• বুধবার, ১৭ অগাস্ট ২০২২, ০৭:০৭ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
বিএমএসএফ কক্সবাজার জেলা শাখার উদ্দ্যোগে ১৫-ই আগষ্ট উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল সম্পন্ন। নারী চিকিৎসককে গলা কেটে হত্যা, কথিত প্রেমিক কক্সবাজারের রেজা চট্টগ্রামে আটক ভোটার প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গা অধ্যুষিত সীমান্ত এলাকার জন্য ইসি সচিবালয় কর্তৃক ঘোষিত নির্দেশিকা। কক্সবাজার জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইন চার্জ মনোনীত হয়েছেন’ উখিয়া থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী নাদিম আবাসিক হোটেলে মিলল এক নারী চিকিৎসকের গলাকাটা লাশ, কথিত স্বামী পলাতক। বনের জন্য কক্সবাজার হবে মডেল জেলা-প্রধান বনসংরক্ষক কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলিতে হেড মাঝিসহ ০২জন নিহত। আর্থিক খাতে লুটপাটের দায় জনগণ শোধ করবে কেন? মাদক ও ইয়াবার বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত রেখে তরুণ সমাজকে রক্ষা করুণ । কক্সবাজার জেলা বিএমএসএফ এর জরুরী সভা অনুষ্ঠিত

“সুস্থতা ও দীর্ঘ জীবন” মহান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে এক বিশাল নিয়ামত

AnonymousFox_bwo / ৯৯ মিনিট
আপডেট মঙ্গলবার, ১৯ জুলাই, ২০২২

এম আর আয়াজ রবি।

আমরা সবাই জানি, হযরত মুসা (আঃ) আল্লাহতায়ালার প্রেরিত এমন এক পাওয়ারফুল নবী, যিনি মহান আল্লাহ তায়ালার সাথে সরাসরি কথা বলার সুযোগ প্রাপ্ত ছিলেন!

একদা হযরত মুসা (আঃ) মহান আল্লাহকে জিজ্ঞেস করেন, ‘হে আল্লাহ তায়ালা, তুমি যদি মুসা হতে, আমি যদি আল্লাহ হতাম, তুমি আমার কাছ থেকে কোন জিনিসটা বেশি করে চাইতে’? উত্তরে আল্লাহ বলেন, হে মুসা, তুমি জীবনেও আল্লাহ হতে পারবেনা, আর আমি তো মুসা হবার প্রশ্নই আসেনা’! প্রতিত্ত্যুরে হযরত মুসা (আঃ) বলেন, ‘আল্লাহ তুমি এত রাগ দেখাও কেন, আমি তো আল্লাহ হতে চাইনি, আর তোমাকে মুসা হতেও বলিনি! শুধু আমাদের উপলব্ধির জন্য এবং জানার জন্য সত্যি সত্যি আমরা সৃষ্ট হিসেবে সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকে কি চাইতে হয়’! জবাবে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন-“সুস্থতা ও দীর্ঘ জীবন”! সুবহানাল্লাহ !

তাই এ-ই বৈশ্বিক মহামারী করোনাযুগে, যারা আমরা এখনও ভাল ও সুস্থ আছি, অথবা ভয়ংকর মহামারী বা অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে যারা পরিত্রান পেয়েছেন, সুস্থ থেকেছেন, সবাই মিলে অত্যন্ত নত শিরে, উচ্চবাক্যে বা কায়মনোবাক্যে মহান আল্লাহ তায়ালার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শোকরিয়া জ্ঞাপন স্বরুপ উচ্চারণ করি “আলহামদুলিল্লাহ”।

‘সুস্থ শরীর ও সুন্দর মন’-মানবজীবনের সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত বস্তু। বেশি বেশি শারীরিক সুস্থতার প্রতি যেমন আমাদের স্বভাবজাত সচেতনতা থাকা উচিত, ঠিক তেমনি মানসিক স্বাস্থ্যের বেলায়ও খুব বেশি মনযোগ প্রদান করা একান্তভাবে উচিত। আবার দেখা যায়, মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি সুনজর থাকলেও অনেক সময় পরিবেশগত বৈরিতা ও অপ্রতিরোধ্য রোগের আক্রমণে দেহঘড়ি হয়ে পড়ে নাকাল। তাই শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক সুস্থতাও সমানভাবে জরুরি এবং সুস্থ দেহের জন্য সুন্দর মন একান্তভাবে জরুরি। শরীর ভালো থাকলে যেমন কাজের স্পৃহা বাড়ে, তেমনি মনও থাকে ফুরফুরে ও সতেজ।

তাই মানুষের গুরুত্বপূর্ণ কিছু ব্যক্তিগত দায়িত্বের মধ্যে একটি হচ্ছে নিজের শারীরবৃত্তীয় ও মানসিক সুস্থতা রক্ষা করা। জীবনকে সুন্দর ও সুখময় করতে এর কোনো বিকল্প নেই। দেহ ও মনের সুস্থতা রক্ষা করা প্রতিটি মানুষের দায়িত্ব। পবিত্র ইসলাম ধর্মে নিজের শরীর ও মনকে সুস্থ রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাতে বলা হয়েছে এবং নিজের শরীর ও মনের ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকতে কড়া নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। ইসলাম ধর্মের দৃষ্টিতে মানুষকে যা কিছু দেওয়া হয়েছে তার সবই হচ্ছে আল্লাহর পক্ষ থেকে আমানত। ইচ্ছাকৃতভাবে আমানত নষ্ট করলে এ জন্য জবাবদিহি করতে হবে। হাদিসে এসেছে কিয়ামতের দিন বান্দাকে নেয়ামত সম্পর্কে সর্বপ্রথম যে প্রশ্নটি করা হবে তা হলো সে আল্লাহর দেয়া আমানত ‘শারীরিক সুস্থতা’ রক্ষা করে চলেছে কি না!

সুস্থ শরীর ও সুস্থ মন পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের একান্তভাবে কাম্য। সুস্থতা চায় না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া রীতিমত দুষ্কর। সুস্থতা-অসুস্থতায় ভিত্তি করে মানুষের জীবনযাত্রা ও কর্ম-পরিধি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘দুর্বল মুমিনের তুলনায় সবল মুমিন অধিক কল্যাণকর ও আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়। তবে উভয়ের মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে। আর যা তোমাকে উপকৃত করবে, সেটিই কামনা করো।’ (মুসলিম-হাদিস নং: ২৬৬৪)

হাদিস শরিফে রাসুল (সা.) পাঁচটি অমূল্য সম্পদ হারানোর পূর্বে এগুলোর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন। এর অন্যতম হচ্ছে স্বাস্থ্য ও সুস্থতা।
তিনি বলেন, “পাঁচটি জিনিসকে পাঁচটি জিনিস আসার পুর্বে গনিমতের অমূল্য সম্পদ হিসেবে মূল্যায়ন করো। ‘জীবন’কে ‘মৃত্যু’ আসার পুর্বে। ‘সুস্থতা’কে ‘অসুস্থ’ হওয়ার পুর্বে। ‘অবসর’ সময়কে ‘ব্যস্ততা’ আসার পুর্বে। ‘যৌবন’কে ‘বার্ধক্য’ আসার পুর্বে এবং ‘স্বচ্ছলতা’কে ‘দারিদ্র্যতা’ আসার পুর্বে।“ (মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা: ৮/১২৭; সহিহুল জামে, হাদিস নং: ১০৭৭)

প্রাচীন গ্রিসের চিকিৎসাবিদ হিপোক্রেটিসের ভাষায় ‘সুস্থতা হচ্ছে প্রতিটি মানুষের মুকুট এবং অসুস্থ হলেই কেবল একজন মানুষ এই মুকুটকে দেখতে পায়’। আসলে সুস্থতাকে জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ বা পুঁজি বললে ভুল হবে না। এ কারণে সুস্থতার গুরুত্ব উপলব্ধি করার পরই কেবল একজন মানুষ আল্লাহর কাছে সঠিকভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারে। নেয়ামতের গুরুত্ব না বুঝলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ক্ষেত্রেও ঘাটতি থেকে যেতে পারে।

তাই ‘সুস্থতা ও নেক’ হায়াতের জন্য আমরা মহান আল্লাহর দরবারে করজোড়ে মিনতি করি, যাতে জীবনঘাতি করোনা ভাইরাস এবং অন্যান্য মানবিক ও দানবীক দুর্যোগের হাত থেকে আমাদেরকে রক্ষা করেন ও আমাদের সবাইকে সুস্থ জীবন লাভের অধিকারী হওয়ার তাওফিক প্রদান করেন ! আমরা মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করিঃ হে আল্লাহ ! আমরা তোমার গোনাহগার বান্দা। আমরা মাবুদ গোনাহ করে, গোনাহের সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছি, ইয়া আল্লাহ! আমাদেরকে তুমি ছাড়া রক্ষাকর্তা যেমন নেই তেমনি পালন কর্তাও নেই। হে আল্লাহ, তুমিই আমাদের ইজ্জ্বত দাতা,রিজিক দাতা, মুক্তি দাতা, জীবন দাতা, ক্ষমা কর্তা, রোগ-ব্যাধি, বালা-মুসিবত থেকে রক্ষা কর্তা। হে আল্লাহ, তুমিই বলেছ ‘পবি আইয়ে আলা ই রাব্বিকা মা তুকাজ্জিবান’ অর্থাৎ তোমার প্রদত্ত কোন কোন অবদান আমরা অস্বীকার করব? আসলেই তাই আল্লাহ! তোমার নিয়ামতের শোকর গুজার করার সাধ্য কার ও নেই আল্লাহ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর....