• রবিবার, ০২ অক্টোবর ২০২২, ০৮:০৯ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
এ বছরে নোবেল প্রাইজের জন্য মনোনীত বাংলাদেশী চিকিৎসক রায়ান সাদী কক্সবাজারে ৪২ কোটি টাকায় বনায়ন, নতুন রূপে সাজবে হিমছড়িসহ কক্সবাজার জেলা। পুলিশের প্রশিক্ষণ খাতে এনজিওগুলো শত শত কোটি টাকা অনুদান পেয়েছে : বেনজীর আহমেদ  রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গত রাতেও ০১ জন খুন, অস্থিতিশীল অবস্থায় স্থানীয়রাও চরম আতংকে। র‍্যাব-৭ কর্তৃক ২ লক্ষ ৩৮ হাজার ইয়াবাসহ ০৩ জন আটক। র‍্যাব-৭ কর্তৃক ২ লক্ষ ৩৮ হাজার ইয়াবাসহ ০৩ জন আটক। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক মুল্য ৬ কোটি। উখিয়া রেঞ্জকর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে উদ্ধারকরা ৩ শতাধিক বক অবমুক্ত করা হয় উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এক রোহিঙ্গা ভলান্টেয়ারকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নির্মমভাবে খুন। ঘুংধুম সীমান্তে চরম উত্তেজনায় এসএসসি ও সমমানের পরিক্ষার কেন্দ্র পরিবর্তন শাড়ি পরে কলেজে গেল ছেলে, ছবি পোস্ট করলেন ‘গর্বিত’ বাবা!

রোহিঙ্গাদের হাতে জাতীয় পরিচয়পত্র, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি

AnonymousFox_bwo / ১০১ মিনিট
আপডেট রবিবার, ২১ আগস্ট, ২০২২

রোহিঙ্গাদের হাতে জন্মসনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট-যা দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি!

এম আর আয়াজ রবি।
ইতিমধ্যে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা শরনার্থী জন্মসনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও পাসপোর্ট সংগ্রহ করেছে এবং উখিয়া টেকনাফসহ সীমান্তবর্তী এলাকায় গত ১লা আগষ্ট থেকেকাল ২২-আগষ্ট’২০২২ পর্যন্ত নতুন ভোটার তালিকা তৈরি ও হালনাগাদের সময় সীমা রয়েছে। বিভিন্ন তথ্য, উপাত্ত সংগ্রহ ও বিভিন্ন জনের সাথে আলাপচারিতায় জানা গেছে, অনেক রোহিঙ্গা শরনার্থী ভোটার হবার জন্য বিভিন্নভাবে তদবির, প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে, যেটি দেশের সার্বিক নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্বের জন্য যে মারাত্মক হুমকি স্বরুপ, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

রোহিঙ্গারা এদেশের নাগরিক নয়, তারা পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে, অত্যন্ত মানবিক কারনে এদেশে আশ্রয় পাওয়া মায়ানমারের নাগরিক। তারা এদেশের শরনার্থী হিসেবে অবস্থান করলেও তারা বিদেশি। তারা যদি এদেশের নাগরিকত্ব ও পাসপোর্ট পায়, তা নিয়ে অন্য কোন দেশে সন্ত্রাসি কর্মকান্ড বা অপরাধমুলক কর্মকান্ড পরিচালনা করে- তাহলে তার দায়ভার আমাদের উপর বর্তাবে এবং দেশের ভাবমুর্তি ও সুনাম ক্ষুন্ন হবে ব্যাপক ও মারাত্মকভাবে। ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর বিভিন্ন রাষ্ট্রে রোহিঙ্গারা এদেশের সুনাম ভূলুন্ঠিত করেছে।

২০১৭ সালের ২৫ শে আগস্ট তারিখে পার্শ্ববর্তী দেশ মায়ানমার থেকে কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় প্রবেশ করে, এবং বাংলাদেশ সরকার একান্ত মানবতার কারনে তাদের আশ্রয় দেয় এবং উখিয়া টেকনাফের ৩৪ টি অস্থায়ী ক্যাম্পে তাদের বাসস্থান, আহার, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা প্রদান করেন। শুরুতে নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা ছিল ৯ লাখ। এখন বংশবৃদ্ধির পর তাদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২ লাখে। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত আছে। কিন্তু মিয়ানমার এখন পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরত নেয়নি।

বাংলাদেশের ভূখণ্ডে অবস্থানরত মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা এদেশের জন্য অনেক সমস্যা সৃষ্টি করেছে এবং করেই চলেছে। রোহিঙ্গারা তাদের জন্য নির্ধারিত ক্যাম্পের বাইরে বনাঞ্চলের গাছ কাটছে, পাহাড় কাটছে এবং সেখানে অবৈধভাবে ঘরবাড়ি তৈরি করছে। তারা কক্সবাজার জেলার দক্ষিণাঞ্চলে ভূ-প্রকৃতি, প্রাকৃতিক পরিবেশ-প্রতিবেশ ধ্বংস করছে। একই সঙ্গে মাদক পাচার ও মাদকের ব্যবসা এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে। এবার জানা গেল, তারা এনআইডি কার্ড ও পাসপোর্ট সংগ্রহ করছে অবৈধ উপায়ে। এ কাজে তারা দুর্নীতিপরায়ণ কিছু অসাধু জনপ্রতিনিধি, অতিলোভী কিছু মানুষ ও কিছু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহায়তা পাচ্ছে। অবৈধ পাসপোর্ট ব্যবহার করে বেশকিছু রোহিঙ্গা ইতোমধ্যেই অন্য দেশে পাড়ি জমিয়েছে বলে গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়।

নাগরিকরা দেশের সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার অধিকারী। এনআইডি কার্ড থাকলে নাগরিকরা পাসপোর্ট পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হন এবং পাসপোর্ট নিয়ে অন্য দেশে যেতে পারেন।
এই ভিনদেশি রোহিঙ্গারা কেবল বাংলাদেশের এনআইডি কার্ড নয়, পাসপোর্টও সংগ্রহ করেছে, খবরটি খুবই উদ্বেগজনক। রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের সবুজ পাসপোর্ট নিয়ে অন্য কোনো দেশে গিয়ে যদি অপকর্ম করে ধরা পড়ে, তাহলে তাদেরকে বাংলাদেশের নাগরিক হিসাবেই গণ্য করা হবে এবং সেদেশের আইন অনুযায়ী শাস্তি পেতে হবে। তাই বাংলাদেশের সবুজ পাসপোর্ট ও দেশের বাংলাদেশের এনআইডি ও পাসপোর্ট কেবল এদেশের নাগরিকরাই পেতে পারেন। ভূয়া এনআইডিও পাসপোর্টধারী কিছু রোহিঙ্গা যদি আমাদের পাসপোর্ট প্রাপ্ত হয়ে বিদেশের মাটিতে অপকর্ম করে, তাহলে আমাদের দেশের জনগোষ্ঠীর মানমর্যাদা কোথায় থাকবে? বিদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এদেশের সবুজ পাসপোর্টধারী সব মানুষকেই সন্দেহের চোখে দেখবে এবং তাদের আচরণও সেরকম হবে। এমন একটা পরিস্থিতি আমাদের কারও কাম্য নয়।

রোহিঙ্গাদের হাতে বাংলাদেশের এনআইডি যাচ্ছে এমন খবর গণমাধ্যমে আগেও এসেছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি, তদন্তও হয়নি। গত ১৬ জানুয়ারি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) প্রধান আতাউল্লাহর ভাই শাহ আলিকে গ্রেফতার করে এবং তার কাছ থেকে বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) উদ্ধার করে। এরপরই অবৈধভাবে এনআইডি প্রদানের বিষয়টি সামনে চলে আসে। গণমাধ্যমে লেখালেখি শুরু হয়, কর্তৃপক্ষও নড়েচড়ে বসে। ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে জানা যায়, শাহ আলি এনআইডি কার্ডটি সংগ্রহ করেছে ২০১৮ সালে। তখন সে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানার অধীন একটি স্থায়ী ঠিকানা ব্যবহার করে। তদন্তে দেখা যায়, এ নামে ওই এলাকায় কেউ থাকে না। কার্ডটি পুরোপুরি ভুয়া, কিন্তু প্রদান করেছে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তিন বছর আগে অবৈধভাবে কার্ডটি মিয়ানমারের নাগরিক শাহ আলিকে দেওয়া হয়েছে। এর জন্য দায়ী কে? শাহ আলি না আমাদের দেশের কর্তৃপক্ষ?
রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশী নাগরিকত্ব লাভ এটি এখন নতুন ঘটনা নয়। সেই ১৯৭৮ সাল থেকে রোহিঙ্গা সমাস্যা বাংলাদেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে আসছে। ১৯৭৮ সালের রোহিঙ্গা সমাস্যা তৎকালীন জিয়াউর রহমান সরকার দক্ষতার সাথে মোকাবেলা করে একটি সন্তোষজনক অবস্থানে নিয়ে যেতে পারলেও বেশ কিছু রোহিঙ্গা নানাভাবে এদেশে রয়ে যাবার সুযোগ প্রাপ্ত হয়েছিল। সেই রোহিঙ্গা আবার ১৯৯০-৯১ সালের দিকে আবারও এসে বাংলাদেশে অবস্থান করার সুযোগ পায়। সেই রোহিঙ্গাদের এখনও উখিয়া টেকনাফের বিভিন্ন অঞ্চলে রেজিঃ ক্যাম্প হিসেবে অনেকেই রয়ে গেছে। ১৯৭৮ এবং ১৯৯০-৯১ সালে আগত রোহিঙ্গা যারা এদেশে রয়ে গিয়েছিল তারাই বিভিন্নভাবে কিছু এ দেশীয় দুস্কৃতকারীদের যোগসাজশে এন আই ডি ও পাসপোর্ট পাবার ব্যবস্থা করে দেয়। ঐ সকল রোহিঙ্গাদের ছেলে মেয়ে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা,বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে সরকারি বেসরকারি চাকুরিতে জয়েন করে রীতিমতো বাংলাদেশী বুনে গেছে। বংশ পরম্পরায় আজ তারা বাংলাদেশী নাগরিকত্ব লাভ করে, আমাদের চেয়ে বড় বাংলাদেশী। সেই সব রোহিঙ্গারা আজকে সদ্য আসা রোহিঙ্গাদের বিভিন্নভাবে ভোটার হাল নাগাদে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। এখন এমন অবস্থা হয়ে গেছে, কোনটা স্থানীয়, কোনটা রোহিঙ্গা তা পার্থক্য করা খুব কঠিন হয়ে গেছে। তাই এখন সময় এসেছে, রোহিঙ্গা পরিচয় চিহ্নিত করার জন্য সেই পুর্বের আগত অর্থাৎ ১৯৭৮, ১৯৯০-৯১ সালে আগত রোহিঙ্গাদের মধ্যে যারা নাগরিকত্ব পেয়েছে তাদের চিহ্নিত করে একটি ডাটাবেজের অধীনে নিয়ে আসা। আজকে সেই ডাটাবেজ থেকে খুব সহজেই রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত করা সহজ কাজ হবে। এখন অনেক রোহিঙ্গা মুল স্রোতে চলে এসেছে তাদেরকে চিহ্নিত করার কোন ক্ষেত্র না থাকলেও সরকার উদ্যোগ গ্রহন করলে এখনও তাদের পৃথক ডাটাবেজ তৈরি করা সম্ভব। সেই সত্তর ও নব্বই দশক এবং ২০১৭ সালে আগত রোহিঙ্গাদের নিয়ে ডাটাবেজ তৈরি করলে খুব সহজে রোহিঙ্গা চিহ্নিত করন সম্ভব হবে। তাছাড়া, যেসকল রোহিঙ্গা নারী, বাংলাদেশী পুরুষকে ও রোহিঙ্গা পুরুষ বাংলাদেশী নারিকে বিয়ে করে বাংলাদেশী বুনে গিয়ে জাতীয় পরিচয় পত্র গ্রহন করেছে তাদেরকেও চিহ্নিত করে সেই ডায়াটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজন রয়েছে।

গত সপ্তাহে সংবাদপত্রে প্রকাশ, কক্সবাজারের উখিয়ায় কুতুপালং মেগা-২ ইষ্ট ক্যেম্পের মোঃ জাফর রোহিঙ্গাদের চেয়ারম্যান বা হেড মাঝি। অভিযোগ আছে যে সে মায়ানমারের নিষিদ্ধ আলিক্বিন বা আরসা সন্ত্রাসি সংগঠনের সাথে জড়িত একজন প্রভাবশালি সদস্য।সে ২০১৭ সালের আগত রোহিঙ্গাদের একজন। ইতিমধ্যে সে জাতীয় পরিচয় পত্র বানিয়ে নিয়েছে।জাফর আলম ২০১৯ সালে বাংলাদেশী জাতীয় পরিচয় পত্র বা এন আইডি বানিয়ে নেয়, তাও আবার স্মার্ট কার্ড, যা এ দেশের অধিকাং নাগরিক এখনও পায়নি।চট্টগ্রামের রাংগুনিয়ার পমরা কাদেরিয়া পাড়ার ঠিকানায় বানানো তার এন আইডি নং ৭৭৭৭৮৩৬৩৮৩।অন্যদিকে মোঃ তৈয়ব ২০১৯ সালে মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা আশ্রিত হিসেবে ০০১৮৩২৯৫ নাম্বারে নিবন্ধিত হয়ে আশ্রয় নেয় কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। তার জন্ম ৫ এপ্রিল-১৯৯৬, মায়ানমারে। পিতা; আবু শামা, মাতা; ফাতেমা খাতুন। সুচতুর তৈয়ব শুধুমাত্র নিজের নাম মোঃ খালিদ হোসেন পালটিয়ে মা বাবা, জন্মসাল ঠিক রেখে পরের বছর চট্টগ্রাম সিটির হালিশহর এলাকায় ৩৩০২৫৪৮৩৫৩ নম্বর স্মার্ট কার্ড বানিয়ে নেয়।ইতিপুর্বে ২০২০ সালের ১০ দিসেম্বর তারিখে ঢাকা থেকে ই ঔ ০৫৩৬৭২৪ নাম্বার পাসপোর্ট করে।
এতদিন ধরে গণমাধ্যম বলে আসছিল, রোহিঙ্গারা অবৈধভাবে এনআইডি কার্ড পাচ্ছে, এই অভিযোগ এখন হাতেনাতে প্রমাণ হয়ে গেল। কত হাজার রোহিঙ্গা অবৈধভাবে এনআইডি কার্ড সংগ্রহ করেছে, সে সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ মুখ খুলছেন না। গণমাধ্যমের রিপোর্ট অসত্য, এ কথাও তারা বলছেন না। বলছেন, বিষয়টি ‘খতিয়ে’ দেখা হচ্ছে। ‘খতিয়ে’ দেখতে তাদের কত সময় লাগবে বোঝা যাচ্ছে না। তবে এভাবে অবৈধ এনআইডি কার্ড ও পাসপোর্ট সংগ্রহ করে মিয়ানমারের সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরসা এবং এদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের নিরাপত্তাকে কত বড় হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে, তা বুঝতে কষ্ট হবার কথা নয়।

সম্প্রতি ১৪ আগষ্ট রবিবার, সাগর নামে একজনকে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়েছে, যিনি দীর্ঘদিন এই অসাধু কাজে নিয়োজিত রয়েছে তার নিজস্ব আউটলেট ‘সাগর বেঙ্গল আইটি সেন্টার’ থেকে। চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরীর সহযোগিতায় তাকে আটক করা হয়েছে। চেয়ারম্যান বলেন, সে দীর্ঘদিন যাবৎ পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্যবৃন্দ ও পরিষদের সচিবের স্বাক্ষর স্ক্রিন করে রোহিঙ্গাদের জন্মনিবন্ধন করে আসছিল। এটার সত্যতা স্বীকার করেন স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল হক।

অন্যদিকে সাগর নিজকে বাংলাদেশ প্রতিদিন ও দেশ বিদেশ পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে আসছিল। উখিয়া থানা পুলিশ উক্ত জন্মসনদ জালকরণ চক্রের হোতা সাগরকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরন করেন।
চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী আরও বলেন, ‘এ পযন্ত প্রায় ২০ জন মতো রোহিঙ্গা নারী পুরুষ বিভিন্ন অসৎ উপায়ে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেছেন, তাদেরকে আমরা চিহ্নিত করে অধিকতর তদন্তে পাঠাই’।

” রোহিঙ্গা যুবক বাংলাদেশী মেয়ে বিয়ে করে, অথবা বাংলাদেশী যুবক রোহিঙ্গা মেয়ে বিয়ে করে তাদের শ্বশুর শাশুড়ীকে আপন মা বাবা দেখিয়ে ভোটার লিষ্টে নাম তোলার ব্যর্থ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। অনেকেই সফল হচ্ছেন।’ গফুর চেয়ারম্যান আরও যোগ করে বলেন।

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) প্রাপ্তির প্রক্রিয়াটি খুব সহজসরল নয়। পাঁচটি ধাপ অতিক্রম করে এই কার্ড পাওয়া যায়। আবেদনপত্র জমা দেওয়ার পর তথ্য সংগ্রহ, পরিচিতি যাচাই, উপজেলা সার্ভারে প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রভৃতি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আবেদনকারীকে এনআইডি কার্ড দেওয়া হয়। এজন্য বেশ সময়ও লাগে। উল্লিখিত রোহিঙ্গা শরণার্থী শাহ আলি যদি সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কার্ড পেয়ে থাকে, তাহলেও বলতে হবে তার ক্ষেত্রে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। যে এ দেশের নাগরিক নয়, তাকে এনআইডি কার্ড দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। এ অনিয়ম ও দুর্নীতিতে কে বা কারা জড়িত, তা এখন পর্যন্ত গণমাধ্যমে আসেনি। ঘটনাটি ‘খতিয়ে’ দেখতে কর্তৃপক্ষের কতদিন লাগবে তারাই জানেন।
চট্টগ্রামে নকল এনআইডি ও পাসপোর্ট করে দেওয়ার কাজে বিভিন্ন পর্যায়ে সুসংগঠিত একটি চক্র কাজ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিন থেকে। সম্প্রতি এ চক্রের তিন সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাব। গত বছর এ চক্রের অন্তত ১৫ জনকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয় নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও পাসপোর্ট অফিস থেকে চুরি যাওয়া ল্যাপটপ, জাল বা ভুয়া এনআইডি, ভুয়া পাসপোর্ট প্রভৃতি। এ চক্র মাত্র পাঁচশ থেকে এক হাজার টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কাছে ভুয়া এনআইডি সরবরাহ করেছে বলে সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরে জানা যায়। সংবাদপত্রের খবরে আরও জানা গেল, কয়েক হাজার টাকার বিনিময়েই নাকি রোহিঙ্গারা এই চক্রের কাছ থেকে বাংলাদেশি পাসপোর্টও সংগ্রহ করেছে। ইসি ও পাসপোর্ট বিভাগের কিছুসংখ্যক অসাধু কর্মচারী এ ধরনের অপকর্মে জড়িত বলে ধরে নেওয়া যায়।
ভুয়া এনআইডি বা পাসপোর্ট তৈরির কাজে জড়িত একটি চক্র ধরা পড়লেও এমন আরও অনেক চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে সন্দেহ করা হয়। এ ধরনের সব চক্রকে অবিলম্বে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করতে হবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। তা না হলে বাংলাদেশকে বড় ধরনের হুমকি ও বিপদের মধ্যে পড়তে হতে পারে।

বাংলাদেশের নাগরিকদের নতুন পাসপোর্ট পেতে বা পাসপোর্ট নবায়ন করতে কত ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়, ভুক্তভোগী মাত্রই তা জানেন। পাসপোর্ট অফিসগুলো দালালদের দখলে চলে গেছে-এমন খবর গণমাধ্যমে প্রায়ই আসছে। দালালদের টাকা দিলে পাসপোর্ট পাওয়া যায় নির্ধারিত সময়ে। দালাল না ধরে কেউ যদি সরাসরি পাসপোর্টের আবেদন জমা দেন, তিনি কতদিনে তা পাবেন বলা যায় না। তদুপরি বিভিন্নভাবে আবেদনকারীদের হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। গণমাধ্যমে এসব দুর্নীতির খবর এলেও এর কোনো প্রতিকার নেই। অথচ বিদেশি রোহিঙ্গারা এদেশের মাটিতে বসে জন্ম নিবন্ধন, এনআইডি ও পাসপোর্ট পাচ্ছে, অনেকে বিদেশেও চলে যাচ্ছে, তাদের কোন খবর নেই।

রোহিঙ্গারা জন্মসনদ, এনআইডি ও পাসপোর্ট করেই ক্ষান্ত হচ্ছে না, অধিকন্তু এগুলো করে আমাদের দেশের মানুষের মুল স্রোতে প্রবেশ করে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্য, ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য মারাত্মক অশনি সংকেত হয়ে থাকবে। সাথে কক্সবাজারের ভূ-প্রকৃতি ও পরিবেশ ধ্বংস করার পাশাপাশি মিয়ানমার থেকে ইয়াবা, আইস, স্বর্ণসহ মারাত্মক ধরনের মাদকদ্রব্য চোরাচালান করে আনছে। তাছাড়া হত্যা, গুম,খুন, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, অপহরণ, মুক্তিপণ, নিজেদের বিভিন্ন স-শস্ত্র বাহিনীর মধ্যে স্বার্থের দ্ধন্ধ, ক্ষমতার দ্ধন্ধ, মায়ানমার শামরিক জান্তার এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যাবলী চালিয়ে যাচ্ছে। তদোপরি তাদ্দ্র কারনে, দেশে মাদকের ব্যবসা জমজমাট, শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে খুন-খারাবির ঘটনা যেন নিত্য দিনের সাথী। এসব ঘটনা গণমাধ্যমে প্রায়ই আসছে। প্রতিকার হচ্ছে না। কারও মাথাব্যথা আছে বলে মনে হচ্ছে না। যত মাথাব্যথা সব গণমাধ্যম কর্মীদের!

লেখকঃ সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক-বিএমএসএফ, কক্সবাজার জেলা শাখা ও ভাইস প্রেসিডেন্ট উপজেলা প্রেসক্লাব উখিয়া।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর....