• বুধবার, ১৮ মে ২০২২, ০৯:১২ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
তথাকথিত কোটিপতি তকমাদারীর আয়ের উৎস ও সামাজিক অবস্থান এবং মাদক প্রতিরোধে প্রশাসনিক দুর্বলতার ছাপ! মানবিকতার জঘন্যতম দৃষ্টান্ত স্থাপনে কক্সবাজারে আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্টার চেষ্টায় রোহিঙ্গারা। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হাসপাতাল নয়, যেনো এক একটি রোহিঙ্গা প্রজনন কেন্দ্র। সমুদ্রের পানির উচ্চতা ঝুঁকিতে ‘বিশ্ব’ ও ‘বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল’। মধ্যপ্রাচ্যের ‘ক্যান্সার খ্যাত’ ইসরাইল রাষ্ট্রের উভ্যূদয় ও রোহিঙ্গা জনগোষ্টির ‘স্বাধীন রাষ্ট্র’ স্বপ্ন ও বাস্তবতা রোহিঙ্গা সমাস্যা’ যা বাংলাদেশের গোঁদের উপর বিষফোঁড়াঃ একটি পর্যালোচনা। প্রেক্ষাপটঃ তৈল বিদ্যার তেলেসমাতি–যার প্রভাবে বর্তমান পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে ত্রাহি ত্রাহি ভাব! বাজার নিয়ন্ত্রণ, মিথ্যার বেসাতি আর গোল খাওয়া পাবলিক ইসলামিক ‘রোজা’ ও বৈজ্ঞানিক ‘অটোফেজি’ শব্দের অর্থ, সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য। উখিয়া ভুঁইয়া ফাউন্ডেশন কর্তৃক মোটর সাইকেল শোভাযাত্রা, ঈদ পুর্ণমিলন ও বীচ ফুটবল খেলা সম্পন্ন।

কচু শাকের মায়া!

AnonymousFox_bwo / ১২৮ মিনিট
আপডেট বৃহস্পতিবার, ৩১ মার্চ, ২০২২

শহীদুল ইসলাম চৌধুরী 

তখন আমার বয়স খুব বেশি না। ক্লাস সেভেন এইট বা নাইনে পড়ি। আমার মা মাঝে মাঝে কচু শাক (লক্ষী শাক)রান্না করতেন। রান্না শেষে ২/৪ বাটি আশেপাশের চাচা-চাচী, দাদা-দাদী দের বাসায় আমাকে দিয়ে পাঠাতেন। উনাদের বাসায় ভালো মন্দ কিছু রান্না হলে বাটি চলে আসতো আমাদের বাসায়।

তেমনি তালের পিঠা, কাঁঠালের কোয়া, মুরগির ২/৩টি টুকরার একটি বাটি পাশের ২/১ বাড়িতে আদান-প্রদান নিত্যনৈমত্তিক বিষয় ছিল। এ আনা-নেওয়ার কাজটা করতো বাড়ির ছোট ছেলেটা বা মেয়েটা। আমরা ধরে নিতাম কোন বাসায় ভালো কিছু রান্না বা পিঠা হলে আমাদের বাসায় ও বাটি চলে আসবে।

বিভিন্ন উপলক্ষে দূর-দূরান্তে ফুফু খালাদের বাসায় টিফিন ক্যারিয়ার করে খাবার বয়ে নেওয়ার দায়িত্বটা ও আমার ছিল। আমার মতো অনেকেই সেই কাজ করেছেন।

আজকের দিনে সেই কচু শাকের বাটি বা পিঠা, তরকারির বাটি আদান-প্রদান খুব বেশি চোখে পড়ে না। আজ বুঝি সেই বাটিটা কচুশাকের ছিলনা, ছিল এক বাসা থেকে আরেক বাসায় ‘মায়া-মমতা’ চলাচলের বাটি।

একটু কি খেয়াল করেছেন? মায়াবী যে ছোট ছেলেটার হাতে করে কচুশাকের বাটির মাধ্যমে এ বাড়ি থেকে ওই বাড়িতে ‘ভালোবাসা’ গেল, সেই ছেলেটা কি কখনো দুই বাড়িতে ঝগড়া হলে ঝগড়ার সময় নিজে লাঠি হাতে তার চাচা, দাদা, চাচাতো ভাইয়ের মাথায় আঘাত করতে পারবে? পারবে না- কারণ ‘মায়ার’ বাটি চলাচালের সে ছিল ‘রানার’। আমরা কখনও পারিনি পার্শ্ববর্তী নিকটাত্মীয়ের চোখে চোখ রেখে কথা বলতে। এখনো পারিনা।

শত কাজের লোক আমার-আপনার বাড়িতে থাকলেও আমি-আপনি কি পারিনা আমার- আপনার ছোট সন্তানকে দিয়ে খালা ফুফুর বাড়িতে টিফিন ক্যারিয়ার পাঠাতে? ফুফু -খালা বিদায় বেলায় খুব কাছ থেকে আদর করে 50 /100 টাকা হাতে গুঁজে দিয়ে যখন বলবে ‘সাবধানে যাবি ‘ ‘কিছু কিনে খাবি ‘ তখন আপনার আমার ছেলের চোখ মুখ কি পরিমান উজ্জ্বল হয়ে উঠবে সেটা কি আমি আপনি কল্পনা করতে পারছি? নিজের শৈশবের কথা চিন্তা করে দেখুন। এতে নিকটাত্মীয়ের সাথে তার যে প্রেম মায়া-মমতা গড়ে ওঠে সেটা কি স্বার্থ সম্পদের ঊর্ধ্বে নয়!

আমরা পারিনা বা করিনা এক বাটি কচুশাক পাশের বাড়িতে পাঠাতে। ছেলেটাকে ফুফু খালার বাড়ি পাঠাতে। সমাজ আজ আমাদের আত্মকেন্দ্রিক করতে করতে চার দেয়ালে এমন ভাবে বন্দি করেছে যে, রক্তের বন্ধন ভুলতে বসেছি।আত্মীয়তার সম্পর্ক ভুলতে বসেছি। আজ ফিল করি সে কচুশাকের মায়ার বাটি যা ছিল ভালোবাসার বন্ধ

লেখকঃ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩১তম ব্যাচের পদার্থ বিদ্যা বিভাগের বন্ধু ও বর্তমানে লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর....