• রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ০৯:৩৪ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
পাহাড় খেকো সিন্ডিকেটের হাতে উখিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা পর্যুদস্ত, থানায় মামলা। উখিয়া কুতুপালং বাজার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিঃ এর নির্বাচনে-জানে আলম সভাপতি ও মোঃ আলী সাঃ সম্পাদক নির্বাচিত। উখিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম নুরুল ইসলাম চৌধুরী স্মৃতি বৃত্তি পরীক্ষা-২০২২ অনুষ্ঠিত ফলিয়াপাড়া আলিমুদ্দীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠান সম্পন্ন। মানসিক ভারসাম্যহীন লিল মিয়া দীর্ঘ ২০ বছর পর পরিবারের কাছে ফিরে তাক লাগিয়ে দিল। টেকনাফ মডেল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৭৮ কার্টুন বিদেশী সিগারেট পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার উখিয়ার থাইংখালী মহিলা হিফ্জ খানায় এ বছরে ৫ জন হিফজ সম্পন্নকারীদের সংবর্ধনা সম্পন্ন নাইক্ষ্যংছড়ি তুমব্রু সীমান্তে নিহত ডিজিএফআই কর্মকর্তা রেজওয়ান রুশদীর দাফন সম্পন্ন কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় দৈনিক ভোরের চেতনা পত্রিকার ২৪তম প্রতিষ্টাবার্ষিকী। প্রেমের ভিডিও ধারনের জেরে দপ্তরি হাফেজ দিদার খুন বলে সন্দেহ-ব্যাপারটা পুলিশ খতিয়ে দেখছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চলমান আমলাতন্ত্র ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় হোস্ট কমিউনিটির নিদারুন অসহায়ত্ব।

AnonymousFox_bwo / ১৮২ মিনিট
আপডেট মঙ্গলবার, ২৯ মার্চ, ২০২২

( প্রথম পর্ব)

এম আর আয়াজ রবি।

রোহিঙ্গা অধ্যুষিত সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো যেন সমাস্যার আবর্তে ঘূর্ণায়মান এক একটি জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরি। বিশেষ করে উখিয়া টেকনাফ যেন সমাস্যার আবর্তে ঘূর্ণায়মান জ্বলন্ত ভিসুভিয়াস! এখানে সমাস্যা আছে কিন্তু সমাধানের পথ বন্ধুর, কন্টাকাকীর্ণ। দিনে দিনে সমাস্যাগুলো অংকুরিত হয়ে চারা গাছ থেকে মহীরুহ আকার ধারন করছে। স্থানীয় প্রায় সাত লক্ষ বাসিন্দা, সাথে পার্শ্ববর্তী মায়ানমার থেকে আগত প্রায় চৌদ্দ লক্ষ রোহিঙ্গার ভারে অত্র এলাকা দারুনভাবে ন্যুব্জ হয়ে পড়ছে। এত বড় জনসংখ্যা অধ্যুষিত এলাকাকে পরিকল্পিত ভাবে, স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘকালীন পরিকল্পনার আলোকে নিয়ন্ত্রন করার কোন দৃশ্যমান উদ্দ্যোগ যেমন দেখা যাচ্ছে না, ঠিক তেমনি দিনে দিনে পরিবেশ, পরিস্থিতির অবনতির দিকে ধাবিত হচ্ছে এবং সৃষ্ট শ্বাপদসংকুল পরিবেশ পরিস্থিতি সামাল দেওয়া রীতিমত কঠিন ও দুঃসাধ্য হয়ে উঠছে।

প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে এবং জনপ্রতিনিধি ও সর্বসাধারনের মধ্যে অথবা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের ত্রিমুখী রসায়নের ক্ষেত্র সৃষ্টি না হওয়ায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে একে অপরের সাথে দুরত্ব পরিলক্ষিত হচ্ছে, যেটি দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য সর্বোপরি স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের জন্য মোটেও ইতিবাচক দিক নয়। তাছাড়া অত্র অঞ্চলে অনেকক্ষেত্রে ‘অনিয়মই নিয়ম, অন্যায়ের প্রতিবাদ করাই যেন অন্যায়’ এরুপ ধারায় পরিনত হয়েছে। অবৈধ ব্যবসা-বাণিজ্য, একচেটিয়া কনস্ট্রাকশন বাণিজ্য, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য-সামগ্রীর উর্ধ্বমুখী লাফানো ঘোড়া,স্বৈরতান্ত্রিক টেন্ডার বাণিজ্য, একচেটিয়া সাপ্লাই চেইন বাণিজ্য, ইয়াবা বাণিজ্য, সিন্ডিকেট বাণিজ্য, হাট-বাজার ইজারা বাণিজ্য, বালুমহল বাণিজ্য, প্রাকৃতিক পেরেক খ্যাত পাহাড় কেটে উজাড় করা বাণিজ্যসহ কত শত বৈধ বা অবৈধ বাণিজ্যের ছড়াছড়ি এ জনপদে বলাই বাহুল্য। এখন নতুন করে শুরু হয়েছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চাকুরী বাণিজ্য! এনজিও, আই এনজিও সমুহের প্রজেক্ট সংকোচনের অজুহাতে, স্থানীয় শিক্ষিত বেকার গোষ্টি চাকরিচ্যুত হয়ে বেকারত্বের অভিশাপে জর্জরিত হয়ে অনেকেই জীবন যাত্রার মান ধরে রাখতে গিয়ে হাতের নাগালে প্রাপ্ত সহজ অবৈধপন্থা অনুসরন করতে গিয়ে ইয়াবাসহ বিভিন্ন অপরাধকর্মে জড়িত হয়ে পড়ছে। যা এখন মারাত্মক সমাস্যা হিসেবে আভির্ভূত। সাথে রোহিঙ্গা সমাস্যা গোঁদের উপর বিষফোঁড়া হিসেবে তো জগদ্দল পাথর হিসেবে আছেই! এছাড়াও রয়েছে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। স্থানীয় ও দেশের বিভিন্ন এলাকা বা অঞ্চল থেকে এসে চাকুরীর সুবাধে স্থানীয়দের স্বার্থ পরিপন্থী কাজে নিজেদের জড়িত করে স্থানীয়দেরকে ভিতরে ভিতরে পুষে তোলে পরিবেশ পরিস্থিতি জটিল করে শান্ত পরিস্থিতিকে অশান্ত করার কু-মতলবে কাজ করছে।

এখানে প্রশাসন ও নির্বাচিত প্রতিনিধির মধ্যে সম্মিলিত উদ্দ্যোগ যেমন নেই, তেমনিভাবে নেই উপজেলাসমুহের মুল সমাস্যাগুলো চিহ্নিত করে, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাস্যাগুলোর সমাধানের কার্যকরী উদ্দ্যোগ। সামগ্রিকভাবে অত্র এলাকার প্রায় ৭ লক্ষ স্থানীয় জনসাধারনের ভাগ্যোন্নয়নে তেমন কোন ‘কনস্ট্রাক্টিভ ইন্টেগ্রেটেড এন্ডেয়েভর’নেই। উপজেলার সাধারন মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য, অনেক ক্ষেত্রে উপজেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিসমুহ সম্মিলিত উদ্দ্যোগ নিলেও যেকোন এক পক্ষের অবহেলা ও উদাসীনতার কারনে মহতি উদ্দ্যোগ গুলোর সঠিক বাস্তবায়ন মুখ থোবড়ে পড়তে দেখি বারংবার। আবার উভয় পক্ষের সম্মিলিত সাহসী উদ্দ্যোগগুলো উভয় পক্ষের ‘পারফেক্ট কম্বিনেশন’ ছাড়া এক পক্ষ কর্তৃক সঠিকভাবে সমাধান ও বাস্তবায়ন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই অনেকক্ষেত্রে অনেক বড় বড় পরিকল্পনা ও উদ্দ্যোগ সঠিক পরিকল্পনা ও সমন্নয়হীনতার কারনে সুষ্টভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না অনেকক্ষেত্রে খুব কঠিন ও দুরুহ হয়ে পড়ছে। তাই উপজেলা প্রশাসন ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির যৌথ ও সম্মিলিত প্রয়াসে দলীয় ও ক্ষুদ্র স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে, দেশ ও দেশের মানুষের বৃহত্তর কল্যাণের স্বার্থে সমাস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানের জন্য এগিয়ে না আসলে পরিকল্পিত উখিয়া টেকনাফ বিনির্মাণের স্বপ্ন সাধ অচিরেই ধুলায় মিশে যাবে !

বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়োজিত সিআইসি ও এপিবিএন এর বিরুদ্ধে হোস্ট কমিউনিটির অভিযোগের অন্ত নেই। সাথে আই এনজিও ও এনজিও গুলো তো আছেই। ঠিক কাদের স্বার্থ সংরক্ষণ করতে গিয়ে এবং কাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে ক্যাম্পে নিয়োজিত সিআইসি ও এপিবিএন পুলিশ সদস্যরা হোস্টদের বসত বাড়ি উচ্ছেদ করে প্রতিনিয়তই তাদের নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে, সেটা অনুসন্ধানের কারণ রয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠাই স্বাভাবিক-সাধারণ জানগণের ট্যাক্সের টাকায় যাদের বেতন, ভাতা, জীবিকা নির্বাহ, সেসকল সরকারের নিয়োজিত প্রতিনিধি ও সংস্থার কাছে যদি স্থানীয়রা নিরাপত্তা না পায়, নিরাপত্তা বোধ না করে, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন রাখার ব্যাপারে দুরদর্শী চিন্তা চেতনার লালন করা না যায়, তাহলে রোহিঙ্গাদের কাছে স্থানীয়দের নিরাপত্তা কোথায়? ক্যাম্প প্রশাসনের রোহিঙ্গাপ্রীতি ও স্থানীয়দের প্রতি বিদ্বেষী বা বিমাতাসুলভ আচরণ দিন দিন রোহিঙ্গাদের হোস্টদের প্রতি নেতিবাচক বার্তা বহন করছে এবং রোহিঙ্গাদের অতিমাত্রায় আগ্রাসী মনোভাব তৈরী করছে, যা হোস্টদের জন্য মারাত্মক নেতিবাচক বার্তা পৌঁছে যাচ্ছে। এটি গেস্ট ও হোস্ট কমিউনিটির সহবস্থানে প্রতিকুল আবহ সৃষ্টি করছে নিশ্চয়ই এবং রোহিঙ্গারা তাদের অন্তঃমনে লালায়িত স্বপ্নসাধ পুরণে পাথেয় ও লজিসটিক্স খুঁজে পাবে।

লেখকঃ কক্সবাজার প্রতিনিধি- বিডি ন্যাশনাল টিভি, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি- জাতীয় দৈনিক লাল সবুজের বাংলা, প্রেসিডেন্ট- বাংলাদেশ জাতীয় সাংবাদিক ফোরাম ( BNJF) উখিয়া উপজেলা ও ভাইস-প্রেসিডেন্ট  উপজেলা প্রেসক্লাব উখিয়া।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর....