• বুধবার, ১৭ অগাস্ট ২০২২, ০৮:০৪ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
বিএমএসএফ কক্সবাজার জেলা শাখার উদ্দ্যোগে ১৫-ই আগষ্ট উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল সম্পন্ন। নারী চিকিৎসককে গলা কেটে হত্যা, কথিত প্রেমিক কক্সবাজারের রেজা চট্টগ্রামে আটক ভোটার প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গা অধ্যুষিত সীমান্ত এলাকার জন্য ইসি সচিবালয় কর্তৃক ঘোষিত নির্দেশিকা। কক্সবাজার জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইন চার্জ মনোনীত হয়েছেন’ উখিয়া থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী নাদিম আবাসিক হোটেলে মিলল এক নারী চিকিৎসকের গলাকাটা লাশ, কথিত স্বামী পলাতক। বনের জন্য কক্সবাজার হবে মডেল জেলা-প্রধান বনসংরক্ষক কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলিতে হেড মাঝিসহ ০২জন নিহত। আর্থিক খাতে লুটপাটের দায় জনগণ শোধ করবে কেন? মাদক ও ইয়াবার বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত রেখে তরুণ সমাজকে রক্ষা করুণ । কক্সবাজার জেলা বিএমএসএফ এর জরুরী সভা অনুষ্ঠিত

গ্রাজুয়েট উখিয়া টেকনাফ” ক্লাবের উদ্দ্যোক্তাবৃন্দকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও কিছু হ্রদয়ের গভীরতম ভালবাসার পয়গাম

AnonymousFox_bwo / ১০৯ মিনিট
আপডেট মঙ্গলবার, ৩১ মে, ২০২২

এম আর আয়াজ রবি,

প্রথমেই ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই “গ্রাজুয়েট উখিয়া টেকনাফ” ক্লাবের সম্মানীত উদ্দ্যোক্তা, পাইওনিয়ারস, এডমিন ও মডারেটরবৃন্দকে, এমন একটা ফ্লাটফর্ম দাঁড় করানোর সাহসী উদ্দ্যোগ গ্রহন করার জন্য।বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিনে বিশ্বের সর্ব দীর্ঘ সমুদ্র সৈকতের বেলাভুমির পাদদেশে বিস্তীর্ণ-বিস্তৃত সমতল-পাহাড়, টীলা, উপত্যকা, বনভুমি বেষ্টিত অতি মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্যের লীলাভুমির সমাহার, যেটি প্রকৃতি তার অকৃত্রিম হাতের পরশে, পরম মমতায় সৃষ্টি করেছেন ‘উখিয়া টেকনাফ’র নৈসর্গিক এই জনপদকে। যেখানে পাহাড়, সমতল ও সমুদ্রের মধ্যে আসমুদ্র হিমাচল মিতালী সৃষ্টি হয়ে প্রকৃতির সৌন্দর্য সুধাকে অন্যরকম উন্মাদনা দিয়ে রেখেছে!

এই জনপদ শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্ব মানচিত্রের এক আলোচিত, উপভোগ্য ও ভালবাসার তীর্থভুমি। প্রথমেই আমি বিশ্ব প্রতিপালকের মহান দরবারে লক্ষ-কোটি শোকরিয়া গুজার করে উচ্চারন করে বলতে চাই ‘আলহামদুলিল্লাহ’-এমন এক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার ভুমিতে আমার জন্ম, বেড়ে উঠা, বিশুদ্ধ বায়ু গ্রহন করার সৌভাগ্য অর্জিত হবার জন্য।

শুনেছি অত্র ক্লাবটি ( উখিয়া টেকনাফ গ্রাজুয়েট ক্লাব)’র অগ্রযাত্রা আজ থেকে প্রায় দু’বছর পুর্বে। অত্র জনপদের কিছু শিক্ষিত জনগোষ্টী যারা তাদের চিন্তা, চেতনা,ধ্যান-ধারনা, মেধা-মনন, মানব সেবা, গরীব-দুঃখী, মেহনতি মানুষ ও অত্র এলাকার শিক্ষিত সমাজের কল্যান ও মংগলের নেশায় উদবুদ্ধ হয়ে অত্র এলাকার নির্যাতিত-নিপীড়িত, গরীব-দুখী-মেহনতি মানুষের কল্যাণ কামনায় উদ্দীপ্ত হয়ে এবং দেশের একপ্রান্তে অবস্থিত হবার কারনে শিক্ষা-দীক্ষা, জ্ঞান-গরীমায়, ভাষা-কৃষ্টি, সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অনগ্রসর পশ্চাতপত জনপদের ভাগ্য উন্নয়নের কান্ডারী হিসেবে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা শিক্ষিত সমাজকে এক বীনি সূতার মালায় গ্রথীত করার অভিনব অতিসুন্দর ফ্লাটফর্ম রচনা করার প্রয়াস পেয়েছেন। আমি তাদের এই চমৎকার গঠনমূলক ও অনুপ্রেরনামূলক উদ্দ্যোগকে স্বাগত ও অভিনন্দন জানাই। সাথে শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানাই অত্র জনপদের সম্মানীত গ্রাজুয়েটবৃন্দকে যার এই মহতি উদ্দ্যোগকে হ্রদয়ের নিবিড় গহীন থেকে ভালবেসে এগিয়ে এসে উদ্দ্যোক্তাদের এ সুন্দর ফ্লাটফর্মকে সফলতার বাস্তব রুপ দিতে স্বতঃস্ফুর্তভাবে সাড়া দিয়েছেন এবং তাঁদেরকে সব রকমের সাহায্য-সহযোগিতা প্রদানে ইতিবাচক ভাবে সামনে চলার আশা পোষণ করেছেন।

পৃথিবীতে কোন কাজই (সেটি যতই মহৎ, পরিচ্ছন্ন ও সেবামূলক হোক না কেন) কুসুমাস্তীর্ণ নয়। মানুষের পুরো জীবনটাই কন্টাকাকীর্ণ। বন্ধুর পৃথিবীর পথ পাড়ি দিতে গিয়ে কত বাধা-বিপত্তি, প্রতিবন্ধকতা, কত ঝড়-ঝঞ্জা, তুফান-সাইক্লোন, আম্ফান-নার্গীস আসবে-সেটা বলাই বাহুল্য। তথাপি, যদি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হয় মহৎ গন্তব্য থাকে স্থির, যদি হ্রদয়ে থাকে উদ্যম শক্তি, সাহ্স ও শিকল ভাংগার পণ এবং কবি নজরুলের ভাষায় ‘ আমি সেই দিন হব শান্ত, যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না’ এই যদি হয় তাদের উদ্দীপনা-সেখানে হিমাচল পথ পাড়ি দিয়ে মানবতার সৈনিক পৌঁছে যাবে সীমাহীন সীমানায়-গন্তব্যের সীসাঢালা প্রাচীর বিদীর্ণ মঞ্জিলে।

সম্মানীত উদ্দ্যোক্তামন্ডলী ও শুভাখাংকীবৃন্দের জন্য অত্র ‘গ্রাজুয়েট উখিয়া টেকনাফ’ ক্লাবের প্রতি কিছু হ্রদয়ের গভীরতম ভালবাসার পয়গামঃ

• ‘গ্রাজুয়েট উখিয়া টেকনাফ’ ক্লাব উখিয়া টেকনাফের শিক্ষিত সমাজের এক সেতু বন্ধন সুচনার ফ্লাটফর্ম। আমি মনেকরি, পৃথিবী সৃষ্টিলগ্ন থেকে এখনও পর্যন্ত যেসকল গ্রাজুয়েট বেঁচে আছেন, প্রত্যেককেই এনলিষ্টেড করার/ হবার জন্য এই ফ্লাটফর্ম তৈরি করা। সুতরাং ধরে নিতে হবে সবাই এনলিষ্টেড হবেন। তাই আপনাদেরকে এমনভাবে এই ক্লাবকে সাজাতে হবে, যাতে এ ক্লাবের সদস্য হয়ে বা হতে পেরে সবাই মানসিক প্রশান্তির সাথে গর্ব করে বলতে পারে আমি ‘গ্রাজুয়েট উখিয়া টেকনাফ’ ক্লাব এর গর্বিত সদস্য। অত্র এলাকায় অনেক জ্ঞানী, গুনী সম্মানীত ব্যক্তিবর্গ দেশের বিভিন্ন স্থানে ও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে/অঞ্চলে/রাজ্যে নিজের ও দেশের প্রয়োজনে কাজে নিয়োজিত। হয়ত আপাতঃ তারা অত্র ক্লাবের সদস্য নাও হতে পারেন, কিন্তু অত্র ক্লাবের কথা শুনে এই ক্লাবের প্রতি তীক্ষন দৃষ্টি অবশ্চয়ই থাকবে। সুতরাং অত্র ক্লাবের সফলতা দৃশ্যমান হলে নিশ্চয়ই তারাও এনলিষ্টেড হবেন। তাই উক্ত ক্লাবকে একটি নির্দিষ্ট স্থানে প্রতিষ্টা দিতে, সফলতার জন্য প্রত্যেককেই যথাযত ভাবে মনোনিবেশ করতে হবে, এ ছাড়া কোন গত্যন্তর নেই কিন্তু !

• এলাকা/জনপদ ভিত্তিক হওয়াতে এখানে প্রত্যেকে প্রত্যেককে চিনতে পারেন বা জানা শুনা থাকাটা খুবই স্বাভাবিক। ক্লাবের জুনিয়রিটি ও সিনিয়রিটি যাতে সঠিকভাবে মেনে চলে ও বলবত থাকে সে ব্যাপারে বেশি মনোযোগী হতে হবে। প্রত্যেকেই যেন তাঁর প্রাপ্য সম্মানটুকু পায় বা পাবার অধিকার সংরক্ষিত থাকে এ ব্যবস্থা থাকতে হবে। এখানে ধর্ম, বর্ণ,, আর্থ-সামাজিক স্টাটাস সম্পন্ন ও স্টাটাসবিহীন, ধনী-গরীব, উখিয়া টেকনাফ নির্বিশেষে কোনপ্রকার বৈষম্য করা যাবেনা। প্রত্যেকের জন্য যাতে আইন সমান প্রযোজ্য থাকে, তা চিশ্চিত করতে হবে।
• বড় পরিসরে ক্লাবের প্রাথমিক অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে হয়ত অল্প কয়দিন হল মাত্র। যতটুকু জানি, ইতিমধ্যে প্রায় দুই হাজার গ্রাজুয়েট এনলিষ্টেড হয়েছেন। তাই এত শিক্ষিত জনগোষ্টিকে একটা ফ্রেমে ধরে রাখা খুব সহজ কাজ হবেনা কিন্তু। তাই প্রত্যককে এক সূতোয় মালা গাঁথার সব বিকল্প ব্যবস্থা হাতে রাখতে হবে বা বের করতে হবে। কিভাবে এত বড় শিক্ষিত জনগোষ্টীকে মোটিভেশন দেয়া যায় তা বিবেচনায় এনে উপায় বের করতে হবে এখনই। না হয় জগা খিচুড়ী হয়ে যাবার সম্ভাবনা থেকে যাবে। কোনভাবেই গ্রাজুয়েটদের মধ্যে দ্বিধাবিভক্ত বা বহুধাবিভক্তি কাম্য নয়। সম্মানীত এডমিন ও মডারেটরবৃন্দ এত বড় শিক্ষিত জনগোষ্টিকে সসম্মানে ধরে রাখা খুবই কষ্টকর হবে। অনেক ক্ষেত্রেই তা অসাধ্যও হতে পারে। তাই প্রয়োজনে গ্রুপের সম্মানীত বড় ভাইদের সাথে বুদ্ধি পরামর্শ নিয়ে সবার ঐক্য ও সংহতি ধরে রাখতে হবে। তাই আপনাদের প্রাথমিক ক্লাব গোছানোর কাজ সম্পন্ন করে সবাইকে একত্রিত করার একটা উদ্দ্যোগ নেবার চেষ্টা করতে হবে।

• এই গ্রুপের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও স্থায়ী লক্ষ্য স্থির করতে হবে অর্থাৎ স্বল্প মেয়াদী, মধ্যমেয়াদী ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা নির্ধারন করতে হবে। প্রত্যেকটী লক্ষ্য সফলতার সাথে যাতে পৌঁছাতে পারেন তার জন্য নানাবিধ পরিকল্পনা এখন থেকেই শুরু করে দিতে হবে। লক্ষ্যে পৌঁছার পূর্ব ধাপ পর্যন্ত অনেক ধরনের কার্যকলাপ রয়েছে-তা যাতে ফলপ্রসূভাবে সম্পন্ন করা যায় তার ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।

• বর্তমান বহুল আলোচিত বিশ্বমহামারী করোনা ভাইরাসের ব্যাপারে গন সচেতনতামূলক প্রচার প্রচারনার ব্যাপারে গ্রাজুয়েটের গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

• করোনা আক্রান্তদের সুচিকতসা নিশ্চিত করা যাতে অযত্ন অবহেলায় যত্র তত্র চিকতসার অভাবে মানুষ কষ্ট না পায়।

• করোনা ভাইরাসের অত্যাধুনিক বড় হাসপাতাল নির্মানের ব্যাপারে সোচ্চার হওয়া, কেননা উখিয়া টেকনাফের স্থানীয় প্রায় পাঁচ লাখ জনসংখ্যার সাথে বাস্তুচ্যুত প্রায় বার লাখ রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাক অত্র এলাকা।প্রায় আঠার লাখ জনসংখ্যার জন্য অত্র অঞ্চলে কোন আধুনিক করোনা রোগীদের হাসপাতাল না থাকায়, হাসপাতাল নির্মানের জন্য চাপ সৃষ্টি করা।

• সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে এই ক্লাবের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রনয়ন, বাস্তবায়ন করা।

• চোরাকারবারীদের বিরুদ্ধে হবে এই ক্লাবের যুগপৎ আন্দোলন। এই আন্দোলনের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকতে হবে।

• এই জনপদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, পরিবেশসহ মৌলিক অধিকার সংরক্ষনের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমাল প্রনয়ন ও বাস্তবায়ন করা।

• রোহিঙ্গা ইস্যু হচ্ছে সবচেয়ে সংবেদনশীল ইস্যু। এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য নির্ধারন করতে হবে।

• রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অত্র গ্রুপের সম্মানীত বেকার ও ছদ্মবেকার গ্রাজুয়েটদের যোগ্যতানুযায়ী চাকুরীর ব্যবস্থা করার জন্যে সু-নির্দিষ্ট নীতিমালা প্রনয়ন করে বেকার সমাস্যার সমাধানে গুরুত্ব পুর্ণ ভুমিকা থাকতে হবে।

• স্থানীয় শিক্ষিত জনগোষ্টির জন্য নিজ এলাকায় নির্দিষ্ট কোটা প্রথা চালু করতে হবে যাতে বেশি সংখ্যক বেকার শিক্ষিত জনগোষ্টির বেকারত্ব লাঘব হয়।

• ইতিমধ্যে স্থানীয় জনগোষ্টির মধ্যে যারা চাকুরীতে নিয়োজিত, তাদের চাকুরির নিরাপত্তা প্রদানের জন্য অত্র গ্রুপের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকতে হবে।

• INGO/NGO দের মধ্যে স্থানীয় জনগোষ্টীর মধ্য থেকে যোগ্যতানুযায়ী মিড ম্যানেজম্যান্ট, ম্যানেজম্যান্ট ও প্রয়োজনে ডিরেক্টর পর্যায়ে লোক নিয়োগ করার জোর দাবি সম্বলিত নীতিমালা প্রনয়ান করে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

• স্থানীয় জনগোষ্টির স্বাস্থ্য সেবা, নিরাপত্তা, বেকারত্ব লাঘব, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর দামের উধ্বগতি হ্রাস, সহজলভ্যতা, স্থানীয় কৃষকের মধ্যে বিনামুল্যে বীজ,সার, প্রশিক্ষন, প্রনোদনাসহ কৃষি উন্নয়নে অবদানের জন্য নীতিমালা প্রনয়ন করা।

উপরোক্ত বিষয়াবলী ছাড়াও অবস্থা ও সময়ের প্রয়োজনে সময়ে সময়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা ও কৌশল গ্রহন করতে হতে পারে, যা নিতান্তই অত্র ক্লাবের কল্যাণের জন্য।

অত্র গুরুপের গঠনমূলক সমালোচনা অবশ্চয়ই করা যাবে। ক্লাবের বৃহত্তর স্বার্থে যেকোন ধরনের বুদ্ধি, পরামর্শ, আবেগ অনুভূতি অত্যন্ত সাদরে গ্রহন করতে হবে। উক্ত আলোচনা/সমালোচনা গ্রুপ প্রতিষ্টার নিয়ম নীতি, বিধি বিধানের সাথে সামঞ্জস্য রেখেই করতে হবে নিশ্চয়ই! আলাপ আলোচনা, বুদ্ধি-পরামর্শ, সুবিধা-অসুবিধা, ভাল-মন্দ, শাসন-সোহাগ, স্নেহ-ভালবাসা, কর্তব্যনিষ্টা, সমালোচনা সহ্য করার ক্ষমতা নিজের মতামত প্রদান ও অন্যের মতামতকে প্রাধান্য দেবার মানবিক গুনাবলীর উপর নির্ভর করছে আধুনিক গনতন্ত্রের সৌন্দর্য। কিন্তু অতি গনতন্ত্র চর্চা করতে গিয়ে ইতিমধ্যেই অনেক গ্রাজুয়েটের মত প্রকাশের ধরন, ভাষা চয়ন ও প্রয়োগ, সমালোচনার ভংগী, বডি ল্যাংগুয়েজ দেখলে আনেকের মনে প্রশ্ন জাগে সত্যিকার অর্থে ঐ ভদ্রলোক গ্রাজুয়েট কিনা! গ্রাজুয়েট হলেও সশিক্ষিত কিনা। ভদ্রতা ও বিনয় মানুষ পরিবার থেকে যেমন শিখে তেমনি বিভিন্ন প্রতিষ্টান ও পরিবেশ থেকেও শিখে। । শুধু কাড়ি কাড়ি ডিগ্রী অর্জন করা মানেই গ্রাজুয়েট বা শিক্ষিত নয়, শিক্ষার প্রকাশ ঘটায় তার ব্যবহার, ভাষা চয়ন,আচার-আচরন, প্রকাশ ভংগী, অন্যের মতামতকে প্রাধান্য দেবার মনমানসিকতা, ধৈর্য্য, সহনশীলতা,প্রজ্ঞা, দৃঢ়তা, সব্যসাচীতা ও সর্বোপরি ব্যক্তির দৃষ্টিভংগীর উপর।

অনেকেই দেখি এখানে নিজের বংশ পরিচয়কে হাই লাইট করার ব্যর্থ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। বংশ পরিচয় দিয়ে কি বা হবে? যেখানে আচরনই বংশের পরিচায়ক! নিজের ব্যবহার, আচরনই বংশ পরিচয়ের ইংগিতবাহক, এখানে নতুন করে বংশ পরিচয় মুখ্য নয় বলে অনেকেই মনে করেন। কারন জন্ম হোক যথা তথা, কর্ম হোক ভাল -এ-ই বাক্যটিকেই সম্মানীত গ্রাজুয়টবৃন্দ লালন করেন আমার দৃঢ় বিশ্বাস। আমরা অত্র গুরুপটি ভালভাবে প্রতিষ্টা পাবার ক্ষেত্রে প্রত্যকের ইতিবাচক ভূমিকাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখতে চাই। অবশ্য অনেকেই সময়, নিজের ব্যস্ততা, ও বহুবিধ কারনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবেন এটা মনে করার কোন হেতু নেই, কিন্তু কেহ যাতে নেতিবাচক মন মানসিকতা নিয়ে এত সুন্দর ফ্লাটফর্মকে অংকুরে বিনষ্ট করার খেলায় মেতে উঠতে না পারে, কোন অশুভ শক্তি যেন মাথা ছাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সেদিকে সকল সভ্যগন অত্যন্ত সতর্ক দৃষ্ট রাখবেন, এটাই সকলের প্রতি বিনীত আরজ থাকবে।

গুরুপের সকল সম্মানীত গ্রাজুয়েটগনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, অধ্যবসায়,আন্তরিকতা, ভালবাসা ও নিবীড় পরিচর্যায়, এ-ই গ্রুপটি উখিয়া টেকনাফের মাটি ও মানুষের শিখড়ের সংগঠন হয়ে উঠুক এবং এ-ই চিন্তা, চেতনা, মন ও মানসিকতা সবার মধ্যে জাগ্রত হোক, যেন নিজেদের মধ্যে গড়ে উঠতে পারে ইস্পাত কঠিন ঐক্য, একতা, একাগ্রতা,সোহাদ্য-সম্প্রীতি, ও ভালবাসার দৃঢ় মায়াবী বন্ধন। সিক্ত হয়ে উঠুক প্রত্যক গ্রাজুয়েটের অব্যক্ত মনের ইচ্ছা, অভিব্যক্তি, বাসনা, চাওয়া-পাওয়া, গড়ে উঠুক অনগ্রসর জনপদের উন্নয়নের জীয়ন কাঠি হিসেবে অনন্য সুন্দর ‘গ্রাজুয়েট উখিয়া টেকনাফ’ ফ্লাটফর্ম । সবার সুস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।
ধন্যবাদ সবাইকে।
Mail: ayaz.robi@gmail.com

লেখকঃ কলামিষ্ট ও মানবাধিকারকর্মী


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর....