• রবিবার, ০২ অক্টোবর ২০২২, ০৭:৩১ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
এ বছরে নোবেল প্রাইজের জন্য মনোনীত বাংলাদেশী চিকিৎসক রায়ান সাদী কক্সবাজারে ৪২ কোটি টাকায় বনায়ন, নতুন রূপে সাজবে হিমছড়িসহ কক্সবাজার জেলা। পুলিশের প্রশিক্ষণ খাতে এনজিওগুলো শত শত কোটি টাকা অনুদান পেয়েছে : বেনজীর আহমেদ  রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গত রাতেও ০১ জন খুন, অস্থিতিশীল অবস্থায় স্থানীয়রাও চরম আতংকে। র‍্যাব-৭ কর্তৃক ২ লক্ষ ৩৮ হাজার ইয়াবাসহ ০৩ জন আটক। র‍্যাব-৭ কর্তৃক ২ লক্ষ ৩৮ হাজার ইয়াবাসহ ০৩ জন আটক। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক মুল্য ৬ কোটি। উখিয়া রেঞ্জকর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে উদ্ধারকরা ৩ শতাধিক বক অবমুক্ত করা হয় উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এক রোহিঙ্গা ভলান্টেয়ারকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নির্মমভাবে খুন। ঘুংধুম সীমান্তে চরম উত্তেজনায় এসএসসি ও সমমানের পরিক্ষার কেন্দ্র পরিবর্তন শাড়ি পরে কলেজে গেল ছেলে, ছবি পোস্ট করলেন ‘গর্বিত’ বাবা!

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঘন ঘন অগ্নিকান্ড-এটা কি নিছক দূর্ঘটনা নাকি কোন পরিকল্পিত ‘স্যাবোটাজ’ (দ্বিতীয় পর্ব) !

AnonymousFox_bwo / ৩১৬ মিনিট
আপডেট মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০২২

(দ্বিতীয় পর্ব)

এম আর আয়াজ রবি, উখিয়া কক্সবাজার

আজ ১৮-জানুয়ারী-২২ তারিখ, সকাল বেলায় উখিয়া কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৫ ও ৮ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন লেগে প্রায় ২৯টি শেড পুড়ে যাবার খবর পাওয়া যায়। ইতিপূর্বে গত ২- জানুয়ারি ও ৯-জানুয়ারী-২২ তারিখেও অগ্নিকান্ডের ঘটনা সংঘটিত হয়।গত বছরের ২২-মার্চ তারিখেও বড়ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল এবং প্রায় ১১ জনের প্রানহানি ঘটেছিল।

উখিয়ার উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ০৯ নং ওয়ার্ডের অধিকাংশ এলাকা ও পালংখালী ইউনিয়নের অংশ জুড়ে রয়েছে পৃথিবীর বৃহত্তম মেগা ক্যাম্প। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঘন ঘন অগ্নিকান্ডের ব্যাপারে মতামত জানতে চাইলে রাজা পালং ইউনিয়নের ০৯ নং ওয়ার্ডের জনপ্রিয় সফল মেম্বার ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন বলেন, “ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঘন ঘন অগ্নিকান্ড-এটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা। এই ঘটনার অন্তরালের ঘটনা বের হয়ে আসা উচিত। অগ্নিকাণ্ডের অন্তরালে ষড়যন্ত্রের গন্ধ আছে বলে অনেকের মত আমিও মনে করি। বিগত ২-জানুয়ারী-২২ তারিখে সংঘটিত অগ্নিকান্ড দূর্ঘটনা থেকে হয়েছে বলে মনে হলেও, ০৯-জানুয়ারি-২২ তারিখের অগ্নিকান্ডটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মনে হয়েছে। কারণ, প্রায় ৬৫০ টা মত শেড পুড়ে ছাই হয়েছে, প্রায় ৪ হাজার মত মানুষ কাঁটা তারের বেড়া কেটে কোন প্রকার আহত নিহত হওয়া ছাড়া নিরাপদে বের হয়ে যাওয়া-অনেক কিছুর ইঙ্গিতবহ। এখানে দেশি বিদেশি, আইএনজিও, এনজিও ও অন্যান্য স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্রের হাত থাকতে পারে, যা সুষ্ট গোয়েন্দা তদন্তে বের হয়ে আসবে। যেসব এনজিও এর প্রজেক্ট শেষ হয়ে যায়, তাদের কাজের ক্ষেত্র তৈরি করার জন্য এরুপ অগ্নিকান্ড ঘটাতে পারে বলে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। এই যেমন ধরুন, যাদের শেড পুড়ে গেছে ইতিমধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদের শেড তৈরি হয়ে গেছে। ইতিপুর্বে গত বছরের ২২-মার্চে সংঘটিত অগ্নিকান্ডও ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মনে হয়েছে। আসলে এটা আমাদের পারসেপশন-আসল ঘটনা কি তা সুষ্ট গোয়েন্দা তদন্তের মাধ্যমে বের হয়ে আসবে বলে আমি মনে করি।“

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঘন ঘন আগুন ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা প্রসঙ্গে উখিয়া উপজেলা যুবলীগের সংগ্রামী সভাপতি মুজিবুল হক আজাদ বলেন, ” রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন লাগার ঘটনা নিছক কোন দূর্ঘটনা নয়, এটা পরিকল্পিত অগ্নি সন্ত্রাস। কারন বিশ্বজুড়ে এনজিও সওদাগরদের ব্যবসার বড় বাজার হচ্ছে উখিয়া টেকনাফের এই মেগাক্যাম্প। উনারা সারা বিশ্ব থেকে অনুদান সংগ্রহ করে আনতে আনতে তাদের উপলক্ষ শেষ হয়ে যায়। নতুন করে উপলক্ষ তৈরির জন্য রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন লাগানোর জন্য রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের সাথে আতাঁত করে ক্যাম্পে অগ্নিসংযোগ ঘটিয়ে তাদের হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার অংশ হিসেবেই এই অগ্নিসংযোগ। অগ্নিকান্ডের পরের দিনই তাবু থেকে শুরু করে নতুন ঘর, বাড়ি শেড তৈরির হিড়িক পড়ে যায়। এনজিও সওদাগরদের কাছে সবকিছু প্রস্তুত থাকে। আগে ভাগে তারা দেশের বিভিন্ন দেশে আমেরিকা, জাতিসংঘ, ইউরোপের অন্যান্য দেশে অনুদান কালেকশন করার জন্য আবেদন করে রাখে। ঘটনার অব্যবহিত পরেই তারা পুরো উদ্যমে তাদের সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে বেগ পেতে হয়না।ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, ২০১৭ সালের ২৫ শে আগষ্ট যখন মায়ানমার থেকে রোহিঙ্গারা চলে আসে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বদান্যতায় উখিয়া টেকনাফের স্থানীয়রা নিজেদের ভিটে বাড়ি, ছেড়ে দিয়ে যা আছে তা দিয়ে তাদের দুঃসময়ে কাছে থেকে মানবতার দৃষ্টান্ত দেখিয়ে আশ্রয় দিয়েছিল। এখন এনজিও সওদাগররা রোহিঙ্গা প্রেমে অভিভূত। রোহিঙ্গাদের জন্য মেঘ না চাইতে বৃষ্টি বর্ষণ করলেও স্থানীয়দের স্বার্থ রক্ষার ব্যাপারে বরাবরই উদাসীন থেকেছে তারা। অগ্নিসন্ত্রাসের কারণে রোহিঙ্গাদের সাথে সাথে স্থানীয়দের ঘরবাড়ি, গরু, ছাগল, আসবাবপত্র পুড়ে অঙ্গার হলেও অনুদান পায় শুধু রোহিঙ্গারা। স্থানীয়দের জন্য কেউ এগিয়ে আসে না। শফিউল্লাহ কাটার ৩৪টি হোস্ট কমিউনিটির বাড়ি ঘর থেকে ১৪ টি পুড়ে গেলেও উখিয়া উপজেলার মানবিক নির্বাহী অফিসার মহোদয় কর্তৃক মানবিক সহায়তার নগদ ৭, ৫০০/- ( সাত হাজার পাঁচশত) টাকা ছাড়া তাদের জন্য তথাকথিত মানবতাবাদি এনজিও সংস্থা এগিয়ে আসেনি। শফিউল্লাহ কাটা আগুনের জন্য এনজিও সওদাগররা চলে গেছে ইউরোপ, আমেরিকা জাতিসংঘসহ বিশ্ব দরবারে বাজেট আনার জন্য। শফিউল্লাহ কাটা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের পুর্বের দিন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তুরস্কের মাধ্যমে কিছু ঘর বাড়ি তৈরি করে উপহার দিয়েছিল তা দেখে থাইংখালী ক্যাম্প-১৬ এর রোহিঙ্গাদেরকে এনজিও সওদাগররা বুঝিয়ে দিয়েছে এরুপ নতুন ঘর বাড়ি পেতে হলে আগুনে ঘরবাড়ি বিনষ্ট করতে হবে- এরই অংশ হিসেবে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটছে বলে মনে হচ্ছে যা গোয়েন্দা তথ্যে উঠে আসবে। তাছাড়া আমাদের রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতায় অর্থাৎ এপিবিএন পুলিশ, ডিজিএফআই, এনএসআই, ডিএসবি, বিজিবি, পুলিশবাহিনী, সামরিক বাহিনীর তীক্ষন নজরদারির কারনে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের অপকর্ম কিছুটা কমলেও, এনজিও, আইএনজিও গুলোকে গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখতে পারলে অগ্নিসন্ত্রাসের আসল কারন বের হবে এবং এরুপ দূর্ঘটনা কমে আসবে বলে আমি মনে করি”।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঘন ঘন অগ্নিকান্ডের ঘটনা কেন সংঘটিত হচ্ছে জানতে চাইলে, উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদ তিন তিনবারের সফল চেয়ারম্যান এম. গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঘন ঘন অগ্নিকান্ড ঘটার পেছনে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গোষ্টি, আইএনজিও, এনজিও-দের যোগসাজস আছে বলে সন্দেহের অবকাশ রয়েই যায়। আরেকটা ব্যাপার লক্ষ্য করা যায়, গত সপ্তাহের এবং গেল ৯-জানুয়ারীর অগ্নিকান্ড এবং গত মার্চ মাসের অগ্নিকান্ডের ঘটনা ছাড়াও, ইতিমধ্যে রাতের বেলায় অনেক রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে কিন্ত তা এরুপ ভয়াবহ আকার ধারন করার আগেই আগুন নিভিয়ে আয়ত্বে নিয়ে আসতে পেরেছে কিন্ত দিনের বেলায় সংঘটিত অগ্নিকান্ড এত তাড়াতাড়ি নিভানোর ঘটনা ঘটেনি। এখানেই কোন রহস্য আছে কিনা দেখার অবকাশ রয়েছে’।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ব্যাপারে মতামত সংগ্রহ করার জন্য উখিয়া উপজেলার মান্যবর নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিম উদ্দিন আহমেদের সাথে আলাপকালে তিনি জানান-“এ পর্যন্ত অগ্নিকান্ডের ঘটনা সমুহ নিতান্ত দূর্ঘটনা বলে আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। রোহিঙ্গা শেডগুলো একে অপরের সাথে লাগানো থাকায় অসাবধানতাবশতঃ অগ্নিকান্ড সংঘটিত হলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অধিকন্তু শেডে অনেকক্ষেত্রে দাহ্যপদার্থ থাকার কারনে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে কিছু ঘটনা দুরভিসন্ধিমূলক হচ্ছে কিনা বা হয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই, সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যবৃন্দ উক্ত ব্যাপারে ভাল বলতে পারবেন”
অত্র প্রতিবেদক মান্যবর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয়কে জানতে চান, রোহিঙ্গাদের জন্য বিভিন্ন এনজিও, আই এনজিও ও অন্যান্য সংস্থা আছে, কিন্তু স্থানীয় জনগোষ্টি যাদের ঘর বাড়ি পুড়ে গেছে তাদের ব্যাপারে প্রশাসনের কোন উদ্দ্যোগ আছে কিনা জানতে চাওয়ার প্রতিউত্তরে তিনি বলেন, “গত ৯-জানুয়ারী-২২ তারিখে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় স্থানীয় অনধিক ১৫ টি ঘরবাড়ি পুড়ে যায় বা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগুনে পুড়ে যাওয়া স্থানীয় প্রায় ১৪টি পরিবার, প্রতি পরিবারকে ৭৫০০/- ( সাড়ে সাত হাজার টাকা) টাকা করে সরকারের মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে কোষাগার থেকে বিতরণ করেছেন, তাছাড়াও প্রশাসনের সহযোহিতার হাত সব সময় প্রসারিত আছে-ই। এর পাশাপাশি, তাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নিরুপন করার চেষ্টা করছি। তাদের ক্ষয়ক্ষতির জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতার হাত প্রসারিত রাখার জন্য আমরা চাহিদাপত্র পাঠিয়েছি। আমরা আশা করছি স্থস্নীয়দের বাড়িঘর মেরামতের জন্য, টিন অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী, নগদ অর্থসহ অন্যান্য সামগ্রী চলে আসবে। তাদেরকে সহযোগিতা করার জন্য আমরা সব সময় সরকারের পক্ষ থেকে বদ্ধ পরিকর। তাছাড়া, সিআইসি মহোদয়কে অনুরোধে ধ করেছি, জেলাপ্রশাসন থেকে অনুরোধ করা হয়েছে যাতে, রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্থ জনগোষ্ঠীকেও মানবিক সহায়তার আওতায় রাখা হয়। তাছাড়া এনজিও, আই এনজিও সংস্থাগুলোকেও আমরা বলেছি স্থানীয়্রা যারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তাদেরকে ঘিরবাড়ি মেরামত সঙ্গে হ আবারো যাতে পুনঃ বাসিত হয়ে স্বাভাবিক জীবন ধারন করতে পারে সে ব্যাপারে সচেষ্ট থাকার জন্য”।

মিডিয়াবান্ধব পুলিশ সুপার, (১৪-এবিপিএন) মিঃ নাইমুল হকের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, “রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাসমুহ নিতান্ত দূর্ঘটনা বলে মনে হয়েছে। এ যাবৎ যেসব অগ্নিকান্ডের ঘটনার উৎস অনুসন্ধান করতে গেছি সবখানে অসাবধানতা থেকে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে আমাদের মনে হয়েছে। ”
অত্র প্রতিবেদক, বিভিন্ন বিবদমান রোহিঙ্গা গ্রুপের মধ্যে যখন বিরোধ দেখা দেয়, তাদের আধিপত্য নিয়ে, ক্যাম্পের অভ্যন্তরে ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে বা দেশে ফিরে যাবার পক্ষে-বিপক্ষে যখন অবস্থান সৃষ্টি হয়, তখন এক পক্ষ অন্য পক্ষের উপর প্রতিশোধ নেবার জন্য সহজ অস্ত্র হিসেবে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়ে প্রতিশোধ গ্রহন করেন। এ ব্যাপারে পুলিশ সুপারের দৃষ্ট আকর্ষণ করার প্রতি উত্তরে তিনি যোগ করেন, ” এ রকম ঘটনা ঘটার প্রশ্নই আসে না। কারন ক্যাম্পে ১৪ এপিবিএন, সাথে ৮-এপিবিএন, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যবৃন্দ, পুলিশ, বিজিবি, র্যাবসহ অনেক রাষ্ট্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তাবেষ্টনীতে রয়েছে পুরো ক্যাম্প। আপনারা নিশ্চয়ই জেনে থাকবেন অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে বর্তমানে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পরিবেশ খুবই ভাল। এখানে অপরাধমুলক কর্মকান্ড করে কেহ পার পাবার সুযোগ নেই। ইদানিং রোহিঙ্গা কেহ অপরাধে জড়িত হলে, রোহিঙ্গারা নিজেরাই আইন শৃংখলা বাহিনীকে খবর দিয়ে সায়েস্তা করছে। রোহিঙ্গাদের নিজেদের মধ্যে কেহ অপকর্মের সাথে জড়িত হয়ে গেলে সোর্সের মাধ্যমে আমাদের কাছে তথ্য, উপাত্ত সরবরাহ করছে। তাছাড়া আমাদের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ক্যাম্পকে মারাত্মক নজরদারিতে রেখে, নিরাপত্তা বেষ্টনীতে রেখেছে। আমরা ক্যাম্পকে নিরাপত্তার আওতায় নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি বলেই এখন৷ রোহিঙ্গারা আর অপরাধমুলক কর্মকান্ড করতে সাহস পাচ্ছে না। তাছাড়া আমরা দূর্গম এলাকায় ড্রোনের মাধ্যমেও অপরাধী সনাক্তের চেষ্টা করে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে আমরা তার সুফল পাচ্ছি”।
অত্র প্রতিবেদক পুলিশ সুপার মহোদয়ের কাছ থেকে যখন জানতে চান, আমাদের উখিয়া টেকনাফের সীমান্ত এলাকা অনেকক্ষেত্রে অরক্ষিত, সীমান্ত হয়ে অতি সহজে রোহিঙ্গারা ইয়াবা, স্বর্ণের বার, অন্যান্য চোরাচালানী পন্য রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মজুদ করে এবং পরে স্থানীয়দের সহায়তায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠিয়ে দেশকে ইয়াবার স্বর্গরাজ্যে পরিনত করছে। এর প্রতি উত্তরে পুলিশ সুপার মহোদয় বলেন, ” আপনার একটা কথার সাথে আমি কোন ভাবেই একমত নয়, আমাদের সীমান্ত অরক্ষিত নয়। সীমান্ত পাহারায় আমাদের শক্তিশালী দেশপ্রেমিক বিজিবি রয়েছেন। সীমান্তে শক্ত অবস্থানের কারনে উখিয়া টেকনাফ সীমান্তে মায়ানমারের চ্যালেঞ্জ এর যোগ্য প্রতি উত্তর আমাদের দেশপ্রেমিক বিজিবি দিয়ে যাচ্ছেন। তাছাড়া অতি সহজে রোহিঙ্গারা ইয়াবা, স্বর্ণের বারের ব্যবসা করার সেই সুযোগ এখন নেই। এখন বাংলাদেশের প্রতিটি বাহিনীর মধ্যে একটা চমৎকার বুঝাপড়া বা সমন্বয় কাজ করছে। প্রতিটি বাহিনীর সমন্বয়ে কাজ করার সুবাদে ইয়াবা, মাদক, আইনশৃংখলা পরিবেশ, পরিস্থিতি ইদানিংকালে অনেক উন্নত”।
সূত্র জানায়, গত এক বছরে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এখন পর্যন্ত আজকের কুতুপালং ৫ নং ও ৮ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাসহ ৪টি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্বভাবতঃই প্রশ্ন জাগে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সংঘটিত ঘন ঘন অগ্নিকান্ডগুলো কি নিছক দূর্ঘটনা, নাকি অন্য কোন মনুষ্যসৃষ্ট বড় দূর্ঘটনার পুর্ব লক্ষণ- এ এক গবেষণার বিষয়। আমরা উখিয়া টেকনাফের স্থানীয় বাসিন্দারা চাই অতিসত্ত্বর বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা স্ব-সম্মানে তাদের নিজ দেশভুমে ফিরে যাক, আমরা প্রানভরে, মন প্রান উজাড় করে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলি।
স্বভাবতঃই রোহিঙ্গারা আমাদের গোঁদের উপর বিষফোঁড়া! ওদেরকে জামাই আদরে লালন করার সময় আর নেই। আই এনজিও, এনজিও ও অন্যান্য বিদেশি মহল তাদেরকে যেভাবে আস্কারা দিয়ে যাচ্ছে, ধোয়ার তুলশী পাতা বানাবার চেষ্টা করছে, রোহিঙ্গারা যেভাবে সংগঠিত হচ্ছে, বিদেশি মদদ পাচ্ছে, যেভাবে নিজেরা ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারের সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে, যেভাবে বিদেশি অনুদান, অনুকম্পা পাচ্ছে, তারা কস্মিনকালেও চিন্তা করবে না এমনই স্বর্গরাজ্য ছেড়ে অনিশ্চিত তাদের দেশভুমে ফিরে যেতে! তাই, জনম জনম আমাদের রাষ্ট্রীয় ভু-খন্ড ভিনজাতীয় জনগোষ্ঠীকে ব্যবহার করার সুযোগ দেওয়া যাবে না। আমাদের চোখের সামনে ইসরাইল রাষ্ট্র একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। আমরা কোনভাবেই সেরকম পরিবেশ, পরিস্থিতি বা বাস্তবতা উপলব্ধি করতে চাই না। আমরা আমাদের রাষ্ট্রীয় ভু-খন্ডের জন্য, রাষ্ট্রীয় অখন্ডতা রক্ষার জন্য, স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব সমুন্নত রাখার জন্য এখন থেকেই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে তাদের নিজ দেশে ফেরৎ পাঠানোর জোর প্রচেষ্টা চালাতে হবে। তাদের স্বদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য হোস্ট কমিউনিটিকে আরও বেশি স্বোচ্চার হতে হবে, আমাদেরকে সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন, প্রতিবাদ, প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে সাথে কুটনৈতিক ততপরতা চালাতে হবে। জন্মভুমি আমাদের, মার্তৃভুমি আমাদের, এই রাষ্ট্রীয় ভূ-খন্ড নিরাপদ রাখার দায়িত্বও আমাদের সকলের।

লেখকঃ জেলা প্রতিনিধি- জাতীয় দৈনিক লাল সবুজের বাংলা এবং প্রেসিডেন্ট- জাতীয় সাংবাদিক ফোরাম (BNJF) উখিয়া উপজেলা শাখা ও ভাইস- প্রেসিডেন্ট- উপজেলা প্রেসক্লাব উখিয়া।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর....