• রবিবার, ০২ অক্টোবর ২০২২, ০৬:২৩ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
এ বছরে নোবেল প্রাইজের জন্য মনোনীত বাংলাদেশী চিকিৎসক রায়ান সাদী কক্সবাজারে ৪২ কোটি টাকায় বনায়ন, নতুন রূপে সাজবে হিমছড়িসহ কক্সবাজার জেলা। পুলিশের প্রশিক্ষণ খাতে এনজিওগুলো শত শত কোটি টাকা অনুদান পেয়েছে : বেনজীর আহমেদ  রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গত রাতেও ০১ জন খুন, অস্থিতিশীল অবস্থায় স্থানীয়রাও চরম আতংকে। র‍্যাব-৭ কর্তৃক ২ লক্ষ ৩৮ হাজার ইয়াবাসহ ০৩ জন আটক। র‍্যাব-৭ কর্তৃক ২ লক্ষ ৩৮ হাজার ইয়াবাসহ ০৩ জন আটক। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক মুল্য ৬ কোটি। উখিয়া রেঞ্জকর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে উদ্ধারকরা ৩ শতাধিক বক অবমুক্ত করা হয় উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এক রোহিঙ্গা ভলান্টেয়ারকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নির্মমভাবে খুন। ঘুংধুম সীমান্তে চরম উত্তেজনায় এসএসসি ও সমমানের পরিক্ষার কেন্দ্র পরিবর্তন শাড়ি পরে কলেজে গেল ছেলে, ছবি পোস্ট করলেন ‘গর্বিত’ বাবা!

অবৈধভাবে কলম্বাস পথে মালয়েশিয়া যাত্রা ও কিছু বাস্তবতা

AnonymousFox_bwo / ৪২ মিনিট
আপডেট বুধবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২

(প্রিয় সানাউল্লাহ মোহাম্মদ  কাওসার ভাই চোরাইপথের একাধিক নারী-পুরুষ যাত্রী ও তাদের রিলেটিভদের থেকে বিশ্বস্ততার সাথে জেনেই লিখেছেন)

আমাদের এলাকার অসংখ্য উঠতি বয়সী ছেলে চোরাই পথে এই কয়েকদিনে মালয়েশিয়া চলে গেছে। আরো অসংখ্য ছেলেরা নিখোঁজ। অর্থাৎ তারাও বর্তমানে চোরাই পথে সমুদ্রে রয়েছে।

দালা•লরা প্রথম কয়েকদিন ছিঁড়া-মুড়ি খাওয়াই নাফ নদীর বাইরে সেইন্ট মার্টিনের অদূরে সমুদ্রে ভাসাতে থাকে। চারদিকে পানি আর পানি।

এরপর দেয় তাদের পরিবারে প্রথম কল। আপনার ছেলে এখন আমাদের জাহাজে। দু’তিনদিনের মধ্যে সাড়ে চারলাখ টাকা যোগাড় করুন। অগ্রীম বিকাশ করুন এই নাম্বারে ৫০ হাজার।

ব্যাস…..এরপর থেকে চলতে থাকে তাদের নিয়ে টালবাহানা। কখনো মংডু, কখনো আকিয়াব সীমান্ত ইত্যাদি লোকেশন বলে দিয়ে দা•লালরা নিজেদের ফোন তাদের হাতে দিয়ে পরিবারকে ফোন করায়..!!

এরপর হালের গরু, ভিটামাটি বিক্রি করে অনেকে টাকা যোগাড় করে দিয়ে দেয়। (কারণ, টাকা দিতে না পারলে সন্তানকে জীবিত পাওয়ার সম্ভাবনা আর থাকেনা। নানা অজুহাতে তাকে সমুদ্রের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়।)

প্রায় সবার টাকা কনফার্ম করেই চোরাই জাহাজ যাত্রা করে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে। মিয়ানমার সীমান্ত ক্রস করার পর থেকেই তাদের জীবনে নেমে আসে অভিশাপ। দা•লালরা দড়ির ছড়ি নিয়ে সমানে মারতে থাকে আর তাদের দুর্বল করতে থাকে। সমুদ্রের উপর সন্তানের কান্না সইতে না পেরে মা-বাবারা পাগলের মত হয়ে ভিটেমাটি, ফসল, সম্পদ বিক্রি করে দা•লালদের দেওয়া নির্দেশনা মত টাকা পাঠাতে থাকে।
থাইল্যান্ড সীমান্ত ক্রস করতে সীমান্ত পুলিশকে জনপ্রতি একটি বিশেষ পরিমাণ ঘুষ দিতে হয়। যাদের পরিবার টাকা পাঠাতে পারেনি বা কম দিয়েছে তাদেরকে জাহাজের নিচে জ্বালানী স্টোর রুমে, পানির ট্যাংকের ভিতরে নতুবা অন্য কোন মালামালের বক্সে ডুকিয়ে রাখা হয়।

সীমান্ত পুলিশের সাথে ঘুষের পরিমাণ আর সীমান্ত ক্রসের বিষয় নিয়ে চলতে থাকে দফারফা। কখনো এক ঘন্টায় ডিশমিশ, কখনো এক দিনে, কখনো বা দেড় দু’ইদিন পর্যন্ত জাহাজ স্থীর ভাসতে থাকে।
এরই মধ্যে ঘটে যায়, দু’ধরণের মানুষের জীবনের সবচে’ জঘন্যতম নির্মম ঘটনা………😥😥

এক.
ঐ যে টাকা দিতে না পারা হতভাগাদের যে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। সেখানে তাদের বের করা হয়নি মামলা ডিশমিশ হওয়া পর্যন্ত। সুতরাং কেউ সেখানে মরে পঁচে গেছে, কেউবা আবার আধমরা হয়ে প্রাণ উষ্ঠাগত…😥 উভয়শ্রেণির মধ্যে তরতাজা কেউ থাকলে তারই কেবল রেহায় পাওয়া যায় বাকিদের জাহাজ থেকে রাতেই ফেলে দিয়ে সলিল সমাধি ঘটানো হয়।

দুই.
অন্য শ্রেণির আরেক হতভাগা থাকে। যাদের সীমান্ত ক্রস করার আগে-পরে সর্বনাশ ঘটে। তারা হলো- নারী। আমার মায়ের জাতি। হ্যা, আপনি ঠিকই শুনেছেন।
রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে এবং স্থানীয় অনেকে উন্নত জীবন লাভের আশায় এসব জাহাজে পা রাখে। তাদের জীবনে যে সর্বনাশ ঘটে তার কিঞ্চিত হলো…..থাইল্যান্ড সীমান্ত ক্রস করে পাহাড়িয়া পথের যে কোন একটা নির্জন স্থানে মালয়েশিয়ার দালালের প্রতিনিধি আসা পর্যন্ত থাইল্যান্ড পুলিশের প্রত্যক্ষ তত্বাবধানে রাখা হয়।

কেননা, তারা ইতোমধ্যে ঘুষের বিনিময়ে তাদের সীমান্ত পার হওয়ার সুযোগ দিয়েছে। সুতরাং যেমনে সেমনে ছেড়ে দিবেনা। বরং তাদের কিছু ছোট ছোট চৌকিও রয়েছে ঘনজঙ্গলে ঘেরা এসব পাহাড়িয়া পথের আশেপাশে।

যতদিন মালয়েশিয়ার দালাল/প্রতিনিধি এসে তাদের রিসিভ করবেনা ততদিন পর্যন্ত তারা ছেলেদের মারধর করে নরম করে রাখে আর মেয়েদের সমানে ধর্ষণ করে, তাও পালাক্রমে। এভাবে মেয়েদের এক চৌকি থেকে আরেক চৌকিতে নিয়ে যাওয়া হয় নগর পুলিশ বা সরকারি অন্য পুলিশ থেকে গোপন রাখার অজুহাতে। এভাবে তাদের নানা অজুহাতে, নানারকম দোষ-ত্রুটি আর হুমকি-ধামকির মাধ্যমে চলতে থাকে পালাক্রমে ধর্ষণের নগ্ন মহোৎসব..!!😭😭

[যাত্রীদের সবাইকেই তারা ব্রেইন ওয়াশ করে, এসব সংগ্রামের কথা, কষ্টের কথা যদি পাবলিশ করা হয় তাহলে পরবর্তীতে তাদের নানারকম নির্যাতনের মধ্য দিয়ে যেতে হবে, তবু এসব গোপন থাকেনা..!]

এভাবেই আমাদের সন্তানেরা চোরাই পথে মালয়েশিয়া গমন করে। ভাই, দালালরা আপনার আমাদেরই গ্রামের, এলাকার। এমন সব দালাল এবং সহযোগী যাদের কিনা দেখলে সালাম না দিয়ে পারবেন না। সহজ-সরল সুবোধরাই এসব কাজে বেশি জড়িত…!!

[ ওয়াল্লাহি, চোরাইপথের একাধিক নারী-পুরুষ যাত্রী ও তাদের রিলেটিভদের থেকে বিশ্বস্ততার সাথে জেনেই লিখেছি আমি এসব-লেখক]


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর....