• রবিবার, ০২ অক্টোবর ২০২২, ০৬:৩৩ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
এ বছরে নোবেল প্রাইজের জন্য মনোনীত বাংলাদেশী চিকিৎসক রায়ান সাদী কক্সবাজারে ৪২ কোটি টাকায় বনায়ন, নতুন রূপে সাজবে হিমছড়িসহ কক্সবাজার জেলা। পুলিশের প্রশিক্ষণ খাতে এনজিওগুলো শত শত কোটি টাকা অনুদান পেয়েছে : বেনজীর আহমেদ  রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গত রাতেও ০১ জন খুন, অস্থিতিশীল অবস্থায় স্থানীয়রাও চরম আতংকে। র‍্যাব-৭ কর্তৃক ২ লক্ষ ৩৮ হাজার ইয়াবাসহ ০৩ জন আটক। র‍্যাব-৭ কর্তৃক ২ লক্ষ ৩৮ হাজার ইয়াবাসহ ০৩ জন আটক। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক মুল্য ৬ কোটি। উখিয়া রেঞ্জকর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে উদ্ধারকরা ৩ শতাধিক বক অবমুক্ত করা হয় উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এক রোহিঙ্গা ভলান্টেয়ারকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নির্মমভাবে খুন। ঘুংধুম সীমান্তে চরম উত্তেজনায় এসএসসি ও সমমানের পরিক্ষার কেন্দ্র পরিবর্তন শাড়ি পরে কলেজে গেল ছেলে, ছবি পোস্ট করলেন ‘গর্বিত’ বাবা!

সংবাদ, সাংবাদিক/সাংবাদিকতা, অপ-সাংবাদিকতা ও প্রাসংগিক কিছু কথা।

AnonymousFox_bwo / ১৭৭ মিনিট
আপডেট মঙ্গলবার, ১২ এপ্রিল, ২০২২

এম আর আয়াজ রবি।

[প্রথম পর্ব]
‘News’ বা ‘সংবাদ’ এমন একটি শব্দ, যেটা সবসময় বহুবচন অর্থে প্রকাশ পায়। এজন্য সংবাদ বিশ্লেষকরা ‘News always be new’ বলে অভিহিত করেছেন। ‘News’ বা ‘সংবাদ’ যাই বলা হয়ে থাক না কেন, ‘সংবাদ’ হলো চলতি ঘটনার বস্তুনিষ্ঠ বিবরণ ও প্রকাশ, যে বিষয়ে পাঠকের চিন্তন, আগ্রহ, মনোভাব ও আকাঙ্ক্ষা উদ্দীপিত করে। এ কথাটাকে অন্যভাবে বললে বলা যায়-যে ঘটনা বা ঘটনাপুঞ্জ, যেটা/যেগুলো যেকোন মাধ্যমে (ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়া, প্রিন্ট মিডিয়া বা পোর্টাল/ভাচ্যুয়াল মিডিয়া) প্রকাশিত হলে, ব্যক্তি বা সমাজে যে বিভিন্ন ক্রিয়া বা প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় এবং সেসব ঘটনা বা ঘটনাবলীর প্রতিবেদন অবশ্যই সত্য, নিরপেক্ষ, বস্তুনিষ্ঠ, গুরুত্বপূর্ণ এবং মানুষের মনে কৌতুহল, উদ্দীপনা, আগ্রহ জন্মায় অথবা ঘটনাগুলো থেকে ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার জন্ম লাভ করে,তাকে খবর বা সংবাদ বলে। প্রতিদিন ঘটে যাওয়া ঘটনাই শুধু সংবাদ নয়। আমাদের চর্তুপার্শ্বে বিদ্যমান যে কোন সমস্যাও হতে পারে এক একটি সংবাদ।
বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সংবাদকে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করেছেন। যেমন, সংবাদ বিশেষজ্ঞ হ্যারিস ও জিনসন বলেন, ‘সংবাদ হচ্ছে একটি ঘটনা, বিষয় বা মতামতের বিবরণ যা জনগণ আগ্রহ নিয়ে পড়ে।’ আবার নিউ ইয়র্ক সান পত্রিকার সম্পাদক চার্লস এ. ডানার মতে, ‘মানুষকে যা বিস্মিত ও অবাক করে তাই সংবাদ।’ তিনি তার এ সংজ্ঞাটির আরও উৎকর্ষ করে বলেন, ‘ইতিপূর্বে মনোযোগ আকৃষ্ট হয়নি অথচ সমাজে বৃহত্তর অংশকে কৌতূহলী করে তোলে, এমন যে কোনো বিষয়ই ‘সংবাদ’।

সাধারণভাবে যিনি সংবাদপত্র বা বিভিন্ন মাধ্যমের জন্য সংবাদ সংগ্রহ করেন, সত্যমিথ্যা যাচাই বাছাই করেন, লিখেন, প্রকাশ করেন তাকেই সাংবাদিক বলে অভিহিত করা হয়। তবে বর্তমান সময়ের আধুনিক সাংবাদিকতার বিশাল পরিসরে সাংবাদিককে নির্দিষ্ট কোনো সংজ্ঞায় বেঁধে দেওয়া কষ্টসাধ্য বিষয়। এখন সংবাদপত্রের ধরনে যেমন পরিবর্তন এসেছে, তেমনি সাংবাদিকদের কাজের পরিধিতেও এসেছে পরিবর্তন। সাংবাদিকরা জাতির বিবেক। ‘শতভাগ সঠিক সংবাদ প্রচারের কোনো বিকল্প নেই। মানুষ ঘটনার সঠিক সংবাদ জানতে চায়। সত্য লুকানোর মধ্যে ঘটনার প্রতিকার হয় না। সঠিক ও সৎ সাংবাদিকতা সমাজ বদলে দিতে পারে’।

সংবাদদাতা বা সাংবাদিক (ইংরেজি: Journalist) বিভিন্ন স্থান, ক্ষেত্র, বিষয় ইত্যাদিকে ঘিরে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংবাদ সংগ্রহসহ বিভিন্ন ধরণের তথ্য সংগ্রহপূর্বক সংবাদ কিংবা প্রতিবেদন রচনা করে সংবাদমাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রেরণ করে থাকেন, এটাই সাংবাদিক বা সংবাদদাতার কর্ম।

একজন প্রতিবেদক তৃণমূল পর্যায় থেকে তথ্যের উৎসমূল অনুসন্ধান করেন, প্রয়োজনে সাক্ষাৎকার পর্ব গ্রহণ করেন, গবেষণায় সংশ্লিষ্ট থাকেন এবং অবশেষে প্রতিবেদন প্রণয়নে অগ্রসর হন। তথ্যের একীকরণ সাংবাদিকের কাজেরই অংশ, যা কখনো কখনো রিপোর্টিং বা প্রতিবেদন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকে।

সততা ও পেশাদারিত্ব একজন সাংবাদিকের সবচেয়ে বড় গুণ ও ভিত্তি। অনেক যোগ্যতা ও দক্ষতা থাকলেও সততা ও পেশাদারিত্বের অভাবে অর্জিত সম্মান ধুলোয় মিশে যেতে পারে। যেহেতু গণমাধ্যমকে সমাজের দর্পণ বলা হয়, তাই গণমাধ্যমকর্মীদেরও দর্পণের মতো স্বচ্ছ হতে হয়। এটা যেমন তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশবিশেষ, তেমনি সাংবাদিকতার বিশেষ ভূষণও বটে।

যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি ইউনিভার্সিটির গবেষকরা ব্যাপক অনুসন্ধানের পর উপলব্ধি করেন, মিডিয়ার রীতিসিদ্ধ সীমানায় প্রযুক্তি আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের চলমান প্রভাব বজায় থাকলে ‘সাংবাদিকতা’ ধারণাটির একটি স্থির সংজ্ঞা অবশ্যই লাগবে। কিন্তু সাংবাদিকতার স্থায়ী বা সর্বজনগ্রাহ্য সংজ্ঞা নেই।
ইংরেজি ‘Journal’ ও ‘Ism’ শব্দের মিলনে ‘Journalism’ শব্দটি তৈরি। ‘Journal’ হচ্ছে কোনো কিছু প্রকাশ করা আর ‘Ism’ মানে অভ্যাস করা, অনুশীলন বা চর্চা করা। সুতরাং বলা যেতে পারে, সমাজে বিদ্যমান সামঞ্জ্যতা, অসামাঞ্জ্যতা, অভাব, অভিযোগ, আনন্দ, খুশী, সফলতা বা ব্যর্থতার ঘটনা বা দূর্ঘটনার প্রকাশ করার জন্য যে চর্চা বা অনুশীলন করা হয়, তা-ই সাংবাদিকতা বা জার্নালিজম। সাদামাটা ও সংকীর্ণ ভাষায়, যিনি সংবাদপত্র বা ইলেক্ট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার জন্য সংবাদ সংগ্রহ করেন, যাচাই-বাছাই করেন এবং বস্তুনিষ্ট ও নিরপেক্ষভাবে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ করেন, তাইই সাংবাদিকতা। তবে আধুনিক সাংবাদিকতার বিশাল আঙ্গিনায় সাংবাদিকতাকে কোনো নির্দিষ্ট সংজ্ঞায় বেঁধে দেওয়া যায় না।
প্রেস কাউন্সিল এ্যাক্ট-এ সাংবাদিকতার একটা সংজ্ঞা দেয়া আছে। এতে বলা হয়েছে : “ Working journalist means the activity or profession of writing for newspapers, magazines, or news websites or preparing news to be broadcast by a person who is employed as such in, or in relation to, any newspaper establishment and includes an editor, a leader writer, news editor, sub-editor, feature writer, reporter, correspondent, copy tester, cartoonist, news photography, calligraphist and proof reader. “

উপরোক্ত সংজ্ঞা থেকে স্পষ্টতঃ প্রতীয়মান হয় যে, সংবাদপত্র অফিসে কর্মরত সম্পাদক, উপ-সম্পাদকীয় লেখক, বার্তা সম্পাদক, সহ-সম্পাদক, ফিচার সম্পাদক, প্রতিবেদক, প্রতিনিধি, লিপিবদ্ধকার, কার্টুনিস্ট, আলোকচিত্রী ও প্রুফ রিডার-সকলেই সাংবাদিক। এঁরা খবরের সন্ধান করেন, খবরের পেছনে ছোটেন, খবর নির্বাচন করেন, সম্পাদনা করেন, সংশোধন করেন। সাংবাদিকরা যা করেন, তা হচ্ছে সাংবাদিকতা। অন্যদিকে সাংবাদিকতা হচ্ছে কাজ। এঁদের কাজ হচ্ছে তথ্য সংগ্রহ করা, প্রতিবেদন লেখা এবং সম্পাদনা করা।

তথ্যপ্রয়ুক্তির অবাধ ব্যবহারের কারনে বর্তমানে আমাদের এই ছোট্ট আয়তনের বাংলাদেশে গনমাধ্যমকর্মী বা সাংবাদিকদের আধিক্য বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। সংবাদপত্র, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া বা অনলাইন মিডিয়ায় কাজ করছে কেউ আবার করে নাই এমন লোকদের এখন দেখা যায় বিভিন্ন প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার বড় বড় সাংবাদিক। শুধু সাংবাদিক নয় অনেকই এখন সম্পাদক ও হয়ে গেছেন। এর অন্যতম কারন হলো গণমাধ্যমের ওপর সরকারের নজরদারি ও কোনপ্রকার নীতিমালা না থাকা।
যে যেভাবে পারছে অনলাইন পত্রিকা চালাচ্ছে। একটি কম্পিউটার বা স্মার্ট ফোন থাকলেই হলো। নামে বেনামে অনলাইন পত্রিকা চালাচ্ছে। যাদের কোন অফিস বলতেও কিছু নাই।বাসাবাড়িতে, দোকানে বসে পত্রিকা চালাচ্ছে। বড় বড় মাপের পত্রিকাগুলো হতে নিউজ কপি করে তাদের নিজেদের সাইটে আপডেট দিচ্ছে।
শুধু এখানেই সীমাবদ্ধ নয় তারা তাদের পত্রিকায় অনেকেই ব্যুরোপ্রধান, জেলা, উপজেলা,কলেজ -বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সংবাদদাতা ও প্রতিনিধি ও নিয়োগ করছে শর্তসাপেক্ষে। শর্তগুলোর মধ্যে একটি অন্যতম শর্ত হলো আউডি কার্ড বিক্রি ও ব্যবসা। আবার অনেক পত্রিকা প্রতিনিধিদের বলে আইডি কার্ড নিতে টাকা লাগবে না তবে আমাদের পত্রিকার উন্নয়নের জন্য আপনাকে এত টাকা দিতে হবে। শর্তমেনে টাকা দিলে আইডি কার্ড দেয়া হয়। তাতে মেয়াদ দেয়া ৬-১২ মাস। মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আবার কার্ড নবায়ন করতে হবে। সেখানেও আবার টাকা। টাকা না দিলে আর কার্ড দেয়া হবে না, তার মানে হলো তার সাংবাদিকতা শেষ। এভাবেই বর্তমানে দেশের বেশীরভাগ অনলাইন /ইলেকট্রনিকস / প্রিন্ট মিডিয়াগুলোর তথাকথিত সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি করছে। অপকর্ম করছে, বিভিন্ন অপরাধ জগতের গতের সাথে জড়িত হয়ে পড়ছে।আবার অনেক  পত্রিকার সাংবাদিকরা অফিসের চাদার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে তারা তাদের নিজেদের গলায় পত্রিকা থেকে দেয়া কার্ড ঝুলিয়ে নিজেদেরকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ছে। আমরা প্রায় সময় আমাদের দেশের বড় বড় মাপের পত্রিকায় সংবাদ দেখি ইয়াবাসহ সাংবাদিক গ্রেফতার, নারী কেলেঙ্কারিসহ আরও অন্যান্য অপরাধমূলক কাজে সাংবাদিক জড়িত। এরা আসলে সাংবাদিক নয়, এরা হলো সমাজের তথা দেশের একটা মিডিয়া কীট। এই মিডিয়া কীটের কারণে আজ দেশের সম্মানজনক সাংবাদিকতা পেশাটি জলাঞ্জলিতে যাচ্ছে। এই হলুদ, কীট সাংবাদিক, চাঁদাবাজ সাংবাদিক ও বাটপারদের কারনে দেশের স্বনামধন্য সাংবাদিকদের পেশার উপর হলুদ রং এর আচড় লাগছে। আজ কোথায়ও সাংবাদিক পরিচয় দিতেও নিজেদের কে ছোট মনে হচ্ছে। কোন এক সময় সাংবাদিক পরিচয় দিলে বিভিন্ন অফিস আদালতে, মানুষ খুব ইজ্জত ও সম্মান করত। কিন্তু বর্তমানে এমন অবস্থা সাংবাদিক পরিচয় দিলে অনেক মানুষ আতংকে উঠেন। তার কারন হলো তারা এখন মনে করেন সাংবাদিক হলো চাঁদাবাজ। এ এজন্য ই তারা সাংবাদিকদের হীনচোখে দেখেন। এক কথায় বর্তমানে মিডিয়া জগতে চলছে হ-য-ব-র-ল অবস্থা। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে সরকারীভাবে সরকারী তালিকাভূক্ত মিডিয়াগুলো রেখে অচিরেই হলুদ সংবাদপত্র ও হলুদ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কঠোর হতে হবে। নতুবা এ হলুদ সাংবাদিকদের কারনে সরকারের সকল উন্নয়ন ম্লান হয়ে যেতে পারে। হলুদ সাংবাদিকতার কারনে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ তার অর্জিত আস্থা হারিয়ে ফেলতে পারে নিমিষেই। ( চলবে……)

লেখকঃ সাংবাদিক ও কলামিষ্ট এবং সম্পাদক ও প্রকাশক-আইকন নিউজ টুডে ডট কম। প্রেসিডেন্ট-বাংলাদেশ জাতীয় সাংবাদিক ফোরাম (BNJF) উখিয়া উপজেলা ও ভাইস-প্রেসিডেন্ট-উপজেলা প্রেসক্লাব উখিয়া।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর....