• বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২, ০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
উখিয়ায় বিশেষায়িত হাসপাতাল উদ্বোধন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী উখিয়ায় অবৈধ টমটম, সিএনজি ও অটোরিকশার বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান শুরু উখিয়া খাদ্য গুদাম গত বুরো মৌসুমে ১ কেজি ধান সংগ্রহ করতে পারেনি ক্ষুধার যন্ত্রণায় শিশুর কান্নায় অতীষ্ট হয়ে গলা টিপে হত্যা করলেন মা! রাঙ্গুনীয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের ৪ সন্তান‌ই বুয়েট শিক্ষার্থী! জামিন নিতে পিস্তল নিয়েই এজলাসে আসামি আজ উখিয়ায় উখিয়া বিশেষায়িত হাসপাতাল এর শুভ উদ্বোধন পুলিশের দাবি, প্রতি মাসে ১২০ কোটি টাকার ইয়াবা আনেন ধৃত রোহিঙ্গা শফিউল্লাহ মক্কা মদিনার মতো গোপালগঞ্জ আসলে শান্তি অনুভূব করি-সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালেদ। ইউরোপিয়ান জার্নালিস্ট নেটওয়ার্কের সভাপতি জামান, সাধারণ সম্পাদক অনুরূপ

স্কুলে লেখালেখির হাতে খড়িঃ কোভিড-১৯  কোয়ারেন্টাইনে নতুনভাবে লেখার অনুপ্রেরণা।

AnonymousFox_bwo / ১৬০ মিনিট
আপডেট রবিবার, ২ জানুয়ারী, ২০২২

এম আর আয়াজ রবি

করোনার আবির্ভাবে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রে কি কি পরিবর্তন এসেছে তা নিয়ে চিন্তা করতে গেলে মানসপটে অনেক কিছু উঁকি দেয় ও জ্বাজল্যমান হয়ে উঠে। কোনটা ফেলে কোনটা লিখব সেটা এক বিরাট চ্যালেঞ্জ অথবা কোনটা আগে বা কোনটা পরে লিখব, সেগুলোই একটা অন্এএ মকথা-“গাছে গাছে ঝগড়া করে মূল্য বেশি কার ” !

গাঁ-গ্রামে বাল্যকাল অতিবাহিত করেছি, ছিলনা আজকের সেই নাগরিক সু্যোগ সুবিধা। পরিবারের কড়া শাসন ছিল, ছিল ধরাবাধা রুটিন,বড় হয়েছি একান্নবর্তী পরিবারে। পরিবারের সব বড়রা ছিল এক একজন সাক্ষাত পুলিশ। রুটিনের কোন ব্যতিক্রম হলে (সেসব পুলিশগনের যার চোখেই প্রতীয়মান হয়েছে) কোন প্রকার রাক ঢাক না করে শাস্তি দিয়েছে সাথে সাথেই। আবার (পারিবারিক) পুলিশগুলো আমাকে শাসনের জন্য পারিবারিক সংবিধানের যত ধারা, উপধারা আছে সবগুলো সাথে সাথে প্রয়োগ করার অনুমতিপ্রাপ্ত ছিলেন বলে-সেগুলো প্রয়োগে বিন্দু পরিমান ছাড় দিতেন না, পারলে নতুন ধারা উপধারা নতুন সংযোজন করে দ্রুত আইনে বিচার হতো! পারলে স্পেশাল ট্রাইব্যূনালে বসিয়ে বিচার করেতেও পিছপা হতেন না অনেকেই ! তাই উচ্ছন্নে যাওয়ার সুযোগ ছিলনা বললেই চলে! কিন্তু আধুনিক চিন্তা-চেতনা, ধ্যান-ধারনা, সুযোগ-সুবিধা কোন কিছুই তেমন ছিলনা, বলতে গেলে বড় হয়েছি সহজ, সরল গ্রাম্য বালক হিসেবে যেখানে আধুনিকতার তেমন বালাই ছিলনা! বিনোদন বলতে রেডিও তে প্রতি রোববারে শ্রোতাদের পছন্দ করা গানের অনুষ্টান শুনার পাগল ছিলাম, সাথে মাসের শেষে বিটিভি-তে শেষ শুক্রবারে বাংলা ছবি দেখার ভক্ত ছিলাম, এই যা!

স্কুল ও কলেজ জীবনে একুশে ফেব্রুয়ারী,স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস অথবা অন্য কোন বিশেষ দিবস বা সাহিত্য উপলক্ষ্যে মাঝে মাঝে স্কুলে/কলেজে ‘দেয়ালিকা’ ছাপানো হতো। সেসব দেয়ালিকাতে স্বলিখিত ছড়া,কবিতা, প্রবন্ধ,ছোট গল্প আহবান করা হতো। সেই স্কুল জীবন থেকে ঠুকঠাক কিছু লেখালেখির অভ্যাস ছিল। পত্র মিতালী, ছেলে হয়ে মেয়ের নামে ছেলের সাথে পত্র মিতালী, এ রকম কত কি!ছোটখাট বিষয়ে বা ফ্লাট ফর্মে লেখা-লেখির হাতেকড়িতে কতক বিষয়ে লেখা লিখিতে উৎসাহী হয়ে পড়েছিলাম। মাঝে মাঝে দৈনিক সংবাদ পত্রে লেখা পাঠাতাম। দৈনিক আজাদী ও পূর্বকোন পত্রিকাতে বেশি লেখা পাঠাতাম, মাঝে মাঝে ছাপাতো, আর মাঝে মাঝে ছাপাতো না! আমার মনে হয় লেখার মানদন্ডে ডিসকোয়ালাফাইড হয়ে যেত! মন খারাপ করতাম। যেদিন পেপারে আমার লেখা ছড়া, কবিতা, গল্প, ভ্রমণ কাহিনী উঠত, সেদিন খুশীর অন্ত থাকতনা! তখনকার সময়ে মোবাইল ফোন,ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া, ফেসবুক ছিলইনা।প্রিন্ট মিডিয়া ছিল কিন্তু তা ছিল ধরা-ছোয়ার এক্কেবারে বাইরে!যোগাযোগের জন্য চিঠি,ফ্যাক্স, টেলিগ্রাফ, ল্যান্ডফোন ছিল একমাত্র মাধ্যম।মধ্যখানে কার্ডফোন এসেছিল, অবশ্য তা বেশি দিন ঠেকেনি। কালের গর্ভে হারিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

তার পরেও লেখা লেখিতে ক্ষান্ত দিতাম না! স্কুল জীবন শেষ করলাম সেই আজ থেকে প্রায় ৩০ বছর পুর্বে।স্কুল জীবন শেষ করে ভর্তি হবার সুযোগ হয়েছিল ঐতিহ্যবাহী চট্রগ্রাম কলেজে। এখানে একটি কথা উল্লেখ না করলেই নয়, এসএসসি পাশ করেছিলাম বিজ্ঞান বিভাগে, চট্টগ্রাম কল্বজে ভর্তি হলাম মানে বিক বিভাগে। আমার সাথে অন্য দু বন্ধু হামিদুল হক ও নোমান ভর্তি হল মহসীন কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে।গ্রাম থেকে আসা সহজ সরল অর্বাচিন বালক চট্রগ্রাম শহরে এসে সবকিছু নতুন নতুন অনুভব হলাগল। একটু স্থির হয়ে আবারও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলাম লেখা লেখি, সাহিত্য-সংস্কৃতির চর্চাতে। থাকতাম চট্রগ্রাম কলেজের শেরে বাংলা ছাত্রাবাসে। যে কলেজে ভর্তি হলাম সেই কলেজ অলিখিত ভাবে পরিচালনা করত ইসলামী ছাত্র শিবির নামক একটি ছাত্র সংগঠন। কলেজ হোস্টেল ছিল শিবিরের ঘাঁটি। গ্রাম থেকে আসা সহজ সরল ছেলেদেরকে তারা টার্গেট করে তাদের দলে ভিড়ানোর তোড়জোড় চলছিল।আগের সাহিত্য চর্চার ক্ষেত্রে এখানে একটু বাধাগ্রস্ত হলাম অনুভূত। কারন, হলে হলে চেক করত কে কী করত না করত ! নতুন পরিবেশ, নতুন পরিস্থিতি! পড়ালেখার ছাপ বেড়ে চলছিল। সাহিত্য চর্চা ও লেখালেখিতে একটু প্রতিবন্ধকতা সৃস্টি হল অর্থাৎ উন্মুক্ত সাহিত্য চর্চার ব্যাপারে বাধাগ্রস্থ হলাম, তবে ইসলামী সাহিত্য চর্চার ক্ষেত্রে কোন বাঁধা রইলনা। নতুন ছাত্রাবাসে অবস্থান। এখানে সবাই বড় ভাই, সবাই নেতা। নতুন পরিবেশে লেখালেখিতে তেমন মনোযোগ দিলাম না কারন শিবির, মানে ইসলামী কর্মকান্ড ছাড়া সাধারন লেখাতে যদি নেতারা জানলে কিছু মনে করলে বা কোন শাস্তি দিলে! বনের বাঘের চেয়ে মনের বাঘে বেশি খেতে লাগল! তারপরও সাহিত্য চর্চা গোপনে কিংবা প্রকাশ্যে চালিয়ে যাচ্ছিলাম।

ইতিমধ্যে আবারও দৈনিক সংবাদ পত্রে ছাপিয়ে সাহিত্য প্রতিভা চালিয়ে যেতে লাগলাম। এর পরে কলেজ শেষ করে ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হবার পরে এমন গ্যাঁড়াকলে পড়ে গেলাম, পড়া-লেখার বাইরে অন্য কোন কিছু চিন্তা করার ফুরসত ছিলনা আমার! কারন ইন্টারমেডিয়েটে ছিলাম মানবিক গ্রুপে, বিধিবাম ভার্সিটিতে ভর্তি হলাম কমার্সে অর্থাৎ বিবিএ-তে। এমন একটা বিষয়ে ভর্তি হলাম যেটা সামাল দেওয়া আমার পক্ষে খুব কঠিন বলে মনে হচ্ছিল। কারন বিবিএ ছিল আমার জন্য পুরোটাই নতুন বিষয়, কারন ইতিপুর্বে আমি কমার্সের কোন বিষয় পড়েনি। জন্য খুব কঠিন বলে মনে হচ্ছিল। তাই সাহিত্য চর্চা এক্কেবারেই উড়ে গেল ফিনিস পাখির মত! তবে মাঝে মধ্যে লিখতাম না তা না! কিন্তু তার যোগান ছিল চাহিদার চেয়ে নিতান্ত সামান্য!

বিশ্ব কূখ্যাত করোনা এসে আমাকে আবার লেখা-লেখি ও সাহিত্য চর্চার সুযোগ করে দিয়েছে ! কারন হোম কোয়ারেন্টাইন এ অফুরন্ত সময়! বাসায় বসে কী আর করা লেখা-লেখি ও সাহিত্য চর্চায় আবার মনোনিবেশ করা।লেখা-লেখি নতুনভাবে শুরু করতে গিয়ে পড়া-লেখা করতে হচ্ছে অনেক অনেক! পড়ালেখা শেষ করেছি প্রায় দু’যুগ পুর্বে। নতুন কোন বিষয়ে লিখতে গেলে সেই বিষয়ে ভালভাবে না জেনে, না বুঝে লিখাটা কোনভাবেই সুস্থ মস্তিস্কের বা কোন বিবেকমান মানুষের কাজ হতে পারেনা। তাই শুরু করলাম নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর জ্ঞান আহরনের চেষ্টা। অনেক জার্নাল, বই, পুস্তক, বিভিন্ন সাইক্লোপেডিয়া, উইকিপিডিয়া, ইন্টারনেট প্রভৃতি ঘাটতে লাগলাম। কারন হোম কোয়ারেন্টাইনের বদৌলতে বিস্তর অবসর দিয়েছে করোনা! শুরু করতে গেলে সেই বিষয়ের গভীরে প্রবেশ করতে হয়। এখন ই-মেইল, ইন্টারনেট ও ফেসবুকের যুগে প্রত্যেকেই এক এক জন লেখক,ছড়াকার, উপন্যাসিক, কবি, সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক ও সমালোচক! প্রত্যেকের মধ্যেই রয়েছে অন্তঃনিহিত প্রতিভা। ফেস বুক খুললে বের হয়ে আসে এক একজনের বারুদের মত প্রতিভা! কেহ পড়ালেখা করে শেখে, কেহ কাউকে অনুকরন করে শেখে, কেহ ঠেকে শেখে বা কেহ এদিক-ওদিক থেকে জোড়া-তালি দিয়ে বেশ চালিয়ে দিচ্ছে ! আসল কথা হচ্ছে নিজের ভিতরে মাল-ম্যাটেরিয়ালস তেমন কিছু না থাকলে বা নিজে অর্জন না করতে পারলে সেই লেখা-লিখির প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করিনা। যা অনেক ক্ষেত্রে পরের ধনে পোদ্দারী করার মতো! কারন আড়াই প্যাচের জিলাপী তখনই বানানো যায় যখন জিলাপী বানানোর সকল ইনগ্রিয়েন্টস ঠিকমত মজুদ থাকে। তাই ইনগ্রিয়েন্টস জোগাড় করার জন্যই পড়ালেখায় মনোনিবেশ করেছি রীতিমত!

জ্ঞান অর্জনের জন্য পড়া-লেখা এবং সেই অর্জিত জ্ঞান যদি লিখে যেতে পারি এবং পাঠক সৃষ্টি করে তাদের মনের খোরাক জুগিয়ে আনন্দ দিতে পারি, এটাই হয়ে উঠছে একটি কৌতুহলী বিষয়! সম্মানীত পাঠকবৃন্দকে আমার লেখার প্রতি আকৃষ্ট করে আনন্দ ও বিনোদন দিতে পারার মধ্যেই রয়েছে সত্যিকারের লেখার স্বার্থকতা। পড়া-লেখার প্রতি উৎসাহীত হয়ে পড়া,জ্ঞান অর্জন করার কৌতুহলী হয়ে পড়ে যেন, নিজের ভিতরে হাজারো থ্রিলিং সৃষ্টি করে চলছে রীতিমত !
লেখকঃ প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ জাতীয়  সাংবাদিক ফোরাম (বিএনজেএফ) উখিয়া উপজেলা শাখা ও ভাইস প্রেসিডেন্ট – উপজেলা প্রেস ক্লাব উখিয়া।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর....