• বুধবার, ১৭ অগাস্ট ২০২২, ০৮:১৫ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
বিএমএসএফ কক্সবাজার জেলা শাখার উদ্দ্যোগে ১৫-ই আগষ্ট উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল সম্পন্ন। নারী চিকিৎসককে গলা কেটে হত্যা, কথিত প্রেমিক কক্সবাজারের রেজা চট্টগ্রামে আটক ভোটার প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গা অধ্যুষিত সীমান্ত এলাকার জন্য ইসি সচিবালয় কর্তৃক ঘোষিত নির্দেশিকা। কক্সবাজার জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইন চার্জ মনোনীত হয়েছেন’ উখিয়া থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী নাদিম আবাসিক হোটেলে মিলল এক নারী চিকিৎসকের গলাকাটা লাশ, কথিত স্বামী পলাতক। বনের জন্য কক্সবাজার হবে মডেল জেলা-প্রধান বনসংরক্ষক কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলিতে হেড মাঝিসহ ০২জন নিহত। আর্থিক খাতে লুটপাটের দায় জনগণ শোধ করবে কেন? মাদক ও ইয়াবার বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত রেখে তরুণ সমাজকে রক্ষা করুণ । কক্সবাজার জেলা বিএমএসএফ এর জরুরী সভা অনুষ্ঠিত

জাতি ও দেশের বৃহত্তর কল্যাণে সাংবাদিক ও সাংবাদিকতা পেশাকে শৃংখলে আনা উচিত।

AnonymousFox_bwo / ৭৮ মিনিট
আপডেট বৃহস্পতিবার, ৭ জুলাই, ২০২২

রাষ্ট্র কর্তৃক সাংবাদিকতায় নির্দিষ্ট মানদন্ড ঘোষনা বর্তমান সময়ের সেরা দাবি।

এম আর আয়াজ রবি।

কি আর বলব! কসাইকে হার মানাবে সাংবাদিক নামক অধিকাংশ সমগোত্রীয়দের কার্যকলাপে! কিন্তু আমি নিজকে ধিক্কার দিতে একটুও কার্পন্য করিনা! কারন সাংবাদিকতা পেশার সাথে জড়িত সিংহভাগ মানুষের চিন্তা, চেতনা, মনমানসিকতা, কর্মপদ্ধতি, চলন, বলন, কৌশলসহ অনেক কিছু খুব কাছ থেকে দেখার, অনুমান করার বা বাস্তবতা উপলব্ধি করার যথেষ্ট অভিজ্ঞতা, বয়স, পারংগমতা ও বিবেচনাবোধের সুযোগ হয়েছে। অধিকাংশ নামধারী সাংবাদিক টাকার বিনিময়ে সহজে প্রাপ্ত কার্ড গলায় ঝুলিয়ে কিছু তথাকথিত সিনিয়র সাংবাদিকদের পা চাটা গোলাম হয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের কিঞ্চিৎ আদর্শিক সাংবাদিকতা চর্চা করার যারা চেষ্টা করেন, তাঁদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়ে, তাঁদের (আদর্শিক সাংবাদিকদের) ইমেজ সংকট তৈরি করে একচেটিয়া আধিপত্য ধরে রাখার হীন মানসে নির্লজ্জ চেষ্টায় সদা ব্যস্ত থাকে! অনেকক্ষেত্রে দেখা যায়, ব্যক্তি পর্যায়ের অপকর্ম আবার গোষ্ঠী বা কতক নামধারী ক্লাবভিত্তিক অপকর্ম করে বেড়ায় দিনের পর দিন। অনেকেই সাধারণ মানুষকে অনেকটা জিম্মি করে হীন স্বার্থ হাসিল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকে। যেটা নীরব চাঁদাবাজী বলে পরিচিত।

সাম্প্রতিককালে, অনেকেই সাংবাদিক বা সংবাদকর্মী পরিচয়ে ইয়াবা, সন্ত্রাস, আধিপত্যবাদ, সামাজিক নানা অপরাধের সাথে গা ভাসিয়ে নীরব চাঁদাবাজিতে আপাদমস্তক নিয়োজিত রেখেছে বিভিন্ন ছদ্মাবরনে! তারা সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিকে ম্যানেজ করে বা ব্ল্যাকমেইল করে এসব অপকর্ম চালিয়ে যাবার চেষ্টা করে থাকেন। অনেকেই ট্রাপিক পুলিশের মত পাঁচ টাকা, দশ টাকা নিতেও কার্পণ্য করে না কিছু সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া সাংঘাতিক!!

যার ইচ্ছে সেই নিউজ পোর্টাল খুলে বসে, আবার টিভির নামে ইউটিউব ভিডিও করে সাধারণ  মানুষকে বোকা বানিয়ে চাপের মুখে এক ধরনের প্রতারণার মাধ্যমে মানুষকে  জিম্মি করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। কোন ধরনের নিয়ম শৃংখলা নেই। দু-তৃতীয়াংশের নেই কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা,নেই কোন বস্তুনিষ্ঠতা, নেই কোন নীতি-নৈতিকতার বালাই, শুধু ধামাধরা হয়ে কিছু তথাকথিত সিনিয়রদের পেছনে ঢুঁ মেরে ফফর দালালী করে, মাঝেমধ্যে মারাত্মক ওস্তাদগীরি করে সময় পার করছে!!

রাষ্ট্রের তিনটি মৌলিক স্তম্ভ আছে। এগুলো হচ্ছে আইন বিভাগ, বিচার বিভাগ ও শাসন বিভাগ। এর বাইরে চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে সাংবাদিকতাকে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু এই হ-য-ব-র-ল সাংবাদিক সমাজকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করাটা কতটুকু যৌক্তিক এখন সময়ই বলে দেবে। রাষ্ট্রকে সাংবাদিক ও সাংবাদিকতা বিষয়ে ভাববার ও চিন্তা করার সময় এসেছে। তাই সাংবাদিকতা পেশাকে একটি নির্দিষ্ট মানদন্ডে ঢেলে সাজিয়ে, সাংবাদিকতাকে সত্যিকার অর্থে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে পরিগণিত করার অবকাশ সৃষ্টি করা এখন সময়ের সেরা দাবিতে পরিনত হয়েছে। কিন্তু সেজন্য এটিকে একটি নিয়ম শৃংখলে নিয়ে আসার জন্য কাজ করতে হবে, ঢেলে সাজাতে হবে সামগ্রীক গনমাধ্যম জগতকে।

সাংবাদিক নিয়োগকল্পে চলছে একদিকে নীরব বাণিজ্য, অন্যদিকে চলছে ইয়াবাখোর, মাদক ব্যবসায়ী, চোর বাটপার, লুটেরা, দূর্বৃত্তদের এই মহান পেশাকে কালিমা লেপন। চিহ্নিত সন্ত্রাসী, অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিতদের সাংবাদিকতার নামে নীরব চাঁদাবাজীতে সরব, ফল ব্যবসায়ী, হকার, দোকানদার, ইলেক্ট্রিসিয়ান, কতক বেকার ও সাজাপ্রাপ্ত আসামীদেরকে টাকার বিনিময়ে প্রেস কার্ড প্রদান করে সাংবাদিকতার শেষ সম্মানটুকুতে শেষ পেরেক মারার প্রস্তুতি, যেটি একদিকে যেমন ভয়ঙ্কর তেমনি সুশাসনের জন্য মারাত্মক হুমকি স্মরুপ।

এভাবে, অপাত্রে সাংবাদিকতা পেশার মতো মহৎ পেশার কার্ড প্রদান করে রাস্তায় ধান্ধা করার জন্য ছেড়ে দিয়ে এই পেশাকে শেষ করে দিয়েছে এক শ্রেণীর অসাধু তথাকথিত ব্যবসায়ী। কারণ পুর্বে সংবাদ ও সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত ছিলেন শিক্ষিত, সুশীল,লেখক, সাহিত্যিক, ছড়াকার, ঔপন্যাসিক ও সমাজের বুদ্ধিজীবিরা। কিন্তু বর্তমানে প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেকট্রনিকস মিডিয়া ও অনলাইন নিউজ মিডিয়া চালায় অসাধু ব্যবসায়ীও রাজনীতিবিদরা। পুর্বে যে ব্যবসায়ীরা সাংবাদিকদের ভয়ে অনৈতিক কোন কাজ করতে সাহস করত না, এখন সেইসব ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদদের আনুকুল্য ছাড়া এই মহান পেশার অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। কারন এই মিডিয়া এখন অসাধু ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদদের দখলে। এখন সাংবাদিক ও সাংবাদিকতার নামে চলে অরাজকতা, অপ-সাংবাদিকতা।

এই সাংবাদিকতাকে যে বলা হয় সমাজের তৃতীয় চক্ষু। তাই এ পেশায় স্ব শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষার প্রয়োজনীয়তা আবশ্যক। কারণ একজন সাংবাদিককে আইন, শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রশাসন, বিজ্ঞান, তথ্য প্রযুক্তিসহ সমাজের নানাবিধ বষিয়ের উপর সম্যক জ্ঞান রাখতে হয়। তাই এই পেশায় আসতে হলে শিক্ষাগত যোগ্যতা কমপক্ষে মাস্টার্স ডিগ্রি করা উচিত বলে মনে করি। না হয় এই মহান ও মহৎ পেশার মস্ন-সম্নান, ইতিহাস-ঐতিহ্য সব ভূলুন্ঠিত হয়ে যাবে কালের স্রোতে।

লেখকঃ কলামিষ্ট ও মানবাধিকারকর্মী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর....