• সোমবার, ০৮ অগাস্ট ২০২২, ১১:০৯ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
কক্সবাজার জেলা বিএমএসএফ এর জরুরী সভা অনুষ্ঠিত উখিয়া স্পেশালাইজড হসপিটাল এ জনপদের চাহিদা, আশা-আকাঙ্ক্ষা পুরণে সক্ষম? নাকি শুধুই গতানুগতিক! ফেসবুকে পরিচয় ও প্রেম-অতপরঃ এক কলেজ শিক্ষিকাকে কলেজ ছাত্রের বিয়ে! উখিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা নির্বাচিত। উখিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের কাউন্সিল ও সম্মেলন কালঃ সভাপতি ও সাঃসম্পাদক পদে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস। আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই , মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ডঃ শিরীন আখতার। আসন্ন উখিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রি বার্ষিক নির্বাচনে, সভাপতি পদে জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী স্পষ্টতঃ এগিয়ে। উখিয়ায় পয়ঃনিষ্কাশন ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার অপ্রতুলতা এবং ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট ভাগাড়ের অভাব। দেশে প্রতিবছর পানিতে ডুবে ১৪ হাজারের বেশি শিশুর মৃত্যু হয়। যানযট নিরসন ও বনভুমি রক্ষার্থে কঠোর সিদ্ধান্তে যাচ্ছেন উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

পরিবেশ দূষণ, জলবায়ুর উষ্ণতা বৃদ্ধি ও এর প্রভাবে বাংলাদেশ।

AnonymousFox_bwo / ৭৪ মিনিট
আপডেট বুধবার, ২০ জুলাই, ২০২২

( প্রথম পর্ব) 

এম আর আয়াজ রবি।

সভ্যতার ক্রমবিবর্তনের মধ্য দিয়ে মানুষ প্রকৃতিকে বশ করে গড়ে তুলেছে নিজের পরিবেশ। প্রকৃতির বহু বিচিত্র দান, মানুষের বুদ্ধি আর নিরন্তর শ্রমের ফলে নির্মিত হয়েছে আধুনিক সভ্যতা। বলা হয়ে থাকে ‘বিজ্ঞান দিয়েছে বেগ, কেড়ে নিয়েছে আবেগ’। অথচ বিজ্ঞানের উতকর্শতার যুগে, পরিবেশ ধবংশের জন্য বিজ্ঞানের নব নব আবিষ্কারও কম দায়ী নয়। আবার প্রকৃতির দানকে অস্বীকার করে মানুষ আজ নিজ হাতেই ধ্বংস করে চলেছে সুন্দর প্রকৃতিকে। মানুষের অসাবধানতা ও লোভের কারণে ভয়াবহভাবে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। পরিবেশ দূষণ মূলত দুটি কারণে হয়ে থাকে। একটি হচ্ছে প্রকৃতিগত কারণ, যেমন— ঝড়-বন্যা, জলােচ্ছাস, অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিকম্প ইত্যাদি। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে মানবসৃষ্ট যা কৃত্রিম, যেমন— পানিদূষণ, বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ, তেজস্ক্রিয় দূষণ প্রভৃতি। শিল্পকারখানার বর্জ্য, যানবাহনের বিষাক্ত ধোয়া ইত্যাদি বায়ুতে মিশে দূষিত করছে পরিবেশকে। বিভিন্ন জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে বাতাসে বেড়ে যাচ্ছে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ। পৃথিবীর নদনদী, সমুদ্র, পুকুর, খালবিলের পানি প্রতিদিন দূষিত হচ্ছে মারাত্মকভাবে। কলকারখানার বর্জ্য, ফসলি জমিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক ইত্যাদি পানিকে বিষাক্ত করে তুলছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, যত্রযত্র আবর্জনা ফেলা, জমিতে বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার ইত্যাদি কারণে বাড়ছে মাটিদূষণ। তাছাড়া গাড়ির তীব্র হর্ণ, মাইকের যথেচ্ছ ব্যবহার, কলকারখানার যন্ত্রের বিকট শব্দ ইত্যাদি শব্দদূষণের মূল কারণ। সব মিলিয়ে পরিবেশ দূষণ বর্তমানে ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে দূষণের মাত্রা আরও ভয়াবহ। পরিবেশ দূষণের ফলে বদলে যাচ্ছে পৃথিবীর জলবায়ু।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সারা বিশ্বেই পড়েছে। এর কারণে মানবজাতি ক্রমশ সম্মিলিত আত্মহত্যার পথে এগিয়ে যাচ্ছে বলে হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

গত সোমবার ( ১৮-জুলাই-২২) জার্মানির বার্লিনে চলমান পিটার্সবার্গ জলবায়ু সংলাপে এ হুঁশিয়ারি বার্তা দেন জাতিসংঘের মহাসচিব।

বার্লিনে আয়োজন করা হয়েছে ৪০ দেশের সমন্বয়ে জলবায়ু সম্মেলন।

এ সময় জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, মানবজাতির অর্ধেকই এখন বন্যা, খরা, ভয়াবহ ঝড় আর দাবানলের মধ্যে রয়েছে। কোনো দেশই এসব থেকে মুক্ত নয়। তা সত্ত্বেও আমাদের জীবাশ্ম জ্বালানির ক্ষুধার নেশা যায় না।

সম্মেলনে অংশ নেওয়া দেশগুলোর মন্ত্রীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সামনে দুটি বিকল্প থেকে একটি পছন্দ বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।জলবায়ু পরিবর্তন রোধে হয় একযোগে উদ্যোগ নিতে হবে, নয়তো একযোগে আত্মহত্যা করতে হবে। ’

বিশ্বব্যাংকের মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান ও বহুজাতিক ব্যাংকগুলোর সমালোচনা করেন গুতেরেস।

তিনি আরও বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান জলবায়ু পরিবর্তন রোধে লক্ষ্য অর্জনের জন্য পুরোপুরি কার্যকর নয়। জলবায়ু তহবিলে প্রয়োজনীয় অর্থ সরবরাহে এসব প্রতিষ্ঠান কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না।

 

সৃষ্টিকর্তা এই জাগতিক পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এক মহাপরিকল্পনার অংশ বিশেষ হিসেবে। তাই তাঁরই সৃষ্টি জগত প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে চলমান অবিরত।কিন্তু প্রাকৃতিক নিয়মে চলমান এই পৃথিবীতে চলছে প্রকৃতিতে বিস্ময়কর পরিবর্তন। প্রতিনিয়ত ঘটে চলা এই পরিবর্তনে হুমকির সম্মুখীন অসংখ্য প্রাণীকুল। ইতোমধ্যেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে প্রাণীকুলের অসংখ্য প্রজাতি। আমাদের চর্তুপাশে আমরা যদি একটু লক্ষ্য করি তাহলেই খুঁজে পাব এ পরিবর্তনের সাথে কত নিবিড়ভাবে জড়িত সৃষ্টির সেরা জীবখ্যাত মনুষ্যজাতি।এসব পরিবর্তনগুলোর মধ্যে রয়েছে, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, গ্রীষ্মকালের পরিধি বৃদ্ধি, অপরদিকে শীতকালের পরিধি হ্রাস পেয়েছে দৃশ্যমান হারে। অন্যদিকে শুধু যে বর্ষাকালে বৃষ্টি হচ্ছে এমন না অন্যান্য মৌসুমেও বৃষ্টিপাত হচ্ছে ব্যাপক, এর ফলে প্রায় প্রতি বছরই বন্যা দেখা দিচ্ছে। এ সবই প্রকৃতির বিস্ময়কর পরিবর্তনের ফলে ঘটছে। এ পরিবর্তন এর জন্য গবেষকরা মানুষের কর্মকাণ্ডকে দায়ী করেছেন, বিশেষজ্ঞরা গবেষণার মাধ্যমে যে ফলাফলগুলো পেয়েছেন তার বেশিরভাগই মানুষের কর্মকাণ্ডকে দায়ী করে।

বর্তমান বিশ্বে পরিবেশগত সমাস্যা একটি মারাত্মক সমাস্যা।নিজেদের অবহেলার কারনেই প্রতিদিন আমরা চারপাশে তৈরি করছি বিষাক্ত পরিমন্ডল, নিজেদের ও ভবিষ্যত প্রজন্মকে ঠেলে দিচ্ছি এক নিঃশব্দ বিষক্রিয়ার মধ্যে। ফলে ঘটছে পরিবেশের মারাত্মক অবনতি, যা আমাদের জীবন, জীবিকা ও বেঁচে থাকার জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরুপ। একসময় বাংলাদেশ ছিল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের লীলাভুমি। এ দেশের মাঠ, ঘাট, পাহাড়, পর্বত, নদী-নালা, বায়ু সবকিছু ছিল নির্মল ও বিশুদ্ধ। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, মনুষ্য বাসের বা প্রাণিকুলের বেঁচে থাকার পরিবেশের প্রধানতঃ তিনটি উপাদান মাটি, পানি ও বায়ু নানা উপায়ে দূষিত হচ্ছে। এ দূষন আমরা ঘটাচ্ছি কখনো জেনে বা কখনও অবচেতন মনে।
বিশ্ববিখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘দ্য লানসেট প্লানেটারি হেলথ জার্নালে’ প্রকাশিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে, বিশ্বে এখন পর্যন্ত করোনায় যত লোক মারা গেছে, প্রতি বছর তার চেয়েও অনেক বেশি মানুষ মারা যাচ্ছেন বিভিন্ন ধরনের পরিবেশগত দূষণের কারণে ৷

(চলবে…)

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর....