• বুধবার, ১৮ মে ২০২২, ০৯:২২ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
তথাকথিত কোটিপতি তকমাদারীর আয়ের উৎস ও সামাজিক অবস্থান এবং মাদক প্রতিরোধে প্রশাসনিক দুর্বলতার ছাপ! মানবিকতার জঘন্যতম দৃষ্টান্ত স্থাপনে কক্সবাজারে আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্টার চেষ্টায় রোহিঙ্গারা। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হাসপাতাল নয়, যেনো এক একটি রোহিঙ্গা প্রজনন কেন্দ্র। সমুদ্রের পানির উচ্চতা ঝুঁকিতে ‘বিশ্ব’ ও ‘বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল’। মধ্যপ্রাচ্যের ‘ক্যান্সার খ্যাত’ ইসরাইল রাষ্ট্রের উভ্যূদয় ও রোহিঙ্গা জনগোষ্টির ‘স্বাধীন রাষ্ট্র’ স্বপ্ন ও বাস্তবতা রোহিঙ্গা সমাস্যা’ যা বাংলাদেশের গোঁদের উপর বিষফোঁড়াঃ একটি পর্যালোচনা। প্রেক্ষাপটঃ তৈল বিদ্যার তেলেসমাতি–যার প্রভাবে বর্তমান পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে ত্রাহি ত্রাহি ভাব! বাজার নিয়ন্ত্রণ, মিথ্যার বেসাতি আর গোল খাওয়া পাবলিক ইসলামিক ‘রোজা’ ও বৈজ্ঞানিক ‘অটোফেজি’ শব্দের অর্থ, সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য। উখিয়া ভুঁইয়া ফাউন্ডেশন কর্তৃক মোটর সাইকেল শোভাযাত্রা, ঈদ পুর্ণমিলন ও বীচ ফুটবল খেলা সম্পন্ন।

রোহিঙ্গা সমাস্যা’ যা বাংলাদেশের গোঁদের উপর বিষফোঁড়াঃ একটি পর্যালোচনা।

AnonymousFox_bwo / ৪১ মিনিট
আপডেট রবিবার, ৮ মে, ২০২২

(প্রথম পর্ব)

এম আর আয়াজ রবি
স্বাধীন বাংলাদেশের ৫১ বছরের ইতিহাসে, গত প্রায় ৫ বছর ধরে আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্কের সবচেয়ে কঠিন সংকট মোকাবেলা করছে আমাদের প্রিয় স্বাধীন সার্বভৌম দেশ বাংলাদেশ । সে সংকটের নাম মায়ানমারের বাস্তুচ্যুত আমাদের দেশের আশ্রিত রোহিঙ্গা জন গোষ্টীর সংকট, যাকে বলা হয় ‘রোহিঙ্গা সংকট’। পাঁচ বছর পুর্বে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে এ সংকটের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও গভীরতার ব্যাপক বিস্তার ঘটলেও এ সংকটে বাংলাদেশ জড়িয়ে পড়েছে আরও আগে, ১৯৭৮ সাল থেকে। কথায় আছে সময়ের এক ফোঁড় অসময়ের ১০ ফোঁড়ের সমান। বাংলাদেশের বিগত সব সরকারই সমস্যাটি আজকে যে রূপ নিয়েছে তার পূর্বানুমান/ অনুধাবন করতে যেমন ব্যর্থ হয়েছে ঠিক তেমনি সময়োপযোগী বাস্তব কোন ব্যবস্থা নিতেও ব্যর্থ হয়েছেন।

দীর্ঘদিন যাবৎ বিশাল সংখ্যক৷ বলতে গেলে হিসাববিহীন রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে কক্সবাজারের উখিয়া টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করে আছে তা বাংলাদেশের জন্য এক প্রকার বিষফোঁড়ার মতো হয়ে আছে । কারন এ সমাস্যা এখন স্রেফ দ্বি-পাক্ষিক নয়, বহুপাক্ষিক এবং আন্তর্জাতিকও বটে! এ বিষয়ে করণীয় সম্পর্কেও অনেকে বলার চেষ্টা করেছেন, উভয় দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি পর্যায়ের অনেকবার বৈঠক অনুষ্টিত হয়েছে কিন্তু তাতে কোনো কাজের কাজ তেমন কিছু হয়নি। এ পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাকে তাদের স্বদেশে প্রত্যবর্তন করানো/পাঠানো সম্ভব হয়নি।

রোহিঙ্গাদের সঙ্গে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সমস্যাটির শুরু সেই ১৯৪৮ সাল থেকে এবং এর ঐতিহাসিক পটভূমি বা লেগেছি আরও পুরনো। কিন্তু বাংলাদেশের ওপর এর চাপ আজ যেভাবে এসে পড়েছে তার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে ১৯৭৮ থেকে ২০১৭ সময়ে, গত ৩৮ বছরে। রোহিঙ্গারা এসেছে, আমরাও আশ্রয় দিয়েছি। আবার মিয়ানমার সরকারও ভেবেছে একটু ভালো করে তাড়া দিলেই রোহিঙ্গারা সব বাংলাদেশে চলে যাবে, বাংলাদেশের বর্ডার তাদের জন্য উন্মুক্ত। রোহিঙ্গা ইস্যু এবং আরাকান রাজ্য নিয়েও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। অনেকেই বলার চেষ্টা করেছেন আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশই হচ্ছে রোহিঙ্গাদেরকে বাস্তুচ্যুত করে পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রে (বাংলাদেশে) ঠেলে দেওয়া। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে রোহিঙ্গাদের নিয়ে একেক সরকার একেক রকম রাষ্ট্রীয় নীতি গ্রহণ করায় এবং মায়ানমান সরকারের অনড় নীতির কারনে রোহিঙ্গা সম্প্রদায় এবং মিয়ানমার সরকার, দুই পক্ষই রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে সঠিক অবস্থান বুঝতে এবং সুন্দর একটা সমাধানের পথ বের করতে ব্যর্থ হয়েছে। অবশ্য আমরাও খুব ভাল ভাবে ইস্যুটি হ্যান্ডেল করতে পারিনি বা অপারগ। যদিওবা বিষয়টি একান্তই মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ ইস্যু কিন্তু এখন আমাদের গোঁদের উপর বিষ ফোঁড়ার ব্যথা দিচ্ছে প্রতি পদে পদে। কিন্তু ইদানিংকালে সেই ব্যথার তীব্রতা সহ্য সীমার বাইরে চলে যাবার উপক্রম হচ্ছে।

১৯৭৭-৭৮ সালে প্রথমবার এবং ১৯৯০-৯১ সালে দ্বিতীয়বার আরাকান থেকে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। যাত্রা কিন্তু তখনই শুরু। ১৯৭৭-৭৮ সালের সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিল সামরিক সরকার। অনেকেই বলার চেষ্টা করেছেন তখনকার সামরিক সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি এবং পরিস্থিতির দূর দৃষ্টিসম্পন্ন পর্যবেক্ষন ও মূল্যায়নে ব্যর্থ হওয়ায় স্থায়ীভাবে এ সমস্যার সঙ্গে বাংলাদেশ জড়িয়ে পড়ে। তখন সমস্যাটিকে ধর্মীয়করণ এবং ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেচনা করায় বাংলাদেশের জন্য সেটি হিতে বিপরীত হয়েছে। অনেকেই অবশ্য ভিন্ন কথাও বলার চেষ্টা করেছেন। (ভিন্নমতাবলম্বীদের মতে, তখনকার সামরিক সরকার অত্যন্ত দক্ষতার সাথে রোহিঙ্গা ইস্যুটি সমাধান করতে পেরেছিলেন, যা এখন লেজে গোবরে অবস্থা হয়ে গেছে )। এতে রোহিঙ্গারা ভেবেছে বাংলাদেশ তাদের জন্য সহজ আশ্রয়স্থল। অন্যদিকে মিয়ানমার সরকারের মনে হয়তো বহু রকমের সন্দেহবাদের সৃষ্টি হয়েছে। এক সময়ে দুই-আড়াই লাখের মতো ফেরত গেলেও আরও প্রায় দুই-আড়াই লাখ কক্সবাজার অঞ্চলে রয়ে যায়। তারপর বিক্ষিপ্তভাবে আরও রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে থাকে। তাতে বলা যায় নব্বই দশকের মাঝামাঝি থেকে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা অবৈধভাবে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় এসে বসতি গড়ে তোলে। ১৯৭৮ সাল থেকে আরাকানের রোহিঙ্গা জনগোষ্টিকে বিভিন্নভাবে স্বদেশ ত্যাগে বাধ্য করেছে মায়ানমার সংখ্যাগুরু জনগন ও শাসকগোষ্টি।

বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে রোহিঙ্গাদের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্টার পরিকল্পনার কথা বেশ ফলাও করে প্রকাশিত হয়েছে। রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নবী হোসেন, মায়ানমার সেনাবাহিনী ও সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে আলাদা রোহিঙ্গা স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্টার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা পরিকল্পনা অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের জনসমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে প্রথমে তারা বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দাবি করে আন্দোলন শুরু করবে। পরে সেই আন্দোলন থেকে স্বাধীন রোহিঙ্গা রাষ্ট্র প্রতিষ্টার ডাক দেওয়া হবে।তাদের সে কাজে সহযোগিতা করছে মায়ানমার সেনাবাহিনী। তেমনি এক ভয়ংকর তথ্য এসেছে রোহিঙ্গাদের কাছ থেকেই। যাছাইয়ে নেমে এর সত্যতা পেয়েছে আইন শৃংখলা বাহিনী। সুত্র বলেছে স্বপ্ন পূরনে নবী হোসেন এখানে অস্ত্রধারী শক্তিশালী বাহিনী গড়ে তুলেছে।মজুদ করেছে বিপুল অস্ত্রের ভান্ডার। মজুদ বাড়াতে সম্প্রতি হাজার কোটি টাকা মূল্যের বিশাল অস্ত্রের চালান আনার প্রক্রিয়া শেষ করেছে। তবে অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যে বলেছে মায়ানমার সেনা বাহিনী নবী হোসেনের হাতে সেই অস্ত্রের ভান্ডার তুলে দিতে চায়।তার মাধ্যমেই মায়ানমার তাদের নিজস্ব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। সুত্রে জানিয়েছে, ২০ হাজার কোটি টাকার মালিক নবী হোসেন। মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এত অর্থের মালিক বনেছে সে।তার রয়েছে রোহিঙ্গা ভাষায় বেশ কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও ইউটিউব চ্যানেল।

আমার স্বচক্ষে দেখা ১৯৯০-৯১ সালের দিকের কথা। মায়ানমারের সাথে বাংলাদেশের যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব চরম পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। উভয় দেশ অত্যাধুনিক সৈন্য সামন্ত, অস্ত্র শস্ত্র,গোলা-বারুদ, কামান,ট্যাংক, যুদ্ধ সরঞ্জামাদি নিয়ে উখিয়া টেকনাফ এলাকায় সম্মুখ সমরে প্রায় যুদ্ধ প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছিল । যেকোন মুহুর্তে যুদ্ধ শুরুর অপেক্ষা-শুধু একটা হুইসেলের আওয়াজের বাকি ছিল মাত্র! আমার অভিজ্ঞতা শেয়ার করার কারন হচ্ছে, যুদ্ধের মূল রণকৌশলের ঘাঁটি ছিল আমাদের বাগান বাড়ির পাহাড়ের চর্তুপাশে, যেখানে আজকে উখিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ অবস্থিত এর চর্তুপাশে বিশেষকরে উখিয়া কলেজের উলটো দিকে ( শীলের ছড়া নামক বিস্তীর্ণ পাহাড়ে) ঠিক দক্ষিন-পশ্চিম পার্শ্বে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ছিল আর্মিদের ঘাটি। হাজার হাজার আর্মি,ট্যাংক, কামান, যুদ্ধ সামগ্রী মজুদ ছিল অত্র এলাকায়। সেখানে মাটিতে একটা অনেক বড় মায়ানমারের মানচিত্র এঁকেছিল আমাদের দেশের বীর সেনা বাহিনী। সেই মানচিত্রে বিভিন্ন রণকৌশলের দীক্ষাগুলো অবসার্ভ করছিলেন মানচিত্র থেকে-কোথায়,কিভাবে, কোন পথে মায়ানমারের সামরিক জান্তারা সম্মুখ সমরে লিপ্ত হবে, কোথায় শত্রুদের সেনা ঘাটি, ট্যাঙ্কবাহিনী, সাঁজোয়া বাহিনী, স্থল বাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী ইত্যকার বিষয় হাতে কলমে প্রশিক্ষন দিচ্ছিলেন । সেই সময়ে সেন্সেটিভ এরিয়াতে সর্ব সাধারনের প্রবেশের অনুমতি সংরক্ষিত থাকলেও আমরা (আমি ও আমার কাজিন বন্ধু) এলাকার হওয়াতে আমাদেরকে সৈন্য ও অফিসারগন খুব আদর করতেন, তাদের কাছাকাছি যাবার সুযোগ হয়েছিল। উনারা এলাকায় নতুন ছিল বিধায় এলাকা সম্পর্কে অবগত হবার জন্য মাঝে মধ্যে বিভিন্ন আলাপ চারিতা করতেন আমাদের সাথে । তখন ক্লাস টেন বা এস এস সি পরীক্ষার্থী ছিলাম হয়ত। আমার এখনও মনে পড়ে দেশ মার্তৃকাকে রক্ষার জন্য আমরা কিছু বন্ধু সৈন্যদের সাথে পরিখা খনন করার কাজে যোগ দিয়েছিলাম আমাদের সেই বাগান বাড়ি এলাকায়। তখনও অনেক রোহিঙ্গা রিফিউজি হয়ে বাংলাদেশে এসেছিল। এটা অনেক বিরাট ইতিহাস! (চলবে….)

লেখকঃ লেখক ও কলামিস্ট এবং প্রেসিডেন্ট-বাংলাদেশ জাতীয় সাংবাদিক ফোরাম ও ভাইস-প্রেসিডেন্ট উপজেলা প্রেসক্লাব, উখিয়া।
mail: ayaz.robi@gmail.com


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর....