্ব!!

একটি নির্দিষ্ট ভূখন্ড, জনগণ, সার্বভৌমত্ব ও সরকার এই চারটি মৌলিক উপাদান বিদ্যমান থাকলে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের অস্তিত্ব বিদ্যমান। তাই উক্ত ৪ উপাদানের অস্তিত্ব রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিদ্যমান আছে কিনা এটাই আজ সচেতন সমাজের বিবেকের প্রশ্ন!

লেখকঃ ভাইস প্রেসিডেন্ট-উপজেলা প্রেস ক্লাব উখিয়া, সদস্য-কক্সবাজার জেলা প্রেসক্লাব এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট -বিএমএসএফ, উখিয়া উপজেলা শাখা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর....