• সোমবার, ০৮ অগাস্ট ২০২২, ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
কক্সবাজার জেলা বিএমএসএফ এর জরুরী সভা অনুষ্ঠিত উখিয়া স্পেশালাইজড হসপিটাল এ জনপদের চাহিদা, আশা-আকাঙ্ক্ষা পুরণে সক্ষম? নাকি শুধুই গতানুগতিক! ফেসবুকে পরিচয় ও প্রেম-অতপরঃ এক কলেজ শিক্ষিকাকে কলেজ ছাত্রের বিয়ে! উখিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা নির্বাচিত। উখিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের কাউন্সিল ও সম্মেলন কালঃ সভাপতি ও সাঃসম্পাদক পদে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস। আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই , মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ডঃ শিরীন আখতার। আসন্ন উখিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রি বার্ষিক নির্বাচনে, সভাপতি পদে জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী স্পষ্টতঃ এগিয়ে। উখিয়ায় পয়ঃনিষ্কাশন ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার অপ্রতুলতা এবং ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট ভাগাড়ের অভাব। দেশে প্রতিবছর পানিতে ডুবে ১৪ হাজারের বেশি শিশুর মৃত্যু হয়। যানযট নিরসন ও বনভুমি রক্ষার্থে কঠোর সিদ্ধান্তে যাচ্ছেন উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

উখিয়ায় পয়ঃনিষ্কাশন ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার অপ্রতুলতা এবং ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট ভাগাড়ের অভাব।

AnonymousFox_bwo / ৯১ মিনিট
আপডেট মঙ্গলবার, ২৬ জুলাই, ২০২২

উখিয়াবাসী চরম বেকায়দায়! যেন দেখার কেউ নেই।

(দ্বিতীয় পর্ব)

এম আর আয়াজ রবি

অনেক ভোক্তভুগী অত্র প্রতিবেদককে জানান, বিভিন্ন এলাকায় নির্দিষ্ট ময়লা ফেলার স্থান বা ডাস্টবিন না থাকার কারনে অনেকেই যেখানে সেখানে ময়লা ফেলতে বাধ্য হচ্ছে। যা তাদের নিজেদের যেমন খারাপ লাগছে তেমনি এটার কোন বাস্তব সমাধান না পাওয়ার কারনে দৃষ্টিকটু কাজটা করতে গিয়ে অনেকেই ‘শাই’ ফিল করছে।

এ প্রসঙ্গে গরুর বাজার এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা মাষ্টার হামিদুল হক বলেন- ‘২০১৭ সালে মায়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আসার পর উখিয়ায় অতিরিক্ত প্রায় ১০লক্ষ লোকের বসবাস। তাদের সেবা দেয়ার জন্য বিভিন্ন এনজিও সংস্থার লক্ষাধিক উখিয়া উখিয়া উপজেলায় বসবাস করেন। তাদের সিংহভাগ থাকেন উপজেলা সদরের ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে। অধিকাংশ উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার অফিসও এই দুই ওয়ার্ডে। জনসংখ্যার চাপে দোকানপাট, দালানকোটাসহ বিভিন্ন স্থাপনাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এত বিপুলসংখ্যক মানুষের বাসাবাড়ির উচ্ছিষ্ট ময়লা আবর্জনা ফেলা এবং তা অপসারণের কোন ব্যবস্থা নেই। বাসাবাড়ির লোকজন এবং ব্যবসায়ীরা যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলছেন। যা উখিয়ার পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসন এক জায়গা হতে উচ্ছেদ করলে স্থায়ী কোন ব্যবস্থা না থাকলে ভিন্ন জায়গায় ফেলবে। কারণ প্রয়োজন আইন মানেনা। বিশেষ করে উখিয়া সদরের মেইন রোডের উভয় পাশ এবং ব্যস্ততম উপ সড়ক ফরেস্ট রোডের করুণ অবস্থা কারো অজানা নয়। এনজিও সংস্থাগুলোকে কাজে লাগিয়ে প্রয়োজনে ন্যুনতম একটি চার্জ নিয়ে এই সমস্যার সমাধান জরুরী হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে ডাস্টবিন তৈরি করে এগুলো অপসারণ করতে হবে। টেকনাফের হ্নীলার আদলে করা যায়। এছাড়া রাস্তার পার্শ্বে ড্রেইন তৈরি করে পয়ঃনিষ্কাশন অতীব হয়ে পড়েছে। কর্তৃপক্ষ এখনই এগিয়ে না আসলে উখিয়াবাসীকে চরম মূল্য দিতে হবে। ফরেস্ট রোডের ডাকবাংলো হতে সিকদার বিল কলাবাগান পর্যন্ত, পশু হাসপাতাল রোড, ফলিয়া পাড়া রোড, ঘিলাতলী ইত্যাদি এলাগুলোর দিকে আশু নজর দেয়া দরকার’।

উখিয়া বংগমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিব কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মুজিবুল আলম বলেন ‘ রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় প্রয়োজনের নিরিখে অনেক হাই রেইচ বিল্ডিং তৈরি হলেও কোন বিল্ডিং-ই পরিকল্পিতভাবে, নিয়ম মাফিক গড়ে উঠেনি। প্রায় প্রতিটি স্থাপনা তৈরি হয়েছে স্থানীয় নির্মান শ্রমিকদের নিজস্ব বিচার বুদ্ধিতে। খুব কম বিল্ডিং আছে যারা যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্দিষ্ট বিল্ডিং কোড মেনে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করেছে। তাই যা হবার তাই হচ্ছে। পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থা যেমন নেই, যথাযথ পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাও নেই। আবার বাসা বাড়ির উচ্ছৃষ্ট ময়লা ফেলার কোন নির্দিষ্ট ডাস্টবিন বা ভাগাড় নেই। তাই যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলার কারনে সেই ময়লাগুলো পানি নিষ্কাশন পথে বাঁধা সৃষ্টি করে অল্প বৃষ্টিতে পানি আটকে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করছে। এটা এখন উখিয়ার নিত্য নৈমৈত্তিক সমাস্যা। প্রশাসন যদি নির্দিষ্ট এলাকায় নির্দিষ্ট ডাস্টবিন তৈরি করে দৈনিক যদি ময়লা ভ্যান বা অন্য গাড়ির মাধ্যমে দূরে কোথাও ফেলার ব্যবস্থা করেন এবং প্রতিটি বাড়ির হোল্ডিং অনুযায়ি মাসিক একটা ফি নির্ধারন করেন- তাহলে এ জটিল অবস্থার সম্মুখিন হতে হতোনা।‘

উখিয়া সিকদারবিল এলাকার বাসিন্দা সিরাজ সওদাগর বলেন, ‘মানবতার নগরী উখিয়া বিভিন্ন সমাস্যায় জর্জরিত। তারমধ্যে ময়লা আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট স্থানের যেমন অভাব রয়েছে তেমনি যথাযথ পানি নিস্কাশনের ড্রেনেজ ব্যবস্থারও ঘাটতি রয়েছে। এ ব্যাপারে প্রশাসন যথাযথ উদ্যোগ নিলে, সাধারন এলাকাবাসী এই দূর্বিষহ অবস্থা থেকে পরিত্রান পেতো’।

এ প্রসঙ্গে, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব ইমরান হোসাইন সজীব বলেন, “পয়ঃনিষ্কাশন, পানি নিস্কাশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব থাকে সিটি কর্পোরেশন অথবা পৌরসভা। যেহেতু উখিয়া এখনও পৌরসভার আওতায় আসেনি, তাই এটি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের কাজের মধ্যে পড়ে। তথাপি, উপজেলা প্রশাসন ইতিমধ্যে উখিয়া প্রেসক্লাব এলাকার বর্জ্য ফেলার ভাগাড়টি উচ্ছেদ করে, টি এন্ড টির অদুরে অস্থায়ী ভিত্তিক ডাস্টবিনের জায়গা করে দিয়েছে। পর্যায়ক্রমে আমরা স্থায়ী বজ্য ফেলার নির্দিষ্ট স্থানের ব্যবস্থা করতে সক্ষম হব। বিচ্ছিন্ন ও বিক্ষিপ্তভাবে ময়লা আবর্জনা, উচ্ছিষ্ট ফেলছে সেগুলোরও একটা নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনার আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। আবার কেউ যদি এ ব্যাপারে কোনপ্রকার অভিযোগ বা সহযোগিতা চায়, উপজেলা প্রশাসন ত্বড়িৎ সেবা দেবার জন্য সদা প্রস্তুত”।

উখিয়ার টি এন্ড টির পরে নির্দিষ্ট ভাগাড় বা ময়লা ফেলার স্থান নির্ধারণ নিশ্চয়ই খুবই আশাব্যঞ্জক কাজ তবে নির্দিষ্ট এলাকা ভিত্তিক কিছু নির্ধারিত ডাস্টবিন পয়েন্ট থাকলে সাধারন বাসিন্দারা তাদের গৃহস্থালি উচ্ছিষ্ট, বর্জ্য সেখানে ফেলতে পারতো। সকালে সে সকল সাব পয়েন্ট থেকে বর্জ্য অপসারন কর্মীরা নির্দিষ্ট পরিবহনযোগে দুরের সেই বড় ভাগাড়ে নিয়ে যেতো এবং প্রতিটি বাড়ি থেকে একট নির্দিষ্ট ফি গ্রহন করে উক্ত কাজের ব্যয়ভার বহন করতো অথবা উখিয়ায় কর্মরত এনজিওদের মধ্য থেকে উক্ত কাজ করার জন্য কয়েক এনজিওদের শিডিউল করে নিয়োজিত করা যেতো। পরে সেই দুরবর্তী ময়লার স্তুপ থেকে গার্বেজ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রিসাইক্লিং করে সেই আবর্জনাকে সম্পদে পরিনত করার সুযোগ থাকতো। বিভিন্ন উন্নত দেশ ও দেশের বড় বড় শহরে ইতিমধ্যে উক্ত ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে।

বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে (ডিসি) উত্তরণ করেছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে টাইম ফ্রেম নির্দিষ্ট করে এখন থেকে কাজ শুরু করতে হবে। রোহিঙ্গাদের জন্য অস্থায়ী আবাসনকে স্বাস্থ্যসম্মত ও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আওতায় নিয়ে আসতে হবে সাথে হোস্ট কমিউনিটিকেও সে সুযোগের সদব্যবহার করার প্রেক্টিসে রুপান্তর করতে হবে। সবার জন্য স্যানিটেশন নিশ্চিত করা এবং এ লক্ষ্যে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। সার্কুলার ইকোনমির ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যৎ পৌর ও মানব বর্জ্য এবং ওয়েস্ট ওয়াটারের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং সরকারি পর্যায়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য নেয়া উদ্যোগগুলোর সুষ্ঠু বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট অংশীজনের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
বিশ্বব্যাপী বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কৌশল, পরিবেশ ও আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট, কারিগরি বিষয়ে অভিজ্ঞতা এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে নতুন নতুন কৌশল উদ্ভাবনের লক্ষ্যে কাজ করে যেতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর....