• রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ০৮:৪২ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
পাহাড় খেকো সিন্ডিকেটের হাতে উখিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা পর্যুদস্ত, থানায় মামলা। উখিয়া কুতুপালং বাজার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিঃ এর নির্বাচনে-জানে আলম সভাপতি ও মোঃ আলী সাঃ সম্পাদক নির্বাচিত। উখিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম নুরুল ইসলাম চৌধুরী স্মৃতি বৃত্তি পরীক্ষা-২০২২ অনুষ্ঠিত ফলিয়াপাড়া আলিমুদ্দীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠান সম্পন্ন। মানসিক ভারসাম্যহীন লিল মিয়া দীর্ঘ ২০ বছর পর পরিবারের কাছে ফিরে তাক লাগিয়ে দিল। টেকনাফ মডেল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৭৮ কার্টুন বিদেশী সিগারেট পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার উখিয়ার থাইংখালী মহিলা হিফ্জ খানায় এ বছরে ৫ জন হিফজ সম্পন্নকারীদের সংবর্ধনা সম্পন্ন নাইক্ষ্যংছড়ি তুমব্রু সীমান্তে নিহত ডিজিএফআই কর্মকর্তা রেজওয়ান রুশদীর দাফন সম্পন্ন কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় দৈনিক ভোরের চেতনা পত্রিকার ২৪তম প্রতিষ্টাবার্ষিকী। প্রেমের ভিডিও ধারনের জেরে দপ্তরি হাফেজ দিদার খুন বলে সন্দেহ-ব্যাপারটা পুলিশ খতিয়ে দেখছে।

সাংবাদিকতার শিক্ষকের এপিবিএন-১৪ এর কনস্টেবল হওয়ার গল্প!

AnonymousFox_bwo / ১৪৪ মিনিট
আপডেট সোমবার, ৪ এপ্রিল, ২০২২

আইকন নিউজ ডেস্কঃ

( হুবহু তুলে ধরা, Azim Nihad এর টাইমলাইন থেকে)

আমি আজিম নিহাদ। বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিচিত শহর কক্সবাজারে সাংবাদিকতা করি। বিভিন্ন মিডিয়া হাউজ ঘুরে এখন গত ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে চীফ রিপোর্টার হিসেবে কাজ করছি টিটিএনে। সাংবাদিকতায় আমার একটা বদ নেশা (অনেকের মতে) হলো প্রকৃত ঘটনা খুঁজে বেড়ানো। তাই ঘটনাস্থলে না গিয়ে খুব একটা রিপোর্ট করি না।
একটি প্রতিবেদন এবং আরেকটি বিষয় ভিত্তিক অনুষ্ঠানের ভিডিও ধারণ ও ইন্টারভিউ করার জন্য আমি এবং আমার অফিসের ভিডিও জার্নালিস্ট লোকমান হাকিম রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গিয়েছিলাম আজ রোববার। আমরা ক্যাম্পে যাওয়ার আগে সকালে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন থেকে লিখিত অনুমতি পত্র নিই। সকালে ক্যাম্প ৮ এবং ৯ এ কাজ করার পর দুপুরের দিকে আমরা ক্যাম্প-৪ এর মোচরা বাজার এলাকায় যায়। সেখানে বাজারের সরগরম পরিবেশের ভিডিও ধারণ করছিলেন আমার ক্যামেরাম্যান লোকমান হাকিম। তখন আমি বাজারের একপাশে সিএনজিতে বসে সারাদিনের কাজগুলো পর্যালোচনা এবং কোথাও গ্যাপ থেকে গিয়েছে কিনা দেখছিলাম।
এরইমধ্যে হঠাৎ তাড়াহুড়ো করে সিএনজির কাছে আসে লোকমান। তখন তার হাতে ক্যামেরা ছিলনা। আমি তাকে ক্যামেরার কথা জিজ্ঞেস করলে সে জানায়, এপিবিএন সদস্যরা তার কাছ থেকে ক্যামেরা নিয়ে নিয়েছে। পরে আমিসহ অনুমতির পত্রটি নিয়ে মোচরা বাজারের এপিবিএন চেকপোস্টে গেলাম। সেখানে অনুমতিপত্র দেখানোর পর আরও ক্ষেপতে শুরু করলো মতিন নামে এক কনস্টেবল (নায়েক)। লোকমানকে যা ইচ্ছে তা বলে (গালিগালাজ) যাচ্ছে।
আমি তখন এপিবিএনের সদস্য মতিন সাহেবকে বললাম ভাই সে (লোকমান) ছোট মানুষ। হয়ত বুঝতে পারে নাই। আমাকে বলেন কি হয়েছে আসলে?
তখন এপিবিএনের মতিন আমাকে প্রশ্ন করলো আপনারা এখানে যে কাজ করছেন কার অনুমতি নিয়েছেন? তখন আমি বললাম আরআরআরসি’র অনুমতি নিয়ে ক্যাম্পে কাজ করতে এসেছি ক্যাম্পে৷ আরআরআরসির নাম মুখে নেওয়ার পর দেখছি আরো ক্ষেপতে শুরু করলো। আমাকে তিনি বললেন, এখানে কিসের আরআরআরসি? আপনি জানেন না ক্যাম্প এখন আমরা (এপিবিএন) নিয়ন্ত্রণ করি? আমাদের পারমিশন ছাড়া কে ঢুকতে বললো আপনাকে?
আমি তখন মতিনের সাথে কথা বলা থামিয়ে লোকমানকে তাদের সামনে জিজ্ঞেস করলাম আসল ঘটনা কি?
লোকমান উপস্থিত অন্যান্য এপিবিএন সদস্যের সামনে ঘটনার বর্ণনা দিল। লোকমান জানায়, সে (লোকমান) যখন মোচরা বাজারে রোহিঙ্গাদের ফুটেজ সংগ্রহ করছিলেন তখন সাদা পোশাকধারী এক ব্যক্তি তার কাছে জানতে চেয়েছিল ভিডিও ধারণের অনুমতি আছে কিনা? তখন লোকমান বলেছিলেন তার কাছে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের (আরআরআরসি) অনুমতি পত্র আছে। এইটা বলতে বাকি নেই তাকে ধরে পাশের এপিবিএন চেকপোস্টে নিয়ে গেলো। সেখানে নিয়ে গিয়ে ক্যামেরা কেড়ে নিল। চেকপোস্টে থাকা কনস্টেবল মতিন তখন তাকে বলল শালারপুত অনুমতি পত্র নিয়ে আই।
বেচারা লোকমান এসে তার হাতে অনুমতি পত্রটি দিল। আমি আসার পর মতিন এবং অন্যান্য এপিবিএন সদস্যের কাছে জানতে চাইলাম লোকমানকে হেনস্তা করার কারণ কি? তখন কনস্টেবল মতিন আমাকে বললো অনুমতিপত্রটি দেওয়ার সময় নাকি লোকমানের চেহারার ভঙ্গি ঠিক ছিলনা। এটাই তার অপরাধ!
(এরপর পরের ঘটনায় আমিসহ)
মতিনকে অনুমতি পত্রটি দিয়ে বললাম আমরা অনুমতি নিয়েই কাজ করতে এসেছি। গত একমাস ধরে কাজটি করছি আমরা৷ তখন বললো আরআরআরসি মানে কি? তখন আমি সেটারও বর্ণনা করলাম। তবুও বুঝতে চাইলো না। এক পর্যায়ে গালিগালাজ শুরু। তখন ওয়ারলেসে সিগন্যাল দিয়ে সজিব নামে একজন এসআইকে ডেকে আনলো চেকপোস্টে।
মতিনের ক্ষমতা আরো বেড়ে গেলো। তখন আমাকে বললো টিটিএন এটা কি? আমি টিটিএনেরও বর্ণনা দিলাম। তখন মতিন বলে লোকাল মিডিয়া হয়ে ভাব চুদাও। এই রকম সাংবাদিক আমার হাত থেকে কত বের হয়েছে হিসেব নেই। ১২ বছর আগে সাংবাদিকদের পড়াইতাম আমি। সাংবাদিকতা চুদাও আমাকে। আমি তাকে করজোড়ে বললাম ভাই আমাদের অপরাধটা কি? অপরাধ একটাই লোকমানের চেহারার ভঙ্গি ঠিক ছিলনা।
সারাদিন রোজা, সকাল থেকে ক্যাম্পে দৌড়াইতে দৌড়াইতে লোকমান বেচারা হাঁপিয়ে উঠেছে। আমার অবস্থা আরো নাজুক। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী কোন উপহার নিয়ে এসে আমাদের সামনে হাজির হলেও ওই সময়ে হাসি ফুটার কথা নয়।
অবস্থা বেগতিক দেখে এইবার আমি অতিরিক্ত আরআরআরসি শামসুদ্দৌজা ভাইকে ফোন করলাম। শামসুদ্দৌজা ভাই ভীষণ ভদ্র এবং বিনয়ী মানুষ। তিনি আমাকে বললেন ওখানে কোন অফিসার আছে মোবাইলটা তাকে দেন, আমি কথা বলি। পর পর দুইবার শামসুদ্দৌজা ভাই ফোন করলেন, দুইবারই আমার কাছ থেকে ফোন নিয়ে কল কেটে দিলেন এসআই সজিব। বললেন আরআরআরসি কি? এসব আমরা চিনি না। ক্যাম্পে কাজ করলে আমাদের কমান্ডিং অফিসারের পারমিশন লাগবে।
আমি যখন চেকপোস্টে এসআই সজিবের সাথে কথা বলছিলাম তখন লোকমানকে আজেবাজে ভাষায় কি পরিমাণ গালি দিয়েছে কনস্টেবল মতিন সেটা তার দুই কাঁধের ফেরেস্তা স্বাক্ষী। শুধুমাত্র গলাটিপে মেরে ফেলাটা বাকি রেখেছে। এক পর্যায়ে মতিন আমাদেরকে বললো “জানিস আমি চাইলে এখন তোদের রোহিঙ্গা বানিয়ে ক্যাম্পে আটকে রাখতে পারি’? তোদেরকে রোহিঙ্গা বানিয়ে এখানে ফেলে রাখা কোন ব্যাপার না। লোকমানের চোখ টলমল করছে ততক্ষণে। আমিও ভীষণ অসহায় হয়ে গেলাম। কারণ হঠাৎ ধরে যদি মাদক বা অন্যকিছু গুজিয়ে দিয়ে মাদককারবারি সাজায়? কারণ কক্সবাজারে সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে যা বলা হয় সেটাকে প্রেস রিলিজি আকারে ছাপানো হয়। কোন সময় সাংবাদিকরা বা সমাজের সচেতন মহল প্রশ্ন তুলতে সাহস করেনি যাকে আটক দেখানো হচ্ছে সে আসল অপরাধী কিনা? কারণ প্রশ্ন না করতে করতে এখানকার মানুষ মৃত্যুর আগে কলেমাপড়া ছাড়া আসল অপরাধী বা তার উপর জুলুমের কথা এখন আর বলে না বা বলার সাহস করে না।
যা হোক, এক পর্যায়ে ওয়ারল্যাসে নির্দেশ আসলো তাদের কাছে আরআরআরসি’র অনুমতি থাকলে কাজ করতে দাও। ক্যামেরা দিয়ে দাও। কিন্তু সেটা মানতে নারাজ এসআই সজিব এবং কনস্টেবল মতিন। মতিন তখন সজিবকে বলে স্যার এএসপি (সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয়, মোচরা বাজারের পাশে) স্যারের অফিসে নিয়ে যান। আমরা ততক্ষণে আসামীর মত অসহায় হয়ে গেলাম। স্বয়ং আল্লাহ নিচে নেমে আসলেও মানতে এবং কথা বলতে নারাজ মহা ক্ষমতাবান মতিন। আমাদের সিএনজিতে অস্ত্রধারী একজন কনস্টেবল দিলো। তারপর আগে-পরে পুলিশ পহরায় এএসপির অফিসে নিয়ে যাওয়া হলো আমাদের। আমি আর লোকমান ঢুকলাম কর্তা সাহেবের অফিসে।
আমাদের কোন কথা শোনার আগেই এএসপি সাহেব বলে উঠলেন সাংবাদিক হয়েছেন বলে কি পুলিশের সাথে ক্ষমতা দেখাবেন? আমি ঘটনার বর্ণনা দিতে চাইলাম। কিন্তু সেখানে আগে থেকে হাজির করা বানোয়াট স্বাক্ষীরা (এপিবিএন সদস্য) অনর্গল বানোয়াট কথা বলা শুরু করলো। আমাদের কোন কথা শুনলোইনা। অনেকক্ষণ দাঁড় করিয়ে রাখার পর এক পর্যায়ে বসতে বললো। ততক্ষণে তাদের ওয়ারল্যাস এবং মুঠোফোনে মেসেজ আসতে শুরু করলো তাদের হাইয়ার অথরিটি থেকে।
অনেকক্ষণ জ্ঞান নেওয়ার পর আমি বললাম রোজা রেখে পাহাড়ে দৌড়াদৌড়ি করার কারণে লোকমানের মুখে কথা বলার সময় হাসি ছিল না৷ এই অপরাধের জন্য আমাদের এতবড় শাস্তি দিতে হলো? তখন এএসপির অফিসে বসা সাদা পোশাকধারী আরেক লোক বললো সারাদিন আমরা রোজা রাখিনা? আমরা রোজা রেখে ডিউটি করি না? আমাদের কাজতো আপনাদের চোখে পড়েনা। আমি বললাম সেরকম হবে কেনো? অবশ্যই আপনাদের ভালো কাজ, দেশের প্রতি নিবেদিত প্রাণ সবকিছুইতো দেখি।
তখন আরেকটা কথা খুব বলতে ইচ্ছে করছিলো, আসলে এই দেশে পুলিশকে ভয় পায় না এমন কোন প্রাণী বোধহয় নেই। তাও আবার এপিবিএনের অন্ধ পুলিশ কর্মকর্তার (চোখ থাকতেও তিনি আসল ঘটনা জানতেও চাইলোনা, শুনতেও চাইলো না) কার্যালয়ে। তাই মুখ ফুটে না বললেও, মনে মনে বললাম, পুলিশ কি দেশকে বিনামূল্যে সার্ভিস দেয়? কিন্তু সাংবাদিকতো সারাক্ষণ দেশের অতন্দ্র প্রহরী হয়ে কাজ করে (কিছু মাফিয়া এবং বাটপার সাংবাদিক ছাড়া)। কই সাংবাদিকদেরতো আর সরকার বেতন দেয় না।
যা হোক, মনে মনে আরো অনেক কথা আসলেও পরিস্থিতি আমার মুখে তালা লাগিয়ে দেয়। কারণ আমাদের কথা তারা একবারও শুনতেও চায়নি।
এএসপি ভদ্রলোক আমাদের শাসিয়ে এক পর্যায়ে বিদায় দিলেন। আমরা চলে আসলাম। পুরো কাজটাই মাটি করে দিলো তারা।
তবে এপিবিএন নিয়ে কিছু প্রশ্ন না করলেই নয়, এপিবিএনের এতগুলো ইউনিট থাকতে কিভাবে শত শত রোহিঙ্গা মালয়েশিয়া বা বিভিন্ন দেশে যেতে ক্যাম্প থেকে বের হয়?
বাইরের সিএনজি নিয়ে ক্যাম্পে প্রবেশ করতে দেয় না। কারণ ক্যাম্পের অভ্যন্তরে অসংখ্য সিএনজি আছে, যেগুলো এপিবিএনকে নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে চলে। এপিবিএনের আরো অসংখ্য অভিযোগ আছে। দেশের স্বার্থের কথা বলে তাদের অনিয়ম তুলে ধরতে অনেক সময় বিভিন্ন জায়গা থেকে নিরুৎসাহিত করা হয়। কিন্তু অপরাধ আর অপরাধীর সাথে দেশের কি স্বার্থ?

(দেশের প্রতি নিবেদিত প্রাণ পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা)


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর....