• সোমবার, ০৮ অগাস্ট ২০২২, ০৯:২৮ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
কক্সবাজার জেলা বিএমএসএফ এর জরুরী সভা অনুষ্ঠিত উখিয়া স্পেশালাইজড হসপিটাল এ জনপদের চাহিদা, আশা-আকাঙ্ক্ষা পুরণে সক্ষম? নাকি শুধুই গতানুগতিক! ফেসবুকে পরিচয় ও প্রেম-অতপরঃ এক কলেজ শিক্ষিকাকে কলেজ ছাত্রের বিয়ে! উখিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা নির্বাচিত। উখিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের কাউন্সিল ও সম্মেলন কালঃ সভাপতি ও সাঃসম্পাদক পদে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস। আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই , মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ডঃ শিরীন আখতার। আসন্ন উখিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রি বার্ষিক নির্বাচনে, সভাপতি পদে জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী স্পষ্টতঃ এগিয়ে। উখিয়ায় পয়ঃনিষ্কাশন ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার অপ্রতুলতা এবং ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট ভাগাড়ের অভাব। দেশে প্রতিবছর পানিতে ডুবে ১৪ হাজারের বেশি শিশুর মৃত্যু হয়। যানযট নিরসন ও বনভুমি রক্ষার্থে কঠোর সিদ্ধান্তে যাচ্ছেন উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

পয়ঃনিষ্কাশন ও পানি নিস্কাশন ব্যবস্থার অভাব এবং ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট ভাগাড় না থাকায়-উখিয়াবাসী চরম বেকায়দায়।

AnonymousFox_bwo / ৭৩ মিনিট
আপডেট বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন, ২০২২

যথাযথ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকে দায়ী করছেন সচেতন মহল !

( প্রথম পর্ব)

এম আর আয়াজ রবি।

ময়লা ফেলার নির্ধারিত জায়গা ও পর্যাপ্ত আস্তাকুঁড় (ডাস্টবিন) এর অভাবে মানবতার শহর উখিয়ার পাড়া-মহল্লায় যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে, আবার কোথাও কোথাও ময়লা আবর্জনার বিচ্ছিন্ন ও বিক্ষিপ্ত স্তূপ তৈরি হয়েছে, যা নাগরিক জীবনের এক কালো অধ্যায় বলে মনে করছেন সচেতন মহল। নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করার কোন বাস্তব উদ্যোগ না থাকায় এসব বিক্ষিপ্ত স্তূপ থেকে ছড়াচ্ছে উদ্ভট দুর্গন্ধ, ফলে এলাকাবাসী অতীষ্ঠ হয়ে উঠছে দিনকে দিন। অত্র এলাকার বাসিন্দারা, এ অবস্থার পরিবর্তন যেমন চান, তেমনি চান এই সমাস্যার স্থায়ী সমাধান।

অনেকক্ষেত্রে দেখা যায়, নির্ধারিত ডাস্টবিন না থাকায় বিভিন্ন এলাকায় ময়লা ফেলা হচ্ছে পয়ঃনিষ্কাশন নালা, নর্দমা ও বিভিন্ন খাল বিল, ঝোপ ঝাড় যত্রতত্র। এতে নালা বন্ধ হয়ে, পানি নিস্কাশন পথ রুদ্ধ হয়ে সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে এলাকাময়। আবার বৃষ্টির পানির সাথে বিভিন্ন ময়লা-আবর্জনা, বর্জ্য, উচ্ছিষ্ট মিশে চতুর্দিকে ছড়াচ্ছে। এতে পরিবেশ যেমন দূষিত হচ্ছে তেমনি বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ জীবানুতে আক্রান্ত হচ্ছে এলাকার জনসাধারণ। এটি এখন উখিয়ার বিভিন্ন এলাকার বাস্তব চিত্র। আজ সাধারণ মানুষ অসহায়, তারা নিদারুন কষ্টে কালাতিপাত করছে।

সরেজমিনে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, এতদিন উখিয়ার প্রবেশ মুখ উখিয়া প্রেসক্লাবের উত্তর পশ্চিম পার্শ্বে ময়লা ফেলার কারনে উদ্ভট গন্ধে, উক্ত এলাকার আকাশ-বাতাস ভারী ছিল এবং উখিয়া কক্সবাজার রোডের উল্লেখিত এলাকা পার হবার সময় বাধ্য হয়ে যাত্রী সাধারণ নাকে মুখে মাস্ক বা কাপড়ের আস্তরন দিয়ে চেপে পার হতে হতো কিন্তু ইদানিং কালে প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বাঁধার কারনে ঐ এলাকার ময়লাগুলো টি এন্ড টি এর পরে একটি নির্দিষ্ট স্থানে অস্থায়ী ভাবে ফেলার অনুমতি প্রদান করা হয়েছে।

আবার, অন্যদিকে উখিয়া বঙ্গমাতা মহিলা কলেজ রোড এর প্রবেশ মুখেও বিস্তীর্ণ এলাকায় ময়লা আবর্জনার স্তুপ রয়েছে যা বাসা বাড়ির উচ্ছিষ্ট, বিভিন্ন হোটেল-রেস্তুরেন্ট, কাঁচা বাজার ও অন্যান্য স্থানের বর্জ্য। ইতিমধ্যে সেখানেও ময়লা, বর্জ্য ফেলতে বারন করার কারনে উখিয়া সদরের প্রায় ১০ হাজার বাসিন্দার ময়লা আবর্জনা, পাকঘরের উচ্ছিষ্ট, কাঁচা বাজারের বর্জ্য ফেলতে নিদারুন সমাস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।

তাছাড়া, গত বছর ইউএনডিপি-এর অর্থায়নে বেসরকারি সংস্থা ব্রাক কর্তৃক কিছু নির্দিষ্ট ডাস্টবিন বিভিন্ন দোকানে দোকানে বিতরন করে দোকানের উচ্ছিষ্টগুলো একটি নির্দিষ্ট বিনে ফেলার প্র্যাকটিস গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিল, যা একটি অত্যন্ত ভাল উদ্দ্যোগ ছিল এবং এটার কিছুটা সফলতা ভোগ করছিল এলাকাবাসী। কিন্তু অতীব দুঃখের ব্যাপার এই যে, এখন কোন দোকানে সেইসব বিন যেমন দেখা যায়না, ঠিক তেমনি ব্রাকের সেই পরিচ্ছন্ন কর্মীদেরও কদাচিৎ চোখে পড়ে। এ ব্যাপারে ব্রাকের পরিচ্ছন্ন অভিযানের দায়িত্বে থাকা এক সিনিয়র অফিসারের সাথে অত্র প্রতিবেদকের আলাপকালে তিনি জানান- ‘ইতিপুর্বে আমাদের হোস্ট কমিউনিটির জন্য বাজেট বরাদ্দ ছিল, তাই পরিচ্ছন্ন লোক নিয়োগসহ আমাদের প্রাসঙ্গিক কাজ বিদ্যমান রাখতে কোনপ্রকার বাঁধার সম্মুখীন হয়নি কিন্তু বর্তমানে বাজেট ঘাটতির কারনে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঐ একই প্রোগ্রাম চালু থাকলেও হোস্ট কমিউনিটির জন্য উপযুক্ত বরাদ্দ না থাকার কারনে পরিচ্ছন্নতা অভিযান সু- সম্পন্ন করা সম্ভবপর হচ্ছে না’।

উখিয়া সদর ষ্টেশনের উভয় পার্শ্বে পানি নিস্কাশনের ড্রেইনেজ সিস্টেম চালু থাকার কথা থাকলেও ষ্টেশনের এক পার্শ্ব অর্থাৎ উত্তর পুর্ব পার্শ্ব ড্রেইন করলেও কোন অদৃশ্য শক্তির ইশারায়, পশ্চিম দক্ষিনাংশ ড্রেইন করা থেকে বিরত থেকেছে তা এখনও অজানা রয়ে গেছে। সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হচ্ছে-যে পাশে ড্রেইনেজ সিস্টেম চালু আছে, সেই ড্রেইনের বাস্তব অস্তিত্ব এখন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। বিভিন্ন ময়লা আবর্জনা, পাহাড়ি মাটিতে ভরাট হয়ে ড্রেইনটির অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে গেছে বহু আগেই। এগুলোর খবরা-খবর রাখার কোন ফুরসৎ অত্র এলাকার প্রশাসন, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ বা জনপ্রতিনিধিগনের মধ্যে পরিলক্ষিত হয়নি।

অন্যদিকে, উখিয়ার আরেক ব্যস্ততম এলাকা কোট বাজার। এটার অবস্থা আরও এক ডিগ্রী নিচে। বর্ষায় পানি নিস্কাশনে কোন পরিকল্পিত উদ্যোগ তো নেই-ই এ ব্যাপারে কার ও তেমন মাথা ব্যথা আছে বলে মনে হয়নি। কোট বাজার সোনার পাড়া ইনানী রোডের কোট বাজার অংশের সামান্য রোড ঐ এলাকার মানুষের জন্য চীনের ‘হুয়াং হো’ নদী হয়ে আছে অনেক আগে থেকেই। সামান্য বৃষ্টিতে অত্র এলাকা ডুবে একাকার হয়ে মানুষ ও যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। আর বিভিন্ন হোটেল রেস্টুরেন্ট, বাজার ও অন্যান্য স্থানের বর্জ্য ও উচ্ছিষ্ট  ফেলা হচ্ছে পালং হাইস্কুল রোডের একটু পুর্বে কক্সবাজার টেকনাফ মুল সড়কে। সেসব উচ্ছিষ্ট অংশের গন্ধে ঐ সড়কে চলাচলরত মানুষের ত্রাহি ত্রাহি ভাব এবং নাকে মুখে মুখোশ পরিধান করা ছাড়া কোন গত্যন্তর থাকে না।

কুতুপালং এলাকা উখিয়ার রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকার একটি বড় বাজার। এখানকার অবস্থাও তথৈবচ! একদিকে ময়লা আবর্জনা ফেলার ভাগাড়, অন্যদিকে পানি নিস্কাশনের কোন কার্যকরি উদ্যোগ না থাকার কারনে পরিবেশ দূষণ ও পানি বন্দি অবস্থা বিরাজমান সেখানেও।

সীমান্তবর্তী রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সেবার জন্য এখানে প্রায় শতাধিক এনজিও/আইএনজিও এর অধীনে প্রায় দশ হাজারাধিক লোক জীবিকার তাগিদে ও মানবতার সেবা কার্য্যে অত্র এলাকায় নিয়োজিত। সেসব এনজিওগুলোর অফিস ও কর্মীদের পর্যাপ্ত অফিস ও বাসস্থান নির্মান করতে গিয়ে কোনপ্রকার পরিকল্পনা ছাড়া রাতারাতি অনেক স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে- যার নেতিবাচক প্রভাব এখন সর্বত্র।

উখিয়ার যত্রতত্র ময়লায় ভাগাড়। জনসচেতনতার অভাব আর দায়িত্ববানদের অবহেলা ও কর্তৃপক্ষের চরম অব্যবস্থাপনায় উখিয়ার বিভিন্ন হাট বাজার, ষ্টেশন গুরুত্বপুর্ন স্থানসমুহ যেন ময়লা-আবর্জনার বৃহৎ ভাগাড় স্বরুপ। রাস্তাঘাট, অলিগলি, আবাসিক-অনাবাসিক, বাণিজ্যিক এলাকা সর্বত্রই ময়লা-আবর্জনার ছড়াছড়ি। একদিকে পরিকল্পিত ড্রেনেইজ সিস্টেম যেমন নেই আবার যে কতক জায়গায় ড্রেইনেজ সিস্টেম রয়েছে তা নর্দমার নোংরা তরল ময়লা-পানি, যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলার কারনে এবং ড্রেনগুলো যথারীতি পরিস্কার না করার কারনে পানি নিষ্কাশন বাধাপ্রাপ্ত হয়ে অল্প বৃষ্টিতে চতুর্দিকে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে নাগরিক জীবন প্রায় উষ্ঠাগত। চারদিকের উৎকট ময়লা আবর্জনার গন্ধে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে আছে। প্রায় প্রতিটি বাড়ির ফাঁকে, খোলা জায়গায়, গলিপথে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। যে কারণে এলাকাবাসীকে নাকে মুখে রুমাল চেপে চলাফেরা করতে হয়। নানা ধরনের ময়লা-আবর্জনার উৎকট গন্ধ নাগরিক জীবনকে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেললেও এর বিন্দুমাত্রও টের পান না কর্তা ব্যক্তিরা/যথাযথ কর্তৃপক্ষ / জনপ্রতিধিবৃন্দ!

(চলবে….) পরবর্তী পর্বে ইউএনও, ইউপি চেয়ারম্যান ও ভুক্তভোগীদের স্বাক্ষাৎকারসহ থাকবে, ইনশা আল্লাহ।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর....