• রবিবার, ০২ অক্টোবর ২০২২, ০৬:৩০ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
এ বছরে নোবেল প্রাইজের জন্য মনোনীত বাংলাদেশী চিকিৎসক রায়ান সাদী কক্সবাজারে ৪২ কোটি টাকায় বনায়ন, নতুন রূপে সাজবে হিমছড়িসহ কক্সবাজার জেলা। পুলিশের প্রশিক্ষণ খাতে এনজিওগুলো শত শত কোটি টাকা অনুদান পেয়েছে : বেনজীর আহমেদ  রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গত রাতেও ০১ জন খুন, অস্থিতিশীল অবস্থায় স্থানীয়রাও চরম আতংকে। র‍্যাব-৭ কর্তৃক ২ লক্ষ ৩৮ হাজার ইয়াবাসহ ০৩ জন আটক। র‍্যাব-৭ কর্তৃক ২ লক্ষ ৩৮ হাজার ইয়াবাসহ ০৩ জন আটক। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক মুল্য ৬ কোটি। উখিয়া রেঞ্জকর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে উদ্ধারকরা ৩ শতাধিক বক অবমুক্ত করা হয় উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এক রোহিঙ্গা ভলান্টেয়ারকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নির্মমভাবে খুন। ঘুংধুম সীমান্তে চরম উত্তেজনায় এসএসসি ও সমমানের পরিক্ষার কেন্দ্র পরিবর্তন শাড়ি পরে কলেজে গেল ছেলে, ছবি পোস্ট করলেন ‘গর্বিত’ বাবা!

উখিয়ায় রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবির ঘুরে দেখলেন ডেনমার্কের রাজকুমারী ম্যারি এলিজাবেথ।

AnonymousFox_bwo / ১৩৫ মিনিট
আপডেট বুধবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২২

এম আর আয়াজ রবি, উখিয়া কক্সবাজার।

কক্সবাজারের উখিয়ায় কুতুপালং ক্যাম্প-৬ আশ্রয় শিবিরে যান ডেনমার্কের রাজকুমারী ম্যারি এলিজাবেথ। ডেনমার্কের রাজকুমার ফ্রেডরিকের স্ত্রী হলেন রাজকুমারী ম্যারি এলিজাবেথ। রাজকুমারীর ঢাকায় পৌঁছার পরপরই সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার সরকারী বাসভবন গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাত করেন।

গত ২৪-শে এপ্রিল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প -৬ পরিদর্শনে যান তিনি। এ সময় রাজকুমারী শিশুদের পাশে যান, শিশুরা হাতবতুলে অভিবাদন জানান অতিথিকে। তিনি জানতে চান তোমরা কেমন আছ? রোহিঙ্গা শিশুরা হাসিমুখে উত্তর দেয় ভাল আছি।এরপর রাজকুমারী জানতে চান তোমরা স্কুলে যাও,? এখানে ( আশ্রয় শিবিরে) স্কুল আছে? উত্তরে রোহিঙ্গা শিশুরা সমস্বরে উত্তর দেয় হ্যাঁ এখানে স্কুল আছে। আমরা সবাই স্কুলে যাই, পড়ছি। এ সময় পায়ে হেঁটে যেতে যেতে রাজকুমারী আরও কয়েকটি রোহিঙ্গা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসার কারণ, বাংলাদেশে আশ্রয় নেবার পরবর্তী পরিস্থিতি, রোহিঙ্গা বসতিতে শরনার্থীদের জীবন যাপন, পরিবেশ পরিস্থিতি, তাদের স্বদেশে ফিরে যেতে চায় কিনা- এসব বিষয়ে রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলেন ও তাদের কথা শুনেন।

এ সময় একজন রোহিঙ্গা নারী ২০১৭ সালের ২৫ শে আগষ্টের পুর্বে মিয়ানমার সরকারের সেনাবাহিনী কর্তৃক ধর্ষণ, গনহত্যা, ঘরবাড়ি আগুনে পুড়ে দেওয়ার বর্ননা করেন।ঐ নারী আরও বলেন, ‘ আমরা এই গণ হত্যার দাবি করে আসছি।আমরা মায়ানমারে ফিরে যেতে চাই, কিন্তু পালিয়ে আসার ৫ বছরেও মায়ানমার সরকার আমাদের ফিরিয়ে নেবার রাজী হচ্ছে না।’

রোহিঙ্গা শরনার্থীদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে রাজকুমারী বলেন, মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য ডেনমার্ক সরকার রোহিঙ্গাদের পাশে থাকবে।দুপুরে ক্যাম্প-৬ এর রোহিঙ্গা কো-অর্ডিনেশন সেন্টারে ১০ জন রোহিঙ্গা নারী পুরুষের সঙ্গে মত বিনিময় করেন রাজকুমারী। উখিয়া আশ্রয় শিবিরের একাধিক নির্ভরযোগ্য সুত্রে এসব তথ্য জানিয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে ৮.৩০ টার দিকে কক্সবাজার শহরের কলাতলী সৈকতের একটি হোটেল থেকে রওয়ানা হন ডেনমার্কের রাজকুমারী। সোয়া ৯ টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প-৫ আশ্রয় শিবিরে পৌছলে তাকে অভ্যর্থনা জানান শরনার্থী ত্রান ও প্রত্যাবাসন কমিশনার ( আরারারসি) শাহ রেজওয়ান হায়াত।এ সময় অতিরিক্ত শরনার্থী ত্রান ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোঃ শামছু- দ্দৌহাসহ সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এরপর রাজকুমারী আশ্রয় শিবিরে ড্যানিশ রিফিউজি কাউন্সিল (ডিআরসি)কর্তৃক পাহাড় ভাঙ্গন রোধ প্রকল্প ও পরিবেশ রক্ষায় সৃজিত বৃক্ষরোপন কর্মসূচি পরিদর্শন করেন এবং পাশ্ববর্তী ওয়াচ টাওয়ারে উঠে ক্যাম্পের সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন।

রাজকুমারী ম্যারি এলিজাবেথ এর সফর ঘিরে ক্যাম্পে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রবেশাধিকার সংরক্ষণ রাখা হয়। আশ্রয় শিবিরে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা। রোহিঙ্গা শরনার্থীদের চলাচলেও নেওয়া হয় বাড়তি সতর্কতা। রাজকুমারী আসা যাওয়ার সময় উখিয়া টেকনাফ সড়কে কয়েক ঘন্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

বেলা ৩ টায় ক্যাম্প থেকে রাজকুমারী যান পার্শ্ববর্তী রাজাপালং ইউনিয়নের পাতাবাড়ি গ্রামে। সেখানে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলেন। স্থানীয় ব্যক্তিরা রোহিঙ্গা শরনার্থীদের আশ্রয় দিতে গিয়ে তাদের ( বাংলাদেশীদের) চাষাবাদ বন্ধ, বনায়ন উজাড় এবং হোশটরা কর্মহীন হয়ে পড়ার কথা তুলে ধরেন, রাজকুমারীর কাছে।

এ সময় রাজকুমারীর পাশে ছিলেন, অতিরিক্ত শরনার্থী ত্রান ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোঃ শামসু দ্দৌহা। তিনি বলে প্রচন্ড গরম ঊপেক্ষা করে রাজকুমারী রোহিঙ্গা শিশু ও নারী-পুরুষের সঙ্গে কথা বলেন।
তাদের জীবন যাপন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন পরিস্থিতির খোজ খবর নেন।আশ্রয় ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ধ্বসের ঝুকিতে থাকা পাহাড়ে যে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে, সেটিসহ পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ করেন রাজকুমারী।

ডেননার্কের রাজকুমারী ম্যারি এলিজাবেথ ৪ দিনের সফরে বাংলাদেশ আসেন। ঐদিন বিকেল ৫ টায় ডাকা থেকে বিমানে করর কক্সবাজার বিমস্ন বন্দরে পৌছান। সেখানে তাকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান জেলা প্রশাসক মোঃ মামুনুর রশীদ। রাজকুমারী উঠেন কলাতলী হোটেল সায়মন বীচ রিসোর্টে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর....