• বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২, ১১:৩১ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
উখিয়ায় বিশেষায়িত হাসপাতাল উদ্বোধন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী উখিয়ায় অবৈধ টমটম, সিএনজি ও অটোরিকশার বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান শুরু উখিয়া খাদ্য গুদাম গত বুরো মৌসুমে ১ কেজি ধান সংগ্রহ করতে পারেনি ক্ষুধার যন্ত্রণায় শিশুর কান্নায় অতীষ্ট হয়ে গলা টিপে হত্যা করলেন মা! রাঙ্গুনীয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের ৪ সন্তান‌ই বুয়েট শিক্ষার্থী! জামিন নিতে পিস্তল নিয়েই এজলাসে আসামি আজ উখিয়ায় উখিয়া বিশেষায়িত হাসপাতাল এর শুভ উদ্বোধন পুলিশের দাবি, প্রতি মাসে ১২০ কোটি টাকার ইয়াবা আনেন ধৃত রোহিঙ্গা শফিউল্লাহ মক্কা মদিনার মতো গোপালগঞ্জ আসলে শান্তি অনুভূব করি-সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালেদ। ইউরোপিয়ান জার্নালিস্ট নেটওয়ার্কের সভাপতি জামান, সাধারণ সম্পাদক অনুরূপ

ইউক্রেন সংঘাতে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি রয়েছে কিনা?

AnonymousFox_bwo / ১৫৪ মিনিট
আপডেট মঙ্গলবার, ১ মার্চ, ২০২২

আইকন ইন্টারন্যাশনাল নিউজ ডেস্কঃ 

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দেশটির সেনাবাহিনীকে তাদের কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র বিশেষ সতর্কাবস্থায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। রোববার (২৭ ফেব্রুয়ারি) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে বৃটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি। এদিকে পুতিনের এই ঘোষণার প্রতিক্রিয়া হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জেন পেসকি বলেন, রাশিয়াকে ন্যাটো কোনো ধরনের হুমকি দেয়নি। এর আগে প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগুসহ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে পুতিন বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার বিরুদ্ধে আগ্রাসী পদক্ষেপ নিয়েছে এবং অবৈধ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। পুতিন আরও বলেন, যদি এই দুই দেশের সংঘাতে কোনো দেশ হস্তক্ষেপ করে তাহলে সেই দেশকে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে। এতে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের দিকেই ইঙ্গিত করেন পুতিন।

এদিকে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রি কেলুবা বলেছেন, যদি রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করে তাহলে বিশ্বের জন্য তা হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। তবে এরপরও আমরা ভেঙে পড়বো না। তিনি বলেন, পুতিন তখনই এই ঘোষণা দিলেন যখন দুই দেশের নেতৃবৃন্দ আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, পুতিনের এই ঘোষণাকে কেবল আলোচনায় চাপ বৃদ্ধির একটি উপায় হিসেবে দেখছেন তারা। তবে কোনো চাপের মুখে ইউক্রেন নতি স্বীকার করবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

পারমাণবিক অস্ত্র প্রস্তুত রাখার কারণ বললেন পুতিন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীকে পারমাণবিক অস্ত্র প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। কারণ হিসেবে ক্রেমলিন জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রস এবং পশ্চিমা দেশগুলোর অন্যান্য নেতৃবৃন্দের আক্রমণাত্মক মন্তব্যের কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাশিয়া। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সোমবার (২৮ ফেব্রুয়রি) এক বিবৃতিতে বলেন, ইউক্রেন ইস্যুতে ন্যাটো এবং রাশিয়ার সম্ভাব্য লড়াইয়ের মন্তব্য করাটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমি যদিও কারও নাম বলতে চাই না। তবে এরকমটা বলেছেন বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, এর আগে গতকাল রোববার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রস বলেন, যদি রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ বন্ধ না করে তাহলে অন্যন্য রাষ্ট্রগুলোও হুমকির মুখে পড়বে যা শেষ পর্যন্ত ন্যাটো এবং রাশিয়ার লড়াইয়ের কারণ হবে। এটাা হুমকি হবে ইউরোপের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য। আমরা যদি পুতিনকে ইউক্রেনেই না থামাই তাহলে আমরা বাল্টিক (এস্তোনিয়া, লাটভিয়া,লিথুনিয়া ) রাষ্ট্রগুলোসহ, পোল্যান্ড ও মলডোভাকে হুমকির মুখে ফেলে দিবো যা শেষ পর্যন্ত ন্যাটোকে জড়িয়ে ফেলবে। আমরা এত দূর যেতে চাই না।

পুতিনের পারমাণবিক অস্ত্র সতর্কাবস্থায় রাখার ঘোষণার বিষয়ে পশ্চিমা বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ঘোষণার কারণটা পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। যুক্তরাজ্যের কর্মকর্তারা বলছেন, রাশিয়ান পারমাণবিক অস্ত্রের সতর্কতার বিষয়ে পুতিন যে ভাষা ব্যবহার করেছেন তা তাদের বোঝার সাথে পুরোপুরি খাপ খায় না। কেউ কেউ বলেন, পুতিনের ঘোষণা একটি পদক্ষেপ। সুতরাং প্রতিটি পদক্ষেপ অস্ত্র ব্যবহারের জন্য প্রস্তুতি বাড়ায়। যদিও অনেকে এই পদক্ষেপটিকে প্রাথমিকভাবে জনসাধারণের মধ্যে একটি সংকেতকে বুঝিয়েছেন, যা পুতিনের বাস্তব নির্দেশ নয়। কেননা দেশটির প্রেসিডেন্ট পুতিন জানেন যে, পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করলে পশ্চিমারাও পারমাণবিক অস্ত্র দিয়ে প্রতিশোধ নেবে। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা সচিব বেন ওয়ালেস ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি বিশ্বাস করেন, এই ঘোষণাটি প্রাথমিকভাবে “বাকযুদ্ধ” ছিল ।
এটা পুতিনের নতুন সতর্কতা ছিল কিনা
গত সপ্তাহে পুতিন যে পারমাণবিক অস্ত্র সতর্কাবস্থায় রাখার ঘোষণা দিয়েছিল তা পশ্চিমাদের জন্য নতুন সতর্ক বার্তা ছিল। পুতিন বুঝাতে চেয়েছেন, ইউক্রেনে রুশ অভিযানে কেউ হস্তক্ষেপ করলে তার পরিণতি এমন হবে যা পুরোটাই কল্পনাতীত। বিশেষ করে ন্যাটোকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে, যাতে সামরিকভাবে এ সংঘাতে জড়িত না হয় সংস্থাটি। ন্যাটো সর্বদা স্পষ্ট করে বলেছে যে, তারা এ যুদ্ধে জড়াবে না। কেননা রাশিয়ার সাথে সরাসরি সংঘর্ষ শুরু হলে এ সংঘাত পারমাণবিক যুদ্ধে পরিণত হতে পারে। যা রোববারের পুতিনের সতর্কতা ছিল পারমাণবিক যুদ্ধ শুরু হওয়ার বিষয়টি আরও সরাসরি এবং সর্বজনীন।
নতুন সতর্কতা নিয়ে যা ভাবছে পশ্চিমারা
পারমাণবিক হামলার নতুন সতর্কতার বিষয়ে ক্রেমলিন জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রস এবং পশ্চিমা দেশগুলোর অন্যান্য নেতৃবৃন্দের আক্রমণাত্মক মন্তব্যের কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাশিয়া। পশ্চিমা কর্মকর্তারা বিশ্বাস করেন, পুতিনের নতুন সতর্কতার কারণ হচ্ছে পুতিন ইউক্রেন নিয়ে ভুল গণনা করছেন। এই যুদ্ধে রাশিয়া কতটা প্রতিরোধের মুখে পড়বে, পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়বে এসব বিষয় অবমূল্যায়ন করেছিল রাশিয়া। বর্তমানে এসব কারণে রাগ, হতাশা থেকেই পুতিন নতুন সতর্ক বার্তা দিয়েছে। শেষে আলোচনায় বসার সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে রাশিয়া। জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত লিন্ডা থমাস-গ্রিনফিল্ড বলেন, রাশিয়ার পারমাণবিক হামলার ঘোষণা দিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধকে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করে দাবি দাওয়া আদায় করে নেয়ার পাশাপাশি নিজেকে রক্ষা করতে চাচ্ছে রাশিয়া।
এ সংঘাতে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি কতটা?

ইউক্রেন সংঘাতে পারমাণবিক অস্ত্র প্রয়োগের ঘোষণা নিয়ে পুতিন বা পশ্চিমাদের মধ্যে যতো মিশ্র মতামত থাকুক না কেন এতে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি রয়েছে। সাধারণত পুতিনের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ঘোষণাকে বাকযুদ্ধ মনে করা হলেও এই নতুন সতর্কতাকে অন্য পক্ষ ভুল ব্যাখ্যা করলে সর্বদা ভুল হিসাবের ঝুঁকি থাকে। অর্থাৎ পারমাণবিক অস্ত্রের বাটনে হাতের ট্রিগারের চাপ পড়ে যেতে পারে। এতে যে কোনো সময় পারমাণবিক সংঘাতের ঝুঁকি কিছুটা বেড়ে যাবে। আর্মস কন্ট্রোল অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক ড্যারিল কিম্বাল বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধের এই পরিস্থিতিতে পারমাণবিক অস্ত্রের বিষয় নিয়ে আসাটা খুব বিপজ্জনক। এই সংকটে এটি চরম বিপজ্জনক মুহূর্ত।

বিশ্ব গণমাধ্যম বলছে, রাশিয়ার ইউক্রেন অভিযান পরিকল্পনামাফিক বাস্তবায়ন হচ্ছে না। অনেক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে রুশ সেনাদের। সামরিক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি সেনা হতাহতের পরিমাণও বাড়ছে যা রাশিয়াকে রাগ, ক্ষোভ ও হতাশার দিকে ঢেলে দিচ্ছে। ফলে পারমাণবিক হামলার দিকে এগুচ্ছে রাশিয়া। এতে কিছু মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা উদ্বিগ্ন যে, পুতিন যদি ইউরোপে কোনও যুদ্ধে পরাজয়ের মুখে থাকেন, তাহলে হয়ত তিনি ননস্ট্র্যাটেজিক পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করে বসতে পারেন। এসব অস্ত্রের আওতায় থাকা ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য এটি কোনও সুখবর নয়। ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রেরও এমন ২০০টি ননস্ট্র্যাটেজিক অস্ত্র রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর....