• শুক্রবার, ১২ অগাস্ট ২০২২, ০৯:৪৮ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
নারী চিকিৎসককে গলা কেটে হত্যা, কথিত প্রেমিক কক্সবাজারের রেজা চট্টগ্রামে আটক ভোটার প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গা অধ্যুষিত সীমান্ত এলাকার জন্য ইসি সচিবালয় কর্তৃক ঘোষিত নির্দেশিকা। কক্সবাজার জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইন চার্জ মনোনীত হয়েছেন’ উখিয়া থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী নাদিম আবাসিক হোটেলে মিলল এক নারী চিকিৎসকের গলাকাটা লাশ, কথিত স্বামী পলাতক। বনের জন্য কক্সবাজার হবে মডেল জেলা-প্রধান বনসংরক্ষক কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলিতে হেড মাঝিসহ ০২জন নিহত। আর্থিক খাতে লুটপাটের দায় জনগণ শোধ করবে কেন? মাদক ও ইয়াবার বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত রেখে তরুণ সমাজকে রক্ষা করুণ । কক্সবাজার জেলা বিএমএসএফ এর জরুরী সভা অনুষ্ঠিত উখিয়া স্পেশালাইজড হসপিটাল এ জনপদের চাহিদা, আশা-আকাঙ্ক্ষা পুরণে সক্ষম? নাকি শুধুই গতানুগতিক!

উখিয়া স্পেশালাইজড হসপিটাল এ জনপদের চাহিদা, আশা-আকাঙ্ক্ষা পুরণে সক্ষম? নাকি শুধুই গতানুগতিক!

AnonymousFox_bwo / ১৮০ মিনিট
আপডেট সোমবার, ১ আগস্ট, ২০২২

আইকন নিউজ ডেস্কঃ

উখিয়া স্পেশালাইজড হসপিটাল ( ইউএসএইচ) একটি স্বয়ং সম্পূর্ণ হাসপাতালের বারতা নিয়ে কক্সবাজারের দক্ষিনাংশে উখিয়া টি এন্ড টি কলেজ এলাকায় সদ্য প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালটি মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে বলে মনে মনে স্বস্তির ঢেকুর তুলছিলাম। কারণ, ১৪ লক্ষ রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় আরো প্রায় ৭ লক্ষ হোস্ট নিয়ে প্রায় ২১ লক্ষ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার জন্য আশে পাশে উন্নত মানের সুপরিসর হাসপাতালের ঘাটতি পূরণ করবে বলে আমাদের মনে প্রানে বিশ্বাস ছিল।

কিন্তু নিজের ও পরিবারের প্রয়োজনে সেই ইউএসএইচ হাসপাতালে গিয়ে সেই আশার গুড়ো বালি দেখে খুবই হতাশা ব্যক্ত করেন উখিয়ার সচেতন নাগরিক নুরুল হুদা মিন্টু। তিনি বলেন, ” দন্ত চিকিৎসা পারপাসে ইউএসএইস এ গিয়ে যে বিশ্রী অভিজ্ঞতা সঞ্চয় হয়েছে তা বলতেও খুব ইতস্তত করলেও না বলেও উপায় নেই। যদিও বা রোগী দেখার সময় সূচী সকাল ৯.০০টা থেকে বিকাল ৪.০০ টা পর্যন্ত সময় তালিকা টাঙ্গানো থাকলেও, ১০.০০টার পরেও ডাক্তার না আসায়, সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ডাক্তার কখন আসবে, কখন আমার কাজটা করে তাড়াতাড়ি চলে যেতে পারব ( কারন, আমার ছেলে মেয়েকে স্কুলে দিতে হবে বিধায়) জিজ্ঞেস করলে, তিনি তেলে বেগুনে জ্বলে উঠেন, যেন তিনি (দন্ত চিকিৎসক এসিস্টেন্ট) দেখি ডাক্তারের চেয়েও বড় ডাক্তার। অভদ্র ভাষায় তিনি কথা বললে আমি ভদ্রভাবে এহেন আচরন কেন করছেন জিজ্ঞেস করলে তিনি আরো জোরে চিল্লাতে থাকলে পাশে অবস্থানরত পেশেন্টরা তাকে ধরে শাসায় ( একপ্রকার মারতে উদ্যত হলে) দিলে সে একপ্রকার নিবৃত্ত হয়”।

কাকতালীয়ভাবে আমিও আমার পরিবারের এক সদস্যকে ডাক্তার দেখাতে গিয়ে ইমার্জেন্সি বিভাগে দায়িত্বরত ডাক্তার ভদ্রলোক আমার রোগীকে একটু ডাক্তারী ভাষায় চেক করেননি। তিনি আমার রোগিকে ধরে তো দেখেন নি, অধিকন্তু একজন এসিস্টেন্ট বা নার্স দিয়ে প্রেস্ক্রাইভড করে দেন। প্রেসক্রিপশন নিয়ে ঔষধের জন্য গেলে তখন বাজে পৌনে ১০.০০ টা। ঔষধ বিতরনে নিয়োজিত এক মহিলাকে জিজ্ঞেস করায় তিনি খুব বিরক্ত হয়ে বললেন অপেক্ষা করুণ ১০.০০ টার পরে ঔষধ বিতরন করা হবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সকাল ৯.০০টায় ইমার্জেন্সিতে রোগী আসলে, ঔষধের জন্য ১০.০০ টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে গিয়ে রোগীর অবস্থা বেগতিক হলে দায়িত্ব কে নেবেন? আর ঔষধ সরবরাহ না দিতে পারলে রোগীকে বলে দিলে অন্য ব্যবস্থা করতে পারবে, বৈকি!

বিকালে আমার সেই পেশেন্ট এর বমি, পাতলা পায়খানা বৃদ্ধি পেলে আবারও ইমার্জেন্সিতে নিয়ে গেলে সেই ইমার্জেন্সি ডাক্তারকে রিকুয়েষ্ট করার পরেও আমার পেশেন্টকে উনি তো ধরে দেখেননি, অধিকন্তু এটেন্ডেন্স এর সাথে ঔদ্ধত্য আচরণ করেন। আমি সেই ডাক্তার সাহেবকে জিজ্ঞেস করলাম, সকালে আসার পরেও আপনার এই অবস্থা দেখলাম, এখন বেশিমাত্রায় অসুস্থতা নিয়ে আবারও আপনার শরনাপন্ন হলাম, একটু কষ্ট করে আমার পেশেন্টটার বাস্তব অবস্থা চেক করে দেখুন না,প্লীজ। তিনি কোনভাবেই আমার পেশেন্টকে হাত বাড়িয়ে একটু দেখলেন না, অনেকটা ইচ্ছে করে রিকুয়েষ্ট ডিনাই করলেন। বড়ই আফসোস!

২০ নম্বর কক্ষের ডাক্তার মমতাজ হোসেন একজন সেবাব্রত পালন করার একজন সুচিকিৎসক। উনার আচার আচরণ, ডাক্তারী ভাষা, গেস্ট ও হোস্ট কমিউনিটির সাথে লোকাল ল্যাংগুয়েজ বলার চেষ্টা, সুন্দর করে সবকিছু বুঝিয়ে দেবার প্রচেষ্টা সকল পেশেন্টদের বিমুগ্ধ করেছে নিশ্চয়ই।

তাছাড়া, চক্ষু বিভাগের ডাক্তার মোস্তাফিজ সাহেবের আচরনে আমিসহ সকল পেশেন্ট মুগ্ধ। উনি কত ধৈর্য সহকারে পেশেন্ট দেখেছেন, তা রীতিমতো অসাধারণ।
পল্লীবিদ্যুতের জাকের ভাই তার মেয়ের চোখের সমাস্যা নিয়ে গেলে মেয়েটার চোখ কত যত্ননিয়ে দেখলেন না দেখলে বিশ্বাস হবে না।

আমরা আশা করব, সদ্য প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালটি সত্যিকার অর্থে জনসেবার মহানব্রত নিয়ে গেস্ট ও হোস্ট কমিউনিটির আশা আকাঙ্ক্ষার বাস্তব প্রতিফলন ঘটাবে এবং যে লক্ষ্য, উদ্দেশ্যে নিয়ে এটির অগ্রযাত্রা ঘটেছে তার বাস্তব প্রয়োগ ঘটিয়ে অনুন্নত, অবহেলিত, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় অনগ্রসর এই জনপদে মানুষের আলোকবর্তিকা হয়ে আশার সঞ্চার করবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর....