• রবিবার, ০২ অক্টোবর ২০২২, ০৬:৫৪ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
এ বছরে নোবেল প্রাইজের জন্য মনোনীত বাংলাদেশী চিকিৎসক রায়ান সাদী কক্সবাজারে ৪২ কোটি টাকায় বনায়ন, নতুন রূপে সাজবে হিমছড়িসহ কক্সবাজার জেলা। পুলিশের প্রশিক্ষণ খাতে এনজিওগুলো শত শত কোটি টাকা অনুদান পেয়েছে : বেনজীর আহমেদ  রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গত রাতেও ০১ জন খুন, অস্থিতিশীল অবস্থায় স্থানীয়রাও চরম আতংকে। র‍্যাব-৭ কর্তৃক ২ লক্ষ ৩৮ হাজার ইয়াবাসহ ০৩ জন আটক। র‍্যাব-৭ কর্তৃক ২ লক্ষ ৩৮ হাজার ইয়াবাসহ ০৩ জন আটক। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক মুল্য ৬ কোটি। উখিয়া রেঞ্জকর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে উদ্ধারকরা ৩ শতাধিক বক অবমুক্ত করা হয় উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এক রোহিঙ্গা ভলান্টেয়ারকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নির্মমভাবে খুন। ঘুংধুম সীমান্তে চরম উত্তেজনায় এসএসসি ও সমমানের পরিক্ষার কেন্দ্র পরিবর্তন শাড়ি পরে কলেজে গেল ছেলে, ছবি পোস্ট করলেন ‘গর্বিত’ বাবা!

বর্তমানে রোহিঙ্গাদের অবস্থা ঠিক যেন “রোম যখন পুড়ছিল, নিরো তখন বাঁশি বাঁজাচ্ছিল”‘!

AnonymousFox_bwo / ৭৪ মিনিট
আপডেট সোমবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২২

এম আর আয়াজ রবি। 

মায়ানমারের অন্যান্য জাতি গোষ্ঠী যেখানে নিজেদের স্বাধিকার, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব আদায়ের সংগ্রামে জীবন বাজি রেখে প্রানপণ যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে, যখন আরাকান আর্মি (এএ) নামের বিদ্রোহীরা একে একে পুলিশ ফাঁড়ি, সামরিক ঘাটি দখল করে নিয়ে তাদের শক্তি সামর্থ্যের জানান দিচ্ছে, যখন শুনি মায়ানমার সামরিক বাহিনী মায়ানমার বিদ্রোহী দমনে স্থল পথ, আকাশ পথে জঙ্গি বিমান, হেলিকপ্টার দিয়ে গোলা ও শেল নিক্ষেপ করে বিদ্রোহী দমনে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, তখন রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী মহাসুখে উল্লাস করছে উখিয়া টেকনাফের আশ্রিত ৩৪ টি ক্যাম্পে!

অধিকন্তু মায়ানমার বাহিনী আন্তর্জাতিক আইন ও আকাশ সীমা লংঘন করে বারবার বাংলাদেশ ভূখন্ডে তাদের বিমান, হেলিকপ্টার ও মটার শেল নিক্ষেপ করে, কোন অদৃশ্য ঈশারায় উত্তেজিত করে বৈশ্বিক মোড়লদের ঈপ্সিত ‘একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য’কে সামনে রেখে বাংলাদেশকে ‘প্রভৌকেশন’ করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারে ব্যস্ত রয়েছে! আমি মনে করি বারবার মায়ানমারকে সতর্ক করার পরেও নানান ছুতোয় বাংলাদেশের অভ্যন্তরে তাদের যুদ্ধ বিমান, কপ্টার ও কামানের গোলা, শেল নিক্ষেপ এটি তাদের পরিকল্পনার অংশ। কারন একটি দেশ বারবার একই ভুল করতে পারে না। আন্তর্জাতিক আইন, আকাশ সীমা লঙ্ঘনের পরিনাম কি তারা হাড়ে হাড়ে জানেন, তথাপি তারা এগুলো তোয়াক্কা না করে বাংলাদেশকে বার বার উত্তেজিত করার কারনগুলো কী হতে পারে তা বিশ্লেষণ করার সময় এসেছে।

আরাকানের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী সামরিক সরকারের হত্যা, গুম, খুন, নিপীড়ন-নির্যাতনের ছুতোয় বাস্তচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে সেই ২০১৭ সালের ২৫ শে আগষ্ট তারিখে। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ৫ বছর অতিক্রান্ত হতে চলেছে। আমার জানা মতে মোট রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর এক-তৃতীয়াংশ বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে দু-তৃতীয়াংশ মায়ানমার রাষ্ট্রে রয়ে গেছে। তারা মায়ানমার সরকারের আশ্রয় প্রশ্রয়ে মায়ানমারের মুল ধারায় মিশে গিয়ে এ যাবৎ ভাল অবস্থানে আছে বলে জানা যায়।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের কিয়দংশ মায়ানমার রাষ্ট্রের সঙ্গে, সামরিক সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপন রেখে চলেছে। অনেকেই গোপনে মায়ানমারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। অধিকন্তু মায়ানমার সরকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীদের অস্থির ও সন্ত্রাসী হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি দেবার জন্যে তাদের হীন স্বার্থে আমাদের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তাদের ( রোহিঙ্গাদের) মধ্যে বিভিন্ন দলে, উপদলে ভাগ করে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে মদদ দিয়ে যাচ্ছে বলে জানা যায়। মায়ানমার সরকারের আশ্রয় প্রশ্রয়ে এবং ঈশারায় রোহিঙ্গাদের দিয়ে বাংলাদেশকে চোরাচালানের রুটম্যাপ হিসেবে ব্যবহার করে, ইয়াবা, আইস, স্বর্ণচোরাচালানসহ বভিন্ন অপরাধে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ব্যবহার করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীল করে গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ মায়ানমার সীমান্তে ইয়াবা কারখানা স্থাপন ও সেগুলোর বাজার সৃষ্টি করে রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে বাংলাদেশকে মাদকের অভয়ারণ্য হিসেবে প্রতিষ্টা দেবার পেছনে মায়ানমার সরকারের সুদুরপ্রসারি নীলনকশা কাজ করছে বলে জানা যায়। অধিকন্তু ইয়াবা, মাদক নয় রোহিঙ্গাদের অস্ত্র, গোলা বারুদ সরবরাহ করে ট্রেইনিং প্রদানের খবরা খবর বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে উঠে এসেছে।

সবচেয়ে পরিতাপ ও আশংকার ব্যাপার হচ্ছে, রোহিঙ্গাদের মাথায় বাংলাদেশের ফেনী বা কর্ণফুলী নদীর পূর্বপ্রান্ত পর্যন্ত আরাকান স্টেট হিসেবে বুঝিয়ে, মগজ ধুলাই করে রোহিঙ্গাদেরকে মায়ানমার রাষ্ট্রে প্রত্যাবাসনে নিরোৎসাহিত করে তাদের মাঝে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘এজিটেড’ করে একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের প্রানান্তকর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যেটা মায়ানমার এবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের একটি অংশ বলে অনেকেই মনে করেন। কারন রোহিঙ্গা ইস্যু এখন ‘বাইলেটারেল’ বা দ্বিপাক্ষিক ইস্যু নয়, এখন এটি ‘মাল্টিলেটারেল’ বা বহুপাক্ষিক ইস্যুতে দাঁড়িয়েছে। কারন ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান ও চাহিদার কারনে বাংলাদেশের সেন্টমার্টিন, কক্সবাজারের দক্ষিনাংশ, চট্টগ্রামের কিয়দংশ ও মায়ানমার রাষ্ট্রকে নিয়ে আন্তর্জাতিক মোড়লরা এখন মাথা ঘামাচ্ছেন। ভূ-রাজনীতিতে আধিপত্য বজায় ও আধিপত্য বলয় সৃষ্টির একটি আকর্ষণীয় স্পট হিসেবে বিশ্ব নেতাদের হট কেক হিসেবে অত্র এলাকা পরিচিতি লাভ করেছে। তাই এই এলাকা নিয়ে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শেষ নেই। এই মুহুর্তে বাংলাদেশ ও মায়ানমার রাষ্ট্র রয়েছে ‘ভিসুভিয়াস’ এর মতো সুপ্ত আগ্নেয়গিরি হিসেবে! যে কোন মুহুর্তে লাভা উদগীরণ হয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে অস্থিতিশীল জোন হিসেবে পরিগনিত হবে না, তা বলা যাচ্ছে না!

প্রথমদিকে যেটা বলার চেষ্টা করছিলাম, মায়ানমারের বিভিন্ন বিদ্রোহী জনগোষ্ঠী তাদের অধিকার, স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব আদায়ের সংগ্রামে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে কিন্তু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী নির্ভীকার! ঠিক মনে হচ্ছে ‘যখন রোম পুড়ছিল, তখন নিরো বাঁশি বাঁজাচ্ছিল’ অবস্থা! একদিকে মায়ানমার আরাকান আর্মির দুর্ধর্ষ যোদ্ধারা তাদের স্বাধীকার আন্দোলনে নিরবচ্ছিন্ন যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে, এদিকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী অন্যদেশে অনুপ্রবেশ করে বট বীজের রুপ ধারন করে চলছে, যা সময়ে বট বৃক্ষে পরিনত হবে (বট গাছের ফল বিভিন্ন পাখি ঠোঁটে করে অন্য গাছের ডালে মজা করে খেতে গিয়ে কিছু বীজ ঐ গাছের ডালে আটকে যায়, পরে সেই বীজ অনুকুল পরিবেশ পেয়ে সেই বীজ থেকে ডালপালা গজিয়ে যে গাছে আশ্রয় নিয়ে পাখি মনের আনন্দে বট ফল খাচ্ছিল সেই গাছকে পর্যুদস্ত করে নিজের অস্তিত্ব জানান দিয়ে ফুলে ফেঁপে বেড়ে উঠে সেই গাছকে আস্ত গিলে খেয়ে বটবৃক্ষে পরিণত করে)।

যেখানে মায়ানমারে অন্যান্য বিদ্রোহীরা তাদের অধিকার, স্বায়ত্বশাসন, স্বাধীনতা আন্দোলনে নিরবচ্ছিন্নভাবে মায়ানমার রাষ্ট্রের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে, সেখানে আমাদের দেশের আশ্রিত রোহিঙ্গারা ইয়াবা, স্বর্ণচোরাচালান, নিজেদের মধ্যে আধিপত্যের লড়াই, শ্রেণী বৈষম্যের লড়াই, পারস্পরিক মারামারি, খুনাখুনি, রক্তপাতে ব্যস্ত রয়েছে। তাদের এহেন কার্যকলাপে হোস্ট কমিউনিটি যার পর নাই অস্বস্থিতে!

আইকন নিউজ /আর/১২০৯২০২২১০.৪৫


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর....