• বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২, ১০:৩১ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
উখিয়ায় বিশেষায়িত হাসপাতাল উদ্বোধন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী উখিয়ায় অবৈধ টমটম, সিএনজি ও অটোরিকশার বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান শুরু উখিয়া খাদ্য গুদাম গত বুরো মৌসুমে ১ কেজি ধান সংগ্রহ করতে পারেনি ক্ষুধার যন্ত্রণায় শিশুর কান্নায় অতীষ্ট হয়ে গলা টিপে হত্যা করলেন মা! রাঙ্গুনীয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের ৪ সন্তান‌ই বুয়েট শিক্ষার্থী! জামিন নিতে পিস্তল নিয়েই এজলাসে আসামি আজ উখিয়ায় উখিয়া বিশেষায়িত হাসপাতাল এর শুভ উদ্বোধন পুলিশের দাবি, প্রতি মাসে ১২০ কোটি টাকার ইয়াবা আনেন ধৃত রোহিঙ্গা শফিউল্লাহ মক্কা মদিনার মতো গোপালগঞ্জ আসলে শান্তি অনুভূব করি-সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালেদ। ইউরোপিয়ান জার্নালিস্ট নেটওয়ার্কের সভাপতি জামান, সাধারণ সম্পাদক অনুরূপ

বৈষম্যতার শিকার উখিয়া টেকনাফের শিক্ষার্থীরা, রচনা প্রতিযোগিতা থেকে বঞ্চিত করায়-হচ্ছে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ।

AnonymousFox_bwo / ১০৩ মিনিট
আপডেট বুধবার, ২৫ মে, ২০২২

এম আর আয়াজ রবি।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের অধীনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। দেশে অবৈধ মাদকের প্রবাহ রোধ, ঔষধ ও অন্যান্য শিল্পে ব্যবহার্য বৈধ মাদকের শুল্ক আদায় সাপেক্ষে আমদানি, পরিবহন ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, মাদকদ্রব্য্ব্র সঠিক পরীক্ষন, মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিতকরণ, মাদকদ্রব্যের কুফল সম্পর্কে ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে নিরোধ কার্যক্রমের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন, জাতিসংঘসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিকভাবে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা অধিদপ্তরের প্রধান কাজ।

মাদকাসক্তি মুক্ত বাংলাদেশ গড়া এর ভিশন এবং মিশন হচ্ছে দেশে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচাররোধে এনফোর্সমেন্ট ও আইনি কার্যক্রম জোরদার, মাদকবিরোধী গণসচেতনতা সৃষ্টি এবং মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে দেশে মাদকের অপব্যবহার কমিয়ে আনা।

মাদকদ্রব্য সম্পর্কিত সকল কার্যাবলীর জন্য আঞ্চলিক এজেন্সি হিসেবে কাজ করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কক্সবাজার। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বোর্ডে সচিবালয় হিসেবে বোর্ড প্রনীত সিদ্ধান্ত সমুহ বাস্তবায়ন করা এর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এটি ৫৫টি মাঠ পর্যায়ের অফিসের সাহায্যে এর কার্যাবলী সম্পাদন করে থাকে, যার প্রধান কার্যালয় ঢাকা হতে নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় এর উপ আঞ্চলিক কার্যালয় ও সদর সার্কেল অফিস অবস্থিত। রামুতে একটি সার্কেল আছে, উখিয়া টেকনাফে অন্য একটি সার্কেল প্রক্রিয়াধীন আছে।

গতকাল ২৪/০৫/২০২২ ইংরেজি তারিখে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ২৬ জুন ২০২২ উদযাপন’ উপলক্ষ্যে রচনা প্রতিযোগিতা আয়োজন প্রসঙ্গে সহকারী পরিচালক ( মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, সুরক্ষা সেবা বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জেলা কক্সবাজার) মোহাম্মদ রুহুল আমিন স্বাক্ষরিত নোটিশে (যার স্মারক নং-৫৮.০২.২২০০.১২১.৯৯.০০৯.২২.২০৪, তারিখ ২৫-শে বৈশাখ, ১৪২৯, ০৮-মে ২০২২) রচনা প্রতিযোগিতার নিয়ামাবলীর প্রথম শর্তে ” কক্সবাজার জেলার ( উখিয়া ও টেকনাফ ব্যতীত) সকল নিম্ন মাধ্যমিক/সমমান, মাধ্যমিক/সমমান, উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান, স্নাতক ও সমমান পর্যায়ের ছাত্র/ছাত্রী রচনা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারবে” বিষয়ের প্রতি উখিয়া টেকনাফের সচেতনমহলের দৃষ্টি আকর্ষণ হওয়ায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট বিনীতভাবে জানতে চেয়েছেন, ঠিক কোন নিয়মে, দেশের প্রচলিত কোন আইনের আলোকে বা কোন যুক্তিতে, কোন বিষয়াবলীর আলোকে ঐ নির্ধারিত রচনা প্রতিযোগিতায় উখিয়া টেকনাফকে বাদ দেওয়া হয়েছে।?

উখিয়া টেকনাফের সচেতন সমাজ ও আপামর জনসাধারণ মনে করেন, ব্যাপারটি অত্যন্ত অবিবেচনাপ্রসূত কাজ সীমান্তবর্তী এলাকাকে বাদ দিয়ে উক্ত রচনা প্রতিযোগিতা করা। পজেলস প্রেসক্লাবের সভাপতি মোসলেহ উদ্দিন বলেন, ‘ যে কোন অফিসিয়াল ভুলের কারনে বা অসাবধানতার কারনে উখিয়া টেকনাফ আলোচ্য প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পড়েছে। না হয় রচনা প্রতিযোগিতার বিষয়বস্তু অনুযায়ী উক্ত বিষয়ের প্রত্যক্ষ স্টেকহোল্ডার হচ্ছেন উখিয়া টেকনাফের মানুষ, প্রথমেই অত্র এলাকার শিক্ষার্থীবৃন্দ উক্ত সুযোগ পাবার কথা ছিল”। আসলেই তাই।

উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আযাদ বল্রন, ‘ সচেতনতামূলক যেকোন কার্যক্রমে অত্র এলাকা অধিকতর অগ্রাধিকার পাবার কথা। কিন্তু কি কারনে, এমন স্পর্শকাতর ইস্যুতে সরাসরি স্টেকহোল্ডারদের বাদ দেওয়া হয়েছে তা বোধগম্য নয়। এলাকার মানুষের স্পষ্ট কথা ও দাবি হচ্ছে, ভুল হলে সংশোধন করে, উখিয়া টেকনাফকেও অংশগ্রহনের সুযোগ প্রদান করে উখিয়া টেকনাফবাসীর ক্ষোভ প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন বা আপনাদের কোন বক্তব্য থাকলে তা পরিস্কার করুণ অথবা ঠিক কোন অযোগ্যতার কারনে উখিয়া টেকনাফের শিক্ষার্থীদের এত সুন্দর আয়োজনে অংশগ্রহন থেকে বাদ দেওয়া হল, তা পরিস্কার করুণ।
নচেৎ, উখিয়া টেকনাফের সচেতন সমাজ/গন মানুষ উক্ত উদ্দ্যোগকে ঘৃনাভরে প্রত্যাখ্যান করবে এবং আপনাদের প্রতি মারাত্মক নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হবে’।

উখিয়া সচেতন মহলের প্রতিনিধি একেএম নুরুল হুদা মিন্টু বলেন, এত সুন্দর প্রতিযোগিতা থেজে উখিয়া টেকনাফের শিক্ষার্থীদের বাদ দেওয়া কোনভাবেই ভাল কাজ নয়। ঠিক কি কারনে, কোন যুক্তিতে উখিয়া টেকনাফকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তা জানার অধিকার উখিয়া টেকনাফবাসী রাখেন। আমরা মনে করি, যেহেতু রচনা প্রতিযোগিতাটি একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর জাতীয় ইস্যু, উখিয়া টেকনাফ সীমান্তবর্তী হবার কারনে, আমাদের সীমান্ত এলাকা প্রায় উন্মুক্ত থাকার সুযোগে অত্র এলাকা মাদক, চোরাচালান, অবৈধ পাচারের রুটম্যাপ হিসেবে ব্যবহ্রত হয়ে আসার কারনে, ছাত্র/ছাত্রী, যুবসমাজকে সচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে উক্ত রচনা প্রতিযোগিতায় উখিয়া টেকনাফকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অংশগ্রহণ করার সুযোগ প্রদান করা ছিল কর্তৃপক্ষের সুমতির লক্ষণ। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সাথে পরিলক্ষিত হয়েছে যে, উক্ত প্রতিযোগিতা থেকে উখিয়া টেকনাফকে বাদ দিয়ে উখিয়া টেকনাফের প্রতি এক প্রকার বিমাতাসুলভ আচরণ করা হয়েছে, যা খুবই দুঃখজনক, অনভিপ্রেত, দৃষ্টিকটু’।

যেভাবে উখিয়া টেকনাফের শিক্ষার্থীদের সুন্দর রচনা প্রতিযোগিতা থেকে সুকৌশলে বাদ দেওয়া হয়েছে, তা খুবুই দুঃখজনক। এটি এলাকার জনসাধারনের প্রতি বিদ্বেষ পূর্ণ আচরণ করে, তাঁদের কলিজায় আঘাত করার সামিল বলে এলাকার জনসাধারণ মনে করেন। তারা আরও মনে করেন, এটি বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও বাংলাদেশের সংবিধানের স্পষ্ট লঙ্ঘণ। কারণ বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৯(২) এর মতে-“কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারীপুরুষ ভেদ বা জন্মস্থানের কারনে,কোন নাগরিক প্রজাতন্ত্রের কর্মে, নিয়োগ বা পদ-লাভের অযোগ্য হইবেন না কিংবা সেই ক্ষেত্রে তাহার প্রতি বৈষম্য প্রদর্শন করা যাইবে না”।

উপরোক্ত সাংবিধানিক নিয়মেও উক্ত কাজ একটি গর্হিত ও অপরাধ বলে প্রতীয়মান হয়। তাই উপরোক্ত বিষয়াধি বিবেচনা করতঃ যথাযথ কর্তৃপক্ষ একটি সুন্দর, গ্রহনযোগ্য সমাধানের পথ প্রশস্ত করুণ, উখিয়া টেকনাফের মানুষের মনে দারুন ক্ষোভ ও বিদ্রোহ দানা বাঁধতে শুরু করবে এবং উখিয়া টেকনাফের জনক্ষোভ, গণ অসন্তুষ্টি মারাত্মক আকার ধারন করলে নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যাবার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন, প্রতিবাদ, ক্ষোভ, বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে। আবার কবে নাগাদ তা গণ বিষ্ফোরনে রুপলাভ করে তা বলাই বাহুল্য।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর....