• রবিবার, ০২ অক্টোবর ২০২২, ০৭:৪৫ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
এ বছরে নোবেল প্রাইজের জন্য মনোনীত বাংলাদেশী চিকিৎসক রায়ান সাদী কক্সবাজারে ৪২ কোটি টাকায় বনায়ন, নতুন রূপে সাজবে হিমছড়িসহ কক্সবাজার জেলা। পুলিশের প্রশিক্ষণ খাতে এনজিওগুলো শত শত কোটি টাকা অনুদান পেয়েছে : বেনজীর আহমেদ  রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গত রাতেও ০১ জন খুন, অস্থিতিশীল অবস্থায় স্থানীয়রাও চরম আতংকে। র‍্যাব-৭ কর্তৃক ২ লক্ষ ৩৮ হাজার ইয়াবাসহ ০৩ জন আটক। র‍্যাব-৭ কর্তৃক ২ লক্ষ ৩৮ হাজার ইয়াবাসহ ০৩ জন আটক। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক মুল্য ৬ কোটি। উখিয়া রেঞ্জকর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে উদ্ধারকরা ৩ শতাধিক বক অবমুক্ত করা হয় উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এক রোহিঙ্গা ভলান্টেয়ারকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নির্মমভাবে খুন। ঘুংধুম সীমান্তে চরম উত্তেজনায় এসএসসি ও সমমানের পরিক্ষার কেন্দ্র পরিবর্তন শাড়ি পরে কলেজে গেল ছেলে, ছবি পোস্ট করলেন ‘গর্বিত’ বাবা!

ব্যবসা ও শ্রম বাজার দখলে নিচ্ছে রোহিঙ্গারা কিন্তু ঠিক যেন নিজ বাসভুমে পরবাসী স্থানীয়রা!

AnonymousFox_bwo / ৭৮ মিনিট
আপডেট শুক্রবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২২

এম আর আয়াজ রবি, উখিয়া

২০১৭ সালের ২৫ শে আগষ্ট তারিখে, জাতিগত নিপীড়নের মুখে জোরপুর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে মায়ানমার রাষ্ট্রের রাখাইন ও আরাকান রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে অত্যন্ত মানবিক কারনে আশ্রয় প্রদান করে বাংলাদেশ সরকার। দীর্ঘ ৫ বছরের পথ পরিক্রমায় এসব রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এখন স্থানীয়দের গলার কাঁটা হয়ে বিদ্ধ হচ্ছে। এখন অত্র এলাকার পাশাপাশি উখিয়া টেকনাফ এলাকাসহ কক্সবাজার জেলার শ্রম বাজার দখল করে নিয়েছে এই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী।

রোহিঙ্গা শ্রমিকের দাপটে স্থানীয় শ্রমিকরা আজ দিশাহারা। রোহিঙ্গাদের কারনে উখিয়া টেকনাফ বিশেষ করে উখিয়ার শ্রম বাজার ও ব্যবসা বানিজ্য নিয়ে বহুমুখী জটিলতায় ভোগছে স্থানীয়রা। একদিকে রোহিঙ্গাদের অপরাধ প্রবণতা মারামারি, অপহরন, খুন, গুম, চাঁদাবাজিসহ হেন অপরাধ নেই তারা করছে, অন্যদিকে নিজেদের মধ্যে আধিপত্যের লড়াই, দলে- উপদলে ভাগ হয়ে তাদের মধ্যে স্বার্থের লড়াই, মায়ানমারে ফিরে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে বিভিন্ন গ্রুপ, উপগ্রুপে বিভক্ত করে মায়ানমার সরকারের পৃষ্টপোষকতায় অস্ত্র, গোলাবারুদ সংগ্রহ, ইয়াবা ও স্বর্ন চোরাচালান, বাংলাদেশ রাষ্ট্রে অস্থিরতা সৃষ্টির প্রানান্তকর প্রচেষ্টা, বিভিন্ন ছলে-বলে-কৌশলে রোহিংগাদেরকে সন্ত্রাসি তকমা দিয়ে তাদের স্বদেশে ফিরানো বিলম্বিত করার চেষ্টা করাসহ নানাবিধ দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে এই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ব্যস্ত রেখে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধ আচরন করে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে অন্ধকারে কিমজ্জিত করার খেলায় মত্ত হয়ে উঠেছে তারা।
আবার তাদের হাতে রয়েছে ইয়াবা, স্বর্ন, আইসসহ বিভিন্ন রকমের মাদক ও চোরাচালান দ্রব্য। অন্যদিকে নামে বেনামে বিভিন্ন বাজার, মার্কেটে গড়ে তুলেছে ব্যবসা-বানিজ্য, ক্যাম্পের বাইরে গড়ে তুলেছে স্থাপনা, অট্রালিকা-যা স্থানীয়দের জীবন ধারন ও বেঁচে থাকার অবলম্বনের উপর মারাত্মক প্রভাব বিস্তার করছে। রোহিঙ্গারা দিনে দিনে স্থানীয়দের ব্যবসা বানিজ্য, শ্রম বাজার, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চাকুরিসহ বিভিন্ন কিছু দখল করে চরম একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করে নিচ্ছে।

তারা খুবই ঐক্যবদ্ধ। যেকোন ব্যাপারে তাদের মধ্যে রয়েছে একতা, সংঘবদ্ধতা ও তিলকে তাল করার মানসিকতা। তাই অতি সহজে স্থানীয়রা কোন ব্যাপারে তর্কে লিপ্ত হতে সাহস পায় না। ছোট বা যেকোন ঠুনকো ব্যাপারে তারা বড় ঘটনা ঘটাতে দ্বিধা করেনা। তাই স্থানীয়রা তাদের সাথে কোন ব্যাপারে সহজে তর্কাতর্কিতে যায় না বা জড়ায় না। এটাকে পুঁজি করে এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়োজিত আইন শৃংখলা বাহিনী (এপিবিএন) পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর নির্লিপ্ততায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ধরাকে সরা জ্ঞান করছে।

উখিয়ার প্রতিটি ক্যাম্প জুড়ে বাজারের অবস্থানগুলোতে রোহিঙ্গাদের একচেটিয়া ব্যবসা। বিভিন্ন ক্যাম্পগুলোর মধ্যে বলি বাজার, মধুর ছড়া বাজার, জামতলা বাজার, কুতুপালং বাজার, লম্বাশিয়া বাজারসহ আরও অনেক বাজারে প্রায় হাজার দশেক দোকানপাট রয়েছে। এর প্রতিটি বাজারের প্রায় ৮০% এর মালিক রোহিঙ্গা। সেখানে ২০/২৫ হাজারের উপরে রোহিঙ্গা শ্রমিক কাজ করে। শুধু উখিয়া উপজেলায় এক লাখের মত রোহিঙ্গা বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত রয়েছে।

রোহিঙ্গাদের কারনে উখিয়ায় শ্রমবাজার ও ব্যবসা নিয়ে জটিলতায় ভোগছে স্থানীয় দিন মজুর, শ্রমিক ও ফুটফাত ব্যবসায়ীরা। কৌশলে তাদেরকে তাড়িয়ে দিয়ে রোহিঙ্গারা দেদারসে রাস্তার আশে পাশে এসব ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে সর্বত্র রোহিঙ্গা শ্রমিক, যারা হাত বাড়ালেই স্থানীয় শ্রমিকদের হটিয়ে নিজেদেরকে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত করতে পারছে।

কুতুপালং এলাকার রহিম মিয়া নামের এক স্থানীয় দিনমজুর বলেন, “দিনে এনে দিনে খাওয়া বুভুক্ষ মানুষ আমরা। একদিন কাজ না করলে বা কাজ না পেলে পরিবারের সবাইকে না খেয়ে থাকতে হয়। আগের মত মানুষের বাসায় কাজ পাইনা। সবাই রোহিঙ্গা নিয়ে কাজ সেরে নিচ্ছে। রোহিঙ্গাদের মজুরি অপেক্ষাকৃত কম হবার কারনে তাদেরকে কাজে নিয়োগ করে থাকে বেশি। মজুরি একটু বেশি বলে স্থানীয় শ্রমিকদের এখন কেউ নিতে চায়না। এদিকে রোহিঙ্গারা বিভিন্ন এনজিও থেকে প্রয়োজনীয় ত্রান সামগ্রি পেয়ে থাকে। সাথে উপরি হিসেবে দৈনিক কাজ করেও টাকা আয় করছে। কিন্তু স্থানীয়রা না পায় কাজ, না পায় ত্রান সামগ্রী। এ অবস্থা চলতে থাকলে আমাদের কি অবস্থা হবে?” তিনি আক্ষেপ করে আরো বকেন, ” নিশ্চয়ই আমাদেরকে বাসা বাড়ি ছেড়ে অন্যদিকে যাওয়া ছাড়া কোন গত্যন্তর নেই। তাছাড়া এমন ও হতে পারে আমাদের জায়গা জমি রোহিঙ্গাদের হাতে ছেড়ে দিয়ে আত্মহত্যা করা ছাড়া উপায়ও নেই।”

স্থানীয় তরকারি ব্যবসায়ী শামসু বলেন, “রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেবার পর থেকে তারা (রোহিঙ্গারা) মনে করেছে ঐ এলাকার স্থায়ি বাসিন্দা তারা। কৃষি জমির কাজ, স্থানীয় শ্রম বাজার চলে যাচ্ছে তাদের দখলে। এতে উখিয়া ও টেকনাফসহ আশে পাশের স্থানীয় মানুষের জীবন জীবিকায় নিদারুণ কষ্টে কালাতিপাত করছে। উখিয়া টেকনাফের স্থানীয়রা চরমভাবে হতাশ। কারন, ২০১৭ সালের আগস্টে রোহিঙ্গা ঢলের সময় সেসব এলাকায় স্থানীয়দের জায়গা জমি রোহিঙ্গাদের থাকার জন্য ছেড়ে দিয়েছিল তা হারানোর শংকায় রয়েছে তারা”।
কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রিক্সা, অটোরিকশা, মাহিন্দ্র গাড়ি চালক, খাবার হোটেল, আবাসিক হোটেল, গ্রামীণ অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ, জেলেদের ফিশিং বোট, বিভিন্ন প্রকার যানবাহন ও ব্যবসা বানিজ্য দখলে নিয়ে রোহিঙ্গারা একচেটিয়া নিয়ন্ত্রন করছে। টেকনাফের স্থল বন্দর, বিভিন্ন এলাকায় কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসুচি, রাস্তা, ব্রিজ, কালভার্টসহ অবকাঠামো নির্মানে রোহিঙ্গারা কাজ করছে। তারা এখন শুধু উখিয়া টেকনাফ নয়, কক্সবাজার সদর, রামু, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, চকরিয়াসহ কক্সবাজারের প্রতিটি উপজেলা এবং চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলায় রোহিঙ্গারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন এবতেদায়ী মাদ্রাসা, স্কুল, কওমী মাদ্রাসাসহ অন্যান্য মাদ্রাসায়, বিভিন্ন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে রোহিঙ্গাদের সন্তান পড়ালেখা করার সুযোগ প্রাপ্ত হচ্ছে। তাছাড়া রোহিঙ্গারা জন্ম সনদ, জাতীয় পরিচয় পত্র ও পাসপোর্ট গ্রহন করে স্থানীয় নাগরিকে পরিনত হচ্ছে অহরহ, যা আগামি বাংলাদেশের জন্য মারাত্মক অশনি সংকেত ছাড়া কিছু নয়।

এই চলমান অবস্থা বজায় থাকলে, প্রশাসন ও যথাযথ কর্তৃপক্ষ কৌশলে পরিস্থিতি মোকাবেলা না করলে, স্থানীয়দের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহনে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব খর্ব হবার যথেষ্ট সম্ভাবনা বিরাজমান রয়েছে। সাথে স্থানীয়রা দেশ বাসভুমে পরবাসী হয়ে ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চায় পরিণত হবে।

লেখকঃ সাংবাদিক ও কলামিস্ট এবং জয়েন্ট সেক্রেটারি বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ( BMSF) কক্সবাজার জেলা শাখা ও ভাইস প্রেসিডেন্ট উপজেলা প্রেসক্লাব উখিয়া।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর....